somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বিশ্বাসের ভিত্তিঃযুক্তি না অন্ধ আনুগত্য!

২৮ শে এপ্রিল, ২০১০ সকাল ৮:০৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মানুষ মাত্রই আমরা কিছু না কিছু বিশ্বাস করি যেমন আদর্শ,ধর্ম ইত্যাদি।এগুলোকে অবিশ্বাস করাটাও(নাস্তিকতা)এক ধরনের বিশ্বাস।তাহলে এই বিশ্বাসের ভিত্তিই বা কি? ধর্ম নিয়েই যেহেতু আমাদের মধ্যে বিতর্কটা বেশি তাহলে ওদিকেই মনযোগ দেই।

একজন মুসলমান হিসেবে আমি আমার বিশ্বাসের কথাটাই বলি।আমি আল্লাহকে বিশ্বাস করি,মোহাম্মদ (সঃ) কে বিশ্বাস করি যে উনি আল্লাহর সাথে আমাদের পরিচয়টা করে দিয়েছেন।আল্লাহকে কেন বিশ্বাস করি তার সহজ উত্তর হচ্ছে অবিশ্বাস করতে পারিনা তাই।

এখানে কে আগে আসল আল্লাহ না ইউনিভার্স বা god created universe then who created god এই জাতীয় প্যাচালে যাইতে চাইনা।কারন এই প্রশ্নগুলো নাস্তিক বা নতুন সংশয়বাদীরা আস্তিকদের কে বিভ্রান্ত করার জন্যই বলে থাকে। কারন ওদের মুল থিমই হল if you can't convince anybody just confuse them, তাই ডিম আগে না মুরগি আগে এই নিয়ে তর্ক করা আর সময় নষ্ট করা একই মনে হয়

কোরআন বলে প্রত্যেক শিশু মুসলমান হয়ে জন্ম গ্রহন করে পরবর্তিতে তার পরিবার তাকে তাদের নিজ নিজ ধর্মের দিকে নিয়ে যায়।এই বাক্যটাকে আমি যদি এভাবে বলি, যে প্রত্যেক শিশু সৃষ্টিকর্তার উপর বিশ্বাস নিয়েই জন্মায় তাহলে মনে হয় গোটা আস্তিক জগত আমার পক্ষে চলে আসল।

এখন কথা হচ্ছে তাহলে অবিশ্বাসটা কোথা থেকে আসে বা গডের অস্তিত্বে অস্বীকারের ভিত্তিইটা বা কি? পদার্থ বিজ্ঞান আমার অপছন্দের একটা বিষয় তারপরও একটা কথা ঐ বিষয় থেকে বলতে হচ্ছে, তাহল; পৃথিবীকে আপাত স্থির ধরে অনেক সুত্র আবিষ্কার হয়েছে বলে স্কুলে পরেছি, সাথে সাথে এও পরেছি যে প্রকৃত অর্থে পৃথিবী অন্যান্য গ্রহের মত স্থির না।তাহলে কি হল, আপেক্ষিক ভাবে আমরা যেহেতু খালিচোখে মহাকাশ দেখিনা, দেখিনা সকাল সন্ধায় পৃথিবীর মোবমেন্ট তাই মনে করে নেই যে পৃথিবী স্থির! এই উদাহরন কেন দিলাম তা পরে ব্যাখ্যা করছি।

নাস্তিকরা যখন বলেন ধর্মে বিশ্বাস করিনা প্রকৃতিই সব বা বিজ্ঞানের ফলেই সব কিছু এমনে এমনেই হয়ে গেছে তখন আমি বুযি যে, যে শিশুটা আস্তিক হয়ে জন্ম গ্রহন করল তাকে অবশ্যই কোন কোন যুক্তি এটা মেনে নিতে সাহায্য করেছে।মানেটা হচ্ছে আমাদেরই মত রক্ত-মাংসে গড়া কোন মানুষ তাকে যুক্তি দিয়ে এই কথাটা বিশ্বাস করতে সাহায্য করেছে, আর আমরা মানুষ মাত্রই যুক্তির কাঙ্গাল।যদি এই যাবতীয় যুক্তি না জানা হত বা কেউ টার্গেট করে ব্যাখ্যা না করত তাহলে নিউটনের সুত্র অনুসারে "আমাদের স্থির আস্তিক বিশ্বাস স্থিরই থাকত"

