আজকে প্রথম আলোতে ঢাকায় মেট্রোরেলের রুট নিয়ে লিড নিউজ ছাপা হয়েছে। আবার একটু আগে খেয়াল করলাম- ঐ সংবাদ নিয়ে প্রথম আলোরই সহযোগী সম্পাদক মিজানুর রহমান খানের একটি প্রতিক্রিয়া ওয়েবসাইটে ছাপা হয়েছে। বোঝাই যাচ্ছে, প্রথম আলো যেভাবেই হোক বিষয়টি নিয়ে আলোচনার ঝড় তুলতে চাইছে।
জাপানভিত্তিক ঋণদানকারী সংস্থা জাইকার প্রায় সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকা অর্থায়নে নির্মিতব্য প্রায় ২২ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এই মেট্রোরেলের প্রথম পর্যায়ে উত্তরা তৃতীয় পর্ব থেকে মিরপুরের পল্লবী, বিজয় সরণি, ফার্মগেট, টিএসসি, প্রেসক্লাব হয়ে মতিঝিল শাপলা চত্বর পর্যন্ত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তেজগাঁওয়ে অবস্থিত পুরাতন বিমানবন্দরটি বাংলাদেশ বিমানবাহিনী ব্যবহার করে বিধায় তারা এই রুটের প্রস্তাবে বিরোধিতা করছে। তাদের মতে, এই রুটটি নির্ধারিত হলে তেজগাঁও বিমানবন্দরটি ঝুঁকির মধ্যে পড়বে। অথচ বিমানবাহিনী এই বিমানবন্দরটি হালকা প্রশিক্ষন বিমান, হেলিকপ্টার উড্ডয়নে ব্যবহার করে।
পত্রিকার ভাষ্যমতে, নগর পরিকল্পনাবিদ, স্হপতি ও বিশেষজ্ঞরা এই রুটটিকে কোনভাবেই বিমানবন্দরের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ মনে করছেন না। কিন্তু বিমানবাহিনীর উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা কোনভাবেই এই প্রস্তাবে রাজি হচ্ছেন না। ফলে রুট পরিবর্তন করে জাতীয় সংসদ ভবনের পাশ দিয়ে খামারবাড়ি হয়ে নতুন রুট ভাবা হচ্ছে। এতে যেমন প্রকল্প ব্যয় বাড়ছে, তেমনি স্হপতি লুই কানের মাস্টারপ্ল্যানে নির্মিত সংসদ এলাকার সৌন্দর্যহানিও ঘটছে।
খুব সহজভাবে একজন অবিশেষজ্ঞ মানে সাধারণ মানুষ হিসেবে যদি চিন্তা করি, তাহলে দেখি- অত্যধিক জনবসতি এবং যানজটের ভারে ন্যুজ ঢাকা শহরে মেট্রোরেল স্থাপন একটি জরুরী বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমনিতেই ঢাকার উত্তরের একটি বিশাল অংশ জুড়ে (দুই দশক পূর্বে অবশ্য এটি ঢাকার একপাশেই ছিল) বনানী ক্যান্টনমেন্ট শহরবাসী ও শহর পরিকল্পনাকারীদের জন্য একটা মাথাব্যথার কারণ, তার উপর তেজগাঁওয়ের এই পরিত্যক্ত বিমানবন্দর নিয়ে বিমানবাহিনীর আদিখ্যেতা শুধু বিরক্তিকরই নয়, এটা রাষ্ট্র পরিচালকদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে ব্যর্থতা ও সমন্বয়হীনতারও পরিচয় তুলে ধরে।
একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে সোজা যুক্তিটি হল- বিমানবাহিনীর প্রয়োজনে এরকম আরও দশটা বিমানবন্দর ঢাকার আশেপাশে বা দূরে যে কোন জায়গায় তৈরি করা সম্ভব, কিন্তু ঢাকা শহরটিকে তুলে দূরে কোথাও স্থাপন করা দুঃসাধ্য। সুতরাং ঢাকাকে বাঁচাতে হলে, বাসযোগ্য রাখতে হলে অতি প্রয়োজনীয় মেট্রোরেল স্থাপন করা হোক আর কম গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দর সরানো হোক- এটাই সাধারণ মানুষের দাবী।
আমার ধারণা- সরকার ও তার বিভিন্ন সংস্থার নীতি নির্ধারকরাও বিষয়টি বোঝেন। কিন্তু বুঝেও কেন বিষয়টি জটিল করে তোলা হচ্ছে এবং অন্যায় দাবীকে প্রশ্রয় দেয়া হচ্ছে- সেটাই সবচেয়ে বড় রহস্য।
তবে কি এর মধ্যে কোন লেনদেন, হিসেব নিকেশের ব্যাপার আছে?
নাকি ক্ষমতাধরদের 'জরুরী' মুহূর্তের নিরাপত্তার জন্য বিশেষ গোষ্ঠীর কোন পরামর্শে এটা করা হচ্ছে?
যাই হোক, যেই সংস্থা বা বাহিনীর কাঁধেই বন্দুক রাখা হোক- দেশের মানুষ চায় শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত কেউই দেশের স্বার্থ সংরক্ষণের শপথ ভঙ্গ করবেন না। মানুষের বিশ্বাসের স্থানটুকু নষ্ট হতে দেখলে খারাপ লাগে! আবার হাতি চিপায় পড়লে চামচিকাও লাথি মারে, ষড়যন্ত্র করে!
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা অক্টোবর, ২০১১ রাত ১১:৪৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


