somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বেগম জিয়ার বাড়ি প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা ও এরশাদের বক্তব্যের পর্যালোচনা

০৫ ই এপ্রিল, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:১১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্প্রতি বিরোধীদলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে তার ক্যান্টনমেন্টের বাসভবনটি ছেড়ে দেবার আহ্বান জানিয়েছেন। এর পেছনে তিনি তার একটি মহান ইচ্ছের কথাও অবহিত করছেন সংসদকে। জানিয়েছেন, বাড়িটি ছেড়ে দিলে সেখানে পিলখানা ট্র্যাজেডিতে শহীদ সেনাপরিবারগুলোর পুনর্বাসন করা হবে। প্রক্রিয়াটা হবে এই যে, পরিবারপ্রতি দু’টি করে ফ্ল্যাট প্রদান করা হবে। একটি ওই পরিবারটির আবাসনের জন্যে আর অপরটি ভাড়া দিয়ে তাদের জীবিকা নির্বাহের জন্যে। নিঃসন্দেহে এটি একটি মহতী উদ্যোগ। তবে সমস্যা হলো, এ প্রশংসিত উদ্যোগটি বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রী যে জায়গাটি নির্বাচন করেছেন সেখানে ইতোমধ্যেই একজন নিহত রাষ্ট্রপতি ও সাবেক সেনাপ্রধানের বিধবা স্ত্রী পুনর্বাসিত রয়েছেন। পুনর্বাসিত একটি পরিবারকে সরিয়ে সেই স্থানটিতে অন্য কাউকে পুনর্বাসন করবার চিন্তা বোধ হয় ভালো কিছুর আড়ালে মন্দ কিছুর ইঙ্গিতই বহন করে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হলো, সেই বাড়িটি বরাদ্দ দেয়া হয়েছে আরেক সাবেক রাষ্ট্রপতি ও সেনাপ্রধান কর্তৃক আদিষ্ট হয়েই। সুতরাং, এমন একটি বাড়িতে পিলখানায় নিহত সেনাকর্মকর্তাদের পরিবারগুলোকে পুনর্বাসন করতে চাইলে তা স্বয়ং ঐ পরিবারগুলোই কতটা সন্তুষ্টচিত্তে গ্রহণ করবে তা একটি বড় প্রশ্ন।

এদিকে এরশাদ কর্তৃক খালেদা জিয়াকে সেই বাড়িটি বরাদ্দ দেয়ার প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংসদে এরশাদকে ব্যঙ্গ করে বলেছেন, ভাবী সাহেবাকে (বেগম খালেদা জিয়া) খুশি করার জন্যেই তিনি নাকি সেই বাড়িটি তাকে বরাদ্দ দিয়েছিলেন! তবে এতে করে এরশাদ সাহেবের তেমন একটা খারাপ লেগেছে বলে মনে হয় না। কারণ এরই মধ্যে রাজনৈতিক আনুগত্য দেখাতে গিয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে সুর মিলিয়ে কথা বলেছেন। মিডিয়াকে তিনি জানিয়েছেন, সহানুভূতির দৃষ্টিকোণ থেকে তিনি তখন বেগম জিয়াকে দু’টি বাড়ি প্রদান করেছিলেন। একটি তার থাকবার জন্য আর অপরটি ভাড়া দিয়ে জীবিকা নির্বাহের জন্য। এখন যেহেতু বেগম খালেদা জিয়ার অনেক অর্থ, সুতরাং বাড়িটি তার ছেড়ে দেয়া উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেছেন। সাথে সাথে তিনি এটিও জানিয়েছেন যে, বেগম জিয়া রাজনীতি করবেন জানলে তিনি সেই বাড়িটি তাকে দিতেন না।

