বাংলাদেশ এর অনেকেই ধার্মিকতা ও রাষ্ট্রের সম্পর্ককে বুঝতে চান না। এমন নয় যে ভারত আর বিশ্বের সব দেশের সবাই বুঝতে চান। কিন্তু বাংলাদেশ পাকিস্থান বা আরব/পারসিক দুনিয়া থেকে অনেক বেশি উদার মুসলিম বিশ্ব। তাই বাংলাদেশবাসীর কাছে আমাদের মত সেক্যুলারদের আশা অনেক বেশি।
একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের বিকাশের প্রয়োজনীয় বহু উপাদান বাংলাদেশের আছে। গণতন্ত্রর অনেক উপাদানের কয়েকটি হল - বহুদলীয় গণতন্ত্র, নির্বাচিত সরকারের সেনাবাহিনীর ওপর নিয়ন্ত্রণ, রাষ্ট্রীয় ক্ষেত্রে ধর্মের প্রভাব মুক্তি, সংবাদপত্র সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের স্বাধীন কন্ঠস্বর। এর কয়েকটি ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এর কিছু সমস্যা অতীতে দেখা গেছে। কিন্তু সেনাবাহিনীর ওপর নির্বাচিত সরকারের নিয়ন্ত্রণের বিষয়টির সমস্যা এখন অনেকটা কেটেছে। বহুদলীয় গণতন্ত্র ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতাও প্রতিষ্ঠিত। কেবল রাষ্ট্রকে ধর্মের প্রভাবমুক্ত করার বিষয়টি নিয়ে বহুবিধ বিতর্ক আছে। অনেকে এই প্রকল্পটির বাস্তবায়নের বাস্তব বহু সমস্যার দিকে ইঙ্গিত করেন ও সমঝোতার কথা বলেন। আবার অনেকে গোটা প্রক্রিয়াটিকেই একটি সাম্রাজ্যবাদী/সম্প্রসারণবাদীদের মতাদর্শগত আগ্রাসন বলে মনে করেন। এটা ঠিক ধর্ম ও রাষ্ট্রের পৃথগতার যে ধারণা তার উৎস পশ্চিম বিশ্বের বুর্জোয়া খৃষ্টানপ্রধান রাষ্ট্রগুলি। সেইসঙ্গে কমিউনিস্ট রাষ্ট্রগুলিও ধর্মকে আমল দেয়নি। কিন্তু প্রাচ্যে বিষয়টি অন্য। ভারত ধর্মনিরপেক্ষ হলেও এখানে জনজীবনে আর রাজনৈতিক ক্ষেত্রে ধর্মের বিশেষ গুরূত্ব রয়েছে। সংবিধান আর বাস্তবতার মধ্যে এক্ষেত্রে অনেক ব্যবধান। বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বিশুদ্ধ অর্থে কতটা ধর্মমুক্ত তা নিয়ে গভীর বিতর্ক রয়েছে। ইসলামগরিষ্ঠ দেশগুলিতে এর একটি পৃথক ও ব্যবহারিক সমস্যা আছে। ইসলাম নিজে নিজেকে শুধু একটি ধর্ম বলে মনে করেনা, মনে করে একটি সম্পূর্ণ ব্যবস্থা হিসেবে। অর্থনীতি থেকে রাষ্ট্রনীতি – সবই যার আওতাভুক্ত। ফলে ইসলামকে মনে প্রাণে বিশ্বাস করলে রাষ্ট্রকে ধর্মের প্রভাবমুক্ত রাখা যাবে বা রাখা উচিৎ - এমনটা ভাবা কষ্টকর। ফলে গণতন্ত্রর বুর্জোয়া আর সমাজতান্ত্রিক ভাবনার ধাঁচে ইসলামগরিষ্ঠ দেশে গণতন্ত্রকে ভাবা সম্ভব কিনা সে প্রশ্ন থেকেই যায়। শরিয়ত মানা বা না মানার বিতর্কর প্রশ্নটিও বারবার ওঠে, ওঠে শরিয়ত এর ব্যাখ্যা নিয়ে। বাংলাদেশে অবশ্য এসব প্রশ্ন গৌণ আর তার তাই সম্ভাবনা আছে জীবনের মৌলিক দিকগুলি নিয়ে –স্বাস্থ্য শিক্ষা বাসস্থান খাদ্য জীবিকা নিয়ে –গণতন্ত্র সাংস্কৃতিক রাজনৈতিক আগ্রাসন (সাম্রাজ্যবাদী/সম্প্রসারণবাদীদের) নিয়ে কথাবার্তা বলার, চর্চা আন্দোলন করার। বাস্তবতা আছে যে কোন দমনের বিরূদ্ধে কথা বলার, মাথা তোলার। এর প্রেরণা দেশের ভূখণ্ড আর দেশের মানুষ, তার ভাষা, সত্তা অস্তিত্বকে ভালোবাসা, আগলে রাখার প্রবল জেদ। বাংলাদেশে এটাই একুশের সংস্কৃতি। আমাদের আশা এই সংস্কৃতিই, একুশের সংস্কৃতিই বাংলাদেশকে এগিয়ে দেবে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


