অনেক ব্লগে ভারতীয় সাইট হ্যাক করা 'বীর বাংলাদেশি টেকি ভাই' দের বন্দনা গান চলছে। মাঝে মাঝেই এরকম পোষ্ট দেখি। মনে হল বিষয়টি নিয়ে কিছু চিন্তা, যা মাথায় ঘুরপাক খায়, তা লিখে ফেলা দরকার। তাই এই লেখা
হ্যাকিং শেষপর্যন্ত অ্যান্টি হ্যাকিং ইন্ড্রাস্ট্রির বৃদ্ধিকে সহায়তা করবে, এবং ভারতীয় তথ্যপ্রযুক্তি দুনিয়ার সামগ্রিক সীমানাকে আরো প্রসারিত করবে। ঠিক যেভাবে ভাইরাস আসলে অ্যান্টি ভাইরাস ব্যবসার বাড়বাড়ন্তর কারণ। ফলে যেটার জন্য উল্লসিত হচ্ছেন, সেটা প্রকৃত প্রস্তাবে আপাত বাস্তবের বিপরীত।
আমাদের স্বাভাবিকভাবেই নৈরাজ্যবাদের প্রতি একটা আকর্ষণ থাকে। কিন্তু নৈরাজ্যবাদ প্রকৃত প্রস্তাবে রাষ্ট্রের ধ্বংসের চেষ্টার নামে রাষ্ট্রের উপকার করে, গণতন্ত্রকে সীমাবদ্ধ করার হাতিয়ার তার হাতে তুলে দেয়। সোভিয়েত রাশিয়ায় নারদনিকদের কার্যকলাপ এই কাজ করেছিল, বর্তমানে ভারতে সমর- নৈরাজ্যবাদী শক্তি, যারা মাওবাদী নামে ক্রিয়াশীল, এই কাজই করেছে। মার্কিন বিরোধিতার নামে ইসলামিক সন্ত্রাসবাদ এর কার্যকলাপ দেশে দেশে ইসলামের গণতান্ত্রিক শক্তির ওপর দমন ও অন্যায় ভিজিলেন্স এ বৈধতার যুক্তি সরবরাহ করেছে, মার্কিন শত্রু বেশে বন্ধু পেয়েছে, সার্বভৌমত্বর চূড়ান্ত ক্ষতি হয়েছে। তাই উৎসাহের ক্ষণিকতা এক জিনিস, আর দীর্ঘমেয়াদে তার প্রকৃত ফলাফল কি দাঁড়াচ্ছে, তা বিচার করা আর এক জিনিস। এজন্যই আন্দোলনের মধ্যেকার সব প্রবণতাকেই উৎসাহিত করা হয় না, একই শত্রুর বিরূদ্ধে লড়লেও মারাত্মক প্রবণতাগুলিকে চিহ্নিত করে তার বিরূদ্ধে আপোষহীন লড়াই চালাতে হয়। যারা ভারতের সম্প্রসারণবাদের বিরূদ্ধে ন্যায্য, ফলদায়ক, গ্রহণযোগ্য লড়াই চালাতে চান, তারা ভিন্ন প্রেক্ষিতে লেখা, কিন্তু আলোকসম্পাতি 'লেফট উইং কমিউনিজম : অ্যান ইনফ্যান্টাইল ডিসঅর্ডার ' বইটি পড়ে দেখতে পারেন। নৈরাজ্যবাদ ও বিপ্লবী দৃষ্টিভঙ্গীর ব্যবহারিক ও তাত্ত্বিক পার্থক্যর দিকটি বুঝতে এটি খুবই সাহায্য করবে।
বইটির লিং ক - Click This Link
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১২ সকাল ৯:৫০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


