somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গল্পঃ প্রাণেরও আশা ছেড়ে সঁপেছি প্রাণ............২য় পর্ব

২০ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:২৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


গল্পঃ প্রাণেরও আশা ছেড়ে সঁপেছি প্রাণ............১ম পর্ব

খ.
যতই দেখি তারে ততই দহি
আপন মন জ্বালা নিরবে সহি;
তবু পারিনে দুরে যেতে মরিতে আসি,
লইবো বুক পেতে অনল বান।


একটানা ঝিঝি পোকার ডাক চারপাশটায় ; কেমন যেন কানে তালা লেগে যায়।
সেই সাথে কুনো ব্যাঙের করাত করাত আওয়াজ। নীরবতা নেই কাছে দুরে কোথাও। কিন্তু আকাশটা শান্ত হয়ে আছে। মেঘে নেই। তারা ভরা কিন্তু নড়ছেনা একটাও। যতদুর চোখ যায় জ্বলছে সবকটা জ্বল জ্বল করে চুমকি যেন !!
মনে হয় রাজ কুমারী কঙ্কাবতী ওই তারা কে টিপ করেই কপালে দিয়েছিলো। এমন একটা টিপ যদি দেয়া যেত পারমিতার কপালে!!
কি সব অদ্ভুত ভাবনা অনির্বান কে ফেরি করে ফিরে পুরো আকাশময়!!
আকাশের মেঘগুলো আজ বেঁেধছে বাসা; মনের ঘরে; তাই বুঝি খুলেছে চিন্তার জানালা। সে জানালায় দমকা হাওয়া এসে ধাক্কা দিচ্ছে অবিরত!!

মধাহ্ন ঃ

আচ্ছা পারমিতা কেন এলোনা ?
ভালবাসাকে কেউ এভাবে আগ্রাহ করতে পারে? পারে কেউ এভাবে আগ্রাহ করতে ?
পারে হয়তো!! তাই তো রাত,ভোর সকাল-দুপুর গড়িয়ে এখন বিকেল; পারমিতার দেখা নেই। কলেজ গেটে অনির্বান আবারো একা; পায়ে একটা রিমরিম ভাব এসে গেছে তবু কি অপেক্ষার প্রহর ক্ষান্ত হয়!! ভেতরে ক্লেশ জমছে ক্রমে ক্রমে।
এমন সময় কৃষ্ণচূড়া ফুল মাড়িয়ে পারমিতার মৃদু পদশব্দ সেই সাথে পায়েলের রিনঝিন ঝিন!! পথে যেতে যেতে থমকে গিয়ে শেষে চোখে পড়ে; দাড়িয়ে আছে অনির্বান।
কৃত্রিম হাসি হেসে সব কথা চেপে অনির্বাণ বলে পারু কাল এলে না যে ?
আমার এসব ভালো লাগেনা অনি !! সে,কি পারু ভালবাসা কি ভালো না লাগার জিনিস ? অনি দেখ; নতুন কিছুতেও আলো না পেয়ে কিন্তু মরচে পড়ে; তারপর যতই ঘষা হোক সেটা আগের সেই নতুন আর হয়না।
কি বলছো পারু ভালবাসায় কি কখনো মরচে পড়ে?
শুধু মরচেই পড়েছে না; তিতাও ঠেকছে এখন গলাধ্করণ করাও যাচ্ছেনা। সরে দাড়াও যাবো; বলে চলে গেল পারমিতা।
পথ বোধ হয় খুব একা হয়ে পড়ে যখন সবাই নীড়ে ফেরে। যখন কারও পদচিহ্ন না পড়ে একা থাকা সেই পথ গুলো বড্ড অসহায়; যদি মেঠো পথ হয় তো সবুজ ঘাস গজিয়ে উঠা অস্বাভাবিক কিছু নয়।
বুকে হাত দিয়ে অনির্বান বুঝে গেছে ভেতরটায় নীল বনভূমি জন্মাচ্ছে বোধহয়!!
একদিন যে হৃদয়টাকে নির্বাপন করতে চেয়েছিলো আজ সে হৃদয় নির্বাসিত হতে চাইছে। হৃদয়ের শ্লেটে ভালবাসি লিখে কতো সহজেই মুছে ফেলা যায় আজকাল।

