কলম্বোর রাস্তায় হাটছিলাম একা। সুনামি বিধ্বস্ত শ্রীলংকাকে দেখতে যাওয়া। এরই মাঝে এটা সেটা কিনে নেওয়ার যে বাসনা তা তো ছিলই। রাস্তা ধরে হাটছিলাম। এখানে ট্যাক্সি পাওয়া যায়। কিন্তু আমি নিলাম না। এখানে ফ্যাশন হাউজ নামের একটি দোকান আছে। সেই দোকান মানে শপিং মলে ঢুকলাম। তখনই মেয়েটি আবার আমার চোখে আটকে গেলো। গতরাতে ওকে যে আলোআধারীতে দেখেছিলাম, তাকে চিনতে আমার মোটেও কষ্ট হলো না। এটা সেটা কিনতে কিনতে এক সময় মেয়েটি আমার সামনে এসে দাড়ালো। কোন ভনিতা না করে সরাসরি বললো
: কেমন আছো।
বললাম
: ভালো।
: তুমি এখানে!
: কেন আমাদের কি এখানে আসতে নেই? পরিস্কার ইংরেজীতে বললো।
আমি লজ্জা পেলাম। বললাম
: ঠিক তা নয়। তোমাকে এখানে দেখবো তা ভাবিনি।
: অনেকেই তো অনেক কিছু ভাবতে পারে না।
*************
তামিল টাইগার শ্রীলংকার যে এলাকার জন্য যুদ্ধ করছে সেই এলাকার মেয়ে। বাড়িতে বাবা মা কেউ নেই। এক ভাইয়ের কাছে থাকে সে। কলম্বোতে। ভায়ের সংসার বড়। একটু নয়, বেশ ভালো বিদ্যা আছে নিরোসের পেটে। কিন্তু চাকুরির বাজারে সে ঠাই পেলো না। একদিন এক বিকালে অভিজ্ঞ এক বান্ধবীর সঙ্গ ধরে চলে এসে পৌঁছালো রাতের জগতে।
**************
খুব সকালে কখনোই ঘুম ভাঙ্গে না নিরোসের। কালো কিন্তু অত্যন্ত মায়াবী চেহারার নিরোস একটু বেলা করেই ঘুম থেকে ওঠে। বাড়িতে তখন কেউ থাকে না। ভাই কিংবা ভাবী। থাকে না দুই ভাইপো বা এক ভাইঝি। এই চারজনের সঙসার চালাতে পুলিশ ভায়ের বেশ বেগ পেতে হয়। তাই প্রতি মাসে কিছু টাকা ভাবীর হাতে তুলে দেয় সে। ভাই ভাবী জানে সে কি করে...
ঘুম থেকে উঠে প্রতিদিনই ভাবে সে, আচ্ছা এটা কোন জীবন হলো।
মাঝে মাঝে মনে হয়, যদি কোন একটি ছেলে তার হাত ধরে বলতো
: চলো দুরে চলে যাই। অনেক দুরে যেখানে থাকবে তুমি আর আমি। সমুদ্রের পাড়ে আমরা একটি ঘর বানাবো। সকালে ছোট্ট নৌকাটি নিয়ে মাছ ধরতে যাবো। যতটুকু মাছ পাবো তা বিক্রি করে যে টাকা পাবো, তা দিয়ে চালের গুড়ো কিনবো, নারিকেল কিনবো, কিনবো ঝাল, লবন । তুমি চালের গুড়ো দিয়ে ইটলি বানাবে। ঊনুনের পাশে বসে আমি সেই গরম ইটলি খাবো। তুমি বলবে
: ধ্যাত এখনি সব খেয়ে ফেললে কি করে হবে? বলেই আরেকটি ইটলি আমার হাতে তুলে দেবে। তারপর খাবার শেষে আমরা শুয়ে পড়বো। তুমি আমার আদর খাবে... আমাদের ঘরের ভাঙ্গা চাল দিয়ে দেখা যাবে চাঁদ, ভরা পূর্ণিমার চাঁদ.....
না এ কথা কেউ তাকে বলেনি। দুপুরের গোসল সেরে, আরেক প্রস্থ ঘুমিয়ে নেয়। সারারাত জাগতে হবে। বিকেল থেকেই সাজগোছের পর সন্ধ্যায় বের হয়ে যায় শরীরটা একটু একটু করে বিকোতে হবে....
****************
একপাল লোক এসে জমা হচ্ছে নাইট ক্লাবে। আসতেই থাকবে। এখান থেকে ওখান থেকে আসবে। টিকেট কেটে তারা ভিতরে ঢুকবে। টিমটিমে ক্ষিণ আলোয় বসবে। তারপর আঁতিপাঁতিকরে খুঁজবে কোন একটি মেয়েকে। দুই তিনজন মেয়ে এসে গা লেপটে বসবে। নিরোসও তাদের একজন। তারপর লোকটির পছন্দমত কোন মেয়েকে নিয়েই বেশি কথা বলবে। অন্যরা তখন চলে গেলে নিরেস আরও ঘনিষ্ট হয়। এই মানুষটির হাত ঘুরে বেড়ায় সারা শরীরময়। নিরোস বলে
:তুমি কি খাবে?
হুইস্কি বা খুব ঠান্ডা পড়লে সে নেবে ভত্কা । আর তা না হলে বিয়ার। কে যেনো এর নাম দিয়েছিল ভল্লুক। বুড়ো লোক হলে নেবে ভ্লাদি মেরি। পাল্টা প্রশ্ন করে লোকটি
: তুমি কি নেবে?
: আমি জুস।
নিরোস নিজেই উঠে যায় অর্ডার দিতে। ফিরে আসার সঙ্গে সঙ্গেই চলে আসে লোকটির মদ। চাইলে সাথে খাবার। নিরোসের হাতে তখন আধ খাওয়া জুস। আগেরবার যে লোকটি খাইয়েছিল , সে সময়ের। এটাই নিয়ম। প্রতিবার এই পানীয়ের দাম তার হিসাবে ওঠে। কাজ শেষে না খাওয়া, অথচ বিল নেয়া জুসের জন্য সে টাকা পাবে। সেটা রাতের উপার্জনের বাইরে। এটাই লাভ। খাবারের পুরো সময়টা লোকটার প্রায় কোলে জাপটে বসে থাকা। লোকটি কেবল যেনো কি খোঁজে ....। বলে তার সাথে যেতে ... লোভ দেখায়... নিরোস সেই লোভের টোপ গিলতে পারে না। নিয়ম নেই। এটাই এই নাইট ক্লাবের আইন.......
রাত বাড়ে, নিরোস বদলায় একজন থেকে অন্যজনে.....
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই আগস্ট, ২০০৮ সকাল ১০:৫৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



