বসে আছি একটি কৃষ্ণচূড়ার আড়ালে নিজেকে লুকাতে নাকি অন্য কোন কারনে জানিনা, রাস্তা দিয়ে ভর দুপুরে হেঁটে যাচ্ছিলাম ভালই উপভোগ করছিলাম, মধ্যদুপুরে সূর্য্য মাথায় নিয়ে হাটতে অন্য রকম একটা সুখানুভুতি টের পাই, নিজেকে অন্য জগতের পথিক মনে হয়..চোখ ধাঁধাঁনো রোদে হাটছি আর নিজের মধ্যে নিজেকে হারিয়ে ফেলছি, একটি মুহূর্ত যেন কোন এক নেশার ঘোরে ডুবে আছি, কিছুক্ষন আগেও মনে হচ্ছিল প্রচন্ড গরম এখন কোন কিছুই অনুভূত হচ্ছে না বরং চারপাশের উষ্ণতাকে উপভোগ্য লাগছে, হঠাৎ করে এই অনুভূতিটাকে বরণ করতে ইচ্ছে হলো খুব, সামনে চোখে পড়ল একটি কৃষ্ণচূড়া গাছ, আগুন লাগিয়ে লাল ফুল ফুটিয়েছে, নিজেকে কবি ভাবতে ভাল লাগেনা, তবে কবিতার জন্য অসম্ভব টান অনুভব করি; কৃষ্ণচূড়ার আগুন দেখে হঠাৎ মনে হলো এমন একটি গ্রামের কথা যেখানে গাছ বলতেই কৃষ্ণচূড়া, পলাশ আর তার ফাঁকে ফাঁকে নীল ফুলের জারুল গাছ, ভর দুপুরে গাঁয়ের সব কৃষ্ণচূড়া, জারুল, পলাশ ফুলকে সুর্য্যের আলোতে এভাবে দেখে মনে হবে যেন গ্রামটিতে আগুন লেগে গেছে ভাবতে ভাবতে আগুন ঝড়ানো কৃষ্ণচূড়া গাছটির নিচে বসে গেলাম প্রদীপের নিচের অন্ধকার টুকু খুঁজে পেতে কিনা কে জানে... এখন মধ্য দুপুর আরো জমিয়ে বলতে গেলে ভরদুপুর, নিজেকে ভাবুক পর্যায়ে নিয়ে গিয়ে প্রদীপের অন্ধ-তলে ভাবতে বসে গেলাম আজকের সকালের কথা, না সকালের কোন ঘটনাকে নয়, বরং সকালের অস্তিত্ব নিয়ে, আচ্ছা এখন তো দুপুর, আজকের ভোরটি কোথায় গেলো? শিশিরের সিক্ততায় নিজেকে আবিস্কার করল যে ভোর, নিজেকে সকাল রুপে, এই ভর দুপুরে সে এখন কোথায়? সকালটিকে মৃত মনে হলো হঠাৎ করে, কল্পনায় ভেসে উঠলো সেই আগুন গাঁয়ের কোন এক মেঠো পথের বাঁকে সকালটি মুখ থুবড়ে মরে পড়ে আছে যার নীল-চোখে হঠাৎ অকাল নিশ্চিৎ প্রয়াণের অপরিমেয় বিস্ময়!! আমি যেখানে বসে আছি তার কিছু সামনেই একটি দীঘি মতো, অদ্ভুত চমৎকার জায়গা নিজেকে লুকিয়ে ফেলতে ইচ্ছে করে সব কিছু থেকে এমন আবিস্কারের আনন্দ পেতে, আমি হাত পা ছড়িয়ে রীতিমত শুয়ে পড়লাম, চোখ বুজে রইলাম কিছুক্ষন অনুভূতিটাকে উপভোগের জন্য, অনেকদিন পর একা একা বেরিয়েছি ঘুরতে, আসলে একাই কাটাই মুহুর্তগুলো কিন্তু নিজের সাথে নিজের অনুভূতিগুলো উপভোগের এই মেল-বন্ধন খুবই কম ঘটে থাকে, একটি পাখি ডাকছে আপন মনে ডেকেই যাচ্ছে ডেকেই যাচ্ছে, পাখিটার ডাকটা পরিচিত কিন্তু কোন পাখি ঠিক ধরতে পারছি না তবে ডাকাডাকি উপভোগ করছি, চোখ খুলে তাকালাম একটি