আমার প্রিয় পোস্ট

হিন্দু না ওরা মুসলিম ঐ জিজ্ঞাসে কোনজন, কান্ডারি বলো ডুবিছে মানুষ সন্তান মোর মা'র

মুসলমানের দর্শন ও বিজ্ঞান তথা মুক্তবুদ্ধি চর্চা (পর্ব-৬)

০৮ ই এপ্রিল, ২০১০ রাত ১২:২৮

শেয়ারঃ
0 0 0


ইবনে সিনা
পরিচয় ও কর্মযজ্ঞঃ মুসলিম দার্শনিক/বিজ্ঞানীদের মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত এবং সুপরিচিত যিনি তিনি হলেন ইবনে সিনা। এ খ্যাতি তার প্রাপ্য খ্যাতি। বিরল প্রতিভার অধিকারি এই মহামতির পুরো নাম আবু আল হুসাইন ইবনে সিনা (৯৮০-১০৩৭), ইউরোপে তিনি পরিচিত ছিলেন আভিসিনা নামে। তাকে গণ্য করা হয় বিশ্বের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের একজন হিসাবে। তার লিখিত ১৪ খন্ডের পুস্তক আল কানুন ফি আল তিব্ব (The Canon of Medicine) চিকিৎসা বিজ্ঞানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পুস্তক হিসেবে গণ্য হয়েছে ১৮ শতক পর্যন্ত। আধুনিক চিকিৎসাবিদ্যার বহু তত্ত্ব এবং প্রয়োগের আদি পিতা মানা হয় তাকে। চিকিৎসা বিজ্ঞান ছাড়াও তিনি বিখ্যাত ছিলেন দার্শনিক হিসাবে। মূলতঃ আল-ফারাবির ভাবশিষ্য হিসাবে দর্শন চর্চা শুরু করলেও আল-ফারাবিকে তিনি ছাড়িয়ে যান কর্ম এবং খ্যাতি দুই দিক থেকেই। আল-ফারাবির দুর্বোধ্য বক্তব্য সহজবোধ্য করে উপস্থাপন করেন ইবনে সিনা, এবং সেই সাথে প্রতিষ্ঠা করেন মুসলিম দর্শনের সবচেয়ে শক্তিশালী ধারা যেই ধারায় অনুপ্রাণিত ছিলেন আরবের আল-শাহরাস্তানি, আল-রাজি(দ্বিতীয়), আল-তুসি প্রমুখ এবং ইউরোপের থমাস একুইনাস, দান্তে ছাড়াও ফ্রান্সের প্রাক আধুনিক দার্শনিক চিন্তাজগতের বেশ কয়েকজন গুরু। বহু বিষয়ে পন্ডিত ইবনে সিনা চিকিৎসা বিজ্ঞান এবং দর্শন ছাড়াও যুক্তিবিদ্যা, গণিত, পদার্থবিদ্যা এবং ভূতত্ত্বে রেখেছেন গুরুত্বপূর্ন অবদান। অনেকেই তাকে অভিহিত করেন ভূতত্ত্বের জনক বলে। তিনি ৪৫০টির মতো পুস্তক রচনা করেন যার মধ্যে ২৪০টি এখনো টিকে আছে। টিকে থাকা পুস্তকগুলির মধ্যে ১৫০টি দর্শনের এবং ৪০টি চিকিৎসাবিজ্ঞানের ওপর রচিত। দর্শন বিষয়ক তার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পুস্তকের নাম কিতাব আল-সিফা। কিতাব আল সিফাকে গণ্য করা হয় এগারো শতকের মুসলিম-গ্রীক বিদ্যার বিশ্বকোষ স্বরূপ, যুক্তিবিদ্যা থেকে শুরু অরে গনিত পর্যন্ত বহু বিষয় স্থান পেয়েছিল এই পুস্তকে। আকার এবং তথ্যের দিক থেকে অনেক বিশাল আর গভীরতা সম্পন্ন হওয়ায় পাঠকদের সুবিদার্থে তিনি পরে এই গ্রন্থের একটি সংক্ষেপিত রূপ তৈরি করেন যা কিতাব আল নাজাত নামে পরিচিত। মূল পুস্তকের চেয়ে দ্বিতীয় পুস্তকটিই অপেক্ষাকৃত বেশি জনপ্রিয় হয়ে আছে। দর্শন সম্পর্কে তার অপর গুরুত্বপূর্ণ পুস্তকের নাম আল ইশারাত ওয়াল তানাবিহাত। মরমিতত্ত্বের ওপর তার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থের নাম হাই ইবনে ইয়াকজান, পাখি এবং প্রেম প্রসঙ্গে। এছড়াও ভাষা এবং জ্যোতির্বিদ্যা বিষয়ে তিনি কিছু পুস্তক রচনা করেন। স্বভাবসুলভ চঞ্চলতা, অপছন্দের চাকরি এবং ইসমাইলি মতের সমর্থক হওয়ায় রাজরোষ এবং শত্রু পক্ষকে এড়াতে তিনি এক যায়গায় বেশিদিন অবস্থান করা নিরাপদ মনে করতেন না। বিভিন্ন সময় তিনি বিভিন্ন রজদরবারে চিকিৎসক অথবা পরামর্শক হিসাবে কাজ করেন। নানারকম অনিয়মের কারণে অপেক্ষাকৃত কম বয়সেই তিনি অসুস্থ্য হয়ে পরেন। ১০৩৭ খ্রীস্টাব্দে ৫৮ বছর বয়সে তার জীবনাবসান ঘটে।

