সুজোমিরোর ই-মেল ঠিকানাটা হারিয়ে ফেলেছি
ছোট ছোট কাঠের বাড়িগুলোর বেশীর ভাগই দোতলা। প্রতিটি বাড়ির পাশে আছে এক চিলতে জায়গা। আর ঐ এক চিলতে জায়গাতেই গজিয়ে উঠেছে নানা রঙের গাছ। কোনটা অদ্ভুত সবুজ আবার কোনটা লাল আবার কোনটাবা হলুদ বাসন্তি রঙের। গাছপালার এমন বৈচিত্র আমার দেখা হয়েছে খুব কম। জাপানী মেয়েটি কাজ করছিলো এমনি এক চিলতে জায়গায়। গতকাল সন্ধ্যায় টোকিও থেকে রওনা করে আজ দুপুরে কিয়োটো এসে বিকালে বের হয়েছি একটু ঘুরতে। গাছের বিভিন্ন রঙ দেখার সময়ই একটি নিরানি জাতীয় জিনিস হাতে আর জিন্স আর সাদা টি সার্ট পরা মেয়েটি প্রশ্ন করলো। উত্তরও দিলাম। জানলাম তার নাম সুজোমিরো। কিয়োটোর একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী সে। ভালো একটি বিষয় নিয়ে পড়ছে। শহরের পুরানো এই অংশে সে আসে প্রতি রবিবার। আজ সেই দিন। সকালে যখন আমাদের জাপানী মা বাবা তাদের গাড়ি নিয়ে বের হচ্ছিলেন তখনই হাই হ্যালো পর্যায়ে মেয়েটি জানতে পেরেছে আমাদের কথা। আমরা মানে আমি রবিউল আর আতাহার, যারা জাপান সম্রাটের আমন্ত্রনে এসেছি বাংলাদেশ থেকে এই সুন্দর দেশে। আরও কিছু টুকটাক কথা বলার পর মেয়েটি জানালো সে এ সপ্তাহে সোমবারও এখানে থাকবে। যাবে মঙ্গলবার সকালে। চাইলে এ এলাকা ঘুরিয়েও দেখাতে পারে।
সুজোমিরোর হাসিটা চমৎকার। একটু হালকা লিপস্টিক ঠোটে মাখিয়েছে সে।
আরও কিছুক্ষণ আড্ডা মেরে বিদায় নিলাম।
টোকিও থেকে দ্রুতগামী ট্রেন সিংকানসেনে চেপে এসেছি এখানে। আগে আমার এই বাহনে চড়া হয়নি।বিমানকেও যেনো হার মানিয়েছে। টোকিওর হোটেল নিউ ওতানি ইনে থাকতেই আমাদের গাইড বলে দিয়েছে কিয়োটোতে আমরা থাকবো এক একটা বাড়িতে। এটাকে বলা হচ্ছে হোম স্ট্রে। যারা আমাদের রাখবেন তারাই আমাদের মা বাবা। কিয়োটো রেল স্টেশনে আমরা যখন পৌঁছলাম তখন দুপুর। প্রথমে রেল স্টেশনের পাশের একটি হোটেলে আমাদের খাবার খেতে হবে। তার পর সিটি সেন্টারে একটি ছোট অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আমাদেরকে হওলা করে দেয়া হবে মা বাবার কাছে। স্প্যাগিতির সাথে কুমড়োর স্যুপ এবং পরে জাপানের নানা রকমের খাদ্যে ইতিমধ্যে আমাদের পেট ভরে গেছে। বাইরে তখন হালকা শীতের রোদ। এই সেপ্টেম্বরের রাতে মোটামুটি শীত। কয়েকদিন ধরে দিনের বেলা বৃষ্টিও হচ্ছে। জাপানে নাকি বৃষ্টি হওয়ার জন্য কোন নোটিশ লাগে না। যখন তখন বৃষ্টি হতে পারে এই কারণেই ওখানকার সকলে হাতে ছাতা নিয়ে বের হন। আমাদেরকেও একটা করে প্লাষ্টিকের ছাতা ধরিয়ে দেয়া হয়েছে। সিটি সেন্টারের লিফটে সামনে দাড়িয়ে আছি। বেশ বড় লিফট। আমাদের লাইনের সামনে একজন চল্লিশার্ধো মহিলাকে দেখলাম বেটে খাটো, হাসি হাসি মুখে দাড়িয়ে আছে। তার সারা মাথা জুড়ে ঝাঁকড়া চুল। প্রায় সাদা। তাকে দেখে আমার মায়ের কথা মনে পড়ে গেল। অথচ মায়ের সাথে তার তেমন মিল নেই। মাকে কতদিন দেখিনা? দিন দশ তো হবেই!
