somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মুক্তিযোদ্ধারা জাহান্নামে যাচ্ছে!

২৪ শে নভেম্বর, ২০০৮ দুপুর ১২:৩৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সারা দেশে বইছে নির্বাচনী হাওয়া। জোট বেধে নির্বাচনে নামছে আওয়ামী লীগ। তাদের জোট মহাজোট। বিএনপির জোট তো ঐক্যজোট নামেই পরিচিত। এবার এই দুই জোটের নির্বাচনী লড়াইয়ে নতুন অনেক চমক আছে। তারই একটি হচ্ছে এরশাদের মহাজোটে যাওয়া। আওয়ামী লীগ স্বৈরশাসক এরশাদকে মহাজোটের ছায়াতলে আশ্রয় দিয়েছে। অনেকেরই ব্যাপারটা ভালো লাগেনি। ব্যাপারটা আমারও ভালো লাগছে না।
স্বাধীনতা আর মুক্তিযুদ্ধের আদর্শে বিশ্বাসী লোকজনের অনেকেই আওয়ামী লীগের অনেককিছু মেনে নিয়ে বাধ্য হয়েই দলটির প্রতি এতদিন তাদের সমর্থন বহাল রেখেছিল। প্রতিপক্ষ বিএনপি তাদের জোটের ছায়াতলে রাজাকারদের আশ্রয় দেওয়ায় তারা আওয়ামী লীগের প্রতি তাদের সমর্থন ধরে রাখতে বাধ্য ছিল। এখন এরশাদ আওয়ামী লীগের ছায়ায় আশ্রয় নেওয়ায় তারা নতুন করে বিপাকে পড়েছে। তারা না পারছে রাজাকারের সঙ্গে জোট বাধা বিএনপির দিকে যেতে, না পারছে স্বৈরাচারের সঙ্গে জোট বাধা আওয়ামী লীগের দিকে যেতে।
মুক্তিযুদ্ধ আর স্বাধীনতার চেতনার সমান্তরাল হচ্ছে স্বৈরাচার বিরোধী গণতান্ত্রিক চেতনা। মুক্তিযুদ্ধের শত্রু আর স্বাধীনতার বিরোধীরা যেমন দেশ ও জাতির জন্য শুভশক্তি নয়, তেমনি নয় স্বৈরাচারও। যারা রাজাকার ও স্বৈরাচারবিরোধী তারা এখন কোথায় যাবে?
আমার এ প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগের সমর্থক আমার এক বন্ধু বললেন, দেখ বন্ধু, ভোটের রাজনীতি করলে আর ক্ষমতায় যাওয়ার ইচ্ছা করলে এরশাদকে আশ্রয় দেওয়া ছাড়া উপায় নাই। স্বৈরাচার দিয়ে যদি রাজাকারদের ক্ষমতায় যাওয়া ঠেকানো যায় তবে তাই করা ভালো। আওয়ামী লীগের এখনকার নির্বাচনী রাজনীতির মূলকথা হচ্ছে স্বৈরাচার দিয়ে রাজাকার ঠেকাও।
আমার ওই বন্ধুর কথা আমি মানতে পারি না। আমি তাকে বলি, দেখো, রাজাকার ঠেকাতে গিয়ে ঘরে স্বৈরাচারকে ডেকে আনার বিষয়ে আমার বানরের কাছে রুটি ভাগের দায়িত্ব দেওয়ার গল্পটা মনে পড়ছে। জামায়াতের সঙ্গে জোট করার ফলে বিএনপির যে ক্ষতি হয়েছে নগদ লাভের মোহে বিএনপি তা বুঝতে পারছে না। ঠিক তেমনি নগদ লাভের মোহে জাতীয় পার্টির সঙ্গে জোট করার পরিণাম আওয়ামী লীগও বুঝতে পারবে না।
আমার বন্ধূ আমার কথার জবাবে বলেন, ভবিষ্যতের চিন্তা করলে বাংলাদেশের বামপন্থিদের মতো অবস্থা হবে আওয়ামী লীগের। ভোটের রাজনীতিতে সুদূর ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবার সুযোগ নাই। এক্ষেত্রে এক্কেবারে প্রায়োগিক, এক্কেবারে প্রাগম্যাটিক হতে হয়। তাছাড়া এরশাদ এক সময় স্বৈরাচার ছিল এখন তো আর তার সেই আচার নাই।
আমি বললাম, তাহলে জামায়াত কী দোষ করল! তারা এক সময় রাজাকার ছিল। এখন তারা তাদের গঠনতন্ত্রে পরিবর্তন এনে দেশের স্বাধীনতার মতো বিষয়গুলোকে স্বীকৃতি দিয়েছে? এরশাদ যেমন এক সময় স্বৈরাচার ছিল বলছিস, তেমনি তো এক সময় মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল, তবে কেন এক সময়ের মুক্তযুদ্ধের স্বপক্ষের কথা বলে নিজেদের দিকে আওয়ামী লীগ জনমত টানতে চায়?
আমার বন্ধু এবার বলে, মানুষ অতীতের ভালোটাই নেয়, আমরাও অতীতের ভালোটা নিচ্ছি। মুক্তিযুদ্ধের কথা বলছি, স্বাধীনতার কথা বলছি।
আমি আবার বললাম, এরশাদ কি অতীতের ভালো?
আমার বন্ধু এবার বলে, এরশাদ অতীতের ভালো না হলেও বর্তমানের ভালো। আমরা বর্তমানের ভালোকেও নেবো।
আমি বলি, আচ্ছা ঠিক আছে। তোমরা বর্তমানের ভালোকে নেবে আর অতীতের ভালোকে নেবে। কিন্তু আমরা যারা স্বাধীনতাবিরোধী আর স্বৈরাচারকে নেব না তারা কোথায় যাব?
আমার বন্ধু তার বিরক্তি আর চেপে রাখতে পারে না। আমার এসব প্রশ্নের জ্বালায় অতিষ্ট হয়ে এতক্ষণে আমার বন্ধু মোক্ষম কথাটা বলে। মোক্ষম কথাটা হল, তোরা কই যাবি!তোরা জাহান্নামে যা! বলে সে আর দাঁড়ায় না। সে দ্রুত হেঁটে চলে যায়।
আমি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে আমার বন্ধুর শেষ কথাটা নিয়ে ভাবতে থাকি। ভাবতে ভাবতে আমার মাথা নিচু হয়ে আসে। হতাশায়, দুঃখে ও অপমানে আমি মাথা নিচু করে চুপচাপ ধীরে ধীরে হাঁটতে থাকি। হাঁটতে হাঁটতে আমি ৫২'র কথা ভাবি, '৬৯ এর কথা ভাবি, '৭১ এর কথা ভাবি, '৯০ এর কথা ভাবি। ভাবতে ভাবতে হঠাৎ আমার মনে হয়, যারা ভাষা আন্দোলনের মিছিলে নেমেছিল, যারা গণঅভ্যুত্থানে ছিল, যারা মুক্তিযুদ্ধে গিয়েছিল, যারা স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে নেমেছিল তারা সবাই আমার সাথে মাথা নিচু করে চুপচাপ হেঁটে হেঁটে ধীরে ধীরে জাহান্নামের দিকেই যাচ্ছে।

সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১:৩৬
৫টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×