আকাশ,নদী, প্রকৃতি সব বিষাক্ত। বিষ যেন শিরায় শিরায় পৌছে গেছে
পারমিতা থেমে থাকেনি; ভ্রমর নিয়ে কলহাস্য করতে করতে এখনও পথপাড়ি দেয়। পথচলার সাথি এখন নতুন মুখ। পুরোনো কে,কে বা মনে রাখতে চায় জ্বালা দেয় যে বড়ো!!
যেন কালি শূণ্য বলপেন এ আর কি মূল্যবান !! ছুড়ে ফেলে দিলে বড়জোর পথের আবর্জনা বাড়লো।

ভালবাসা পুরোনো হয় কি?
যতোবার দেখা যায় ততোবার নতুন স্বাদ নতুন তিয়াস জাগে একটু কাছে পাবার। যদি নিষ্কাম হয় তাহলে কি টিকে ? ফেবিকলের জোড়াও আজকাল ভাঙ্গে !!

একদিন দিন প্রহরের রোদমাখা লগনে কি জানি কারণে পথ চলা ক্ষ্যান্ত করে আছে দাড়িয়ে অনির্বান সেই পথের ধারে। সে সময় পথিমধ্যে রক্তাক্ত বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখে শিউরে উঠে সে এ চরণ কার সে আর কেউ নয় সে যে, পারমিতা !!
কিভাবে হলো? পাথরে হোচট খেয়েছি যে;
একমুঠো দুর্বাঘাস হাত কচলে ছুইয়ে দেয় সে রাঙ্গা চরণে। অবিরত ধারা স্থিমিত হয়। অনি আমার হাতটি ধরে বাড়ি পৌছে দেবে?
মনের ভেতর লাটিম-নাটাই চিন্তা ঘুরপাক খায় আর বলে হাত ধরে নিয়ে চলো সখা আমি তো পথ চিনি না।
দিন ,মাস, বছর সময় পার হয়’ ধৈর্য্যরে হাত ধরে; তবু অনির্বান বদলায় না। তবু দেখে সেই প্রতিমা। আড়ালে আবডালে পারমিতার সে হাস্য মুখখানা!
একদিন হলো কি..........
পারমিতা জিজ্ঞাসিল কি দেখো ফ্যাল ফ্যাল করে অর্ধচন্দ্র দেব নাকি ?
না পারু পুরো চন্দ্রটাই দাও। বুকের অনলবান কে নেভাবে বলতে পার ? চোখের জলের অভাব আছে কি !! এই বলে পথ হাটে পারমিতা। সে পথ মধু ভ্রমরের কুঞ্জনে মুখর।


চলবে
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:৩২
১৫টি মন্তব্য ১৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

লিখেছেন নতুন নকিব, ১১ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৯:০৩

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

মানুষের জীবন মূলত অসংখ্য ছোট-বড় সিদ্ধান্তের সমষ্টি। প্রতিটি বাঁকে, প্রতিটি মোড়ে আমাদের কোনো না কোনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

লিখেছেন আঘাত প্রাপ্ত একজন, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:২৬

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

[সম্ভাবনার ক্রমানুসারে নয়ঃ]

আর্জেন্টিনা: আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ তার ডিফেন্স আর ইনজুরি । ৩৮ বছরের তরুণ(!) সেন্টারব্যাক ওতামেন্দি আর কমপক্ষে এক হালি হাফ-ফিট ফুটবলার নিয়ে ১৯ জুলাই পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ শরৎ বন্দনা

লিখেছেন ইসিয়াক, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:৫৯


শরৎ এলেই আকাশ জুড়ে সাদা মেঘের ভেলা
দিনমণি আর মেঘমালার লুকোচুরি খেলা।

রুম ঝুমঝুম নূপুর পায়ে ছুটছে নদীর ঢেউ
ভাটিয়ালি গাইছে গান অচিন সুরে কেউ।

বিলে ঝিলে শাপলা পদ্ম... ...বাকিটুকু পড়ুন

×