সিটি সেন্টারে আমরা সার্কভুক্ত দেশগুলোর ২১ জন তরুন তরুনী একে একে বসলাম। এখানেই আমরা হাত বদল হয়ে তিন দিনের জন্য চলে যাবো জাপানী মাবাবার কাছে আমরা ঐ তিন দিন ঐ পরিবারের সদস্য। তারাই আমাদেরকে শেখাবেন জাপানের সংস্কৃতি আর দেখাবেন বিভিন্ন ইতিহাস। আমরা যা জানতে এসেছি,দেখতে এসেছি। ছোট্র একটা অনুষ্ঠানের পর আমাদের একে একে বুঝিয়ে দেয়া হলো পরিবারের কাছে। আমরা তিনজন পড়লাম এক পরিবারে। আর যিনি আমাদের মা আর কেউ নন , সেই সাদা চুলের লিফটের মহিলাটি! আশ্চর্য! মা আমাদের সাথে পরিচিত হলেন। জানলাম আমরা যখন জাপান যাবার জন্য তৈরী হচ্ছি তখনি তাদের কাছে আমাদের সব বৃত্তান্ত পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। তাই তিনি জানেন কি আমাদের পছন্দ আর কি নয়।
সিটি সেন্টারের পাশেই দাড়িয়ে থাকা ছোট অথচ ছিমছাম একটি নীল রঙের গাড়িতে তিনি আমাদের উঠিয়ে নিজে চালাতে শুরু করলেন। কিয়োটোর রাস্তাঘাট পুরানো অথচ সুন্দর। কোথাও এক চিলতে পথ চোখে পড়লোনা যেখানে পিচ রয়েছে ভাঙ্গাচোড়া। অথচ এ শহরের বয়স হতে চললো ১ হাজারের বেশী বছর। জাপান সম্্রাটের আমলের প্রথম রাজধানি ছিল এ শহর। আর এখনো মাঝে সাঝে জাপানের সম্রাট কিংবা রাজপুত্ররা আসেন, দেখে যান তাদের পূর্ব পূরুষের শাসনস'ল। এই শহরে যারা াকেন তারা ভালো ভাবে জানেন কিভাবে এখানকার ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে হবে। প্রায় সাড়ে আঠারো লাখ লোকের বাস জাপানের ঐতিহ্যবাহী এ নগরে। রাস্তা দিয়ে আমরা যখন যাচ্ছি , তখন হঠাৎ রবিউল চিৎকার করে বলে উঠলো, দেখ্ রিকশা। আমার জানা ছিল রিকশা শব্দটি জাপানি। আমরা হরহামেশা সকলেরই এই জাপানি শব্দটি আওড়ে যাচ্ছি । ভাবতে ভালোই লাগছে! তাকিয়ে দেখলাম একটি তিন চাকার রিকশায় চাপিয়ে জাপানের ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরা এক তরুনী কে নিয়ে যাচ্ছে এক যুবক। মেয়েটি কি কিছুটা ঘেমে গেছে? নাহলে একটা সুন্দর ভাজ করা পাখা দিয়ে সে কেন এত ঘন ঘন বাতাস করছে? মা জানালো এটাই ঐতিহ্য। এভাবে বাতাস করবে। মেয়েটি সেজেগুজে যাচ্ছে কোন অনুষ্ঠানে। এখানে অনুষ্ঠানাদি লেগেই আছে। গাড়ি এসে উপসি'ত হলো একটা কাঠের বাড়ির সামনে। সবুজ এ এলাকাটির কিছু দুরেই পাহাড়। বেশ উঁচু। কালচে সবুজ গাছ। বাড়ির কাছে এসে হর্ন বাজাতেই ভিতর থেকে বেরুলেন একজন প্রায় বৃদ্ধ অথচ স্মার্ট ভদ্র লোক। নিজের পরিচয় দিলেন গৃহকর্তা মিষ্টার ক্যাজু। আমাদের জাপানি বাবা।