ধর্ম ও দর্শনঃ ইবনে সিনা একজন ধার্মিক মুসলমান ছিলেন। কথিত আছে, তার জীবনের শেষ তিন দিন তিনি চরম অসুস্থ্য অবস্থায় কোরআন পাঠ করে গেছেন মৃত্যুর পূর্বক্ষন পর্যন্ত। তবে ধার্মিক মুসলমান বলতে এখন আমরা যা বুঝি ইবনে সিনা তেমন ছিলেন না মোটেও। ধর্মতাত্ত্বিক এবং দার্শনিক অবস্থানের দিক থেকে অনেক দিক দিয়েই তার মত ছিল মৌল এবং সুন্নি ইসলামের পরিপন্থী। ধর্মমতের দিক থেকে তিনি শিয়া ইসমাইলি মতের সমর্থক ছিলেন। শিয়া ইসমাইলি মাজহাব মূলত সাতপন্থী শিয়া মাজহাব নামে প্রথম প্রতিষ্ঠিত হয়। মুসলমানদের মধ্যে একমাত্র ইসমাইলিদের সৃষ্টিতত্ত্বের সাথেই দার্শনিকদের বিকিরণবাদী দৃষ্টিভঙ্গির সাথে মিল পাওয়া যায়। দর্শনের সৃষ্টিতত্ত্বে আল-ফারাবি পরম সত্তা থেকে বিকির্ণ আদি বুদ্ধি এবং আদি বুদ্ধি থেকে দ্বিতীয় বুদ্ধি, দ্বিতীয় বুদ্ধি থেকে তৃতীয় বুদ্ধি এইরকম ক্রমানুসারে জগৎ সৃষ্টির প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করেন, ইসমাইলিরা তার কাছাকাছি মতই প্রকাশ করেন ধর্মতত্ত্বে। ইসমাইলিরা ধর্মের জাহেরি (প্রকাশ্য) তত্ত্বের চেয়ে বাতেনি (গূঢ়) তত্ত্বের প্রতিই গুরুত্ব দিত বেশি।
ইবনে সিনা অধিবিদ্যা বিষয়ক আলোচনায় আল-ফারাবির মতোই জগৎকে অনন্তকাল ধরে বিরাজমান বলে দাবি করেন। আল্লাহ এ বিশ্বকে কোন এক বিশেষ সময়ে সৃষ্টি করেছেন এ মতের বিরোধী ছিলেন ইবনে সিনা। তিনি দাবি করেন এ বিশ্ব পরম স্রষ্টা থেকে আদি বুদ্ধি এবং অন্যান্য বুদ্ধির মধ্য দিয়ে বিকির্ণ হয়ে অনন্তকাল ধরে বিরাজমান রয়েছে। ইবনে সিনা যে আল্লাহর কথা বলেন সে আল্লাহ এক পরম, বিশুদ্ধ একক স্রষ্টা, আমাদের পার্থিক জগতের তুলনায় সেই স্রষ্টা বিকারহীন এক সত্তা। সমগ্র বিশ্ব সেই স্রষ্টার জ্ঞান প্রক্রিয়ার ফলাফল। তবে স্রষ্টার এই জ্ঞান বিশেষ জ্ঞান নয় বরং সার্বিক জ্ঞান। যেহেতু স্রষ্টার জ্ঞান প্রক্রিয়ার ফলাফল এই বিশ্ব, সুতরাং সার্বিক বস্তু যেমন গ্রহ, সূর্য, তারা, গাছ, মাছ, মানুষ এইরকম সার্বিক বস্তু সম্পর্কে স্রষ্টা সচেতন, এই সার্বিক তার জ্ঞানের অংশ। কিন্তু স্রষ্টা সার্বিক ‘মানুষ’ সম্বন্ধে জ্ঞান রাখলেও তিনি বিশেষ কোন মানুষ যেমন ‘ইবনে সিনা’, ‘শেখ হাসিনা’, ‘তসলিমা নাসরিন’, ‘তায়েফ আহমেদ’, ‘পারভেজ আলম’ এদের সম্বন্ধে কোন জ্ঞান রাখেন না। ‘মানুষ’ তার জ্ঞান চিন্তার ফসল, এই কারণে মানুষ কি তা তিনি জানেন কিন্তু পারভেজ আলমকে তিনি চেনেন না। সার্বিক এবং বিশেষ বস্তুর পার্থক্য এবং সার্বিকের স্বর্গীয় রূপের ধারণা ইবনে সিনা লাভ করেছিলেন প্লেটোবাদী এবং এরিস্টটলিয় দর্শন থেকে।
