আমার প্রিয় পোস্ট
- সামহোয়্যারইন ব্লগে ''নারী বিষয়ক পোস্ট'' সংকলন A 2 Z: ২০১১ - পটল
- সূর্যই পৃথিবীর চারিদিকে ঘুরছে - মাহবুব রোকন
- আমার দেখা সেরা শর্টফিল্ম গুলোর কালেকশন, একটি মাস্টওয়াচ পোস্ট - নিয়নের আলো
- মুক্ত/ নাস্তিক/ সংশয়ী/ ধর্মদ্রোহী'দের যুদ্ধটা ... আসলে কাদের বিরুদ্ধে, কিসের বিরুদ্ধে ? - মনির হাসান
- এক বছরে দ্যাশটা কেমন বদলাইয়া গেল - অন্যমনস্ক শরৎ
- চির রহস্যময় কিংবদন্তী-খনা!!! - শায়মা
- ইসলামের কথা বলা শুরু করলে, সে রাজাকার হয়ে যায় but ধন্যবাদ,মন্তব্য মডারেটেড - াহো
- খ্রীষ্টানরা পায় গড, মুসলিমরা পায় জাইগোট, তারা মানুষরে কি মনে করে? পুরাই গোট? (Goat) - স্টাডি-ইটিই
- জ্ঞানের সীমাবদ্ধতা নিয়ে স্বগতোক্তি এবং বিক্ষিপ্ত প্রশ্ন - সোজা কথা
- রূপগঞ্জে সামরিক ভুমি আগ্রাসন:“দিনরাত লেফ-রাইট করলে ক’মণ শস্য ফলে এক গন্ডা জমিতে?” - দিনমজুর
- কালিদাস এবং ... - ৩ - মে ঘ দূ ত
- মহাবিশ্বের সৃষ্টি এবং ঈশ্বর নিয়ে স্টিফেন হকিং এর সর্বশেষ বই “দি গ্র্যান্ড ডিজাইন” এর সার-সংক্ষেপ/রিভিউ - বিলাশ বিডি
- সুনিতা পালের সুলুক সন্ধানে - রেজওয়ান
- ইসলামের নামে মুসলিম জ্ঞানীঁদের হত্যা ও নিযার্তনের কথা - নুরুজ্জামান মানিক
- গ্রাফিক ডিজাইনারদের জন্য প্রয়োজনীয় কিছু লিংক - অন্যসকাল
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর - আধুনিক ব্যাংকিং এর স্বপ্নদ্রষ্টা - ন হন্যাতে
- শিল্পের দ্বায়বদ্ধতা, শিল্পীর দ্বায়বদ্ধতা।উৎসর্গ: হাসান মাহবুব। - স্তব্ধতা'
- বিচিত্র বমি - তাশমিয়া
- কোয়ান্টাম তত্ত্বের সূচনা, বিব্রত ম্যাক্স প্লাঙ্ক (এবং কোয়ান্টামকে বোঝার চেষ্টা) - শুভ রহমান
- মুসলমানরা মানুষ নয়! পর্ব-২ - রিয়াজওয়ার্ল্ড
- ধর্ম, ঈশ্বর ও জিবরাইলের বাহাস - নতুনদেশ
- ওয়েব ডেভোলপারদের জন্য ১০টি গুরুত্বপুর্ন শর্টকাট ফাংশন লিষ্ট (ডাউনলোড লিঙ্কসহ) - খুজে ফিরি অজানা কে?
- ইউনিলিভারের বর্ণবাদ আর সাম্রাজ্যবাদ - এ.টি.এম.মোস্তফা কামাল
- যুদ্ধাপরাধী আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদি কি করেছিলেন - সিস্টেম
- বাংলাদেশে একাত্তরের যুদ্ধপরাধীদের বিচার না হওয়ার অন্যতম কারণ: ওয়াহাবী কানেকশন। - ইমন জুবায়ের
- সমকামীতায় সচেতন ন্যাচারালাইজ হবার সময় হয়েছে এই সমাজের - অন্যমনস্ক শরৎ
- সামুতে যাদের লেখা মিস করি--পর্ব ১ - দি ফিউরিয়াস ওয়ান
- যাকে ভালুবাসি তাকে সব দিব - আলিফ দেওয়ান
- চলে গেলো এ-টিমের জন্মদিন, আমরা কি তবে ভুলতে বসেছি তাদের অবদান? - স্বপ্নকথক
- ওমর খৈয়ামের “রুবাইয়াৎ” থেকে - রাত্রি২০১০

উবুন্তু/ লিনাক্সপ্রেমীদের জন্য সুখবর!! আকর্ষণীয় টি-শার্ট বেছে নিন!!

- 'লেনিন'
- ঈশ্বরের প্রতিশ্রুতি। - হোরাস্
- কার্ল মার্কস ও তথাকথিত প্রকৃতি বিজ্ঞান (Natural Science) - পি মুন্সী
- আহমদ ছফা প্রধানমন্ত্রী হয়ে যা যা করতে চেয়েছিলেন - হৃদয়ে বাংলাদেশ
- এবার প্রেসের কাজে বাংলা লিখুন ইউনিকোডেই একদম সরাসরি ফটোশপ (মেহেদী ভাইয়ের নতুন পোস্ট) - টেকি মামুন
- ত্রিশ লক্ষ শহীদ : মিথ নাকি বাস্তবতা ? - লাইটহাউজ
- ইসলামের জন্ম এবং ইতিহাস বিষয়ক একটি বই - মেজভাবী
- আল্লাহ কি গণিত বুঝেননা? - চনদন
- হা হা পে গে ! - হায় ঈশ্বর!