বাড়ির ভেতরে আমাদের ঢুকতে হলো জুতো খুলে। যার যার ব্যাগ নিয়ে উপরে উঠলাম। কাঠের এ বাড়িটি এত সুন্দর করে সাজানো যে মন ভরে গেলো। এরা সকলে মেঝেতে ঘুমোয়। এখানে এত কাঠের বাড়ি কেন? উত্তরে জানলাম এটা দীর্ঘদিনের ব্যাপার। এ শহরে খুব ঘন ঘন ভূমিকম্প হয়। আর এই কপ্পনে যেনো কোন ক্ষতি না হয় সেই জন্যই কাঠের বাড়ি। বিকালে বিরিয়ে গিয়েছি নিজেরাই। মা বাবা আমাদের বললেন তারা কাল আমাদের নিয়ে বেরুবেন। প্রথমে আমরা যাবো কিনকাগুজি মন্দিরে। আর তার পর যাবো কিয়োমিজু টেম্পোলে। প্রথমটি সম্রাট পরিবারের মন্দির। এখন বছরে একবার তারা সেখানে আসেন পুঁজা দেন। তার পর আমরা বাইরে খাবো। পরদিন আমরা যাবো শহরের আধুনিক অংশে। সেখানে যে যার ইচ্ছামত শপিং করবো। আর পরে যাবো আমাদের জাপানি পরিবারের শহরের বাসায়। সেখানে আমরা খাবার বানাবো। মা বাবা খাবেন। আর আমাদের কে গান শোনাবে এ পরিবারের বড় ছেলে যে কম্পিউটার ফার্মে চাকুরি করে। সাথে থাকবে ছোট বোন। সুজোমিরোর সাথে দেখা হবার পর আমরা এখানকার পার্ক দেখতে বেরুলাম। কি সুন্দর সাজানো গোছানো এটি। নানা ধরনের গাছ-গাছালি আর পাখি। একটু দুরে যে পাহাড় আছে সেখানকার ঝরণা থেকে নেমে আসা জল কুলকুলিয়ে যাচ্ছে ছোট নালা দিয়ে। নালাটার পাড় সান বাধাঁনো। পাহাড়ি বুনো গন্ধ বাতাসে ভেসে আসছে। আমি চেয়ে দেখছি। ভালো লাগছে। ক্যামেরার সার্টার থেমে নেই। পড়ছে তো পড়ছেই।
এখানে রাত নামে একটু তারাতারি। গাড়িগুলোর হর্ণ সাধারণত শোনাই যায় না। খুব দরকার না হলে কেউ কখনোই দেয়না গাড়ির বাঁজখাই এ আওয়াজ।গাড়ির হর্নে পাথিদের সমস্যা হয়, সমস্যা হয় শিশুদের সন্ধ্যের পর আমরা ফিরে এলাম। তার আগে বাংলাদেশে ফোন করলাম কার্ড ফোন থেকে। এখানকার টেলি সিস্টেম খুব ভালো।
বাড়িতে আসতেই মা বললেন সুজোমিরো এসেছিলো। খোঁজ খবর নিয়ে গেছে। এই মেয়েটি আমাদের বয়সী। একটু ছোটও হতে পারে। তাতে কোন কিছু যায় আসেনা। বাড়িতে ফিরেই বসতে হলো খাবার টেবিলে। জাপানের অন্য স্থানগুলোর মতো এখানেও সকলে রাতের খাবার খায় তারাতারি। ঘুমুতে যায়ও তারাতারি। জাপানিরা ভাত খায়না, এ কথাটি সত্য নয়। ওরা ভাত খায়,তবে চপস্টিক উপযোগি আঠালো ভাত, পরিমানে কম। আমরা ঐ ভাত খেলাম। সাথে ছিল এক প্রকার মোটা পরোটা (পরোটা না বলে চাপড়ি বলাই ভালো)। ও গুলোর মধ্যে কুঁচো চিংড়ি দেয়া। বাবা কিয়োটোর বাজার ঘুরে আমাদের জন্য খুঁজে এনেছেন বাংলাদেশের চিংড়ি। এখানে আমরা আমাদের খাবারের পর সব কিছু ধুয়ে মুছে রাখা দেখে , খুব খুশি হলো বাবা মা। খাওয়ার পর এবার ঘুমানার পালা। চারিদিকে কুয়াশার চাদর ইতিমধ্যেই ছড়িয়ে গেছে। দোতলার ঘরে ছিল কার্পাস তুলোর লেপ, মেঝেতে তোষক। গায়ে দিতেই ঘুমিয়ে গেলাম। সকালে উঠে দেখলাম মা নাস্তা রেডি করে ফেলেছেন। বাবা গাড়িতে গ্যাসোলিন ভরে একটু ঝাড়পোছ করছেন। আমরা যাবো কিনকাগুজি মন্দিরে। সকালে বাড়ি থেকে বেরুবার আগেই চলে এলো সুজোমিরো, বিকালে আমাদের নিয়ে যাবে এখানকার দুই একটি বাড়িতে। সকলের সাথে পরিচয় করে দেবে এই বাংলাদেশী বন্ধুদের।
