somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ব্লগ ভইরা গেছে ছাগুপোনায়। এমতাবস্থায় নিরপক্ষতার অজ্ঞতা ছাইড়া অন্তত নিজেগো পক্ষে দাঁড়াই

২৭ শে মার্চ, ২০১০ রাত ১২:১৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আইজকা ২৬ মার্চ। দিন খুব ভাল যায় নাই। যাওয়ার কথাও না। আমি পশু কিছিমের মানুষ। মন খারাপ হইলে শইল্যেও ট্যার পাই। প্রেমিকায় কষ্ট দিলে আমার পেট ব্যাথা হয়। সামাজিক গোলমালে হয় মাথা ব্যাথা। অধিক শোকে আমি অধিক অসুস্থ্য হই। ২৫ মার্চ রাত্রে আলোর মিছিল কইরা স্লোগান বক্তৃতা দিয়া তারপর নিজেগো দুরবস্থা চিন্তা কইরা আমি হতাশ হইয়া যাই। সেই হতাশা শরীর আচ্ছন্ন করে। ২৬ মার্চ পত্রিকা পড়লে, টিভি দ্যাখলে মাথা ঘুরায়। আর এইখানে ছাগুৎপাত যেই হারে বাড়ছে তাতে ব্লগে আসলে বমি আসে।

আইজকা ২৬ মার্চ। একাত্তর সালে গত রাইতে পাকিস্তানী শুয়োরের বাচ্চারা আমাগো পূর্বপুরুষগোরে মশা মাছির মতন মারছে। আজকের দিনে লাশের স্তুপ জমছিল ঢাকার রাস্তায়। রাজারবাগে পুলিশ মারছিল, ইপিআর এ সৈনিক মারছিল আর বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে মারছিল ছাত্র। পুলিশ আর সৈনিকগো কাছে তো অস্ত্র আছিল, তাগোরে মারার পরিকল্পনা স্বাভাবিক। ছাত্রগো কাছে, তখনকার তরুনগো কাছে কি এমন অস্ত্র আছিলো যে তাগোরে এমন নির্মম ভাবে হত্যা করতে হইব? ইতিহাস বলে ছাত্রগো কাছে ছিলো, তরুনগো কাছে ছিলো, ভয়ঙ্কর অস্ত্রই ছিলো, ৫২ থেইকা ৭১ সাল পর্যন্ত সেই অস্ত্রের ক্ষমতা তারা দেখাইছে। তাগোরে মারবো না তো মারবো কারে? ডিসেম্বরের শেষ দিকে বুদ্ধিজীবীগোরে ধইরা ধইরা মাইরা ফালাইলো, তাগো কাছে কি অস্ত্র আছিল? অস্ত্র অবশ্যই ছিল। সেই অস্ত্র আমাগো নাই, এই প্রজন্মের নাই। আমরা তাই নিরাপদে বাঁইচা আছি, বাঁইচা থাকবো। লজ্জা শরম আর শিশ্ন ছাড়া আমরা বাঁইচা থাকবো নিরাপদে। রাজাকার তখনো ছিলো এখনো আছে, ষড়যন্ত্র তখনো ছিলো এখনো আছে, বিদেশী শোষন তখনো ছিলো এখনো আছে। স্বাধীনতার এই শত্রুরা এখনকার প্রজন্মরে আর গনায় ধরেনা। গনায় ধরলে আমরা অনেকেই লাশ হইয়া যাইতাম। এই প্রজন্মের একটা অংশ মগবাজারের জামাতী রাজাকারের গেলমানগিড়ি করে, আরেক অংশ আওয়ামীলীগ বিএনপির সেইসব নেতাগো ব্লোজব দিতে ব্যাতিবেস্ত যারা নিজেরাই পশ্চিমা প্রভুগো কাছে পশ্চাতদেশ পাইতা দিয়া চরম সুখে দিনাতিপাত করতাছে। বাকি যারা নিজেগো নিরপেক্ষ বইলা দাবি করে তারাও দিন শ্যাষে হয় কর্পোরেট পতিতা অথবা নপুংশুক কেরানি। নিরপেক্ষ আবার কিরে ব্যাটা। নিরপেক্ষ বইলা কিছু নাই। নিরপেক্ষ হয় সুবিধাবাদী ভন্ড অথবা বুদ্ধিহীন দাস।