- ভিক্ষুক ও ডেসটিনি রোগীর মধ্যে পার্থক্য - সুমন অহেমদ
- ইসলামে কাম ও কামকেলি (3-2) - মানব
- দৃষ্টি আকর্ষণ: ব্লগারবৃন্দ, আমাদের জিনিস আমাদেরই বুঝে নিতে হবে - আশরাফ মাহমুদ
- শেষ পর্যন্ত অন্য গ্রহে গিয়ে সাম্রাজ্যবাদের শিল্পিত সমাধান আসলো?: প্রসঙ্গ আভাটার - অন্যমনস্ক শরৎ
- অনলাইনে পাওয়া জীবনানন্দ দাশের সব কবিতা - র হাসান
- অবিস্মরনীয় সেইসব মেটাল এলবাম গুলো...( একটি \m/ জাতের MEGA পোস্ট) - প্রিয়তমেষু
- ভিওআইপি ব্যবসা নয়, রাষ্ট্রের প্রাপ্য ট্যাক্সের টাকা ভাগ বাটোয়ারার কাহিনী - পি মুন্সী
- কার্ল গুস্তাফ য়ুং: লোকোত্তর এক বিশ্বঅবচেতনার সাধক - ইমন জুবায়ের
- লেখাটার লগে ছবিও দিয়া দিলাম কিন্তু!! - এস.আর.এফ খাঁন
- আধুনিক ইতিহাসের পাঠশালায় বাঙ্গাল, 'আ' তে আওয়ামী, 'ব' তে বাকশাল (দ্বিতীয় খন্ড) - বাঙ্গাল
- আলোচনা পোস্টঃ ছাগু বিরোধি ফাইটারদের দৃষ্টি আকর্ষন করছি - শয়তান
- বিদায় পৃথিবী- k-79er34b নক্ষত্রপুন্জের C-37 গ্রহে নিমন্ত্রণ রইলো - k-79er34b
- বিশেষতঃ ব্লগ কবিগনের দয়াবনত দৃষ্টি আকর্ষন, একটি কবিতা এবং সামু কর্তৃপক্ষের নিকট একটি প্রস্তাবনা - মতিউর রহমান সাগর
- সুশীল বলে কাউকে চিহ্নিত করলে কী মানে দাঁড়ায় - পি মুন্সী
- আধুনিক গবেষনায় দেশের সায়েন্স ও টেকনিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় গুলির দীর্ঘ ব্যর্থতা।মূল কারনটা কোথায়?যোগ্যতা-প্রতিভার অভাব না অন্যকিছু? কিস্তি-৩ - প্লাটো
- ব্লগার জানার মুখোমুখি - ফিউশন ফাইভ
- দালালরা কখনোই বদলায় না নিজেকে, প্রগতিশীলরা অসম্ভব গতিশীল... বদলে যেতে সময় লাগে না। - রাগ ইমন
- হিটলারের আঁকা কিছু ছবি ( ফটো ব্লগ )
- আসফাকুল আমিন
- সহি আসল ইবলিশনামা অথবা শয়তানের ডারুইনী ইতিহাস - খারেজি
- মিথ, রূপকথা ও ব্রান্ডিং: রূপকথা নিয়ে ব্রান্ডিংও হতে পারে। - জাতিষ্মর
- নাস্তিকদের প্রতি ছুঁড়ে দেয়া চ্যালেন্জ গ্রহণ করলাম - দুরের পাখি
- দেখেন কুত্তার বাচ্চাটা কি বলে !!! - পাপী
- মামোর গল্পু ৮ : মামো ২০২০ - চিন্তা ভাবনা করে ইদুর
- :: আপনি কি একজন হ্যাকার? তো হয়ে যাক এক দান। ::
- ফিবোনাকি
- জ্ঞান-বিজ্ঞানের রাজ্যে মুসলমানঃ উত্থান ও পতন পর্ব-২ - তায়েফ আহমাদ
- আমরা মহল্লায় আছি , লাগলে মিসকল দিয়েন ( এ-টিমের জন্মদিন, হোসেইনের শুভেচ্ছা ) - হোসেইন
- হোসেইন : মিস ইউ কমরেড - প্রতিবিপ্লবী
- শয়তানের ইতিহাস........(ভাল শয়তানের জন্য লিখিত) - রেজোওয়ানা
- জরথুশত্র: প্রাক-খ্রিস্টীয় যুগের পারসিক ধর্মপ্রচারক - ইমন জুবায়ের
- আজ বিকেলে যাঁরা ‘দুনিয়া কাঁপানো ত্রিশ মিনিটের মিছিলে’ যাবেন, তাঁদের জন্য কটকটিওয়ালার গল্প........ - তায়েফ আহমাদ
- দুনিয়া কাঁপানো ৩০ মিনিট ও লন্ড-ভন্ড শহীদ মিনার - টিংকু ট্রাভেলার
- বিদ্রোহী (কাজী নজরুল ইসলাম) - সমুদ্রের উত্তাল তরঙ্গ
- তিরিশ মিনিটে ‘দুনিয়া কেঁপেছে’, আমরা কেঁপে উঠবো কবে? - প্রশ্নোত্তর
- বাঙ্গালী বা বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ - মু আ হাকিম নিউটন
- শ্লোগান ২০১০: চেতনা দেখান, গ্রামীন ফোনে কথা বলুন নয় মাস - বিবর্তনবাদী
- আজকে আমি আজিজ!!! - "ডিজিটাল বয়াতী" উলঙ্গ বাবা পিণিক চাঁন ব্যাভিচারী
- আজিজীয় রিমিক্সের চিপায় রবীন্দ্রনাথ
- "ডিজিটাল বয়াতী" উলঙ্গ বাবা পিণিক চাঁন ব্যাভিচারী
- আমাদের লুঙ্গীহীন ফরহাদ্দা (দাদা অর্থে) - রাজীব আহমেদ
- নুহ এর প্লাবন ঘটিত সমস্যা-----(বড্ড বাচা বাইচা গেলাম)----
--পর্ব ১ - ফারজান ওয়াদুদ
- ডেসটিনির গাছে সোনার কাঁঠাল এবং আবুল ভাইয়ের তৈলাক্ত গোঁফ্ - স্তব্ধতা'
- নতুন নতুন ব্লগে ঢুকিয়া আমার ইছলামি চেতনা যেভাবে পিছলা খাইলো - চিন্তিত তাপস পাল
- প্রেতাত্মারোধে হব সন্ত্রাসী আজ (আবুবকর সিদ্দিকের তরে) - পাপতাড়ুয়া
- ধর্মগ্রন্থের মতো রবীন্দ্রনাথের জঠর থেকে বিজ্ঞান বের না করলে চলে না? - অনিশ্চিত
- চাঁদ-তারা কি ইসলামের প্রতীক? - ভিন্ন চিন্তা
- ইনু-বিদিছার পালা - ঠুকেমারি
- '' আমি রাজাকার'' এর সাপোর্টার রা সাবধান
- পাগলা ঘাতক
