সম্প্রতি চীন সরকার চীনা ভাষার বিশুদ্ধতা রক্ষার্থে চীনের গণমাধ্যমসমূহে ইংরেজি ভাষার ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে। পৃথিবীর আরও অনেক দেশ আছে যেখানে তাদের মাতৃভাষার বিশুদ্ধ চর্চা হয় এবং বিদেশী ভাষার প্রচলন কম দেখা যায়।
বাংলাভাষার ঐতিহ্য বহু প্রাচীন। ইতিহাস থেকে জানা যায়, পুরনো এই ভাষাতে অনেক আগে থেকেই মানুষ তার ভাব প্রকাশ করে এসেছে এবং করছে। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারির ভাষা আন্দোলন পৃথিবীকে জানিয়ে দেয়, ভাষার জন্যে কোন জাতি রক্ত দিতে পারে।
অথচ আজ এই বাংলা ভাষাতেই বিদেশী ভাষা বিশেষ করে ইংরেজির প্রাদুর্ভাব লক্ষণীয়। এটা খুবই সত্য যে, বাংলা ভাষায় কিছু বিদেশী ভাষার প্রয়োগ বেশ আগে থেকেই আদরনীয় ছিল; কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপট চিন্তা করলে দেখা যায়, আমরা কথা এবং লেখায় প্রায়শ:ই বাংলার সাথে ইংরেজি মিশিয়ে বলছি। এতে করে বাংলাভাষার বিশুদ্ধতা ক্ষুণ্ণ হচ্ছে বলেই আমি মনে করি। একটা কথা খুব পরিষ্কার ভাবে বলতে চাই, কোন বিদেশী ভাষায় কথা বলা বা লেখা অথবা বিদেশী ভাষা শিক্ষার ব্যাপারে আমার কোন আপত্তি নেই। বরং আপত্তি, বাংলা ভাষা বলা বা লেখার সময় যথার্থ বাংলা শব্দ ব্যবহার না করে অহেতুক ইংরেজি শব্দের ব্যবহার। আমি নিজেও সম্পূর্ণরূপে উপরিউক্ত দূষণমুক্ত নই। তারপরেও চেষ্টা করি, বাংলাভাষার বিশুদ্ধতা যেন রক্ষা হয়, যেন কোন প্রকার অবমাননা না হয়।
গণমাধ্যম সমূহেও ইদানিং 'বাংলিশ' ভাবটা চোখে পড়ার মতো। নাটক, গান, খবর - সব জায়গাতেই যেন নিজেকে বুদ্ধিদীপ্ত প্রমাণের চেষ্টাতে সবাই 'বাংলিশ' বলাতে সদা সচেষ্ট। আর আমাদের প্রতিটি পরিবারে ছোট কোমলমতি শিশুরা এসব দেখে শিখে নেয় কিভাবে ছোট থেকেই বাংলাকে অবহেলা করতে হবে। তাই তাদের মুখে আজ বাংলার থেকে হিন্দী বা ইংরেজি ভাল বলতে শুনলে অবাক হবার কিছু নেই।
বিশুদ্ধ বাংলাভাষার চর্চা করে এবং বাংলার সাথে ইংরেজি বা অন্য কোন ভিনদেশী ভাষার মিশ্রণ পরিহার করে ভবিষ্যত প্রজন্মের ভাবপ্রকাশের জন্য একটি সুন্দর পরিবেশ সৃষ্টির জন্য সচেষ্ট হওয়া আমাদের সকলের নৈতিক দায়িত্ব ও কর্তব্য।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


