somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একবিংশের ভ্রুণ

০২ রা জানুয়ারি, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:৪১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

একবিংশের ভ্রুণ

মাৎসন্যায়

৫৬ হাজার বর্গমাইলের গোরস্তানে,
মরা খেকো শেয়ালের ডাকে জেগে উঠে,
সচকিত, ক্ষুধার্ত রাতের বাতাসে, বুক ভরে গন্ধ নেই।
গন্ধ পাই, ক্ষুধায় মৃত শিশু, বেজন্মা নবজাতকের পোকায় খাওয়া লাশ,
শীতে মৃত রাস্তার বুড়ি, বেওয়ারিস পতিতা আর
দশ টুকরা ধর্ষিতার লাশ।
সদ্য মৃত লাশের গন্ধে,
জীহ্বায় পানি আসে, শ্বদন্ত চরবর করে।
সচকিত, ক্ষুধার্ত, রাতের বাতাসে বুক ভরে গন্ধ নেই,
আমিও যে মরা খেকো।

ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইলের ছাড়াবাড়ি,
তিরিশ লাখ প্রেতাত্মার মায়াকান্যায় ঘুমাতে পারিনা,
দুইশ বছরের চাবুকে ভাঙা হাড়গোড়,
চব্বিশ বছরের চাপ চাপ রক্তের পথ,
একাত্তরের সারবাধা লাশ আর নরমুণ্ড,
আর সবশেষে নুর হোসেনের মৃতদেহটাকে পিষে ফেলে,
ছুটে চলে মার্সিডিজ, ভেতরে বসে গণতন্ত্র খ্যাক খ্যাক হাসে।
এই সব পুরনো প্রেতের ছায়া, আর কত করবে ধাওয়া,
আরো কত তাজা প্রান, নতুন দিনের গান, পিষে ফেলে
আমিও ছোটাবো মার্সিডিজ।


কলোনি

কি যে ভালো আছি আজকাল,
আপনাদেরই মত পোষাকে আশাকে, চলনে বলনে,
ভালো মন্দ, সুন্দর-অসুন্দর, ইষ্টাইল আর খ্যাত খামারি,
সব কিছু বুঝে গেছি পরিষ্কার।
রোজ সকালে সুন্দর AXE মেরে, বাতাসে ক্লোরফ্লুরো কার্বনটা আরেকটু বাড়িয়ে,
ঢাকার বাতাসে, পেট পুরে সিশা খেয়ে কিযে ভালো আছি।
গোলা ভরা হাইব্রিড, ফ্রিজ ভরা ব্রয়লার
সোনায় সোহাগা, মেলামিন দুধে ভাতে, বাঙালী আমি
কি যে ভালো আছি।

এমন কি যেদিন বঙ্গোপসাগরের নিচে তলিয়ে যাবো,
ইলিশ মাছের সাথে কাটবো সাঁতার,
সেই দিনও থাকবো ভালো, সন্দেহ নাই তাতে।
জাতীয় সংসদ, বঙ্গভবন, অক্সফোর্ড ইন্টারন্যাশনাল স্কুল আর বসুন্ধরা সিটি,
এইসবও আমার সাথে তলিয়ে যাবে কিনা।


নিদান

আগুন জ্বালাবো আমি খোলা রাজপথে,
ভেঙ্গে চুড়ে, করবো একাকার,
তোমার পথের সুখ, মার্সিডিজ, হ্যামার।
কালো ধোয়ায় আচ্ছন্ন আকাশের নিচে, দাঁড়িয়ে,
কান খুলে শুনে নেবো সহস্র জনতার হুঙ্কার, নিদানের সুখে।
দুর্বৃত্ত্ব হব আমি, জনতার নয়, তোমার সম্পত্তি, অকাতরে ধ্বংস করে,
তোমার পন্যবাহী এই রাজপথে, জুড়ে দেবো আদিম সমর নৃত্য।
বুক ভরে পোড়া টায়ারের গন্ধ নেবে সহস্র জনতা, নিদানের সুখে।
অহিংসা আমার পায়ের শেকল নয় প্রভু,
আগ্রাসন নয় তোমার বাপের সম্পত্তি।