- ওয়েবে ছড়িয়ে থাকা সকল বাংলা ব্লগের লিস্ট এর সংকলন(আপডেটেড ৩০/১২) - রাহা
- প্রাচীন পৃথিবীর বিস্ময়, সিন্ধু লিপি, আর্য প্রোপাগাণ্ডা এবং নতুন আলো - ম্যাভেরিক
- সিকিম ও কাস্মিরের ভুখন্ড বড়দের বাট্টা হতে পারে কিন্তু রক্তের দামে কেনা বাংলাদেশ নয়- পর্ব ১ - এ. এস. এম. রাহাত খান
- শাকিরার গান ... গোয়া আমার সত্যবাদী - ঠুকেমারি
- বিবর্তনবাদ - বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব হিসাবে প্রতিষ্ঠিত, কিন্তু তবুও বিতর্কের শেষ নেই! - হোরাস্
- সাহিত্যের ভবিষ্যৎ / বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর - ফকির ইলিয়াস
- জামাতে ইছলাম গ্রুপে যৌন হয়রানির ফাঁদ!!! - লোকালটক
- দ্য আদার কনসার্ট ফর বাংলাদেশ : যেটার কথা কেউ বলে না! - অমি রহমান পিয়াল
- ছুটি (মানুষের ছোট গল্প) - মানুষ
- ধরো বন্ধু আমার কেহ নাই !! - দুরের পাখি
- লাক্স এর চামড়া ব্যবসা , দর্শকের দেহ কামনা আর ব্লগে ধর্ষকামী ভূতের আছর - ২য় পর্ব - রাগ ইমন
- বাজে দৃষ্টান্ত! - জলপাই দেশি
- ৭টি, পুরাতন বোতলে নতুন ফেন্সিডিল - ইশতিয়াক অাহমেদ
- পৃথিবীর দেশে দেশে ছাত্র আন্দোলন - জানুয়ারী ২০০৯। - ভিন্ন চিন্তা
- বিশ্বায়নকালে মিডিয়া: বড়ো দানবদের ছোট্ট দুনিয়া - ফাহমিদুল হক
- ঘষ্টানি - রোদেলা খাতুন
- Dofollow এনাবেল ৫০টি ওয়েব ফোরামের লিংক (সাথে একটা বোনাস নিউজ) - আরিফ বল্গ
- প্রসংগঃ আস্তিকের ধর্মকথা-১ - }নবজাতক{
- টিপাইমুখ বাধ প্রসংগে: চাই সংগ্রামের আন্ত:সংযোগ - দিনমজুর
- কোরান অবিকৃত অবস্থায় সংরক্ষিত হয় নি - সাহোশি৬
- কোপেনহেগেন জলবায়ু ক্ষতিপূরণ কিংবা ঘুষ: ক্ষতি চালিয়ে যাওয়ার লাইসেন্স? - দিনমজুর
- সোমালিয়ার ক্ষুধার্ত মুসলমান এবং যাকাতখোর ডাঃ জাকির নায়েকেরা - জাহিদুর রহমান মাসুদ
- ধেয়ে আসছে প্রকৃতির প্রতিশোধের ভয়ংকর ড্রাগন! জলে-স্থলে-অন্তরীক্ষে কোথাও বাঁচার পথ নেই!! - মনজুরুল হক
- তিনি আরজ আলী, একজন আলো-আঁধারির পরিব্রাজক - নির্ঝর নৈঃশব্দ্য-২
মুসলমানের দর্শন ও বিজ্ঞান তথা মুক্তবুদ্ধি চর্চা (পর্ব-১)
০৬ ই মার্চ, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:৫৩
ভূমিকাঃ
গোটা ইউরোপ যখন ডুবে ছিলো অন্ধকার আর অজ্ঞানতায় তখন গ্রিক-রোমানদের যোগ্য উত্তরসুরী হিসাবে জ্ঞান বিজ্ঞান চর্চার জগতে যুগান্তকারী ভূমিকা রেখে গেছে আরবের মুসলিম সভ্যতা। মোটামুটি ৭০০খ্রিঃ থেকে ১৪০০ খ্রিঃ পর্যন্ত সময়কালটায় বহু বিজ্ঞানী, দার্শনিক এবং সংগঠন এই জ্ঞান চর্চায় নেতৃত্ব দেন। মুক্তচিন্তা আর যুক্তিবাদই ছিলো আরব বিশ্বের এইসব মহান চিন্তাবীদের জ্ঞান চর্চার মূল খুঁটি। মৌলবাদ আর রক্ষনশীলতার সাথে বরাবরই ছিলো তাদের বিরোধ। অথচ আজকের দিনে বহু মৌলবাদী আর রক্ষনশীল গোষ্টি এইসব মহান চিন্তাবীদের নাম ভাঙিয়ে তাদের নিজস্ব মতবাদ প্রচার করতে চায়। মুক্তমনা আর যুক্তিবাদী এমন বহু চিন্তাবীদকে আজকের অনেক প্রাচীনপন্থি আর মৌলবাদী ব্যাক্তি আর সংগঠন দাবি করে নিজেদের সমগোত্রীয় মানুষ হিসাবে, যা রিতিমত অবমাননাকর।
এই ধরণের দাবির জবাব দিতে গিয়েই একবার একটা তালিকা করতে বসেছিলাম। লাঞ্চিত, অত্যাচারিত এবং কাফির, মুরতাদ এহেন নানা অভিধায় ভূষিত মুসলিম চিন্তাবীদ, দার্শনিক, বিজ্ঞানিদের তালিকা। তালিকা করতে গিয়ে একটা ঝামেলা বেধে গেলো। নামকরা যত মুসলিম বিজ্ঞানী আর দার্শনিক রয়েছেন তাদের মধ্যে কাকে কাকে তালিকার বাইরে রাখা যায় তা নিয়েই বিপদে পরতে হলো। অবস্থা এমন যে অন্তত কাফির, মুরতাদ ঘোষিত হয়েছেন এমন তালিকা তৈরি করার বদলে কে কে ঘোষিত হন নাই তার তলিকা করার প্রয়োজন দেখা দিলো। ইসলামের ইতিহাসে মুক্তচিন্তার সাথে রক্ষনশীলতার এই সংঘর্ষ সেই ইসলামের একেবারে প্রারম্ভিক যুগ থেকে। এখানে আমি মোটামুটি একটা ধারাবাহিক ইতিহাস বর্ণনা করতে চাচ্ছি, কাদরিয়া আন্দোলন থেকে শুরু করে ইসলামি সভ্যতার স্বর্ণযুগের সর্বশেষ মহান চিন্তাবীদ ইবনে খালদুন পর্যন্ত।
পটভূমিঃ মোহাম্মদ পরবর্তি ইসলাম
