সিনেমার প্রতি ভালোবাসার কথা আর কি বলবো। ক'দিন পরপরই সিনেমা বানাই। চোখ বন্ধ করে সেলুলয়েডের ফিতা ছাড়াই আমার সিনেমা চলতে থাকে। দারুণ অনুভব করি সেসব। আরো আগে একটা শর্ট ফিল্ম বানিয়ে নিজে নিজে উপভোগ করেছিলাম। এবার বানালাম আনুমানিক দেড় ঘন্টা করে তিনঘন্টার দুটি সিনেমা। সিনেমা বানানো হচ্ছে আমার সব স্বপ্নের শেষ দেয়াল। এখানে এসেই স্বপ্নকে উড়িয়ে দেবো। আর কোন স্বপ্ন থাকবে না।
প্রথমে বলি ব্ল্যাক সোর্ড (কালো তরবারি) সিনেমার কথা। চারজন তরুনের ধর্মীয় জঙ্গীবাদিতায় জড়িয়ে পড়া এবং বেরিয়ে আসার মাঝখানে মানসিক টানাপোড়ন নিয়ে সিনেমাটি বানিয়েছি। গতকাল রাতে এটি শেষ করি। সিনেমার কিছু দৃশ্য নিজের কাছে খুবই ভালো লেগেছে। বিশেষ করে প্রারম্ভিকার গানটি। গানের কথা না ঠিক করা না হলেও দৃশ্যায়ন শেষ হয়েছে।
অযু করার খন্ড দৃশ্য, প্যান্টের নিচের দিক থেকে গুটিয়ে আনা, নামাজের নিয়ত করা, সালাম ফেরানোর দৃশ্য, মুনাজাতে নিজেকে শহীদ হিসেবে কবুল করে নেয়ার জন্য আল্লার কাছে প্রার্থনা, রাতে পড়ার টেবিলে জিহাদের হাকীকত পড়া, ঘুমানোর আগে পরেরদিনের কার্যকলাপ লিপিবদ্ধ করা এবং ভোরের ফজরের আযান দিয়ে গানের শেষ এবং সিনেমার মূল অংশের শুরু।
চারজন তরুনই তাদের জিহাদী জীবনের উজ্জ্বল স্মারকের স্বপ্ন দেখে। কে কতটুকু বীরত্ব দেখাবে, শহীদ হওয়ার পর যাতে তাদেরকে মানুষ চিরদিন মনে রাখে এরকম বাসনার তাড়নায় তারা বৈচিত্রময় স্বপ্ন আঁকে। নিজেকে বীর হিসেবে দেখতে গিয়ে খলিফাদের (ওমর, ওসমান...) মতো পোশাক পরে ঘোড়া চড়ে মরু ধরে যাচ্ছে, অত্যাধুনিক কোন অস্ত্রের নকশা আঁকছে, উপস্থিত মুজাহিদদের সামনে বক্তৃতা রাখছে, নিজের লাশ নিয়ে সাথীরা মিছিল করছে। এরকম স্বপ্নের দৃশ্যায়ন চোখের সামনে ভাসাতে খুব ভালো লাগছে।
মারামারির দৃশ্যসমূহ এড়িয়ে গেছি। অন্যভাবে মারারারি হওয়ার বিষয়টি আনা হয়েছে। নানার বাড়ি বেড়াতে গিয়ে এক তরুন মোবাইলে মারামারির খবর পায়। পরদিন বাড়ি ফিরে এসে শুনে মারামারিতে তার দু'বন্ধুর মৃত্যু এবং পুত্রশোকে এক বন্ধুর মায়ের মৃত্যুর খবর। এরপর থেকে প্রতি রাতে ঘুমের মাঝে এবং রাতের অন্ধকারে ভয় পাওয়ার কিছু দৃশ্য আছে। পুরো সিনেমাতে এরকম মানসিক দিকগুলো ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছি।
সিনেমাটির শেষ দৃশ্যে কিছু গ্রাফিক্স এর কাজ আছে। চারজন তরুন যে ধরনের স্বপ্ন দেখতে ভালোবাসতো সে স্বপ্নদৃশ্যের কিছু স্থিরচিত্র পুরোনো দেয়াল থেকে ছিঁড়ে উঠিয়ে ফেলার দৃশ্য আছে। এবং জিহাদী পুস্তকাদি পুড়ে ফেলার দৃশ্য আছে। এ দৃশ্যে আলো নিয়ে কাজ করেছি।
===========
এবার যে সিনেমার কথা বলবো তার নাম ঠিক করা হয়নি। আমেরিকান সন্ত্রাসীর বাংলাদেশে আত্মগোপন করতে এসে ছোট্ট একটি শিশুর সংস্পর্শে ধীরে ধীরে বদলে যাওয়ার গল্প নিয়ে সিনেমাটি বানিয়েছি। এখানে সায়েন্স ফিকশনের কিছূ অস্তিত্ব পেলাম। বাংলাদেশে এসে হোটেলের কাছাকাছি টি-স্টলে ব্লুটুথ রেকর্ডার সেট করে পুরো একমাসের যাবতীয় পাবলিক টকের ট্রান্সলেশন করে নিয়ে সেটাকে ব্রেইনে ইনপুট করে নেয়ার একটা অংশ দৃশ্যায়িত হয়েছে। খুব সীমিত কথা বলার লোকটি এ নির্ধারিত শব্দ ভান্ডারের বাইরে কথা বলতে পারে না। এক পর্যায়ে সে প্রচুর বাংলা শব্দ শিখে নিতে পারে এবং একটি জেলা শহরে চলে যায়। ততোদিনে নিজ স্কীন কালার ঢেকে রাখার জন্য উন্নত মেকাপ কালেকশন করে নেয়। বাংলাদেশে বসে স্বদেশীদের সাথে যোগাযোগে প্রযুক্তির ব্যবহার এবং তার সন্ত্রাসী কার্যকলাপের ধরন তুলে ধরা হয়েছে।
তার বদলে যাওয়ার দৃশ্যের মধ্যে যেটি আমার খুব ভালো লাগে- একটি বাংলাদেশী শিশুর সৌন্দর্য, তার সরলতা, ভালোবাসা লোকটিকে মনে করিয়ে দেয় তার বোমাহামলায় কতো সুন্দর মরে গেছে, কতো সজীবতা নষ্ট হয়েছে। শিশুটির কাছে আসলেই সেসব দৃশ্য তার চোখের সামনে ভাসতে থাকবে। যেটার দৃশ্যায়ন করতে গিয়ে
গ্রাফিক্সের ব্যবহার করা হয়েছে।
শেষদৃশ্যে এসে ওই শিশুটির হাত ধরে হাঁটুজলা নদী পার হয়ে মোটা আইল ধরে বিস্তৃর্ণ পাকাধান খেতে চলে যাওয়ার দৃশ্য আছে। অনেকদূর যাবার পর স্টিল হয়ে সিনেমা শেষ হবে।
এখনো এসব সিনেমা ভাবনা ব্লগের বাইরে কারো সাথে শেয়ার করিনি। নিজের কাছে এসব ভাবনা অসম্ভব প্রিয় বলেই শেয়ার করা।
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে মে, ২০১২ রাত ১:৫৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


