somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মনস্তাত্বিক দাসত্ব ও আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা

১৫ ই এপ্রিল, ২০১০ রাত ২:১১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বিদেশে বাংলাদেশীদের কাজের অনেক সুনাম রয়েছে বলে জানি।বৃটেনেও দেখেছি কোন বাংলাদেশি একবার কোন জবে ঢুকলে সহজে ছাড়েনা,কারন হিসেবে আমার অভজারবেশন হল,আমরা কলুর বলদের মত খাটতে পারি,সব কিছু মুখ বুঝে সহ্য করার আশ্চার্য ক্ষমতা রয়েছে আমাদের ভিতর।মাস শেষে টাকা পেলেই খুশি, ভুলে যাই সব নিগ্রহের কথা।যার কারনে ম্যানাজারের খুবই পছন্দ বাংলাদেশি সহ উপমহাদেশীয় কামলা।

আমি আমার একটা উদাহরন দেই, আমি কাজ করি একটা কেয়ার হোমে, আমার ম্যানাজার একজন মরিশান ভ্দ্র লোক।আমার প্রবলেমটা হল আমি যখনি ম্যানেজারকে দেখি তখন কেন যেন অজানা ভয় কাজ করে, মনে হয় এই বুযি আমার কোন ভূল হবে এবং আমার চাকুরিটা চলে যাবে।কিন্তু পাশেই মরিশান, ব্রিটিশ কলিগ যারা আছে তারা দিব্যি ম্যানেজারের সাথে মজা করছে, ঠাট্টা করছে সময়ে সময়ে....প্রথম দিকে খুব অবাক হতাম ম্যানাজারের সাথে কলিগদের আচরন দেখে কিন্ত আমি আজও ওর সাথে ইজি হয়ে কথা বলতে পারিনা ...just hi...hello...official discussion. যদিও আমি জানি যে সে চাইলেই আমাকে চাকুরিচ্যুত করতে পারবেনা কারন এখানে employment law রয়েছে।

এর কোন মনস্তাত্তিক ব্যখ্যা হয়ত আছে। সাধারন ভাবে যেটা আমার উপলব্দি,আমাদের সমাজে মানুষে মানুষে ভেদাভেদ চরম।টাকা-পয়সায় যারা ধনী তারা গরিবদেরকে ট্রিট করে নিচু হিসেবে, জবের ক্ষেত্রে ম্যানাজারকে এমনভাবে সমীহ করি যেন আমার শ্রমের কোন মুল্যই নাই বরং উনি জব দিয়ে আমাকে দয়া করেছেন। পেশায় যারা ডাক্তার, ইন্জিনিয়ার বা ব্যরিষ্টার তাদের প্রতি মনস্তাত্তিক একটা আনুগত্য সেই ছোট বেলা থেকে জীবনের অংশ হয়ে গেছে। যার কারনে সব বাবা-মায়েরাই তাদের ছেলে-মেয়েদেরকে ডাক্তার বা ইন্জিনিয়ার বানাতে চায়।

মজার ব্যপার হল আমরা যখন কাউকে গালি দেই সেখানেও রয়েছে শ্রেণীপ্রথা যেমন: গালির ভাষা হচ্ছে, তুমিতো একটা ছোট লোক, তোমার কথাতো রিক্সা বা টেক্সি ড্রাইবারের মত আরো কত কি, ভাবটা এমন যে ওরাতো মানুষই না অথচ আমি দেখেছি অনেক টেক্সি ড্রাইবার আছে শিক্ষিত! আপনি যদি তুই, তুমি এবং আপনি শব্দগুলোর ব্যবহার ভাল ভাবে খেয়াল করেন তখন বুযে যাবেন কাকে কিভাবে ট্রিট করছেন।

অনেক মানুষ বেকার হওয়ার ফলে টাকা দিয়ে মানুষ কেনা যায় আমাদের দেশে,ঐ কেনা মানুষকে কৃতদাসের মত ইচ্ছামত খাটানো যায়।
কৃতদাস প্রথা নিষিদ্ধ হলেও আমাদের অন্তরে তা আজও প্রবলভাবে বৃদ্যমান।প্রচলিত জি হুজুর মার্কা রাজনীতির দিকে তাকালে এটা আরো পরিষ্কার।নেতারা কর্মীদেরকে যথেচ্ছা ব্যবহার করছে,যে যত বেশি জি নেত্রী হুকুম করুন বলতে পারবে সে তত বড় নেতা! পরিহাসের বিষয় হচ্ছে অনেকে আবার পাশ্চাত্য থেকে উচ্ছ শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে গেলেও জন্মলব্দ যে মানসিকতা গড়ে উঠেছে তা থেকে বেরুতে পারেনা।

এসবের কারন কি?
একটা কারন হল বৃটিশদের ফেলে আসা শিক্ষা ব্যবস্থা যা আমাদেরকে কেরানী হওয়ার শিক্ষাই দিত, সেই শিক্ষা ব্যবস্থা এখনোও বর্তমান, যা আমাদেরকে শুধু শোষণ করাই শিখায়।কিন্তু বৃটিশরা শেখে কিভাবে শাসন করতে হয়।আমি এখানে না পড়লে হয়ত বুযতামইনা দুই দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় আকাশ-পাতাল ব্যবধান।
পুথিগত শিক্ষা দিয়ে আর যাই হউক কোন জাতি নিজ পায়ে দাড়াতে পারেনা।
স্বাধীন ভাবে চিন্তা করার জন্য প্রয়োজন মানসিকতার পরিপূর্ন বিকাশ এবং তা আসবে সত্যিকারের সুশিক্ষা থেকে।

সাথে সাথে স্বশিক্ষায় শিক্ষিত হতে পারলেই সকল শৃঙ্খল থেকে মুক্ত হয়ে স্বাধীনভাবে মাথা উচুঁ করে বেচেঁ থাকা সম্ভব।

সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই এপ্রিল, ২০১০ রাত ২:১১
৯টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×