আমরা বেরুলাম মন্দিরের দিকে। প্রায় এক ঘন্টা পর এসে পৌঁছলাম চারিদিকে বাঁশ আর নানা রঙের নানা বর্ণের গাছ ঘেরা একটি জায়গায়। গাছের ঘিরে থাকা বেস্টনি প্রথমে ভাবিনি এটা একটা টিলা। কিনকাগুজি মন্দিরে ঢুকেই চোখ ধাঁধিয়ে গেল। সামনে জলাধার। হাজারো পর্যটক। কেউবা জাপাানী আবার কেউবা এসেছে আমাদের মতো বিদেশ বিঁভূই থেকে। কাকচক্ষু জলের ওপারে একটা কাচাঁ হলুদ রঙের একটি মন্দির। বুঝলাম এটাই কিনকাগুজি। বাবা বললেন, যে মন্দিরটি দেখছো তার পুরোটাই কিন' স্বর্ণের তৈরী ! এর ঘরের ছাদ ছাড়া আর সব কিছুই সোনার। এ মন্দিরের মধ্যে ঢুকতে পারেন কেবল সম্রাট বা তার উত্তরাধিকারিরা। আর সকলে কাছ থেকে দেখতে পারবে,ছবি নিতে পারবে কিন-ু ঢোকার অনুমতি নেই। কিনকাকুজি মন্দিরটি কিয়োটোর উত্তর পশ্চিম পাশ্বে কিতাকু নামক এলাকায় অবসি'ত। কিসোগা সাইয়ামা এবং হিদারী ডায়ামনজিয়ামা পাহাড়ের পাদদেশে অবসি'ত এই দুই পাহাড় চলে গেছে কিয়োটোর দক্ষিনাঞ্চল পর্যন- এ মন্দিরের প্রতিষ্ঠা হাইয়ান শাসনামলে। ৭৯৪ সাল থেকে ১১৮৫ সালের মধ্যে।মন্দিরের চুঁড়োয় রয়েছে একটা ফনিক্স পাখি সেটাও সোনার। দেখলাম মন্দিরের পাশেই রয়েছে একটি ঐতিহ্যবাহি চা দোকান। পাথরের চেয়ার টেবিলে বসে পাঁচ পেয়ালা চা শেষ করে ফেললাম আমরা। এ মন্দিরের লেকে দেখলাম নানা ধরনের গজার মাছের মতো মাছ। কোনটা লাল, কোনটা কালো আবার কোনটা বা হলুদ। মাছগুলো আপন মনে ঘুরে বেড়াচ্ছে পার ঘেষে থাকা জলে। বেশ কিছু লোক খুচরো পয়সা ছুড়ে দিচ্ছে এটা জায়গার দিকে প্রথমে কিছু বুঝলাম না। মা বললো , যাও না নিজের কোন ইচ্ছা পূরণ হবে কিনা তা এখানে ঐ গোল জায়গায় থাকা পানির পাত্রের মধ্যেএকটা পয়সা ফেলে পরীক্ষা করে দেখনা। এ ধরনের ভাগ্য পরীক্ষায় আমার কোন বিশ্বাস নেই। কিন' আবার লোভ সামলাতেও পারছিনা। জাপানে খুচরো সকলের পকেট বোঝাই থাকে পয়সায়। আমারও একই রকম অবস্থা। পর পর বেশ কয়েকবার পয়সা মারলাম ভাগ্য পরীক্ষাগারে। না লাগলোনা। ঢিল ছুড়ে লক্ষ্যবস'কে আঘাত করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। অনেকক্ষন থাকলাম এই স্বর্ণ মন্দিরে। ভালো লাগলো। দেখলাম, ধর্মের জন্য মানুষ অনেক কিছু করতে পারে, করেও। চার পাচটি ছোট ছোট দোকান আছে এখানে , বিভিন্ন ধরণের স্মারক পাওয়া যাচ্ছে। কিনলাম। নিজের জন্য, বন্ধুদের জন্য।