ইসলামি সভ্যতায় মুক্তবুদ্ধি চর্চার যে ইতিহাস তার প্রাথমিক বিকাশ মোহাম্মদ পরবর্তি বহুধাবিভক্ত এবং অস্থির একটা সময়ে, একেবারে ইসলামি আন্দোলনের ভেতর থেকেই। আর পরবর্তি পর্যায়ে গ্রিক, রোমান আর ভারতিয় জ্ঞান বিজ্ঞানের সংস্পর্শে তা আরো বেগবান হয়ে ওঠে। ইসলামের নবি হজরত মোহাম্মদ (স) এর মৃত্যু ঘটে ৬৩২ খ্রিষ্টাব্দে। তার মৃত্যুর পর থেকেই খলিফা নির্বাচন কেন্দ্র করে রাজনৈতিক এবং ধর্মীয় নেতৃত্বের প্রশ্নে বিভেদ দেখা দেয়। সেই সাথে আইন, শরিয়ত ও ধর্মতত্ত্ব বিষয়ে নানা বিরোধীতার সূত্রপাত হয়। সুন্নি মুসলমানরা এখন যেমন কোরআনএর পরই হাদিসকে জ্ঞান আর আইনের মূল উৎস হিসবে গ্রহণ করে তখনো সেই চর্চা শুরু হয় নাই। হাদিসগ্রন্থগুলো লিখিত হয় মোহাম্মদের মৃত্যুর ১৫০/২০০ বছর পর। ছহিহ সিত্তা স্বিকৃত ৬ টি হাদিসের পুস্তককে ইসলামী আইনের উৎস হিসেবে প্রচার শুরু হয় মোহাম্মদের মৃত্যুর ২৩০ বছর পর, প্রতিষ্ঠা পেতে সময় নেয় আরো বহু বছর। এ সময়ের মধ্যে ইসলামি জগতে জন্ম নেয় বহু মতাদর্শ, জন্ম নেয় বহু মাজহাব আর ধর্মতাত্ত্বিক গোষ্টি। ইসলাম বলতে এখন আমরা যা বুঝি তার তখনো সৃষ্টিই হয় নাই। সুন্নি মাজহাবগুলোর মধ্যে সবচেয়ে পুরোন মাজহাব হানাফি মাজহাব। এই মাজহাব মূলত ব্যক্তিগত বিচার বুদ্ধি, যুক্তি-তর্ক, ঐক্যমত তথা ইজমা কিয়াসের মাধ্যমে আইন প্রয়োগ এবং ধর্মিয় সমাধানের পক্ষে ছিলো, ছহিহ সিত্তা নামক আইনখন্ড তখনো প্রতিষ্ঠা পায় নাই, কঠোর হাদিসপন্থি হাম্বলি মাজহাবের আগমন তখনো হয় নাই। আলী আর মুয়াবিয়ার বিরোধের সময় খলিফা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আবির্ভাব ঘটে খারিজি সম্প্রদায়ের। খারিজিরা মনে করতো আল্লাহর স্বিদ্ধান্ত সমাজের সকলের উপস্থিতিতে স্বাধীন গণতন্ত্রের মাধ্যমে জানা যায়। খলিফা নির্বাচনে খারিজিরা তাই গণতন্ত্রের পক্ষে ছিলো, তারা মনে করতো যোগ্যতা থাকলে একজন গোলামও খলিফা হতে পারে। মূলত কঠোর ধর্মনিষ্টার অনুসারী খারিজিদেরকে প্রথম থেকেই সুন্নি আর সিয়ারা ধর্মত্যাগী হিসাবে আখ্যায়িত করে আসছে। খারিজি শব্দটাকে এখন নেতিবাচক অর্থেই ব্যবহার করা হয়। আজারিদাহ নামক সম্প্রদায়ের মুসলমানরা মনে করতো কোন শিশুকে ইসলাম ধর্মে দিক্ষিত করা উচিত না, সাবালক হলেই শুধুমাত্র তাকে ইসলামের দাওয়াত দেয়া উচিত। মুসলমানদের একটা বড় অংশই ছিলো অক্ষরবাদী, অর্থাৎ কোরআনকে শাব্দিক অর্থ গ্রহণে পক্ষপাতি ছিলো, এদের অনেকেই আল্লাহর শরীর, হাত, পা, মুখ ইত্যাদি আছে বলে বিশ্বাস করতো, এদের মধ্যে হিশাম বিন আল-হাকাম এবং আবদুল্লাহ বিন কাররাম এবং তাদের অনুসারিরা উল্লেখযোগ্য। সালাফি এবং ওয়াহাবিরা পরবর্তিতে এই বিশ্বাস ধরে রাখে। কিছু গোষ্টি আবার কোরআনের আয়াতের রুপক অর্থে গ্রহনের পক্ষপাতি ছিলো। আমি যে সময় থেকে আলোচনা শুরু করবো সেই সময়টা ছিলো উমায়ইয়া খলিফাদের শাসনামলের শুরুর সময়। রাজনৈতিক ভাবেও সময়টা ছিলো উত্যপ্ত।
কাদরিয়া সম্প্রদায়ঃ
ইসলামে চিন্তাজগতে মুক্তচিন্তার পক্ষের আন্দোলনের ইতিহাস শুরু করতে চাই কাদরিয়া সম্প্রদায়ের আবির্ভাবের সময় থেকে। সময়টা ছিলো উমাইয়া শাসনামলের প্রারম্ভিক সময়। কাদরিয়া সম্প্রদায়ের আবির্ভাব ঘটে উমাইয়া সম্প্রদায়ের সপক্ষের ধর্মতাত্ত্বিক বুদ্ধিজীবি শ্রেনী জাবরিয়া সম্প্রদায়ের বিরোধীতার মাধ্যমে। উমাইয়া খলিফারা তাদের শাসনের শুরুর দিকে চরম স্বৈরতান্ত্রিক আগ্রাসনের রাজত্ব কায়েম করে। রাষ্ট্রিয় অত্যাচার আর সন্ত্রাস সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌছে এসময়। চলে একের পর রাজনৈতিক হত্যাকান্ড, হত্যাযজ্ঞ। নিজেদের অন্যায় অত্যাচারকে বৈধ করার প্রয়াস পায় উমাইয়ারা জাবরিয়া মতাদর্শের মধ্যে। তৎকালিন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধর্মতাত্ত্বিক সম্প্রদায় জাবরিয়ারা অলঙ্ঘনিয় ভাগ্য (তকদির)এ বিশ্বাস করতো। তারা বিশ্বাস করতো যা কিছু ঘটে সবই ঘটে আল্লাহর ইচ্ছায়। এমনকি যেকোন অন্যায় অত্যাচার যুদ্ধ বিগ্রহ এসবও ঘটে আল্লাহর ইচ্ছায়। মানুষের কোন স্বাধীনইচ্ছা নেই, থাকতে পারে না। আল্লাহর ইচ্ছা ছাড়া এ জগতে কিছুই ঘটেনা। এর পক্ষে তারা কোরআনের বিভিন্ন আয়াত প্রমান হিসাবে হাজির করে। জাবরিয়াদের এই মতেরই প্রতিদ্ধনী হিসাবে উমাইয়ারা দাবি করতো তারা কোন অন্যায় করে না, কেননা তারা যা করে সব আল্লাহর ইচ্ছায়ই করে, আল্লাহ না চাইলে তারা কোন হত্যাকান্ড ঘটাতে পারতোনা। জাবরিয়ারাও এই মতের সমর্থন করতো।