হলুদ পাখি, চমৎকার দেখতে, ডাকাডাকির মাঝে একটা অস্থিরতা আছে কিছুটা ক্ষোভও টের পাচ্ছি, ডেকে যাক আমি শুনতে থাকি... পাখিটাকে মনে হলো একাকী হয়ে নিজেকে যা না তাই বুঝাচ্ছে। আমি ভাবনাটাকে অন্য দিকে সরানোর জন্য উঠে বসলাম গাছটার গায়ে হেলান দিয়ে বসলাম, গাছটির নিচে কৃষ্ণচূড়ার সমারোহ, একটা গালিচা গড়ার প্রয়াস যেন, অনেক অভূতপূর্ব লাগছে সময়টিকে। দীঘিটি আসলে, দীঘিথেকে একটু ছোট কিন্তু পুকুর থেকে একটু বড়, কিন্তু এ মুহুর্তে দীঘি ছাড়া কিছু বলতে ইচ্ছা করছে না। উঠে পড়লাম, দীঘির পাড়ে গিয়ে পা ডুবিয়ে বসে পড়লাম, কিছু দূরে একটি বক এক পা ডুবিয়ে ঝিমাচ্ছে, আমি কিছুটা নুয়ে ওর আরেকটা পা খোঁজার চেষ্টায় রত এ সময় পায়ে মাছের ঠোকর খেয়ে এতটাই চমকে গেলাম কাপড় চোপড়ে পানি লাগিয়ে যা তা দশা করে ফেললাম এ জন্য মনে মনে বক আর ওর এক ঠ্যাং কে দুষতে লাগলাম, নিজের অন্যমনস্কতার দোষকে ঢাকার জন্য। আমি আবার পা ডুবিয়ে দিলাম, ছোট ছোট মাছ গুলি আবার এসে পায়ের আঙ্গুল গুলি ঠোকরাতে লাগল সুরসুরি ও লাগছে শিহরিত ও লাগছে, অদ্ভুত অনুভুতি; হঠাৎ করে হেসে দিলাম এই অনুভবে। সুর্য্যের আলো পুরোটাই পানিতে পড়ছে বাতাসের সাথে ঢেউয়ের মিতালি হওয়ায়, আলোটা একটু ঝিলিমিলিতে চোখে লাগছে, পানিকে মনে হচ্ছে ঝিলিমিলি ডিসপ্লে, আর মন থেকে অনুভুতি গুলো মুখ থেকে সীমিত হয়ে বের হচ্ছে 'অদ্ভুত!' 'অদ্ভুত!!'-শব্দরুপে। একঝাক হাঁস ভেসে বেরাচ্ছে আপন মনে কিছুটা দূরে ওদের দেখে ঈর্ষায় কিছুক্ষন ভাবতে লাগলাম, কেন হাঁস হইলাম না ভাবতে ভাবতেই ঝুম করে পানিতে নেমে গেলাম কিছুক্ষন ডুবালাম, ইচ্ছেমতো হাঁসগুলোকে তাড়া করলাম পাঁজিগুলো সাতার কেটে পালিয়ে গেলো। এবার আমার শরীরের আধেকটা পানির নিচে আধেকটা পানির উপরে, উষ্ণতার পার্থক্য মাপতে লেগে গেলাম উপরের গরম আর নিচের ঠান্ডা দুটোই উপভোগ করতে লাগলাম চোখ বুঁজে, এভাবে কিছুক্ষন থেকে ভাবলাম অনেক হইছে উপভোগ, হাঁটা ধরলাম শেষ দুপুরে মতিন চাচার চায়ের দোকানে আধভেজা হয়ে ঢুকে, চাচার বেঞ্চি ভিজিয়ে, পিরিচে চা ঢেলে খেতে লাগলাম চুক চুক করে,চায়ের স্বাদ কেন জানি ডাবল লাগছে! পকেটে হাত দিয়া টাকা ভিজা পাইলাম মতিন চাচারে একটা দাঁত-ক্যালানী হাসি গিফ্ট দিয়ে চায়ের দাম দিয়ে সোজা বিকেল বরণে নেমে গেলাম....
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা এপ্রিল, ২০১০ রাত ১০:৫৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