দুপুরের খাবার খাওয়া হলো একটু দেরীতে। প্রায ১০ কিলোমিটার দূরে পাহাড়ের পাদদেশে একজন খুব সুন্দর একটি রেস্তরা দিয়েছে। নানা দেশের মানুষ খাচ্ছে এখানে। ট্রিপিকাল জাপানি খাবার নয়, এখানে মিলছে ইংলিশ খাবার। এখান খেকে আমাদের যাত্রা ঐতিহ্যবাহী পাহাড় ঘেরা কিয়োমিজু টেম্পোলে। এখানে উটতৈ হলো সিঁড়ি বেয়ে। পুরোটাই পাহাড়ের উপরে। আমরা এখানে ছিলাম অনেকক্ষন। পুরোটাই কাঠের তৈরী মন্দিরে পুরাহিতরা প্রার্থনা করছে। এ মন্দিরে রয়েছে প্রচুর চেরি গাছ। মা বললেনা, এপ্রিলে যখন আসবে তখন চেরি ফুল দেখতে পারবে। আমার আর সেখানে যাওয়া হয়নি। কিয়োটের মন্দির ঘুরে আমরা সেদিনকার মতো ক্লান- হয়ে গাড়ি নিয়ে যখন বাড়ি ফিরছি তখন রাস-ার পাশে দেখা গেলো গ্রেব ইয়ার্ড। সেখানে নানা আকৃতির কাঠের উপর লেখা স্মৃতি কথা। এ এক সুন্দর এপিটাফ।
ঐ দিন রাতে আমরা গেলাম আমাদের মা বাবার শহরের বাড়িতে। আধুনিক ফ্লাট। গান শুনলাম ভায়ের কাছ থেকে। বোন রান্না করে খাওয়ালো।
পরদিন আমাদের ফিরে যাওয়া। মা বাবা দুই জনই আমাদের কে বিদায় জানাতে চলে এলেন সিটি সেন্টারে। আমাদের কান্নায় বুক ভেঙ্গে আসছে তারা দুই জনই কাদছেন। ভিনদেশী ছেলেরা চলে যাচ্ছে , আর কোনদিন দেখা হবে কিনা কেউ জানেনা। সেটাই ধ্রুব সত্য।
না আর মা বাবার সাথে দেখা হয়নি। তারা একবার বাংলাদেশে আসবেন বলেছিলেন , আসেননি। সুজোমিরোর সাথে সকালে দেখা হযেছিল। গতসন্ধ্যায় একবার আমাদের সাথে এসে আড্ডা মেরে গেছে। একটু বাইরেও বেরিয়েছিলাম। কিয়োটোর আকাশে তখন ছিল চাঁদ। হালকা কুয়াশা ভেদ করে আসা জোসনা আমার মতো সুজোমিরোরও খুব পছন্দ। সকালে এসে সে বিদায় জানাবার সময় বললো, ভালো থেকো। ই-মেল করো।
আমার আর ই-মেল করা হয়নি।
সুজোমিরোর ই-মেল ঠিকানাটা আমি হারিয়ে ফেলেছি.....
আমাদের গ্রামের গল্প!

আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন
পণ্ডশ্রম

এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,
চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।
কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,
আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।
দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন
আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?
আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?
ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন
ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই
আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।
তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন
১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে
আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।