somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ফাও কাজের ব্যাস্ততা---অতঃপর খরগোশ দৌড়

০৭ ই জানুয়ারি, ২০০৯ বিকাল ৪:২৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সময়ের কাজ সময়ে না করলে যে কি ফাপরে পড়তে হয় সেটা সবাই কমবেশী জানে। তবে জানার পরে সেটা কতটুকু মনে থাকে সেটাই হল কথা। আমি একটা জন্মের আলসে মানুষ। ফাও কাজে যে কত সময় নষ্ট করি তার শেষ নেই। ফাও কাজে সময় নষ্ট করে শেষ সময়ে পড়িমড়ি করে আসল কাজ করি, সেটা ছাত্র জীবনে পরীক্ষার পড়া হোক বা অফিসের কোন এসাইনমেন্ট হোক। শেষমেশ সব ভালভাবেই পার করতে পারি বলেই এইবারই শেষবার এটা আর মনে থাকে না। ফলে আবার ফাঁকি। আমার এক সিনিয়র সহকর্মী যিনি অনেক সিনিয়র, যার সাথে আমার অধিকাংশ কাজ করতে হয়, আমার ফাঁকিতে ভীষণ বিরক্ত। তারপর যখন শেষ সময়ে কাজগুলো ঝড়ের বেগে ঠিকমত করে দিলাম, তখন একদিন মন্তব্য করলেন--মাঝে মাঝে ধুমকেতুর মত হঠাৎ আলোর ঝলকানি দেখি তারপর আবার অন্ধকার, এমন কেন? এহেন মন্তব্যের পজিটিভ টুকু গ্রহন করে উপদেশ খানা বর্জন করে আবার আমি যে কে সেই। সেই সহকর্মী আমাকে বারবার হুসিয়ারী দিয়েছিলেন কাজগুলো গুছিয়ে রাখেন কখন লাগে ঠিক নাই। আমি তো খরগোশের মত দৌড় দিব ভেবে অন্য ফাও কাজে মশগুল।

ফাও কাজের সর্বশেষ উপকরন হল ব্লগিং করা। ব্লগে হাবিজাবি ছাড়া কিছু লিখি না, তারপরও যখন থেকে রেজিষ্ট্রেশন করেছি তখন থেকে সবার লেখা পড়ি, মাঝে মাঝে কমেন্ট করি। এটা এমন নেশা হয়ে গেল যে মূল কাজ বাদ দিয়ে সারাদিন শুধু ব্লগ আর ব্লগ। ভাবছি এইতো আর কটা দিন তারপর ধুমসে কাজ করবো।এই ভাবতে ভাবেতেই ডাক এল। অতএব মাথা গরম। চোখেমুখে আন্ধার দেখি। মাথায় ঠান্ডা তেল দিয়েও শীতের রাতে ফ্যান ছেড়ে ঘুমাচ্ছি। মেডিটেশন করেও মাথা ঠান্ডা হয় না। অতঃপর সব ফাও কাজ একপাশে রাখলাম। এবং যথারীতি খরগোশ দৌড়। বন্ধুরা খবর দেয় থার্টি ফার্ষ্ট নাইটে আয় আড্ডা দেই, আমি বলি ব্যাস্ত। মেয়ের জ্বালাতন ও ভাল লাগে না। এক্কেবারে মাথা নীচু করে দিনরাত কাজ আর কাজ। একটানা কত্তদিন বাড়ীর বাইরে যাই না।

কাজটা একটু ভদ্রস্থ রকম রূপ পাওয়ার পর মনে হল কতদিন ধরে ঘরে বসে আছি। আহা কতদিন এলোমেলো ঘুরে বেড়াই না। নিবার্চনের সময় ঢাকা শহরটা ফাঁকা, একটু রিকশায় ঘোরা হল না। দিনটা হয়েছে এত ছোট দুপুর না হতেই রাত। গতদিন মনে হল আমার মনটা ভীষণ গুমোট হয়ে আছে। কারণটা খুঁজছিলাম, এরপর বুঝলাম নীজের ভিতরকার বাউন্ডুলেটা অস্থির হয়ে আছে। চটজলদি সিদ্ধান্ত মুক্ত বাতাসে যেতে হবে, সঙ্গী জোটানো গেল না তো একলা চলরে। তো বের হলাম এলোমেলো হাঁটাহাটি। একবন্ধুকে পটালাম আয় কফি খাওয়াবো। রাজি হল, তারপর খানিক হাঁটাহাটি এরপর কফি এবং আরো কিছু খাওয়া আবার হেঁটে হেঁটে বাড়ী ফেরা। বন্ধু আমারে ভালই সীল দিল, তারপরও ভালই লাগলো। শরীর এবং মন দুটোই হালকা লাগছে। এবার আবার কাজে মনসংযোগ হবে, খরগোশ দৌড় শুরু হবে; ফাও কাজ থেকে দুরে থাকা হবে:)

সর্বশেষ এডিট : ২১ শে মার্চ, ২০১০ দুপুর ২:৩৭
১১টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×