জাবরিয়া সম্প্রদায় আর উমাইয়াদের এই মতাদর্শের বিরুদ্ধে লড়াই ঘোষনা করে আবির্ভাব ঘটে কাদরিয়া সম্প্রদায়ের। কাদরিয়ারা মনে করতো, মানুষ স্বাধীন ইচ্ছার অধিকারী এবং ভালো-মন্দ, ঠিক-বেঠিক নির্ধারণের ক্ষমতা রাখে। তাই নিজের অন্যায়ের দায় কেউ আল্লাহর ইচ্ছার ওপর চাপাতে পারেনা। কোরআনের বিভিন্ন আয়াতের উল্লেখ করে তারা মানুষের স্বাধীন ইচ্ছার পক্ষে প্রমান হাজির করে। এ মতের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন মাবাদ আল জুহানি (মৃঃ ৬৯৯)। অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের মধ্যে ছিলেন গাইলান আল দিমেস্কি (মৃঃ ৭৪৩), ওয়াসিল বিন আতা (মৃঃ ৭৪৮, ইউসুফ আল আসয়ারি, আমর বিন ওবাইদ (ম্রিঃ ৭৬২) এবং বিখ্যাত দরবেশ হাসান আল-বসরি (মৃঃ ৭২৮)। স্বাধীঞ্চেতা ও মুক্তবিদ্ধিসম্পন্ন মানুষ হিসাবে কাদরিয়ারা উমাইয়া খলিফাদের কাছে তাদের অন্যায় ও নির্যাতনের জবাবদিহিতা চায়। কাদরিয়াদের মতবাদ উমাইয়া খলিফাদের সরাসরি বিপক্ষে যাওয়ায় উমাইয়া শাসকরা কাদরিয়াদের ওপর অত্যাচার শুরু করে। প্রকাশ্যে মানুষের স্বাধীন ইচ্ছাশক্তির মতবাদ প্রচার করার জন্য মাবদ আল জুহানিকে হত্যা করা হয়। তাকে হত্যা করার নির্দেশ দিয়েছিলেন স্বয়ং খলিফা ইবনে আবদুল মালেক (৬৮৫-৭০৫)। মূল নেতার মৃত্যুর পরও এই আন্দোলন থেমে যায় নি। গাইলান আল দিমেস্কি এই আন্দোলন অব্যাহত রাখেন। পরবর্তিতে খলিফা হিশাম ইবনে আবদুল মালেকের নির্দেশে (৭২৪-৭৪৩) তাকেও হত্যা করা হয়। বহু অন্যায় অত্যাচারের ফলে একসময় কাদরিয়া আন্দোলন স্থিমিত হয়। তবে কাদরিয়া আন্দোলনের ছাই থেকেই জন্ম নেয় আরো শক্তিশালী বুদ্ধিবাদী আন্দোলন মুতাযিলা আন্দোলন। মুতাযিলাদের সময়ই ইসলামের জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চার স্বর্ণযুগের সুচনা হয়। পরবর্তি পর্বে মুতাযিলা পন্থিদের উত্থান এবং আশারিয়া পন্থিদের হাতে এই মুতাযিলা পন্থিদের পরাজয় নিয়ে আলোচনা করার আশা রাখি। (চলবে)
দ্বিতীয় পর্ব
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই মার্চ, ২০১০ রাত ৮:১৩ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
পারভেজ আলম বলেছেন:
হুতুম পেচা, আপনার কথা মেনে নিলাম।
শিমুল আহমেদ বলেছেন:
চলুক। জানতে চাই।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ
দুরন্ত স্বপ্নচারী বলেছেন:
চলুক। পড়ব।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ। থাইকেন।
লড়াকু বলেছেন:
চলুক
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ
১. মুহাম্মাদের(স) মৃত্যুর পরে ওসমানের(রা) খেলাফতকালের মাঝামাঝি পর্যন্ত নেতৃত্ব নিয়ে বড়মাপের কোন বিরোধ ছিল না।
২. আল্লাহর রাসূলের(স) জীবদ্দশায়ই তাঁর হাদিস ও সুন্নাহ্ কুরআনের পরে আইনের দ্বিতীয় উৎস হিসেবে সর্বজন স্বীকৃত।
৩. হাদিসগ্রন্থ সমূহের লিপিবদ্ধকরণ শুরু হয় মুহাম্মাদের(স) জীবনের শেষদিক হতে, ১৫০/২০০ পর থেকে নয়।
লেখক বলেছেন: ১। মোহাম্মদের মৃত্যুর পর থেকেই বিরোধীতার সূত্রপাত। বড়মাপ বলতে যদি খুনাখুনি বোঝান তবে হ্যা, ওসমানের আগে বিরোধীতা বড়মাপের ছিলনা। তবে প্রথম খলিফা নির্বাচন কেন্দ্র করেই অনেক বিরোধীতা আর নাটক ঘটেছিল এবং প্রথম দুই খলিফাকে মেনে নেয়নি এমন বেশকিছু গোস্টিই সক্রিয় ছিল, আপনি চাইলে আমি হাদিসের রেফারেন্স দিতে পারি।
২। সর্বজন স্বীকৃত, এটি একটি মারাত্মক ভূল ধারণা। হাদিস যেখানে বই আকারে লিপিবদ্ধই হয় নাই, সেখানে হাদিসকে কোন আইনগ্রন্থ হিসাবে ব্যপক ভাবে ব্যবহার করার প্রশ্নই আসেনা। লোকজন আলেমের ওপর নির্ভর করতো, আলেম সঠিক জানেন না বেঠিক জানেন পরীক্ষা করার উপায় ছিলোনা। ছহিহ সিত্তা চিহ্নিত করার আগে সহিহ হাদিস নিয়েও বিতর্ক কম ছিলনা। আর একারনেই প্রথম সুন্নি মাজহাব হানাফিরা ইজমা কিয়াসের দিকে গুরুত্ব দিত।