ইবনে সিনা আল্লাহর বিশুদ্ধ একক সত্তায় বিশ্বাস করতেন। এই কারণে মুতাজিলাদের মতোই তিনি আল্লাহর সত্তায় তাঁর আলাদা আলাদা গুনের অস্তিত্বকে অস্বীকার করেন। এছাড়াও মৃত্যুর পর মানুষের দৈহিক পুনরুত্থানের বিরোধিতা করেন তিনি। তিনি আত্মার একত্বে বিশ্বাস করতেন। তার মতে, মৃত্যুর পরে পুণ্যাত্মা ফিরে যাবে বুদ্ধির জগতে, এ পর্য্যায়ে আত্মা আপন বিচ্ছিন্ন অস্তিত্ব হারিয়ে শাসত বুদ্ধিজগতের সাথে একাত্মতা লাভ করবে। পরম পূর্ণতায় উপনীত হওয়ার পর আত্মা পরিণত হবে বোধগম্য জগতের এক অনুলিপিতে। অন্যদিকে পাপাত্মা এই পূর্ণতা পাবেনা, বরং দেহ হারানোর বেদনায় এক ধরণের আত্মিক অসুস্থ্যতাই হবে পাপাত্মার ভাগ্য। ‘পাখি’ এবং ‘আত্মার গীতি’ নামক মরমী পুস্তকে খাচার পাখির মুক্ত হওয়র রূপক কাহিনী বর্ণনা করে তিনি দেহের খাচা থেকে আত্মার মুক্তির কাহিনী বর্ণনা করেন।
পক্ষ বিপক্ষঃ আগেই বর্ণনা করেছি, ইবনে সিনা ছিলেন একজন খ্যাতিমান এবং জনপ্রিয় ব্যাক্তি। জীবিত অবস্থায়ই তিনি অনেক শিষ্য এবং অনুসারি লাভ করেন। মৃত্যুর পরও দীর্ঘদিন তিনি আরব বিশ্বে এবং ইউরোপে অত্যন্ত প্রভাবশালী দার্শনিক/বিজ্ঞানী হিসাবে টিকে ছিলেন। তবে দার্শনিক এবং ধর্মতাত্মিক মতাদর্শের কারনে তাঁর শত্রু দের সংখ্যাও কম ছিলনা। এছাড়াও ইবনে সিনা রাজনীতিমুক্ত ব্যাক্তি ছিলেন না। ইসমাইলী ধর্মতাত্মিক এবং রাজনৈতিক মতাদর্শ ধারণ করা এবং প্রচার করায় তিনি বারবার বিপদাপন্ন হন, পাড়ি জমান এক দেশ থেকে আরেক দেশে। রক্ষনশীল মুসলমানরা বরাবরই ছিলো ইবনে সিনার কঠোর সমালোচক। হাম্বলি এবং নব্য আশারি পন্থিরা ইবনে সিনার ঘোর বিরোধীতা করেন। তবে ইবনে সিনা সবচেয়ে বড় বিরোধীতার মুখে পরেন তার মৃত্যুর পর। আল ফারাবি আর ইবনে সিনার বিরুদ্ধে আল-গাজালি যে শক্তিশালী আক্রমন গড়ে তোলেন তার ফলাফল ছিল সূদুরপ্রসারী। গাজালি ইবনে সিনা’কে কাফির এবং ধর্মবিরোধী আখ্যা দেন। গাজালির আগে অনেকেই ইবনে সিনাকে কাফির আখ্যা দিলেও তা খুব প্রভাবশালী ফলাফল তৈরি করতে সক্ষম হয় নাই। কিন্তু গাজালির মতো একজন প্রভাবশালী ব্যাক্তি যখন দার্শনিকদের বিরোধীতায় নামেন এবং তাদেরকে কাফির আখ্যা দেন তখন তার ফলাফল ছিলো ভয়ঙ্কর। গাজালি নিজে অনেক ক্ষেত্রেই একজন যুক্তিবাদী ব্যাক্তি হলেও তার সমালোচনার ওপর ভর করে গাজালি পরবর্তি যুগে যুক্তিহীন ধর্ম ব্যাবসায়িরা দার্শনিকদের সম্পূর্ণ অস্বিকার করার প্রয়াস পায়। পরবর্তি পর্বে আমরা ইমাম আল গাজালির দর্শন বিরোধী অবস্থান এবং সমালোচনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবো এবং আরব ভূখন্ডে জ্ঞান বিজ্ঞান চর্চায় পতনের আরো কিছু কারন তুলে ধরবো। গাজালি পরবর্তি সময়ে বেশকিছু রাজনৈতিক ঘটনা ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এ বিষয়েও বিশদ আলোচনা করা হবে। তার পরবর্তি পর্বগুলোতে আমাদের আলোচ্য বিষয় হবে মুসলিম পাশ্চাত্য, যেখানে জ্ঞান বিজ্ঞান চর্চা অব্যাহত ছিল আরব ভূখন্ডে জ্ঞান চর্চায় পতনের শুরু হওয়ার পরও আরো কয়েক শতাব্দি ব্যাপি।





