somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভাবনায় ভরদুপুর...

০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ৯:৪২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :




বসে আছি একটি কৃষ্ণচূড়ার আড়ালে নিজেকে লুকাতে নাকি অন্য কোন কারনে জানিনা, রাস্তা দিয়ে ভর দুপুরে হেঁটে যাচ্ছিলাম ভালই উপভোগ করছিলাম, মধ্যদুপুরে সূর্য্য মাথায় নিয়ে হাটতে অন্য রকম একটা সুখানুভুতি টের পাই, নিজেকে অন্য জগতের পথিক মনে হয়..চোখ ধাঁধাঁনো রোদে হাটছি আর নিজের মধ্যে নিজেকে হারিয়ে ফেলছি, একটি মুহূর্ত যেন কোন এক নেশার ঘোরে ডুবে আছি, কিছুক্ষন আগেও মনে হচ্ছিল প্রচন্ড গরম এখন কোন কিছুই অনুভূত হচ্ছে না বরং চারপাশের উষ্ণতাকে উপভোগ্য লাগছে, হঠাৎ করে এই অনুভূতিটাকে বরণ করতে ইচ্ছে হলো খুব, সামনে চোখে পড়ল একটি কৃষ্ণচূড়া গাছ, আগুন লাগিয়ে লাল ফুল ফুটিয়েছে, নিজেকে কবি ভাবতে ভাল লাগেনা, তবে কবিতার জন্য অসম্ভব টান অনুভব করি; কৃষ্ণচূড়ার আগুন দেখে হঠাৎ মনে হলো এমন একটি গ্রামের কথা যেখানে গাছ বলতেই কৃষ্ণচূড়া, পলাশ আর তার ফাঁকে ফাঁকে নীল ফুলের জারুল গাছ, ভর দুপুরে গাঁয়ের সব কৃষ্ণচূড়া, জারুল, পলাশ ফুলকে সুর্য্যের আলোতে এভাবে দেখে মনে হবে যেন গ্রামটিতে আগুন লেগে গেছে ভাবতে ভাবতে আগুন ঝড়ানো কৃষ্ণচূড়া গাছটির নিচে বসে গেলাম প্রদীপের নিচের অন্ধকার টুকু খুঁজে পেতে কিনা কে জানে... এখন মধ্য দুপুর আরো জমিয়ে বলতে গেলে ভরদুপুর, নিজেকে ভাবুক পর্যায়ে নিয়ে গিয়ে প্রদীপের অন্ধ-তলে ভাবতে বসে গেলাম আজকের সকালের কথা, না সকালের কোন ঘটনাকে নয়, বরং সকালের অস্তিত্ব নিয়ে, আচ্ছা এখন তো দুপুর, আজকের ভোরটি কোথায় গেলো? শিশিরের সিক্ততায় নিজেকে আবিস্কার করল যে ভোর, নিজেকে সকাল রুপে, এই ভর দুপুরে সে এখন কোথায়? সকালটিকে মৃত মনে হলো হঠাৎ করে, কল্পনায় ভেসে উঠলো সেই আগুন গাঁয়ের কোন এক মেঠো পথের বাঁকে সকালটি মুখ থুবড়ে মরে পড়ে আছে যার নীল-চোখে হঠাৎ অকাল নিশ্চিৎ প্রয়াণের অপরিমেয় বিস্ময়!! আমি যেখানে বসে আছি তার কিছু সামনেই একটি দীঘি মতো, অদ্ভুত চমৎকার জায়গা নিজেকে লুকিয়ে ফেলতে ইচ্ছে করে সব কিছু থেকে এমন আবিস্কারের আনন্দ পেতে, আমি হাত পা ছড়িয়ে রীতিমত শুয়ে পড়লাম, চোখ বুজে রইলাম কিছুক্ষন অনুভূতিটাকে উপভোগের জন্য, অনেকদিন পর একা একা বেরিয়েছি ঘুরতে, আসলে একাই কাটাই মুহুর্তগুলো কিন্তু নিজের সাথে নিজের অনুভূতিগুলো উপভোগের এই মেল-বন্ধন খুবই কম ঘটে থাকে, একটি পাখি ডাকছে আপন মনে ডেকেই যাচ্ছে ডেকেই