৩। লিপিবদ্ধকরণ নিয়ে আমি কিছু বলিনি, আমি বলেছি হাদিস গ্রন্থের কথা। অনেকে মুখস্ত রেখেছেন, অনেকে লিখেছেন। হাদিস গ্রন্থের সূত্র ছিল বহু। স্বয়ং বুখারী কয়েক লাখ হাদিস সহিহ নয় বলে পূড়িয়ে দিয়েছেন।
আমি এবং আঁধার বলেছেন:
ভালো লাগলো। চলুক। এবিষয়ে এই অসাধারণ পোস্টটি দেখতে পারেন-ইসলামের নামে মুসলিম জ্ঞানীঁদের হত্যা ও নিযার্তনের কথা ||নুরুজ্জামান মানিক-http://www.somewhereinblog.net/blog/nuruzzamanmanik/28885721
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ
তবে খারেজী এবং মুতাজিলাদের নেগেটিভভাবেই দেখা হয়। এটা বিভিন্ন সময়ের ফিকহ্বিদদের মতামত অনুযায়ী হয়েছে। আগে অনেক কঠিনভাবে কোরআন এবং হাদীসকে ফলো করা হতো, এখন সে তুলনায় অনেক শিথিলভাবে ফলো করা হয়।
তবে আপনাদের বিশ্লেষণের সাথে ইসলামী স্কলারদের বিশ্লেষণ মিলবে না, এটাই স্বাভাবিক।
এ ব্যাপারে দুটো হাদীস প্রাসঙ্গিক,
১। আমার পর তিরিশ বছর পর্যন্ত খেলাফত অটুট থাকবে, তারপর কর্তনকারী রাজতন্ত্র আত্মপ্রকাশ করবে।
২। এ দ্বীনের প্রথম অংশ হলো নব্যুয়ত ও রহমত, তারপর খেলাফত ও রহমত, তারপর বাদশাহী ও রহমত, তারপর আমিরী শাসন ও রহমত। এরপর লোকেরা ইমারত ও রাজত্ব নিয়ে কামড়া-কামড়ি করবে, গর্দভের মতো কামড়ে ধরবে। (আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস বর্ণিত)
http://www.banglakitab.com/BanglaBooks/
HadhratMuaawiyah(RA)InHistoricalTruth(Court)-MuftiTaqiUsmani.pdf
"মুসলমানদের একটা বড় অংশই ছিলো অক্ষরবাদী, অর্থাৎ কোরআনকে শাব্দিক অর্থ গ্রহণে পক্ষপাতি ছিলো, এদের অনেকেই আল্লাহর শরীর, হাত, পা, মুখ ইত্যাদি আছে বলে বিশ্বাস করতো, সালাফি এবং ওয়াহাবিরা পরবর্তিতে এই বিশ্বাস ধরে রাখে। "
--- এ অংশের রেফারেন্স দিন তো। কারা আল্লাহ্কে আকার দিতো, অদ্ভূত!
যতদূর জানি আল্লাহ্র হাত, পা যা কোরআনে বলা আছে, এগুলো নিয়ে কোন রকমের ব্যাখ্যায় না যাবার কথা বলা আছে। যেমন কোরআনে বলা আছে, আল্লাহ্ সব শোনেন এবং দেখেন। এক্ষেত্রে মূল ব্যাপার হলো আল্লাহ্তাআলা কিভাবে দেখেন, কিভাবে শোনেন এটা নিয়ে কোন ব্যাখ্যা করা যাবে না, কারণ আল্লাহ্ আমাদের সে এখতিয়ার দেননি।
কিন্তু মুতাজিলারা সেগুলোকে ব্যাখ্যা করতে চায়। মুতাজিলারা জ্বীনকেও বিশ্বাস করে না।
খারেজীরা ওসমান(রাঃ), আলী(রাঃ), আয়েশা(রাঃ) ও অন্যান্যদের মধ্যে ভালই প্যাঁচ লাগিয়েছিল। ইতিহাস দুই দিক থেকে পড়লে ভাল হয়।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ। আপনার মন্তব্য ভালো লাগল। আমার রেফারেন্স কিছু বই। ভেবেছিলাম পুরো লেখা শেষ করার পর বইগুলোর রেফারেন্স দিয়ে দেবো। দেখি, ইন্টারনেটে কোন লিংক পেলে দিয়ে দেবো, এই মুহুর্তে জানা নাই। আর আল্লাহর শরীর নিয়ে বিশ্লেষন করা যাবে কি যাবেনা এই নিয়েও বিতর্ক ছিলো বহু। খারেজীরা কি ওসমান(রাঃ) এর সময় ছিল? আমি তো জানতাম এদের আবির্ভাবই হয়েছিলো আলী(রাঃ) আর মুয়াবিয়ার মধ্যে শান্তি চুক্তির সময়, চুক্তির বিরোধীতা করে।
আমি কিন্তু কোন একদিক থেকে ইতিহাস পড়িনি। ইসলামি ধর্মতত্ত্ব ও দর্শনের ওপর লেখা বিভিন্ন বই থেকে একটা ইতিহাস সাজানোর চেষ্টা করছি।
বিভিন্ন খলীফা সবসময় প্রথমেই কোরআন, তারপরেই রাসূল(সাঃ) কখন কোন ব্যাপারে কি করেছেন সে অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিতেন। আলী(রাঃ)-র সময় মনে হয় কোন একটা ব্যাপারে রাসূল(সাঃ) সরাসরি কোন সিদ্ধান্ত ছিল না বলে প্রথম ইজতিহাদ করেন।
লেখক বলেছেন: খলীফারা নিজেরাইতো হাদিস বিশারদ ছিলেন, বহু হাদিস জানতেন। কিন্তু ইসলামি দুনিয়া কিন্তু অনেক বড় ছিলো। খলিফা তো আর সবযায়গার সব সমস্যার সমাধান দিতেন না। এখনকার মতো টেলিফোন, ইন্টারনেট ছিলোনা। আপনি গোটা ইসলামি সাম্রাজ্যের কথা চিন্তা করুন।
লেখার প্রসংগে বক্তব্য:
হ্যা, বিরোধ মুসলিম সমাজে ছিল, যা আসলে সেসময়ের পৃথিবীর বাস্তবতামাত্র। মুসলিমরা পৃথিবীরই অংশ, বাইরের কোন জীব নয়। আর আজকের পৃথিবী কি হানাহানি মুক্ত?