 

সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই এপ্রিল, ২০১০ রাত ১২:৫৩ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ০৮ ই এপ্রিল, ২০১০ রাত ১২:৩৪
হৃদয়ে বাংলাদেশ বলেছেন: প্রিয়তে

লেখককে ধন্যবাদ।
০৮ ই এপ্রিল, ২০১০ রাত ১২:৩৬

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।

২. ০৮ ই এপ্রিল, ২০১০ রাত ১২:৩৯
দুরন্ত স্বপ্নচারী বলেছেন: এই পর্বটা বশে ভালো লাগলো। গ্রেইট ওয়ার্ক।
০৮ ই এপ্রিল, ২০১০ রাত ১২:৪৩

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ। এই সিরিজটা তারাতারি শেষ করা দরকার। কিন্তু তারাতারি শেষ করার কোন উপায় দেখছিনা। এখনো অর্ধেক কাজ বাকি।

৩. ০৮ ই এপ্রিল, ২০১০ রাত ১২:৫২
বংশী নদীর পাড়ে বলেছেন: জ্ঞানী একটি পোস্ট। আপনাকে ধন্যবাদ।
০৮ ই এপ্রিল, ২০১০ রাত ১২:৫৫

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ

৪. ০৮ ই এপ্রিল, ২০১০ রাত ১:০১
মামুন বিদ্রোহী বলেছেন: গাজালি নিজে অনেক ক্ষেত্রেই একজন যুক্তিবাদী ব্যাক্তি হলেও তার সমালোচনার ওপর ভর করে গাজালি পরবর্তি যুগে যুক্তিহীন ধর্ম ব্যাবসায়িরা দার্শনিকদের সম্পূর্ণ অস্বিকার করার প্রয়াস পায়।

এই লাইনটাই খুজতেছিলাম পোষ্টে.....

ভালো প্রচেষ্টা। পরবর্তী পর্বের অপেক্ষায় রইলাম।
০৮ ই এপ্রিল, ২০১০ রাত ১:০৯

লেখক বলেছেন: এই লাইনটাই কেন খুজতাছিলেন?

৫. ০৮ ই এপ্রিল, ২০১০ রাত ১:১৯
মামুন বিদ্রোহী বলেছেন: লেখক বলেছেন: এই লাইনটাই কেন খুজতাছিলেন?

কারণ ঐ লাইটাই কঠিন সত্য..
০৮ ই এপ্রিল, ২০১০ রাত ১:২৩

লেখক বলেছেন: ভাল, ভাল। ধন্যবাদ।

৭. ০৮ ই এপ্রিল, ২০১০ রাত ১:২৬
জাতি জানতে চায় বলেছেন: তিনি স্রষ্টা ও সৃষ্টির ব্যাপারে ব্যাখ্যা আনতে গিয়েই মৌলিক কিছু বিশ্বাস ভঙ্গ করে থাকতে পারেন! তবে আল্লাহই ভাল জানেন, তিনি আসলে কেমন ছিলেন!
০৮ ই এপ্রিল, ২০১০ রাত ১:৩৪

লেখক বলেছেন: ইবনে সিনার মতে, ইবনে সিনা কেমন ছিলেন আল্লাহ তা ভাল জানেন না। তাঁর মতে, আমরা আজ যারা তার ইতিহাস পড়ছি আমরা তাঁর সম্বন্ধে আল্লাহর চেয়ে ভাল জানি।

৮. ০৮ ই এপ্রিল, ২০১০ রাত ১:৪৬
ঠগী বলেছেন: আবু আল হুসাইন ইবনে সিনা

ইবনে সিনার পুরো নাম হল " হুসেইন ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে হাসান ইবনে আলী ইবনে সিনা ".

আরো অনেক কিছু বাদ গেছে। কিছু লেখার আগে পড়াশুনা করে লিখলে ভাল।
০৮ ই এপ্রিল, ২০১০ সকাল ৮:৩৯

লেখক বলেছেন: আরে, ঠগী নাকি? পড়াশোনা করতে গিয়েই তো সমস্যা হলো। দুইটা বইয়ে এই নাম পেলাম। এই বড় নামটাও পেলাম, কিন্তু ছোটটাই দিলাম শেষে।
আরো কি কি বাদ গেছে? পাকনামি না করে পরিস্কার করে বলুন।

০৮ ই এপ্রিল, ২০১০ সকাল ৮:৪০

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ

১০. ০৮ ই এপ্রিল, ২০১০ ভোর ৪:৩৫
তায়েফ আহমাদ বলেছেন: পড়লাম। নিজের নাম দেখে চমকালাম।:)
দুই-একটা খটকা আছে....সকালে জানাচ্ছি.....
০৮ ই এপ্রিল, ২০১০ সকাল ৮:৪২

লেখক বলেছেন: অবশ্যই, অবশ্যই।

১১. ০৮ ই এপ্রিল, ২০১০ ভোর ৪:৫৬
উম্মু আবদুল্লাহ বলেছেন: " ধর্মমতের দিক থেকে তিনি শিয়া ইসমাইলি মতের সমর্থক ছিলেন। "

অনেক জীবনীকার এটা উল্লেখ করে থাকেন। তবে তার ধর্ম দর্শন সেরকমটি ছিল কিনা তা নিশ্চিত নয়। এটা সত্য নাও হতে পারে।
০৮ ই এপ্রিল, ২০১০ সকাল ৮:৪৫

লেখক বলেছেন: নিশ্চিত নয় কেন? ইতিহাস তো তাই বলে। ইসমাইলি মতের সমর্থক ছিলেন তিনি। এ কারনে তাকে নানান বিপদে পরতে হয়েছে। এর বিপরীত কোন তথ্যতো ইতিহাসে নাই। এটা যদি সত্য না হয় তাহলে সত্য কি?

১২. ০৮ ই এপ্রিল, ২০১০ ভোর ৬:১২
সত্যান্বেষী বলেছেন: এখনকার মুসলমানরা যারা দর্শনে, বিজ্ঞানে একসময় মুসলমানদের স্বর্ণযুগ ছিল বলে মুখে ফেনা তুলেন আর এখনকার মুসলমানদের জ্ঞানহীনতায় আক্ষেপ করতে থাকেন তারা কি সবকিছু জানার পর ইবনে সিনাকে মুসলমান বলবেন? আর তাকে যদি মুসলমান বলেন তাহলে আহমাদীয়াদের ব্যপারে তাদের স্ট্যান্ড কি হবে?

