
নাহ, ক্যাচাল আর ভালো লাগে না। সারাদিন গালাগালি, খোঁচাখুঁচি করতে ত্যক্ত লাগে। ব্লগ জীবনে সেই কেলাস ওয়ান থেকে ছাগু, কাঁঠালপাতা শুনতে শুনতে বোরিং! মনে হয় এসব ছাড়া ব্লগে আর কিছুই নেই। অযথা কতো ব্লগারকে গালাগালি করেছি, কতো ব্লগারকে অপমান করেছি! একেবারেই অযথা!!
অফিস থেকে ছুটি নিয়েছি ৭ দিনের। ভালো একটা রিফ্রেশ দরকার। দেখি রোদের গ্যাদারিং ঠেলে ঠুলে প্রিয় স্পর্ধা কতদূর যেতে পারে। পথের কোন বাঁকে আচমকা থেমে গিয়ে জীবনে প্রথম সঠিক সুর করে গান ধরবে... আজও ডানা ভাংগা একটি শালিক হৃদয়ের দাবি রাখো...। তখন রোদ যদি অত্যাচার করে, হাওয়া যদি অধিক শব্দ করে, তবে কোনভাবেই গালি দিয়ে বলা যাবে না "হালার পো হালার বাতাস, চামচিকা রোদের বাচ্চা...!"
রোদের গান রোদ গাইবে, বাতাসের শব্দ বাতাস শুনবে, আমার গান আমি গাইবো আমিই শুনবো।
ভেতরে ভাঁজ হয়ে পড়ে থাকা সুবোধ শুভ্র সুমন ছেলেটা আবার জেগে ওঠবে। ছোট বেলায় বড় বোনের সাথে লাফা খেলার মতো লাফিয়ে লাফিয়ে পাড়ি দেবে তীক্ষ্ণ বালুর দিগন্ত, সমতল জলের শেষ দাগ। সেখানে লুকিয়ে রাখা টুকরো টুকরো জমাট মিষ্টি রোদ চিকন করে হেসে ওঠবে। জেগে ওঠার সে আনন্দ একবার ছুঁয়ে দেখবো। আমি ছুঁতে পারবো।
ছোটবেলায় স্কুল ফাঁকি দেয়ার জন্য নানান ভান ধরতাম। ১ সপ্তাহ ছুটির জন্য অফিসে কোন ভান করিনি। বলেছি, রিফ্রেশ দরকার, ৭দিনের ছুটি চাই। আমাকে সমর্থন জানিয়ে বস বললেন, 'অবশ্যই যাবে'। এভাবে করে বস থেকে শুরু করে অফিসের পিয়ন পর্যন্ত আমাকে সাহায্য করেছে। বিড়ি খেতে গিয়ে দিয়াশলাই খুঁজতে হয়নি একবারও। কোন কারণ ছাড়াই আজ সবগুলো গান আমার ভালো লাগছে। বুঝতে পারছি আমার মাঝে সুন্দরের সুর বাজতে শুরু করেছে।
এ সুরের পথ কতদূর জানি না, শুধু জানি ৭দিনে আমি চলে যাবো অন্তত একটি স্বপ্নের পথ। এ আমার প্রতিজ্ঞা। যতটুকু যত্ন নিয়ে ছোটবেলায় জুতোর ফিতে বাঁধতাম, তারচে ঢের যত্ন নিবো সুন্দর সময়ের শ্রেষ্ঠ প্রতিজ্ঞার।
হয়তো রাস্তায় বের হলেই দেখবো প্রচুর শাদা রিকশাওয়ালা আনন্দ মিছিলে যাচ্ছে, অফিসের পাশে সিগারেট দোকানদারটা টাকার দামে সঙ্গ বিক্রি করছে, কালো ট্রাফিক পুলিশটা হাসতে হাসতে ঘড়ির কাটা গুনে যাচ্ছে। আর আমার নতুন চোখে নতুন সময়ে সবাইকে ছুঁয়ে চলে যাবো! যেভাকে একসময় আমাকে ছুঁয়ে যেতো টিয়া পাখিটা, যে কিনা মেজো বোনের ভুলে গরম ভাতের মাড়ে পড়ে প্রাণ দিয়েছে। যদি ৭ দিনে আমি একটি স্বপ্নের পথ পাড়ি দিতে না পারি, তবে টিয়াপাখি হারানোর কষ্টে যেভাবে কান্না করেছিলাম, ঠিক সেভাবে বিধ্বস্ত হবো। কোন বৃদ্ধ বৃক্ষের সাথে মিশে গিয়ে জড়িয়ে নিবো অচল যন্ত্রনা। আর ছুটবো না রোদের গ্যাদারিংয়ে।
১০১ টি গোল্ড লিফের বাগানে ১ টি দিয়াশলাই ঝড়ে পুড়ে দিবো অনিচ্ছার বসন্ত। শীত হাঁড়ে লাগে, কনকনে প্রেম গভীরে লাগে। আরো কয়েকটি পৌষ মাঘ পেরিয়ে বসন্তের অত্যাচার সইবো, তার আগে নয়। এ গরম, এ মায়া; এ রোদ, এই প্রেম; দেখি শীতের আর কত দেরি!
আমি জানি প্রতিজ্ঞার সময় পেরুলেই আমার নতুন শরীরে মায়ের প্রথম স্পর্শের মতো কাঁচা কাঁচা পৌষ কুয়াশা জড়িয়ে ধরবে। ধীরে ধীরে রোদ উঠবে, আমি রোদের সাথে সাথে হেসে উঠবো। সব কিছু ধীরে... ধীরে... হবে। যতটুকু ধীরে ধীরে একটি শিশু সভ্য হয়ে ওঠে, তারচে' একটু ধীরে।
আমি বাতাসের দোলে দোলে পৌষের রোদ শিকারে গেলাম উজির নাজির সেনাপাতি ছাড়া। তোমরা ভালো থেকো সোলাইমানলিপি ফন্টের লাইনে লাইনে হাসি কান্না সুখে দুখে...!
ভালো থেকো বন্ধুরা...।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে মার্চ, ২০১৩ বিকাল ৪:১৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