মানুষ মাত্রই আমাদের থেকে চাইজে বড়,শক্তিতে বিশাল,জ্ঞানের দিক থেকে অগ্রগামী এবং অর্থ-জশে প্রভাবশালীদের কথাকে মেনে নেয়ার প্রাকৃতিক স্বভাব রয়েছে।ক্ষেত্র বিশেষে কাউকে অথবা তার লেখাকে আদর্শ মেনে নেয়াও আমাদের স্বভাব,এটাও শুনা যায় বা দেখা যায় যে আরে উনার মত শিক্ষিত লোক এটা মানে বা এটা বলেছে তাহলে আমি কোন ছাই, তখন মনের অজান্তেই আরেকজনের মতামতকে নিজের চলার পথ হিসেবে মেনে নেই।

আইনষ্টাইন, কার্ল মার্কস,ডারউইন ওদের কয়েকজন যাদের চিন্তা,গবেষনা,আবিষ্কারকে অনেকে বিশ্বাসের বেইস ধরে নেই,সত্য কথা হচ্ছে ওদের কথা ইনফ্লুয়েন্স করার মতই।এই ইনফ্লুয়েন্স করার ফলেই নিউটনের সুত্রের পরের অংশটা কাজ করে কিছু মানুষের ভিতর আর তা হল "যদি কোন বল প্রয়োগ করা হয় তাহলে স্থির বস্তু গতি লাভ করে" মানে কোন কোন বনি আদম আস্তিক্যবাদ নিয়ে সংশয়ে পড়ে যান।

এই সংশয় প্রথম প্রথম মানুষের ভিতরে কিছুটা ফ্যান্টাসির জন্ম দেয়,সমাজের প্রচলিত-গৃহপালিত ধারা থেকে নিজেকে একটু আলাদাই মনে হয়।এই ফ্যান্টাসির কারনেই মানষ একটা সময় সষ্ট্রার অস্তিত্বের বিপক্ষে মনুষ্য তৈরি আরো কিছু সোর্স খুজে নেয় কিন্তু এই প্রচেষ্টা যে সষ্ট্রার অস্তিত্বের পক্ষেও করা যেত তা বেমালুম ভুলে যায় এবং সংশয় থেকে ধারনা গড়ে যায় সন্দেহের দিকে।

এই সন্দেহ থেকে বের হওরার সঠিক রাস্তা না জানার ফলে ধীরে ধীরে অনেক বনী আদম জন্ম লব্দ আস্তিকতাকে বিসর্জন দিয়ে হয় নাস্তিক হয়েছে বা হয়েছে লাইফ টাইম সংশয়বাদী।মজার ব্যাপার হচ্ছে ওদের কথাকে স্থির ধরেই(পৃথিবীর মত)অনেকে আবার আস্তিকদের কে নাস্তিকতার প্রয়োজনীয়তা বোঝাতে আসে এবং তর্কে জড়িয়ে পরে, হাস্য কর ব্যাপারটা তাইনা? আমার পার্সোনালী এমন বিজ্ঞ নাস্তিকের সাথে কথার অভিজ্ঞতা হচ্ছে এই বটম লাইন "আমরা আসলে সংশয় বাদী" আমি তখন মনে মনে বলি এক আন্ধা আরেক জনকে রাস্তা দেখায় কেমনে!