আগুন জ্বালাবো আমি খোলা রাজপথে,
বোমা মেরে উড়িয়ে দেবো, বহুতল শপিং কমপ্লেক্স,
দেশের বৃহত্তম, যতসব, কিংডম আর রাজত্বের বৈভব,
ধ্বংসস্তুপ হবে, আমার আক্রোশে, নিদানের সুখে।
সন্ত্রাসী হব আমি, আমার নয়, তোমার সম্পত্তি অকাতরে ধ্বংশ করে,
তোমার আইনের ভারবাহী মগজটাকে, ঘষে মেজে সাফ করে,
গলা ছেড়ে চিৎকারে, জুড়ে দেবো আদীম সমর নৃত্য।
দু চোখ ভরে খসে পড়া কংক্রিট আর গলে পড়া গ্লাসের দৃশ্য দেখবে সহস্র জনতা, নিদানের সুখে।
অহিংসা আমার পায়ের শেকল নয় প্রভু,
আগ্রাসন নয় তোমার বাপের সম্পত্তি।

আগুন জ্বালাবো আমি খোলা রাজপথে,
ভেঙে দেবো চিরতরে, তোমার শান্তির ঘুম।
লাথি মেরে, খুলে ফেলে, তোমার বাড়ির গেট,
বিদ্যুতের লাইন কেটে, আমার বাড়ির মতো,
তোমাকেও ডোবাবো আধারে।
আমার ডুবে যাওয়া রাস্তা থেকে, নর্দমার জল,
ভেসে ওঠা মল, ঢেলে দেবো তোমার কার্পেটে।
ঘর ভরা তোমার পণ্য, ফ্রিজ ভরা তোমার অন্ন,
সমূলে লোপাট করে, সবশেষে,
তোমার বউয়ের সাথে শোব আমি প্রভু।
আভরন ছিঁড়ে ফেলে, নরম নধর দেহ,
ছানাছানি করে খুঁজে নেবো আমার সম্মান।
শুভ্র স্ফীত স্তন্য দুই হাতে মুঠো করে,
পিষে ফেলবো তোমার সাজানো বাগান, এই সভ্যতা।
তোমার বউয়ের সাথে শোব আমি প্রভু,
বিশ্রাম নেবো আমি তোমার বিছানায়।
অহিংসা আমার পায়ের শেকল নয়রে হারামী,
আগ্রাসন নয় তোর বাপের সম্পত্তি।

মিথ, মৃত্যু, মুক্তি

লেজহীন কুত্তার মতো, আদর্শহীন ইগোওয়ালা
এই সভ্যতার সভ্য মানুষ আমি, সভ্য মানুষ তুমি,
রোজ রোজ বড় হতে, সভ্য ভব্য হতে,
স্বার্থান্বেসী যুক্তি আর অসংখ্য মিথ্যার
কায়দা কানুনে অভ্যস্ত হতে, প্রতিদিন
আমাদের সত্য শব্দ, পরম সত্য ভালোবাসা,
পাগলা জংলী কুকুর, মেরে ফেলা আইন।

এই রকম ভালো তাই কখনো বাসিনি তোমায়,
মুক্তির জন্য মৃত্যুই তাই আমার ভালোবাসা।
জানি আমি, ঐ রকম ভালো তুমি কখনো বাসোনি আমায়,
মুক্তির জন্য মৃত্যুই হোক তোমার ভালোবাসা।

আমাদের পরম ভালোবাসায়,
নতুন সৃষ্টির কামনা, উন্মাদনায়,
আসুক জোয়ার, জলমগ্ন হোক পশ্চিমের সমস্ত শততল ভবন।
আমাদের চিৎকারে, শিৎকারে, অভিসম্পাতে,
উড়ে যাক যতসব, কালো আর কমলা ধোয়া।
সূনীল আকাশের নিচে, গাছ খেকো, মাঠ খেকো, নদী খেকো
অগ্নী চক্ষু, অম্ল কান্না, দানবেরা পরে থাক, ধ্বংসস্তুপ।
মুক্তির জন্য মৃত্যু হোক আমাদের ভালোবাসা,
বেঁচে থাক তোমার আমার ভালোবাসার সন্তান।
গন্ধ নিক, ঘ্রান নিক, খেলা করুক,
সবুজ ঘাসের মাঠে, উত্তাল নদীর জলে।
পাড়ি দিক সাত সমুদ্র, সিন্দাবাদের জাহাজে,
গান গেয়ে, পঙ্খীরাজের পিঠে, পাড়ি দিক তেপান্তর।
মুক্তির জন্য মৃত্যু হোক আমাদের পরম ভালোবাসা,
বেঁচে থাক তোমার আমার ভালোবাসার সন্তান।




সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে মে, ২০১২ সকাল ১১:৪৩
৯টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×