এরশাদ সাহেবের বক্তব্য পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে, বিডিআর বিদ্রোহে নিহত সেনাকর্মকর্তাদের পরিবারগুলোকে যে উদ্দেশ্যে দু’টি করে বাড়ি বরাদ্দ দেবার চিন্তা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সেই একই রকম উদ্দেশ্য ও চিন্তা থেকেই এরশাদ সাহেবও সেসময় দু’টি বাড়ি বরাদ্দ দিয়েছিলেন বেগম খালেদা জিয়াকে। শহীদ জিয়া সাবেক রাষ্ট্রপতি ও সেনাবাহিনী প্রধান ছিলেন বলে তার বিধবা স্ত্রীকে মর্যাদার দৃষ্টিকোণ থেকে দু’টি বাড়ি প্রদান করা হয়েছিল, যা শেখ হাসিনার বর্তমান পুনর্বাসননীতির সাথে সম্পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ।

“বেগম জিয়া রাজনীতি করবেন জানলে বাড়িটি তাকে বরাদ্দ দেয়া হত না” মর্মে যে বক্তব্য দিয়েছেন এরশাদ সাহেব, সেটি তার সঙ্কীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গির প্রকাশমাত্র। রাজনীতি করা নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার। কেউ সাংবিধানিক অধিকার প্রয়োগ করলে তার থেকে সহানুভূতি উঠিয়ে নিতে হবে এই তত্ত্ব তিনি কোথায় পেলেন? অন্তত দিন বদলের সনদধারীদের সাথে থাকাকালীন তার মুখে এমন কথা মোটেই মানায় না!

আরেকটি ব্যাপার, প্রধানমন্ত্রী তার ছোট বোন শেখ রেহানার জন্যে বরাদ্দকৃত জমি সেনাপরিবারগুলোকে পুনর্বাসনকার্যে প্রদান করার ঘোষণা দিয়েছেন। এটি নিঃসন্দেহে শেখ হাসিনার বড় মানসিকতার পরিচায়ক। তবে শেখ রেহানার জমির সাথে বেগম জিয়ার জমিটির তুলনা করা ঠিক হবে না। কারণ, শেখ রেহানার ওই জমিটি তাকে দেয়া হয়েছে গত আ’লীগ আমলে। সেসময় বঙ্গবন্ধু-পরিবারের সম্মান ও মর্যাদা ছিল রাষ্ট্রীয়ভাবে সুপ্রতিষ্ঠিত। ফলে এটি অন্তত স্পষ্ট যে, কোনো বিশেষ সহানুভূতি থেকে তাকে সেসময় ওই জমিটি প্রদান করা হয় নি। অপরদিকে বেগম জিয়ার বাড়িটি তাকে দেয়া হয়েছিল তার জীবনের কঠিনতম মুহূর্তে। শহীদ জিয়া কিংবা বেগম খালেদা জিয়া ক্ষমতায় থাকাকালে সেটি অধিগ্রহণ করা হয় নি, যেমনটি করা হয়েছে শেখ রেহানার জমি বরাদ্দের ক্ষেত্রে।

সুতরাং, শেখ রেহানার জমি ছেড়ে দেবার ঘোষণার মাধ্যমে বেগম খালেদা জিয়াকে তার বাড়িটি ছেড়ে দেবার ব্যাপারে কোনোপ্রকার মানসিক চাপ আরোপ করার চেষ্টা করাটা নিতান্তই অযৌক্তিক ও হাস্যকর।
১৭টি মন্তব্য ১৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র - ভ্রাম্যমান লাইব্রেরী ভাবনা

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:৪৬


শ্রদ্ধেয় আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যাররে হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র তার জন্মলগ্ন ১৯৭৮ সাল থেকে অনেকটা পথ পেরিয়ে এসেছে। আমার মনে পড়ে, আমি স্কুলে পড়াকালীন সময়ে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র থেকে স্কুল... ...বাকিটুকু পড়ুন

=একান্ত নিজস্ব জিনিসগুলো পর হয়ে যাচ্ছে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৫



যে চোখ দিয়ে দেখেছি ধরার আলো, সে চোখও দিচ্ছে ফাঁকি,
যে চোখের আলোয় দেখেছি পুকুর নদী, শুকনো উঠোন;
বৃষ্টি ভেজা দিন, দেখেছি ময়না শালিক, ঘুঘু ডাকা দুপুর
সে চোখ পর হয়ে যাচ্ছে অল্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×