আমার প্রিয় পোস্ট

আমি কোনো আগন্তুক নই। এই খর রৌদ্র জলজ বাতাস মেঘ ক্লান্ত বিকেলের পাখিরা আমাকে চেনে

মা

১৬ ই জুন, ২০০৯ ভোর ৪:৫৭

শেয়ারঃ
0 0 0

সেলফের বইগুলোতে নিঃসঙ্গ কিছু ধূলো জমে আছে। বহুব্যবহৃত বইয়ের পাতাগুলো এখন মৃত্যুসম নৈঃশব্দে নির্জন। অথচ বেশ কিছুদিন আগেও প্রাণাবেগে চঞ্চল রক্তমাংসের হাত বইয়ের পাতাগুলোতে ভালবাসায় আঙ্গুল বুলোত। এবাড়িতে এখন আর তাদের অস্তিত্ব নেই। ঘরে ঢুকে সেলফের দিকে তাকিয়ে মা ভাবছিলেন সে কথাই। আজকাল তাঁর ভুল হচ্ছে, খুব বেশীই ভুল হচ্ছে। প্রায়ই খাবার টেবিলে তিনটে প্লেটের বদলে পাঁচটি প্লেটে ভাত বাড়তে গিয়ে ভুল ভাঙছে তাঁর। মনে পড়ে যাচ্ছে বাকী দুজন তো এবাড়িতে নেই। বাড়িতে থাকা একমাত্র সন্তান আর স্বামীর সঙ্গে খেতে বসে তাঁর চোখ ঝাপসা হয়ে আসে। বাকী দুটো চেয়ারের শুন্যতা তাকে মনে করিয়ে দেয় হাস্যোজ্জ্বল পুরনো দিনগুলোর কখা। বড় মেয়েটি বসতো বাবার মুখোমুখি - টেবিলের অপর প্রান্তে। আর মেজ-ছোট দুজন টেবিলের আরেক পাশে, তাঁর উল্টোদিকে। তিন বোনের হাসি-গল্প-খুনসুঁটিতে মা বাবার স্বতঃস্ফুর্ত অংশগ্রহণ মাতিয়ে তুলতো খাবার টেবিল। আজ বড় ফাঁকা ফাঁকা লাগে তাঁর, দুটো চেয়ার খালি পড়ে আছে। তিন বোন মিলে এখন আর দুপুরগুলোতে আড্ডা বসে না, বিকেলে বসেনা চায়ের আসর, হুট বলতেই ছোটা হয়না তাদের বেইলি রোডের ফুচকার দোকানে অথবা ঝুম বৃষ্টির দিনগুলোতে মায়ের আঁচল ধরে আর বায়না করেনা কেউ খিচুরী ইলিশের জন্য। এখন তাঁর জীবন বড় বেশী নিস্তরঙ্গ, বড় বেশীই অবসরের। মোবাইল ফোন আর ইয়াহু ম্যাসেঞ্জারেই পেতে হয় ওদের কণ্ঠস্বরের উষ্ণতা। যদিও মাঝে মাঝেই মায়ের কানে বাজে ওদের ভেজা স্বরের অনুরণন, তবু জিগেশ করলে মুহূর্তে তা যান্ত্রিক ত্রুটি বলে চালিয়ে দেয় সন্তানেরা। মা কিন্তু সব বোঝেন। লুকিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলেন, আঁচল চাপা দেন চোখে। হায়রে যান্ত্রিক জীবন! আবেগী সম্পর্কের সবটুকু আনন্দ-বেদনা-স্বপ্ন কেড়ে নিয়েছে সে কৌশলে।

একটু বড় হবার পর যে মাকে ছেড়ে অন্য বিছানায় শোবার সময় প্রতিরাতে কেঁদে বুক ভাসাতো সন্তানেরা, সেই মা এখন বড় একা। নিঃসঙ্গ ছায়া নিয়ে নির্জন দুপুরে ঘুরে বেড়ান এঘর ওঘর। পাতা উল্টান পুরোনো অ্যালবামের। চোখে তাঁর চাতক প্রতীক্ষা-কবে আবার তাঁর ঘর ভরে উঠবে, সন্তানদের পদচারণায় কবে তাঁর ঘরের আঙিনা মুখরিত হবে, কবে সন্তানদের শরীরের চেনা ঘ্রাণে মুখ গুঁজে একটু শান্তিতে ঘুমোবেন তিনি। কবে? কবে?