শেষ কথা, দর্শন যেভাবে ধর্মের বিশেষ করে ধর্মের জাহেরী দিকের সাথে সাংঘর্ষিকভাবে এগুচ্ছিল এবং যেভাবে সক্রাতিস-এরিস্তোতল-প্লাতোর হাত ধরে হাটছিল, আজকের মোল্লারা হয়ত হেগেল-ফুয়েরবাখ ছাড়িয়ে মার্ক-এঙ্গেলস পড়তো। :)

লেখকের প্রতি: সিরিজ চালাতে থাকুন এবং শেষ পর্যন্ত একটি বই আকারে প্রকাশ করুন। আপনার সাফল্য কামনা করছি।
০৮ ই এপ্রিল, ২০১০ সকাল ৮:৫৪

লেখক বলেছেন: অসংখ্য ধন্যবাদ।

ইবনে সিনা মুসলমান ছিলেন এই অর্থে যে তিনি নিজে নিজেকে মুসলমানই বলতেন। এর কারন হলো, এখন ইসলাম বলতে আমরা যে সুন্নি ইসলাম চিনি তাঁর সময়ে সেটাই একমাত্র ইসলাম ছিলনা। ইসলামের ভেতরেই এত বিচিত্র মত পথ ছিল, এবং তার মধ্যে কিছু এতোই প্রগতিশীল মত ছিল যার ফলে অনেক বৈপ্লবিক চিন্তা ভাবনা থাকা সত্ত্বেও কারো পক্ষে ইসলাম ত্যাগ না করলেও চলতো। ইবনে সিনা এই ধরণের মতাদর্শের পরও মুসলমান ছিলেন, কারন ইসমাইলি ধর্মমত ছিল, আবার যেহেতু তিনি দার্শনিক ছিলেন, তাই দার্শনিকের ধর্ম বলতে তখন যা প্রচলিত ছিল তাও তার জীবনের অংশ ছিল। এখনকার ইসলাম এতই সংকির্ণ যে ইবনে সিনার মতো আমরা যদি কেউ এসব চিন্তা করি তবে আমাদের ইসলাম ছেড়ে নাস্তিকতায় আশ্রয় নেয়া ছাড়া কোন উপায় থাকবেনা।

১৩. ০৮ ই এপ্রিল, ২০১০ ভোর ৬:১৪
সত্যান্বেষী বলেছেন: মার্ক-এঙ্গেলস > মার্কস-এঙ্গেলস
০৮ ই এপ্রিল, ২০১০ সকাল ৯:০০

লেখক বলেছেন: আপনার কথা পুরা সত্য। তখনকার মুসলমানরা তাদের সময়ের সমসাময়িক জ্ঞান বলতে যা বোঝায় তা ধারন করতো। আর এখন যারা ইসলামকে রক্ষা করার জন্য এবং বিজ্ঞান আর ইসলামের সমন্বয় করার জন্য উঠে পরে লেগেছেন তাদের পড়ালেখার দৌঁড় বড়জোর জাকির নায়েক, মরিস বুকাইলি পর্যন্ত। মার্ক্স, এঙ্গেলস, ফুঁকো, দেরিদা, এডওয়ার্ড সাইদ পড়ার মতো মাথা অথবা অবকাশ তাদের নাই। আর মৌলিক বিজ্ঞানের বিষয় আশয় বাদই দিলাম।

১৪. ০৮ ই এপ্রিল, ২০১০ ভোর ৬:২১
উম্মু আবদুল্লাহ বলেছেন: ইবনে সিনা নিয়ে আমার যে লেখা আছে, ওটা দেখতে পারেন। যেখানে আমি ইবনে সিনাকে মুসলিম হিসেবেই দেখেছি। ইবনে সিনাকে যে তিনটি বিষয়ের জন্য ইসলাম ত্যাগী হিসেবে দেখা হয়, তার ব্যাখা নিয়ে লেখা।

০৮ ই এপ্রিল, ২০১০ সকাল ৯:০৬

লেখক বলেছেন: আপনার লেখাটা পড়েছি। ভাল লিখেছেন। ইবনে সিনাকে আপনি মুসলিম হিসেবে দেখতেই পারেন, ইবনে সিনা নিজেকে মুসলিমই ভাবতেন। ১২ নম্বর মন্তব্যের জবাব দেখুন। তাকে ইসলাম ত্যাগী বলে ঘোষনা করেছে রক্ষনশীল ইসলামপন্থিরা। ইসলামে প্রথম থেকেই জ্ঞানানুশিলনের প্রক্রিয়া অনুযায়ি তিনটা সুষ্পষ্ট ধারা ছিল, এ নিয়ে পরে লিখব। এই তিন ধারার মধ্যে অপেক্ষাকৃত প্রগতিশীল একটা ধারা ছিল যারা জ্ঞান বিজ্ঞান চর্চায় নেতৃত্ব দিয়েছে, কিন্তু রক্ষনশীলরা এদের ইসলাম বিরোধী বলেই আখা দিয়েছে। ইবনে সিনাকে যে তিনটি বিষয়ের জন্য ইসলাম ত্যাগী আখ্যা দেন গাজালি সেই তিনটি বিষয়ের জন্য তিনি শুধু সিনাকে নয় আরো বেশ কয়েকজন মুসলিম দার্শনিককে অভিযুক্ত করেন। গাজালি অবশ্য মূল রক্ষনশীলদের প্রতিনিধিত্ব করতেন না। তবে রক্ষনশীলদের হাতে তিনি ভাল অস্ত্র তুলে দিয়ে গিয়েছিলেন।