লেখক বলেছেন: হুম। আপনি ভূল বুঝেছেন। হানাহানি নিয়ে আমি কোন দোষ দেই নাই। বর্তমান দুনিয়া হানাহানি মুক্ত না, হয়তো ভবিষ্যতের দুনিয়াও এমনই থাকবে। কখনো বেশি আর কখনো কম, এই পার্থক্য। আমি শ্রেফ ইতিহাস আলোচনা করেছি, মুসলমানর ঝগড়াবাজ এই টাইপের কিছু বলি নাই।
হুতুম পেঁচার নকশা বলেছেন:
'ইসলামের ভিন্নমত ও ক্ষমতার লড়াই'......গ্রন্থে একাধিক জায়গায় সা'দ উল্লাহ সাহেব ' খারেজি/ খারিজি সম্পর্কে যা ধারণা দেন তা আপনার বক্তব্যের ঠিক ১৮০ডিগ্রী বিপরীত।হয়রত আলি ও হযরত মুয়াবিয়া মধ্যে সিফফিনের যুদ্ধের সময় ১২০০০ হাজার সৈন্য হযরত আলির পক্ষ ত্যাগ করেন।তাঁরা হযরত আলি হযরত মুয়াবিয়ার সাথে মিমাংসা মেনে নিতে পারেন নি..........তাঁদের বক্তব্য ছিল হযরত আলী হযরত মুয়াবিয়ার সাথে যে মিমাংসায় অবর্তীর্ণ হয়েছে তা কোরআনের বিধান লঙ্ঘিত হয়েছে।
এরাই হযরত আলী জন্য হযরত মুয়াবিয়ার চেয়ে বড় চ্যালেজ্ঞ হয়ে দাড়ায় এবং ৬৫৮ সালে নাহরাওয়ানে হযরত আলী তাদের ছিন্ন বিচ্ছিন্ন করে দেন। এদের হাতেই হয়রত আলী ৬৬১ সালে শাহাদৎ বরণ করেন।
এরাই আবার কারবারার ঘটনার পর উমাইয়াদের বিরুদ্ধ প্রথম বিদ্রোহ করে ৬৯৫সালে।
আমি যেখানে যত টুকু পড়েছি খারিজিরা ইসলামের প্রথম মৌলবাদী।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ। সা'দ উল্লাহর বইটা বড়ি নাই। ১৮০ ডিগ্রী বিপরীত! তা ক্যামনে হয়। আপনি যা বললেন আমি কিন্তু তার বিপরীত কিছু বলি নাই। আপনি খারিজিদের ইতিহাসের একটা অংশ বলেছেন আর আমি বলেছি তাদের মতাদর্শের একটা অংশ। খারেজিরা অবশ্যই রক্ষনশীল ছিলো, মৌলবাদী বলতে পারেন, আমি কিন্তু বলেছি খারিজিরা কঠোর ধর্মনিষ্ট ছিলো। তবে খারিজিরা গণতন্ত্রপন্থি ছিলো, এই তথ্যটা সঠিক। আর আমি খারিজিদের পক্ষও নেই নাই, খারিজিদের কথা এসেছে তৎকালিন মুসলমান সম্প্রদায়গুলোর চিন্তার পার্থক্য বোঝানোর জন্য। খারিজিদের সাথে সাথে আরো কিছু উদাহরনও কিন্তু দিয়েছি।
হুতুম পেঁচার নকশা বলেছেন:
তায়েফ এর মন্তব্য ত্রয়ের উত্তর আমি পারভেজের সাথে সহমত ধারণ করি।খ্যীস্টান বা বিধর্মীদের লেখা পড়বার দরখার নেই। ইসলামিক রিপবালিপ আব ইরানের বই পড়লে পাবেন।
...........................................................
