somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

চিত্তবিলাপ

১০ ই মার্চ, ২০১২ রাত ১১:২৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ছোট বেলায় মাদ্রাসায় পড়তাম। যারা কখনও মাদ্রাসায় পড়েনি, তারা কখনও মাদ্রাসাজীবনের সুখ-দুঃখ আর হাসি-কান্নার কথা বুঝতে পারবে না। আমাদের মাদ্রাসাটা ছিল অনেক বড়। চারিদিকে দেয়াল ঘেরা। আমরা ছোট ছিলাম বলে চৌদেয়ালের মাঝেই থাকতে হত সারাক্ষণ। মূল ফটক থেকে একপাও বেরুবার সুযোগ ছিলনা আমাদের।

বিকেলে মাদ্রাসার ছাদে দাড়িয়ে থাকতাম আর রাস্তায় মানুষের হাটা চলা দেখতাম। মাঝে মাঝে বাড়ির কথা মনে পরলে চোখ ঝাপসা হয়ে আসতো। মায়ের কথা মনে পরতো। কিসের অভাব যেন আমার কোমল হৃদয় ছুয়ে যেত। মাগরিবের পর ক্লাসে বসতাম। দুলে দুলে কোরআন পড়তাম। সোনারগাঁও এর একজন শিক্ষক ছিল। আমরা কারী

সাহেব বলে ডাকতাম। খুব বদমেজাজী ছিল। তিনি যখন ডান হাতে বেত নিয়ে আর বাম হাত দিয়ে দাড়ি চুলকাতে চুলকাতে ক্লাসের মাঝখান দিয়ে হাটতো তখন আমাদের কোরআন পরার শব্দে দো-তলা দালানটি কেঁপে উঠতো। আরেকজন শিক্ষক ছিল শিবপুরের। আমরা ডাকতাম শিবপুরীহুজুর বলে। সে খুব মিশুক ছিল। আমাদের মাঝে মাঝে

মজার মজার গল্প শোনাতো। একবার হলকি,এক ছাত্রকে পড়া না হওয়ার কারনে আচ্ছা মত শাস্তি দিলেন কারী সাহেব। দু হাতে দুটো আর পিঠে দুটো বেত্রাঘাত। দু হাত লাল হয়ে গেল। পিঠ ফুলে গেল। তাই দেখে আমরাও ভয়ে কাপছিলাম। শিবপুরীহুজুর গিয়ে ফেরালেন। এদিকে সেই ছাত্র তো তার ছাত্রনেতা ভাইয়ের কাছে ফোন দিয়ে যতটুকু

মার না খেয়েছে তার চেয়ে ত্রিশগুন বেশী বানিয়ে বানিয়ে বলল। ছাত্রনেতা তো কলেজের প্রায় একশ ছাত্র নিয়ে মাদ্রাসায় হাজির। এই সব দেখে কারী সাহেবের মুখের সে কি করুন অবস্থা! বাঘের মুখে থাকা হরিনের মুখের মত। অবশেষে মাদ্রাসার প্রিন্সিপ্যাল সাহেব এর মিমাংসা করলেন। আজ কতদিন, কতবছর হয়ে গেল মাদ্রাসা ছেড়েছি।

সেই বন্দি শিবির থেকে মুক্তি পেয়েছি। কিন্তু নিজেকে তারপরেও কেন যেন খুব অসহায় মনে হয়। সেই কারী সাহেবের রাগান্বিত চকচকে চোখেও যে ভালবাসার কি জাদু ছিল তা আজ বুঝতে পারি। সেই শিবপুরীহুজুরের মজার মজার গল্পও তো আজ আর কেউ শোনায় না। আজও কেন এই মন ফিরে যেতে চায় সেই চৌদেয়ালের মাঝে? এটাই কি

চিত্তবিলাপ? ( লেখকঃ সোহাগ সকাল , দোহার, ই-মেইলঃ[email protected] )
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে মার্চ, ২০১৩ রাত ৯:২২
৪টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চাপালিশ গাছের ফল চাম কাঠাল এর উপকারিতা

লিখেছেন রবিন.হুড, ২৩ শে জুন, ২০২৬ সকাল ১১:০৮


চাপালিশ, চামল, চাম্বল, চাম্বুল, টোপোনি (মগ), বলস্রাম (গারো), কাঁঠালি চাম বা চাম কাঁঠাল (বৈজ্ঞানিক নাম: Artocarpus chama; আর্টোকার্পাস চামা) হচ্ছে মোরাসি পরিবারের কাঁঠাল-জাতীয় একটি বন্য প্রজাতির ফল। বিপন্ন এই বৃক্ষটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

সাদা নীল জার্সি

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ২৩ শে জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪২


গায়ে ভাই রে সাদা নীল জার্সি
গন্ধ বাতাসে উম্মুখ হয়ে আছি;
কখন হবে- কণ্ঠ নালীর মিছিল-
তারপর- তারপর- সজোরে কিক
গোল- গোল শব্দটা আনন্দ মুখর!
আমার জার্সির রঙগুলো আত্মহারা
রাতজাগা পাগলাপাড়া ফুটবল খেলা
নয়ন জলে টলমলে- স্মৃতির... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাইরে এসো

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ২৩ শে জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৬

এসো, বৃত্তবদ্ধ খাঁচা ছেড়ে বাইরে এসো,
কল্পনাতীত উদাত্ত আকাশে চোখ পেতে
দুজনে বসি ঘাস গালিচাতে আজ পাশাপাশি ,
দেখ, পুস্প-ফলে বৃক্ষদের একাগ্র তপস্যা
দেখ, পূর্নিমাকে অর্থ দেয় বিপরীত অমাবশ্যা ।

দেখ, সাপ ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনা ও তাঁর মন্ত্রীবর্গের দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত নয় কি?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৩ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৪

"হে কাবা! তুমি কতই না উত্তম, তোমার সুঘ্রাণ কতই না চমৎকার! তোমার মর্যাদা কতই না মহান! তবে সেই সত্তার শপথ, যাঁর হাতে মুহাম্মদের প্রাণ! নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে একজন মুমিনের জান,... ...বাকিটুকু পড়ুন

বেসুরো গলায় গান গাওয়ার অপরাধে

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ২৩ শে জুন, ২০২৬ রাত ৯:০৯


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বাংলা বিভাগের অধ্যাপক চৌধুরী মো. তাশরিক-ই-হাবিবকে একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে

যে কোন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় পপুলিস্ট দিক ও ন্যায়বিচারের দিক উভয়ই খেয়াল রাখতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×