 

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): মা ;
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই জুন, ২০০৯ ভোর ৫:৫১ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ১৬ ই জুন, ২০০৯ ভোর ৫:১৭
রুবাইয়াত ইসলাম সাদাত বলেছেন:
মাগো আমার, আমি আসছি তোমার আঁচলে মুখ মুছবার জন্যে।

আমার মায়ের কথা মনে পড়ে গেল সোহানা আপু এই পরবাসে একা বসে। অস্পষ্ট দেখছি এখন সব। আপনাকে মাইনাস, মাইনাস, মাইনাস।

লেখা কি এখনও প্রথম পাতায় যাচ্ছেনা?
১৬ ই জুন, ২০০৯ ভোর ৫:২১

লেখক বলেছেন: ইচ্ছে হয় মায়ের বুকে ফিরি, কিন্তু বাস্তবতা বড় কঠিন। লেখাটা লিখতে গিয়ে আমার চোখেও জল।
লেখা এখনো প্রথম পাতায় যাচ্ছেনা। কি আর করা।

২. ১৬ ই জুন, ২০০৯ ভোর ৫:২৫
হাসান মাহবুব বলেছেন: আমি আমার মাকে এখন খুব কম সময় দেই। আপনার লেখাটা পড়ে অপরাধী মনে হচ্ছে নিজেকে। স্নেহ নিম্নগামী কথাটা বোধহয় সঠিক।
১৬ ই জুন, ২০০৯ ভোর ৫:২৯

লেখক বলেছেন: আসলেই স্নেহ নিম্নগামী। আমাদের মা এখন যে বয়স পার করছেন সে বয়সটাতে এলে আমরাও হয়তো তাঁর মত করে অনুভব করবো।
নিজেকে আসলেই মাঝে মাঝে অপরাধী মনে হয়।

৩. ১৬ ই জুন, ২০০৯ ভোর ৫:২৬
রুবাইয়াত ইসলাম সাদাত বলেছেন: আসলেই। বাস্তবতা বড্ড কঠিন।

অদ্ভুত লাগছে তো এখনও প্রথম পাতায় যাচ্ছেনা কেন। লিখতে থাকুন সোহানা আপু। আমরা পড়ছি, পড়ব সবসময়। তাই কীবোর্ড এ টাইপিং চলুক। ভালো থাকবেন। শুভকামনা রেখে গেলাম।
১৬ ই জুন, ২০০৯ ভোর ৫:৩১

লেখক বলেছেন: আপনাদের অনুপ্রেরণাতেই এখনো হাল ছাড়িনি বন্ধু। শুভ কামনার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে।

১৬ ই জুন, ২০০৯ সকাল ১১:১৫

লেখক বলেছেন: নারে,এখনও না।কথা হয়নি এখনও।

৫. ১৬ ই জুন, ২০০৯ সকাল ১১:১৭
মমমম১২ বলেছেন: আমারো মাইনাচ দিতে ইচ্ছা করছে।
লেখা পড়ে চোখ ভেজাতে ভাল লাগে না যে
১৬ ই জুন, ২০০৯ সকাল ১১:২৩

লেখক বলেছেন: সন্তান দূরে থাকলে মায়েরাই সবচে বেশি একা হয়ে যায়।:(

১৬ ই জুন, ২০০৯ সকাল ১১:২৭

লেখক বলেছেন: আসলেই কওয়ার কিসু নাই। :(

৭. ১৬ ই জুন, ২০০৯ দুপুর ২:৪২
কষ্টের নদী বলেছেন: ভাই কি পোস্ট দিলেন এটা...আমার সাথে তো মিলে গেলো।
আমার দু-জন বাড়ির বাইরে...আর একজন বড়িতে আব্বা- আম্মা'র সাথে...

আমার বই গুলা তো আম্মা'র রুমেই সেলফে সাজানো আছে....আর পারছিনা লিখতে কান্না আসতেছে....
অফিস এ আছি, এইভাবে কান্না করানোর মানে হয়...
১৬ ই জুন, ২০০৯ বিকাল ৩:০৩

লেখক বলেছেন: সব মা আর সন্তানদের একই গল্প যে,মিলেই যায় রে ভাই!

৮. ১৬ ই জুন, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:৪২
বড় বিলাই বলেছেন: কিন্তু এটাই মেনে নিতে হয়। একদিন তাঁরাও তাঁদের মা-বাবাকে ছেড়ে নিজের জীবন শুরু করেছিলেন। +++++++++++++++
১৬ ই জুন, ২০০৯ রাত ৮:৩১

লেখক বলেছেন: চক্রাকারে এভাবেই জীবনচাকা ঘুরছে, ঘুরবে। অনেক ধন্যবাদ।

৯. ১৬ ই জুন, ২০০৯ রাত ৯:৫৬
পাথুরে বলেছেন: মা-কে নিয়ে এইমাত্র পোস্ট দিলাম একটা।
আমরা ৩ বোন, ১ ভাই। আমি সবার ছোট। সারাদিন যে যেখানেই থাক বিকালে পরিবারের সবাই একসাথে চা খেতাম। ঘন্টাখানিক আড্ডা।
৩ বোন আজ যে-যার সংসারে, আমি আমার কর্মস্থলে---------মা-বাবা?? আবার নিঃসংগ। চক্র, দুর্ভেদ্য চক্র।
১৬ ই জুন, ২০০৯ রাত ৯:৫৯