যাচ্ছে, পাখিটার ডাকটা পরিচিত কিন্তু কোন পাখি ঠিক ধরতে পারছি না তবে ডাকাডাকি উপভোগ করছি, চোখ খুলে তাকালাম একটি হলুদ পাখি, চমৎকার দেখতে, ডাকাডাকির মাঝে একটা অস্থিরতা আছে কিছুটা ক্ষোভও টের পাচ্ছি, ডেকে যাক আমি শুনতে থাকি... পাখিটাকে মনে হলো একাকী হয়ে নিজেকে যা না তাই বুঝাচ্ছে। আমি ভাবনাটাকে অন্য দিকে সরানোর জন্য উঠে বসলাম গাছটার গায়ে হেলান দিয়ে বসলাম, গাছটির নিচে কৃষ্ণচূড়ার সমারোহ, একটা গালিচা গড়ার প্রয়াস যেন, অনেক অভূতপূর্ব লাগছে সময়টিকে। দীঘিটি আসলে, দীঘিথেকে একটু ছোট কিন্তু পুকুর থেকে একটু বড়, কিন্তু এ মুহুর্তে দীঘি ছাড়া কিছু বলতে ইচ্ছা করছে না। উঠে পড়লাম, দীঘির পাড়ে গিয়ে পা ডুবিয়ে বসে পড়লাম, কিছু দূরে একটি বক এক পা ডুবিয়ে ঝিমাচ্ছে, আমি কিছুটা নুয়ে ওর আরেকটা পা খোঁজার চেষ্টায় রত এ সময় পায়ে মাছের ঠোকর খেয়ে এতটাই চমকে গেলাম কাপড় চোপড়ে পানি লাগিয়ে যা তা দশা করে ফেললাম এ জন্য মনে মনে বক আর ওর এক ঠ্যাং কে দুষতে লাগলাম, নিজের অন্যমনস্কতার দোষকে ঢাকার জন্য। আমি আবার পা ডুবিয়ে দিলাম, ছোট ছোট মাছ গুলি আবার এসে পায়ের আঙ্গুল গুলি ঠোকরাতে লাগল সুরসুরি ও লাগছে শিহরিত ও লাগছে, অদ্ভুত অনুভুতি; হঠাৎ করে হেসে দিলাম এই অনুভবে। সুর্য্যের আলো পুরোটাই পানিতে পড়ছে বাতাসের সাথে ঢেউয়ের মিতালি হওয়ায়, আলোটা একটু ঝিলিমিলিতে চোখে লাগছে, পানিকে মনে হচ্ছে ঝিলিমিলি ডিসপ্লে, আর মন থেকে অনুভুতি গুলো মুখ থেকে সীমিত হয়ে বের হচ্ছে 'অদ্ভুত!' 'অদ্ভুত!!'-শব্দরুপে। একঝাক হাঁস ভেসে বেরাচ্ছে আপন মনে কিছুটা দূরে ওদের দেখে ঈর্ষায় কিছুক্ষন ভাবতে লাগলাম, কেন হাঁস হইলাম না ভাবতে ভাবতেই ঝুম করে পানিতে নেমে গেলাম কিছুক্ষন ডুবালাম, ইচ্ছেমতো হাঁসগুলোকে তাড়া করলাম পাঁজিগুলো সাতার কেটে পালিয়ে গেলো। এবার আমার শরীরের আধেকটা পানির নিচে আধেকটা পানির উপরে, উষ্ণতার পার্থক্য মাপতে লেগে গেলাম উপরের গরম আর নিচের ঠান্ডা দুটোই উপভোগ করতে লাগলাম চোখ বুঁজে, এভাবে কিছুক্ষন থেকে ভাবলাম অনেক হইছে উপভোগ, হাঁটা ধরলাম শেষ দুপুরে মতিন চাচার চায়ের দোকানে আধভেজা হয়ে ঢুকে, চাচার বেঞ্চি ভিজিয়ে, পিরিচে চা ঢেলে খেতে লাগলাম চুক চুক করে,চায়ের স্বাদ কেন জানি ডাবল লাগছে! পকেটে হাত দিয়া টাকা ভিজা পাইলাম মতিন চাচারে একটা দাঁত-ক্যালানী হাসি গিফ্ট দিয়ে চায়ের দাম দিয়ে সোজা বিকেল বরণে নেমে গেলাম....

সর্বশেষ এডিট : ০১ লা এপ্রিল, ২০১০ রাত ১০:৫৩
২৫টি মন্তব্য ২৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×