somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমার সাম্প্রতিক ২টি সিনেমা

১৭ ই জানুয়ারি, ২০১০ রাত ২:১৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সিনেমার প্রতি ভালোবাসার কথা আর কি বলবো। ক'দিন পরপরই সিনেমা বানাই। চোখ বন্ধ করে সেলুলয়েডের ফিতা ছাড়াই আমার সিনেমা চলতে থাকে। দারুণ অনুভব করি সেসব। আরো আগে একটা শর্ট ফিল্ম বানিয়ে নিজে নিজে উপভোগ করেছিলাম। এবার বানালাম আনুমানিক দেড় ঘন্টা করে তিনঘন্টার দুটি সিনেমা। সিনেমা বানানো হচ্ছে আমার সব স্বপ্নের শেষ দেয়াল। এখানে এসেই স্বপ্নকে উড়িয়ে দেবো। আর কোন স্বপ্ন থাকবে না।

প্রথমে বলি ব্ল্যাক সোর্ড (কালো তরবারি) সিনেমার কথা। চারজন তরুনের ধর্মীয় জঙ্গীবাদিতায় জড়িয়ে পড়া এবং বেরিয়ে আসার মাঝখানে মানসিক টানাপোড়ন নিয়ে সিনেমাটি বানিয়েছি। গতকাল রাতে এটি শেষ করি। সিনেমার কিছু দৃশ্য নিজের কাছে খুবই ভালো লেগেছে। বিশেষ করে প্রারম্ভিকার গানটি। গানের কথা না ঠিক করা না হলেও দৃশ্যায়ন শেষ হয়েছে।

অযু করার খন্ড দৃশ্য, প্যান্টের নিচের দিক থেকে গুটিয়ে আনা, নামাজের নিয়ত করা, সালাম ফেরানোর দৃশ্য, মুনাজাতে নিজেকে শহীদ হিসেবে কবুল করে নেয়ার জন্য আল্লার কাছে প্রার্থনা, রাতে পড়ার টেবিলে জিহাদের হাকীকত পড়া, ঘুমানোর আগে পরেরদিনের কার্যকলাপ লিপিবদ্ধ করা এবং ভোরের ফজরের আযান দিয়ে গানের শেষ এবং সিনেমার মূল অংশের শুরু।

চারজন তরুনই তাদের জিহাদী জীবনের উজ্জ্বল স্মারকের স্বপ্ন দেখে। কে কতটুকু বীরত্ব দেখাবে, শহীদ হওয়ার পর যাতে তাদেরকে মানুষ চিরদিন মনে রাখে এরকম বাসনার তাড়নায় তারা বৈচিত্রময় স্বপ্ন আঁকে। নিজেকে বীর হিসেবে দেখতে গিয়ে খলিফাদের (ওমর, ওসমান...) মতো পোশাক পরে ঘোড়া চড়ে মরু ধরে যাচ্ছে, অত্যাধুনিক কোন অস্ত্রের নকশা আঁকছে, উপস্থিত মুজাহিদদের সামনে বক্তৃতা রাখছে, নিজের লাশ নিয়ে সাথীরা মিছিল করছে। এরকম স্বপ্নের দৃশ্যায়ন চোখের সামনে ভাসাতে খুব ভালো লাগছে।

মারামারির দৃশ্যসমূহ এড়িয়ে গেছি। অন্যভাবে মারারারি হওয়ার বিষয়টি আনা হয়েছে। নানার বাড়ি বেড়াতে গিয়ে এক তরুন মোবাইলে মারামারির খবর পায়। পরদিন বাড়ি ফিরে এসে শুনে মারামারিতে তার দু'বন্ধুর মৃত্যু এবং পুত্রশোকে এক বন্ধুর মায়ের মৃত্যুর খবর। এরপর থেকে প্রতি রাতে ঘুমের মাঝে এবং রাতের অন্ধকারে ভয় পাওয়ার কিছু দৃশ্য আছে। পুরো সিনেমাতে এরকম মানসিক দিকগুলো ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছি।

সিনেমাটির শেষ দৃশ্যে কিছু গ্রাফিক্স এর কাজ আছে। চারজন তরুন যে ধরনের স্বপ্ন দেখতে ভালোবাসতো সে স্বপ্নদৃশ্যের কিছু স্থিরচিত্র পুরোনো দেয়াল থেকে ছিঁড়ে উঠিয়ে ফেলার দৃশ্য আছে। এবং জিহাদী পুস্তকাদি পুড়ে ফেলার দৃশ্য আছে। এ দৃশ্যে আলো নিয়ে কাজ করেছি।

===========
এবার যে সিনেমার কথা বলবো তার নাম ঠিক করা হয়নি। আমেরিকান সন্ত্রাসীর বাংলাদেশে আত্মগোপন করতে এসে ছোট্ট একটি শিশুর সংস্পর্শে ধীরে ধীরে বদলে যাওয়ার গল্প নিয়ে সিনেমাটি বানিয়েছি। এখানে সায়েন্স ফিকশনের কিছূ অস্তিত্ব পেলাম। বাংলাদেশে এসে হোটেলের কাছাকাছি টি-স্টলে ব্লুটুথ রেকর্ডার সেট করে পুরো একমাসের যাবতীয় পাবলিক টকের ট্রান্সলেশন করে নিয়ে সেটাকে ব্রেইনে ইনপুট করে নেয়ার একটা অংশ দৃশ্যায়িত হয়েছে। খুব সীমিত কথা বলার লোকটি এ নির্ধারিত শব্দ ভান্ডারের বাইরে কথা বলতে পারে না। এক পর্যায়ে সে প্রচুর বাংলা শব্দ শিখে নিতে পারে এবং একটি জেলা শহরে চলে যায়। ততোদিনে নিজ স্কীন কালার ঢেকে রাখার জন্য উন্নত মেকাপ কালেকশন করে নেয়। বাংলাদেশে বসে স্বদেশীদের সাথে যোগাযোগে প্রযুক্তির ব্যবহার এবং তার সন্ত্রাসী কার্যকলাপের ধরন তুলে ধরা হয়েছে।

তার বদলে যাওয়ার দৃশ্যের মধ্যে যেটি আমার খুব ভালো লাগে- একটি বাংলাদেশী শিশুর সৌন্দর্য, তার সরলতা, ভালোবাসা লোকটিকে মনে করিয়ে দেয় তার বোমাহামলায় কতো সুন্দর মরে গেছে, কতো সজীবতা নষ্ট হয়েছে। শিশুটির কাছে আসলেই সেসব দৃশ্য তার চোখের সামনে ভাসতে থাকবে। যেটার দৃশ্যায়ন করতে গিয়ে
গ্রাফিক্সের ব্যবহার করা হয়েছে।

শেষদৃশ্যে এসে ওই শিশুটির হাত ধরে হাঁটুজলা নদী পার হয়ে মোটা আইল ধরে বিস্তৃর্ণ পাকাধান খেতে চলে যাওয়ার দৃশ্য আছে। অনেকদূর যাবার পর স্টিল হয়ে সিনেমা শেষ হবে।

এখনো এসব সিনেমা ভাবনা ব্লগের বাইরে কারো সাথে শেয়ার করিনি। নিজের কাছে এসব ভাবনা অসম্ভব প্রিয় বলেই শেয়ার করা।
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে মে, ২০১২ রাত ১:৫৭
১৬টি মন্তব্য ১৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×