লেখক বলেছেন: পড়ে দেখছি।

১০. ১৬ ই জুন, ২০০৯ রাত ১০:০৭
শেরিফ আল সায়ার বলেছেন: একটু বড় হবার পর যে মাকে ছেড়ে অন্য বিছানায় শোবার সময় প্রতিরাতে কেঁদে বুক ভাসাতো সন্তানেরা, সেই মা এখন বড় একা। নিঃসঙ্গ ছায়া নিয়ে নির্জন দুপুরে ঘুরে বেড়ান এঘর ওঘর। পাতা উল্টান পুরোনো অ্যালবামের। চোখে তাঁর চাতক প্রতীক্ষা-কবে আবার তাঁর ঘর ভরে উঠবে, সন্তানদের পদচারণায় কবে তাঁর ঘরের আঙিনা মুখরিত হবে, কবে সন্তানদের শরীরের চেনা ঘ্রাণে মুখ গুঁজে একটু শান্তিতে ঘুমোবেন তিনি। কবে? কবে?

---------------------------------------------------------------------

এই লাইনগুলো আমাকে আমার মার কথা মনে করিয়ে দিলো।
আম্মু কর্মজীবী মহিলা ছিলেন। এক সময় অফিস যাওয়ার সময় আমি কাঁদতাম। সারাদিন মাকে কাছে পেতাম না। এই শূণ্যতা অনেকদিন অনুভব করেছি। এমনকি বড় হয়েও যখন খুব কষ্টে থাকতাম তখনও পাইনি।
আম্মু রিটায়ারমেন্টে গেছেন তিন বছর হলো। এখন আমরা সবাই ব্যস্ত। অথচ ওনাকে সময় দেবার মতো সময় আমাদের হাতে নেই। এক সময় আমরা ঘুমে থাকতা আর সকালে আম্মু অফিসে চলে যেতো। আর এখন আম্মু ঘুমে থাকে আর আমি ক্লাসে চলে যাই।
এই হলো সময়ের পরিবর্তন।
আমি ফেরার সময় প্রতিদিন দেখি আমার মা বারান্দায় দাঁড়িয়ে আমার জন্য অপেক্ষা করছে। ছেলে ঘরে ফিরবে। ছেলের যাওয়াটা হোক অন্তত ফেরাটা তো দেখতে হবে।
---------------------------------------------------------

অনেকগুলো ব্যক্তিগত কথা লিখে ফেললাম। বিরক্ত হলে দুঃখিত।
ভালো থাকবেন।
১৬ ই জুন, ২০০৯ রাত ১০:১৭

লেখক বলেছেন: আমাদের জন্যও এমন সময় অপেক্ষা করে আছে।সবটাই চক্র।দুর্ভেদ্য এক চক্র।

১১. ১৬ ই জুন, ২০০৯ রাত ১০:৪৪
ভাস্কর চৌধুরী বলেছেন:


আমার মা আমার পৃথিবী।
+++++++++++++++++++++
১৬ ই জুন, ২০০৯ রাত ১০:৫৩

লেখক বলেছেন: "আমার মা আমার পৃথিবী।"খুব সত্য।

১২. ১৭ ই জুন, ২০০৯ রাত ২:৫১
আকাশ অম্বর বলেছেন:

মা, একবার দাঁড়া গো হেরি চদ্রানন।
আঁধার ক’রে কোথায় যাবি শূন্যভবন।

মধুর মুখ হাসি-হাসি অমিয়া রাশি-রাশি, মা—
ও হাসি কোথায় নিয়ে যাস রে।

আমরা কী নিয়ে জুড়াব জীবন।
১৭ ই জুন, ২০০৯ রাত ২:৫৪

লেখক বলেছেন: মধুর আমার মায়ের হাসি.......

১৩. ২২ শে জুন, ২০০৯ রাত ২:২৫
সালাহ্ উদ্দিন শুভ্র বলেছেন: আগেও পড়েছি-আবার পড়লাম। কি বলবো খুঁজে পাইনি।
২২ শে জুন, ২০০৯ রাত ২:৩০

লেখক বলেছেন: বলার কিছু নেই আসলে।শুধু নিজেকে খুব বেশী অপরাধী মনে হয়।যেটুকু সময় বাবা মাকে দেয়া উচিৎ আমরা কি তা দিতে পারি?

 

মোট সময় লেগেছে ০.৯৪৭২ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
আমি ভালবাসি মেঘ
চলিষ্ণু মেঘ
ঐ উঁচুতে...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