০৮ ই এপ্রিল, ২০১০ সকাল ৯:০৭

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ। শুক্কুরবার পাঠচক্রে আসিস।

১৬. ০৮ ই এপ্রিল, ২০১০ সকাল ৮:৫৪
উম্মু আবদুল্লাহ বলেছেন: না, ইবনে সিনা ইসমাইলিয়া মতবাদের সমর্থক ছিলেন - ইতিহাস তা বলে না। বলেছেন জীবনীকার কেউ কেউ (যা বলেছেন তা হল ইসমাইলিয়া পরিবারে জন্ম), যারা বিশ্বাস যোগ্য তথ্য উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হয়েছেন। ইবনে সিনার এমন কোন দর্শন পাওয়া যায় না, যেখানে ইসমাইলি বিশ্বাস প্রতিফলিত হয়েছে। আমি বিষয়টি জানালাম, বিশ্বাস করা বা না করা আপনাদের ব্যপার। এ নিয়ে তর্ক সম্পূর্ন অর্থহীন। যদি কোন বিশ্বাস যোগ্য সোর্স দিতে পারেন, তাহলে আবার স্টাডি করে দেখা যাবে। বলা বাহুল্য, এই বিজ্ঞানীদের ব্যক্তিত্ব ও জীবনী নিয়ে বহু রকম অভিমত রয়েছে। ইতিহাস তাই হবে যার স্বপক্ষে প্রতিষ্ঠিত ডকুমেন্টস থাকবে।
০৮ ই এপ্রিল, ২০১০ সকাল ৯:১৩

লেখক বলেছেন: তার জীবনিকাররা তাঁর সম্বন্ধে যা বলেন তা কি ইতিহাস না? আর শুধু ইসমাইলিয়া পরিবারে জন্ম কিন্তু ইসমাইলি মত সমর্থন করতেন না, এমন কিন্তু আমি কোথাও পাইনি। ইসমাইলি মতাদর্শের কারনে তিনি বিপদে পরেছেন এমন সূত্র আমি আপনাকে দিতে পারবো। ইবনে সিনার বিকিরনবাদী দর্শনের সাথে ইসমাইলি সৃষ্টিতত্বের মিল আছে, তবে ইবনে সিনা ইসমাইলি মত থেকে তা নেন নাই।
অবশ্যই ইতিহাস তাই যার স্বপক্ষে প্রতিষ্ঠিত ডকুমেন্টস আছে। ইবনে সিনা ইসমাইলি ছিলেন এটাই এখন প্রতিষ্ঠিত, ডকুমেন্টস আছে বলেই। সোর্স অবশ্যই দিতে পারবো, আপনি তো বাংলাদেশে নাই, একাধিক বাংলা বইয়ের সোর্সই দিতে পারবো। তবে বিশ্বাসযোগ্য সোর্স বলতে আপনি কি বুঝিয়েছেন তা তো আমি জানি না।

১৭. ০৮ ই এপ্রিল, ২০১০ সকাল ৯:২৮
উম্মু আবদুল্লাহ বলেছেন: ইবনে সিনা ইসমাইলি হলে ইমাম গাজালী সহ অনেক স্কলার খামাখাই কষ্ট করেছেন। কারন ইসমাইলিয়াদের সাধারন ভাবে মূল স্রোতের মুসলিম হিসেবে ধরা হয় না। শুধু গাজালী নয়, আরো অনেকে ইবনে সিনার বিষয়ে ফতোয়া দিয়েছিলেন। এরা কেউ ইসমাইলি বিষয়টি টেনে আনেন নি।

যাক, সোর্সের বিশ্বাস যোগ্যতা যেহেতু যাচাই করা যাচ্ছে না, তাই এ নিয়ে বিতর্ক অর্থহীন। এখানেই বিতর্কের ইতি টানা প্রয়োজন। আর ইবনে সিনা ইসমাইলিয়া হিসেবে ইতিহাসে "প্রতিষ্ঠিত" হয়েছেন যদি সত্য হত, তাহলে সমস্ত সোর্সেই তা উল্লেখ করা হত। যেমন করে তার "কানুন" বইয়ের কথা উল্লেখ থাকে। ইসমাইলি বিষয়টি প্রতিষ্ঠিত নয় বলেই রেফারেন্সে কোন জোরালো বর্ননা নেই। বরং পরষ্পর বিরোধী তথ্য পাওয়া যায়। আমি নিজেও এটা বিশ্বাস করিনি। ইবনে সিনা নিজের যুক্তি বিশ্বাস মত সবকিছুর ব্যাখা করতেন। শিয়া প্রভাব তার দর্শনে থাকলে কোথাও না কোথাও তার উল্লেখ থাকত। ইসমাইলিয়ারা তো শিয়া থেকেই এসেছে।
১৮. ০৮ ই এপ্রিল, ২০১০ সকাল ৯:৩৪
উম্মু আবদুল্লাহ বলেছেন: একটা সাইট পেলাম যেখানে ইবনে সিনা যে ইসমাইলিয়া বিশ্বাস গ্রহন করেন নি তার উল্লেখ রয়েছে।


His father and brother, who responded to the advocates of Ismailia, but Ibn Sina did not accept this doctrine, but rejected as saying: "I hear them and know what they're saying do not accept myself."