তবে আমার মনে হয় আমরা মূল লেখা থেকে সরে যাচ্ছি। পারভেজের শুল আলোচনা উমাইয়াদের সময় কাদিরিয়াদের উদয় সম্পর্কে। সেখানে মন দেওয়া উচিৎ।
লেখক বলেছেন: লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ। ব্যাপারটা আসলে তাই হচ্ছে। যেই কাদরিয়ারা এই লেখার মূল নায়ক সেই কাদরিয়াদের বিষয়ে কেউ কিছু বললোনা। আবারও ধন্যবাদ।
হুতুম পেঁচার নকশা বলেছেন:
জাবরিয়ারা অলঙ্ঘনিয় ভাগ্য (তকদির)এ বিশ্বাস উমাইয়া শাসকদের অস্তিত্ত্বের জন্য খুবই প্রয়োজন ছিল......................... কেননা, স্রষ্টা (আল্লাহ) এর ইচ্ছায় কারবালার পরিনতি এই ঘুম পারা নি গানের জন্য এর চেয়ে মধুর আর কি হতে পারে।
পারভেজ চলুক, তবে সাবধানে পা ফেলবেন.........সামনে পথ খুব জটিল।
লেখক বলেছেন: হুম। পথ যে জটিল জানা আছে। আশা করি সাথে থাকবেন। ধন্যবাদ।
কিন্তু, হাদিসের ব্যাপারে আপনার মূল্যায়নের সাথে একমত হতে পারছি না বলে দুঃখিত। সুন্নাতে রাসূলের(স) আইনগত মর্যাদা এবং এর সংকলনের ইতিহাসের উপরে আপনার জানার পরিধি কম বলেই আমার মনে হয়েছে। মনে হচ্ছে, এ নিয়ে বিস্তারিত পোষ্ট দেয়ার সময় হয়ে এসেছে। যাই হোক, মূল আলোচনা এগিয়ে চলুক; সাথেই থাকার আশা রাখছি।
লেখক বলেছেন: বুঝেছি। আর যেহেতু আমার জানার পরিধি কম বলে আপনার কাছে মনে হচ্ছে সুতরাং বিস্তারিত জানানোই উচিত ছিলো।
শয়তান বলেছেন:
পারভেজ আলম@ মুছে ফেলা কমেন্ট রিকভার করেন এভাবেঃ
১। কমেন্ট মডারেশন এ যান ।
২। ডান দিকের একদম নীচে দেখুন মুছে ফেলা মন্তব্য ।
৩।ওখান থেকে রিকভার করুন প্রয়োজনীয় মন্তব্য ।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ মহামান্য।
মনির হাসান বলেছেন:
বাহ আপনার ধৈর্য্য দেখে অবাক হলাম। তায়েফ আহমাদের এর পোস্টের সাথে সাথে এটার দরকার ছিল ... অনেক কিছু জানলাম। কাদেরিয়া এবং পরবর্তির মুতাজিলা আন্দোলনের ইতিহাস জানা ছিলনা।চলুক।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ। ইচ্ছা আছে দ্বিতীয় পর্বটা আজকেই পোস্ট করার। দেখি সময় পাই কি না।
তবে আমরা সাধারণ মুসলিমরা কিছুটা ভাগ্যে, অনেকটা কর্মফলে বিশ্বাসী, এভাবে যে আমি জানি না আমার ভাগ্যে কি লেখা আছে, তাই আমাকে কাজ করে যেতে হবে, আবার আমাকে ভাল-মন্দ শেখানো হচ্ছে, তাই অন্যায় যা করবো তার দায়ভার আমার, এভাবেই জানি। এক্ষেত্রে উমাইয়াদের দোষ দেয়া যায়, কিন্তু কাদরিয়াদের ব্যাপারে ক্লিয়ার বলতে পারছি না।
মুতা'জিলা এবং কাদরিয়াদের ব্যাপারে এখানে পেলাম,
http://en.wikipedia.org/wiki/Mu'tazili
Click This Link
খারেজীদের ব্যাপারে উপরে যা বলেছি, সেটা দেখুন এখানে,
http://en.wikipedia.org/wiki/Kharijites
সালাফী এবং ওয়াহাবীদের ব্যাপারে আপনি যেভাবে বললেন, সেভাবে তো পাচ্ছি না।
পারভেজ আলম বলেছেন:
নাজনীন১, হুম। আমিও দেখেছি, নেট এ তথ্য খুব কম। উইকিপিডিয়ায় কিছু আছে। আপনার সুবিধারা জন্য অক্ষরবাদীদের অংশটায় দুইটা নাম যোগ করলাম, দেখেন এদের বিষয়ে কিছু পান কিনা। সালাফী এবং ওয়াহাবীদের ব্যাপারে নেটে কিছু তথ্য আছে। উইকিপিডিয়াতেই আছে। তবে আপনাকে আমি দুইটা বই সাজেষ্ট করি। ১। Al-Shahrastani, Al-Milai
২। মুসলিম ধর্মতত্ত্ব ও দর্শন, ডঃ আমিনুল ইসলাম।
মুহাম্মদ ফয়সল বলেছেন:
অত্যন্ত ভালো পোষ্ট, আমি খুব কম জানি তাই, এ মন্তব্য ছাড়া আর আমার কিছু করার নাই। ধন্যবাদ লেখক কে। আর আপনাকে অনুরোধ করি ১৭ নং কমেন্টের ২য় লিঙ্কের বইটা পড়তে। আপনার আর তায়েফের পোস্টের সাথে অনেকটাই প্রাসঙ্গিক।
আপনি যে বইগুলো দিলেন সেগুলো অনলাইনে পাওয়া না গেলে এ মূহুর্তে আমার পক্ষে পড়া সম্ভব না। দেশের বাইরে আছি। তবুও ধন্যবাদ। লিস্ট করে রাখছি।
লেখক বলেছেন: হিশাম বিন আল-হাকাম এবং আবদুল্লাহ বিন কাররাম এর নাম লিখে সার্চ করে দেখতে পারেন। ইংরেজি বানান আমার জানা নাই। অক্ষরবাদী শুধু এদেরই বলেনা। যারা কোরআনের আক্ষরিক অর্থ গ্রহণ করে এরা সবাই অক্ষরবাদী। এদেরকে মূলত বলা হয় আল্লাহতে নরত্বা আরোপকারী।
আপনার লিংকএর জন্য ধন্যবাদ। পড়ে দেখবো। আমি অবশ্য তৃতীয় পর্ব থেকে ধর্মতত্ত্ব নয় বরং দর্শনের আলোচনায় চলে যাবো।
আমিনুল ইসলামের বইটা অনলাইনে পাবেন না। আল শাহারাস্তানি অনলাইনে পেলেও পেতে পারেন। আর দেশের বাইরে বইটা পাওয়া আপনার জন্য আরো সুবিধাজনক হবে।
হাফিজুর রহমান মাসুম বলেছেন:
আপনার সিরিজটা পড়তে হবে। শোকেসে রাখলাম ++++সহ
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...














