মুখবন্ধ :
একাত্তর সালে বর্তমান জামায়াত তথা তৎকালীন শীর্ষ রাজাকার, আলবদর, আশশামস নেতাদের মুখ নি:সৃত বিভিন্ন অমৃত বচনের চুলচেরা বিশ্লেষন হবে এ সিরিজে। সময় নষ্টকারী এ কাজ সম্পাদনের জন্য বাংলাদেশের মানচিত্র আমাকে উপহার হিসেবে একটুকরো সূর্য আর নিয়ামক হিসেবে ছোপ ছোপ রক্তের দাগ উপহার দিয়েছে। আমি তা দিয়ে পতাকা বানিয়ে মাথায় পরেছি। একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের এ প্রজন্মের ভক্তকূলের জন্য নিরাশার কথা হচ্ছে, আমার সৃষ্ট এ কুখাদ্য আপনারা খেতে বাধ্য। অত্যন্ত দু:খের সাথে জানাচ্ছি যে, এ বিরক্তি থেকে কোনভাবেই আপনাদেরকে মুক্তি দেয়া সম্ভব নয়।
=====================
নির্বাচিত বাণী :
বাংলাদেশ ইন্দিরা গান্ধীর স্বপ্নের রামরাজ্য
শানে নয়ূল এবং সংক্ষিপ্ত তাফসীর :
সেদিন মতিউর রহমান নিজামী আর গোলাম আজম একসাথে ঘুমিয়েছিলেন। নিজামীর চেহারা ছিলো কচি ডাবের মতো এবং সেখানে পর্যাপ্ত নূরের ঝলক ছিলো। লোকমুখে শোনা যায়, গো.আজমের স্বভাব চরিত্র অতো সুবিধার ছিলো না। তখন প্রায় শেষ রাত। গোলাম আজম আর নিজামীর শরীর মাঝে কোন ফাঁক ছিলো না। আলো আঁধারীর মাঝে স্বর্গীয় গেলমানদের চিৎকার আর হুরপরীদের বিলাপের মাঝে আধো ঘুমে আধো জেগে থাকা নিজামী কানে কানে গো.আজম বলতে থাকলেন “বাংলাদেশ ইন্দিরা গান্ধীর স্বপ্নের রামরাজ্য, নিজামী তুমি আমার নেয়ামত নায্য”। এই বলে বলে গো.আজম কাঁপতে থাকলেন এবং নিজামীকেও কাঁপাতে থাকলেন। এ কাঁপাকাপির বিষয়টি ছিলো পুরো ঘটনার জন্য সহায়ক। অবশেষে গো.আজম তার কাজ শেষ করে ফরজ গোসল সেরে ফজরের নামাজ আদায় করতে মসজিদে চলে গেলেন। তখনো নিজামীর কানে বাজছিলো - “বাংলাদেশ ইন্দিরা গান্ধীর স্বপ্নের রামরাজ্য, নিজামী তুমি আমার নেয়ামত নায্য”। বিছানা থেকে উঠে অসম্ভব কাঁপুনি নিয়ে নিজামী এই কথা বলে চিৎকার করতে করতে রাস্তায় বেরিয়ে পড়লো এবং দৌড়াতে থাকলেন। দৌড়াতে দৌড়াতে একপর্যায়ে নিজামী দৈনিক সংগ্রামের অফিসের সামনে দিয়ে যাচ্ছিলেন। চিৎকারের শব্দ গিয়ে পৌঁছোলো পত্রিকার সম্পাদকীয় কক্ষে। উপ-সম্পাদক সাহেব কক্ষ থেকে দিলেন দৌড়। নিজামীর মুখ চেপে ধরে সম্পাদকীয় রূমে নিয়ে যান। তখনো নিজামীর মুখ থেকে গো.আজমের সুখসময়ের ছোঁড়া বুলি বাজতেই আছে। পরে আলোচিত সে বুলির শেষের অংশ বাদ দিয়ে “বাংলাদেশ ইন্দিরা গান্ধীর স্বপ্নের রামরাজ্য” এ অংশটা ব্যবহার করে “নিজেরে হারায়ে খুঁজি” শীর্ষক উপসম্পাদকীয় সৃষ্টি করা হয়। যার মূল প্রবন্ধে লেখা হয় “পূর্ব পাকিস্তানের জনগন সশস্ত্র অনুপ্রবেশকারীদের দেখামাত্র খতম করে দিবে”। কিন্তু এখানে দৈনিক সংগ্রামের সম্পাদকের দুর্নীতি এখানে বিশেষভাবে উল্লেখিত। এভাবে গো.আজমের পুরো বাণীতে কাচি চালিয়ে যে হীনমন্যতার পরিচয় দিয়েছে তা ইতিহাসের সবচে’ নিকৃষ্ট কাচি চালানো হিসেবে স্বীকৃত। আমার নিন্দা এবং বিরোধিতার যায়গা এখানেই। কোন রকম রাজাকারী করার উদ্দেশ্যে নয়, বরং স্বর্গীয় চরিতার্থ হাসিল করার জন্যই গো.আজম এ কথা বলেছিলেন। কিন্তু সুযোগ পেয়ে মিডিয়া (দৈনিক সঙগ্রাম) এ অপকর্ম করে। সুতরাং এটা স্পষ্ট যে, "রাজাকার মিডিয়ার সৃষ্টি"।
===================
এ সিরিজ চলতে থাকবে।
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই জুলাই, ২০১০ রাত ১০:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