Click This Link
০৮ ই এপ্রিল, ২০১০ সকাল ৯:৪২

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ। আপাতত যেতে হবে। পরে পড়বো।

১৯. ০৮ ই এপ্রিল, ২০১০ সকাল ৯:৩৯
উম্মু আবদুল্লাহ বলেছেন: একটা বই পেলাম।

Click This Link

এর ৩৮ নং পাতায় দেখুন। ইবনে সিনার বাবা ইসমাইলিয়া দর্শন গ্রহন করলেও তিনি তা করেন নি। যদিও তখন তিনি খুব তরুন ছিলেন।

০৮ ই এপ্রিল, ২০১০ সকাল ৯:৪৪

লেখক বলেছেন: আবারো ধন্যবাদ। আমি কিন্তু বাংলাদেশের বেশ কয়েকজন দর্শন বিষয়ক স্কলারের বইয়ে এই তথ্য পেয়েছি। যেহেতু ভিন্ন বক্তব্য আছে সুতরাং আরো একটু ঘেটে দেখবো ইন্টারনেটে।

২০. ০৮ ই এপ্রিল, ২০১০ রাত ১০:৩৫
পারভেজ আলম বলেছেন: উম্মু আবদুল্লাহ, ইন্টারনেটে একটু ঘাটাঘাটি করলাম। দুই ধরনের মতামতই পেলাম। তবে তার বেশ কয়েকজন জীবনিকার বলেছেন তিনি ইসমাইলি ছিলেন। আমি যাদের বই পড়েছি তারা হয়তো ঐ রেফারেন্স থেকেই লিখেছেন। বিষয়টা বিতর্কিত, মেনে নিলাম। তবে তিনি নিজে ইসমাইলি মতামতের সমর্থক যদি নাও হন, তার পরিবারের ইসমাইলি সমর্থন অথবা অন্যকোন রাজনৈতিক কারনে ইসমাইলি বিরোধী রোষের শিকার তাকে হতে হয়েছে।
২১. ০৮ ই এপ্রিল, ২০১০ রাত ১১:২০
সত্যান্বেষী বলেছেন: ইবনে সিনার ইসমাইলী হওয়া না হওয়া নিয়ে উম্মু আবদুল্লাহর গতিপথ দেখে মনে হচ্ছে তিনি কেবলই বিশ্বাস করতে চাইছেন যে আজকে একজন বাইতুল মোকাররমের খতিব যাদেরকে মুসলমান বলবেন সিনা তাদের মধ্যে যেন পড়েন। ইয়া মাবুদ, ইবনে সিনার মতো এমন হীরকখন্ড যেন মুসলমানদের হাত থেকে খসে না পড়ে।

পরিবারের ইসমাইলী প্রভাব হয়তো তার উপর পড়লোই না। কিন্তু তার দর্শন? তার এরিস্টোটোলীয় চিন্তাভাবনা কি সুন্নী চিন্তাধারার সাথে সাংঘর্ষিক নয়? সে ব্যপারে উম্মু আবদুল্লাহ কি বলবেন? আর ইমাম গাজ্জালীই বা তার পেছনে কেন লাগলেন? ইমাম গাজ্জালীর এই লাগাটা ইবনে সিনা সম্পর্কে কি কিছুই প্রকাশ করে না?

হাজার পদের দোয়া-দরুদ না শিখিয়ে আর মোহাম্মদ(সা)কে আল্লাহ বেহেস্তের শ্রেষ্ঠতম প্রশংসিত স্থানে নিল কি নিল না এ নিয়ে অস্থির না থেকে আজকের মাদ্রাসাগুলো ইবনে সিনার মতো সত্যিকারের জ্ঞান সাধনায় ব্রতী হতো তাহলে আজ বিশ্বের শ্রেষ্ঠ বৈজ্ঞানিকটি বেড়িয়ে আসতো মাদ্রাসা তথা ইসলামী শিক্ষায়তন হতে। শ্রেষ্ঠ ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার খুজতে যেতে হতো সৌদি আরবে, ইরানে।

ইসলামের যে ধারাটি মুক্তবুদ্ধির চর্চ্চা শুরু করেছিল, ইবনে সিনা যার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত, তাকে যদি গাজ্জালীদের মতো তাকওয়া আর এবাদতপন্থীরা মিলে নির্মমভাবে হত্যা না করতো তাহলে বিশ্বের সকল সমাধানের জন্য ধর্ম-বর্ণ-নির্বিশেষে মানুষ ইসলামের দিকেই তাকিয়ে থাকতো।
০৮ ই এপ্রিল, ২০১০ রাত ১১:৩৮

লেখক বলেছেন: হুম। তিনি ইসমাইলি না হইলেও সুন্নি অবশ্যই ছিলেন না, তার মতামত তো অবশ্যই সুন্নি ছিলনা।
মাদ্রাসা বলতে একসময় বিদ্যালয় বা বিশ্ববিদ্যালয় বুঝাইতো। তখন সেইখানে শুধু ধর্মশিক্ষা দেয়া হইত না। ভারতীয় উপমহাদেশে আমরা মাদ্রাসা বলতে যা চিনি তা ব্রিটিশরা তৈরি করেছে।