জীবন চলার জন্য নির্দেশনার প্রয়োজন,প্রয়োজন রুলস এবং রেগুলেশনের।এই নির্দেশনা আমরা কোথা থেকে পাব? আমার সহজ বুদ্ধিতে যা বুঝি তাহল, একটা ক্যালকুলেটর বা টিভির সাথে আবিষ্কারক কতৃক যে মেনুয়াল দেয়া হয় আমরা কি তা ফলো না করে নিজেই একটা মেনুয়াল তৈরি করার চিন্তা করি? প্রয়োজনে ঐ যন্ত্রদ্বয়ের ডেভেলপমেন্ট করতে চাইলেও মুল আবিষ্কারকের দেয়া ফান্ডামেন্টাল থিম ধরেই তা করার চিন্তা করা হয়।

আমরা যারা আস্তিক তারা এটা বিশ্বাস করি যে এই মহাবিশ্ব, আমরা মানুষ এবং এই দুইয়ের মাঝে যা আছে তা কোন এক অদ্বিতীয় শক্তিমান সৃষ্টিকর্তা দ্বারা আবিষ্কৃত হয়েছে এবং এটাও বিশ্বাস করি যে,সেই আবিষ্কারক আমাদেরকে চলার জন্য কিছু ফান্ডামেন্টাল সুত্র সহ একটা মেনুয়াল দিয়ে দিয়েছেন যা ফলো করলেই আমাদের চলার পথ সহজ হয়ে যায়।

আমার এটা মাথায় আসেনা মানুষের সীমাবদ্ধ জ্ঞান নিয়ে মানুষকে শাসন করার মত আইন বা মেনুয়াল মানুষ(যাদের ভবিষ্যতের কোন জ্ঞান নেই) কেমনে তৈরি করতে পারে আর মানুষও তা নির্দ্বিধায় কিভাবে মেনে নিতে পারে। মানুষের সীমাবদ্ধতা মানুষ ভাল করেই জানে, কারন মানুষ সময় দ্বারা সীমাবদ্ধ,যার কারনেই দেখি মানুষের তৈরি আমাদের দেশের সংবিধান মাত্র ৪০ বছরে পরিবর্তন হয়েছে ১৪বার, এ থেকেই মানুষের সীমাবদ্ধতা পরিষ্কার হয়ে উঠে।

যে ডারউইনের থিওরী আজকের সময়ে এসে অনেক বিতর্ক তৈরি করেছেsee more অবাক করে দেখি সেই থিওরিকেই অনেকে নাস্তিকতার ভিত্তি হিসেবে বেছে নিয়েছে, এরকম আরো অনেক দার্শনিকের দর্শন এই যোগে অচল কিন্তু তার মানে এই না যে উনি ওনার সময়ে যা লিখেছেন তার কোন ভিত্তি ছিলনা।অচল এমন দর্শনকে ভিত্তি করেই অনেকে নিজের আদর্শের কেবলা পরিবর্তন করে নিয়েছে।

এই অল্প সময়ের সীমাবদ্ধ দর্শন দিয়ে স্রষ্টাকে অস্বীকার করা বা তার বানীকে অস্বীকার করার কোন ভিত্তি আছে কি? আর যে ভিত্তির উপরে দাড়িয়ে চেলেন্জ করছি তারই ভিত্তি কি এই সহজ প্রশ্নটা মাথায় থাকলে হয়ত আমরা মানুষ হিসেবে স্রষ্টা কতৃক প্রেরিত মেনুয়াল মেনে নিতে সংশয় থাকার কথা নয়।

আল্লাহর বানী ছাড়া অন্য কারোর কথার সব মেনে নিতে হবে বলে মনে করিনা। তার দেয়া বিধানই একমাত্র সংবিধান যা অপরিবর্তিত রয়েছে। তার এই বিধানের সাথে যে সেতু হিসেবে কাজ করেছে সেই নবীকেও বিশ্বাস করি কারন তার জীবনটা একটা জীবন্ত মেনুয়াল মানুষের কাছে।সময়ের গন্ডিতে যে সীমাবদ্ধ নয়,টয়লেট ব্যাবহার থেকে শুরু করে রাষ্ট্র পরিচালনা পর্যন্ত জীবনের সবদিকেই যার আদর্শ কোটি কোটি মানুষ ফলো করছে সেই মহান নেতাই হতে পারে জীবন চলার একমাত্র আদর্শ।
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে এপ্রিল, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:৩০
১০টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×