ব্লগ ভইরা গেছে ছাগুপোনায়। রাজাকার নিয়া কিছু কইলেই আওয়ামীলীগ কইয়া গাইল পারে, সরকারের বিরোধীতা কইরা ফাল পারে। বর্তমান আওয়ামীলীগ সরকার বিরোধীতা আর বঙ্গবন্ধুর কুৎসা রটনা যেন একি জিনিস। আরে ব্যাটা আওয়ামীলীগ কোন বাল, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় যুদ্ধাপরাধিগো বিচারের লাইগা, সেনাবাহিনীরে ক্যাম্পাস ছাড়া করার লাইগা যখন রাস্তা কাপাইছি, আওয়ামীলীগ তখন কই আছিলো? তোমরা ছাগুপোনারাই বা কই আছিলা, গর্তের ভিতরে ঢুইকা কাপাকাপি করছ। আওয়ামীলীগ দ্যাশ ব্যাচতাছে বইলা এতো যে চিল্লাও ত্যাল গ্যাস খনিজ সম্পদ রক্ষার আন্দোলনে রাস্তায় নাইম্যা পুলিশে ডান্ডার লগে ফাইট দিতে তো দেখি নাই তোমাগোরে। পানি বিদ্যুতের দাবিতে জনগনের ন্যাজ্য দাবি আদায়ের সংগ্রামের সময় কই আছিলা তোমরা? এইসবে তোমরা থাকবানা, কারন তোমরা রাজাকার। রাজাকার মানে সাহায্যকারী, তবে এই দেশের জনগণের না, বিদেশী শত্রুর সাহায্যকারী, জাতীয় বেইমান। ভারতের দালালী যারা করে তারাও রাজাকার, আমেরিকার চামচামি যারা করে তারাও রাজাকার। জনগণের সংগ্রাম এইসব রাজাকারের বিরুদ্ধে। এই প্রজন্ম যেদিন নিরপেক্ষতা ছাইড়া জনগণের পক্ষ নিবো তখন দেখুম তোমরা রাজাকারের বাচ্চারা কই যাও, পোন্দাইতে পোন্দাইতে দ্যাশ ছাড়া করুম।

শ্রেফ আওয়ামীলীগরে সাপোর্ট করার কারনে যারা রাজাকার বিরোধীতা করেন না, তাগোরে বলুম, আসেন, এক কাতারে দাঁড়াই। আওয়ামীলীগ সরকার যুদ্ধাপরাধীগো বিচারের কথা এমনি এমনি কয় নাই, জনতার চাপে, এই প্রজন্মের দাবির কারনে কইছে। তবে রাজনৈতিক কারনে তারা ফাঁকি দেয়ার চিন্তা করতে পারে। যুদ্ধাপরাধীগো বিরুদ্ধে মামলা ঝুলাইয়া রাখতে পারে নির্বাচন পর্যন্ত, ইস্যু বাঁচায়া রাখনের লাইগা। তারপরে যদি তারা নির্বাচনে হারে, আমাগোই কপাল পুরবো তখন। বুক ফুলাইয়া নিজামী/মুজাহিদরা আবার চড়বো সরকারি গাড়িতে, বলবো তাগো বিরুদ্ধে কোন কিছু প্রমান হয় নাই, সব ষড়যন্ত্র বিফলে গেছে। আসেন, আমরা নিরপেক্ষতার অজ্ঞতা ছাইড়া অন্তত নিজেগো পক্ষে দাঁড়াই। সরকারের কানের কাছে জোরছে স্লোগান মারি, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চাই। আর সরকার যদি ধানাই পানাই অব্যাহত রাখে, তাইলে বিচার অমরাই করবো, শহীদের রক্তের কসম। তার আগে আপাতত এই ব্লগে ক্রম বর্ধমান ছাগুপোনা গুলানরে ধুমছে গদাম দেওয়া অব্যাহত রাখি। লাল সবুজের সালাম।
৪৮টি মন্তব্য ১৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×