২২. ০৯ ই এপ্রিল, ২০১০ ভোর ৫:১২
উম্মু আবদুল্লাহ বলেছেন: ২১ নং মন্তব্য @ সত্যান্বেষী:

আপনি ভুল করছেন। আমি বক্তব্য এতটুকু যে, ইবনে সিনা ইসমাইলিয়া নন। বাকীটুকু আপনি ম্যানিপুলেট করছেন। ইবনে সিনাকে নিয়ে আমার যা বলার তা আমি আমার নিজের ইবনে সিনা সংক্রান্ত পোস্টে বলেছি। একজন মানুষের জীবনী যখন লিখিত হবে তখন তা জীবনীকারের নিজস্ব পছন্দ/অপছন্দের ভিত্তিতে হবে না, বরং হবে ঐতিহাসিক তথ্যের উপর ভিত্তি করে। ইসমাইলিয়া দাবী করে যেসব বর্ননা এসেছে - সেগুলো বেশ দুর্বল। সম্ভবত পরিবারের কারনে তা এসেছে। ইসমাইলিয়া একটি দর্শন, ইবনে সিনার দর্শনে যা অনুপস্থিত।
০৯ ই এপ্রিল, ২০১০ সকাল ৯:১৪

লেখক বলেছেন: ইসমাইলিয়া দর্শন হবে কেন? এটাতো ইসলামের একটা মাজহাব, এক সময়ের বেশ বড় একটা মাজহাব। এটা ধর্ম। ধর্মে যেমন দর্শন থাকে, এখানেও তা ছিল। কিন্তু ইসমাইলিয়া কোন দর্শন ছিল না, বরং দ্বিতীয় বৃহত্তম সিয়া মাজহাব ছিল।

২৩. ০৩ রা মে, ২০১০ সকাল ৯:৫৮
রাজা রায় বাহাদুর যদুনাথ বলেছেন: ইবনে সিনা আর ইমাম গাজ্জালির বাহাসটা ভালাই হৈছিল, শুনেছিলাম একজনের কাছে। পোস্ট ভালো লাগলো।
২৪. ২২ শে মার্চ, ২০১১ রাত ৯:৩২
দু-পেয়ে গাধ বলেছেন: এছাড়াও মৃত্যুর পর মানুষের দৈহিক পুনরুত্থানের বিরোধিতা করেন তিনি। তিনি আত্মার একত্বে বিশ্বাস করতেন। তার মতে, মৃত্যুর পরে পুণ্যাত্মা ফিরে যাবে বুদ্ধির জগতে, এ পর্য্যায়ে আত্মা আপন বিচ্ছিন্ন অস্তিত্ব হারিয়ে শাসত বুদ্ধিজগতের সাথে একাত্মতা লাভ করবে। পরম পূর্ণতায় উপনীত হওয়ার পর আত্মা পরিণত হবে বোধগম্য জগতের এক অনুলিপিতে। অন্যদিকে পাপাত্মা এই পূর্ণতা পাবেনা, বরং দেহ হারানোর বেদনায় এক ধরণের আত্মিক অসুস্থ্যতাই হবে পাপাত্মার ভাগ্য। ‘পাখি’ এবং ‘আত্মার গীতি’ নামক মরমী পুস্তকে খাচার পাখির মুক্ত হওয়র রূপক কাহিনী বর্ণনা করে তিনি দেহের খাচা থেকে আত্মার মুক্তির কাহিনী বর্ণনা করেন।
===============

বৌদ্ধ ধর্মের নির্বাণ এর সাথে বেজায় মিল তো!
উপনিষদ এর মধ্যেও এই ধরনের থিওরি আছে।

যেসব ধর্মে মৃত্যুর পর পুনরুত্থান নেই তারা মৃতদেহ নষ্ট করে ফেলে। যেমন হিন্দুরা পুড়িয়ে দেয়, পার্সীরা অন্য প্রাণীদের খাওয়ার জন্য দিয়ে দেয়। অন্যদিকে যারা পুনরুত্থান বিশ্বাস করে তারা বাক্সে পুরে সংরক্ষিত এলাকায় পুঁতে রাখে।
২২ শে মার্চ, ২০১১ রাত ১১:১৮

লেখক বলেছেন: একটু ভুল বললেন বোধহয়। বৌদ্ধ ধর্মের নির্বাণ না, বরং উপনিষদএর মোক্ষ লাভ এর সাথে এর সম্পর্ক। বৌদ্ধ ধর্মের নির্বাণ আসলে কোন সত্ত্বার সাথে মিলনের বিষয় না, বরং এক ধরণের চরম নিহিলিস্টিক বিষয়। বৌদ্ধ ধর্মে গড জাতীয় কোন সুপ্রিম বিং এর অস্তিত্ব নাই, বা এমন কোন মহা সত্ত্বা নাই যার সাথে মিলনের আকাঙ্খার দরকার আছে। জড় জগতের ধারাবাহিকতায় হইল প্রাণ এবং মানুষ। মানব জীবনের সব মোহ ত্যাগ করে স্থবিরতা লাভ করা বা জড়তা প্রাপ্ত হওয়াই হলো বৌদ্ধ ধর্মের নির্বাণ।

মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।

 

মোট সময় লেগেছে ১.০৪৩৫ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
এককোষী জীবটা আবির্ভুত হওয়ার পর চিন্তা করলো "Cogito ergo sum"
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

    কোন বিভাগ নেই