গত সপ্তাহে মামা ফোন করলেন দিনাজপুর থেকে। বললেন, লিচু নিয়ে আসতে। এই সময় ছুটি পাব না। তাই ভাবলাম- বৃহষ্পতিবার রাতের বাসে রওনা হয়ে শুক্রবার লিচু কিনে আবার রাতের বাসে ফিরে আসা যায়।
সেই অনুসারে দিনাজপুর গেলাম। শুক্রবার সকালে গেলাম নিউমার্কেট সংলগ্ন লিচুর হাটে। মামা বললেন- সময় থাকলে সরাসরি বাগান থেকেই লিচু কিনে দিতাম। কিন্তু লিচুর হাটে গিয়েই আমি মোটামুটি অবাক! অবশ্য দিনাজপুরের মানুষ হয়েও এই প্রথম লিচুর হাটে গেলাম! তবে রংপুরের পদাগঞ্জে একটা আমের হাটে প্রতিবছরই যাওয়া হয় আম কিনতে!
যা হোক, ধান ভানতে শীবের গীত বাদ দিয়ে আসেন ছবিগুলো দেখি এবং যার যার মত 'লোল' ফেলি!
এক চারা বিক্রেতা আমাকে ছবি তুলতে দেখে অনুরোধ করলেন তাঁর লিচুসহ চারার ছবি তুলে নিতে। নিজেই দুই হাতে দুটি চারা নিয়ে দাঁড়িয়ে গেলেন-
তিন ধরণের ১৫০০ লিচু কিনলাম। স্থানীয় ভাষায় যেগুলো নাম যথাক্রমে- বেদানা, চায়না-৩ ও মাদ্রাজী। এর মধ্যে বেদানা লিচু সবচেয়ে উন্নত মানের, আকর্ষণীয় স্বাদ ও গন্ধের। চা্য়না-৩ লিচু গুলো আকারে বেশ বড়- একেকটা ছোট পেয়ারার সমান, ছোট বিচি এবং খুবই মাংসল ও রসালো। মাদ্রাজী লিচুগুলো তুলনামূলকভাবে সস্তা এবং স্বাদ মাঝারি। এছাড়াও বোম্বে, হারিয়া নামে আরও কিছু জাতের লিচু আছে যেগুলো এখন ভাল পাওয়া যাচ্ছে না। হাটের পাশেই এস, এ পরিবহনের কাউন্টার। সেখানে গিয়ে লিচুগুলো বুক করে দিলাম।
তবে দুঃখের বিষয়, পরদিন ঢাকায় যখন লিচুগুলো সংগ্রহ করলাম, দেখি- লিচুর এক-চতুর্থাংশ নষ্ট হয়ে গেছে। অথচ ঢাকায় যখন আমরা বিক্রেতার কাছ থেকে কিনি তখন মনে হয় যেন কেবল বাগান থেকে পেড়ে আনা হল। ওরা আসলে কোন রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করে কিনা কে জানে!
[প্রয়াত পপগুরু আজম খানকে শ্রদ্ধা জানাই এবং তার আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি।]

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

