আমার প্রিয় পোস্ট
- সামহোয়্যারইন ব্লগে ''নারী বিষয়ক পোস্ট'' সংকলন A 2 Z: ২০১১ - পটল
- সূর্যই পৃথিবীর চারিদিকে ঘুরছে - মাহবুব রোকন
- আমার দেখা সেরা শর্টফিল্ম গুলোর কালেকশন, একটি মাস্টওয়াচ পোস্ট - নিয়নের আলো
- মুক্ত/ নাস্তিক/ সংশয়ী/ ধর্মদ্রোহী'দের যুদ্ধটা ... আসলে কাদের বিরুদ্ধে, কিসের বিরুদ্ধে ? - মনির হাসান
- এক বছরে দ্যাশটা কেমন বদলাইয়া গেল - অন্যমনস্ক শরৎ
- চির রহস্যময় কিংবদন্তী-খনা!!! - শায়মা
- ইসলামের কথা বলা শুরু করলে, সে রাজাকার হয়ে যায় but ধন্যবাদ,মন্তব্য মডারেটেড - াহো
- খ্রীষ্টানরা পায় গড, মুসলিমরা পায় জাইগোট, তারা মানুষরে কি মনে করে? পুরাই গোট? (Goat) - স্টাডি-ইটিই
- জ্ঞানের সীমাবদ্ধতা নিয়ে স্বগতোক্তি এবং বিক্ষিপ্ত প্রশ্ন - সোজা কথা
- রূপগঞ্জে সামরিক ভুমি আগ্রাসন:“দিনরাত লেফ-রাইট করলে ক’মণ শস্য ফলে এক গন্ডা জমিতে?” - দিনমজুর
- কালিদাস এবং ... - ৩ - মে ঘ দূ ত
- মহাবিশ্বের সৃষ্টি এবং ঈশ্বর নিয়ে স্টিফেন হকিং এর সর্বশেষ বই “দি গ্র্যান্ড ডিজাইন” এর সার-সংক্ষেপ/রিভিউ - বিলাশ বিডি
- সুনিতা পালের সুলুক সন্ধানে - রেজওয়ান
- ইসলামের নামে মুসলিম জ্ঞানীঁদের হত্যা ও নিযার্তনের কথা - নুরুজ্জামান মানিক
- গ্রাফিক ডিজাইনারদের জন্য প্রয়োজনীয় কিছু লিংক - অন্যসকাল
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর - আধুনিক ব্যাংকিং এর স্বপ্নদ্রষ্টা - ন হন্যাতে
- শিল্পের দ্বায়বদ্ধতা, শিল্পীর দ্বায়বদ্ধতা।উৎসর্গ: হাসান মাহবুব। - স্তব্ধতা'
- বিচিত্র বমি - তাশমিয়া
- কোয়ান্টাম তত্ত্বের সূচনা, বিব্রত ম্যাক্স প্লাঙ্ক (এবং কোয়ান্টামকে বোঝার চেষ্টা) - শুভ রহমান
- মুসলমানরা মানুষ নয়! পর্ব-২ - রিয়াজওয়ার্ল্ড
- ধর্ম, ঈশ্বর ও জিবরাইলের বাহাস - নতুনদেশ
- ওয়েব ডেভোলপারদের জন্য ১০টি গুরুত্বপুর্ন শর্টকাট ফাংশন লিষ্ট (ডাউনলোড লিঙ্কসহ) - খুজে ফিরি অজানা কে?
- ইউনিলিভারের বর্ণবাদ আর সাম্রাজ্যবাদ - এ.টি.এম.মোস্তফা কামাল
- যুদ্ধাপরাধী আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদি কি করেছিলেন - সিস্টেম
- বাংলাদেশে একাত্তরের যুদ্ধপরাধীদের বিচার না হওয়ার অন্যতম কারণ: ওয়াহাবী কানেকশন। - ইমন জুবায়ের
- সমকামীতায় সচেতন ন্যাচারালাইজ হবার সময় হয়েছে এই সমাজের - অন্যমনস্ক শরৎ
- সামুতে যাদের লেখা মিস করি--পর্ব ১ - দি ফিউরিয়াস ওয়ান
- যাকে ভালুবাসি তাকে সব দিব - আলিফ দেওয়ান
- চলে গেলো এ-টিমের জন্মদিন, আমরা কি তবে ভুলতে বসেছি তাদের অবদান? - স্বপ্নকথক
- ওমর খৈয়ামের “রুবাইয়াৎ” থেকে - রাত্রি২০১০

উবুন্তু/ লিনাক্সপ্রেমীদের জন্য সুখবর!! আকর্ষণীয় টি-শার্ট বেছে নিন!!

- 'লেনিন'
- ঈশ্বরের প্রতিশ্রুতি। - হোরাস্
- কার্ল মার্কস ও তথাকথিত প্রকৃতি বিজ্ঞান (Natural Science) - পি মুন্সী
- আহমদ ছফা প্রধানমন্ত্রী হয়ে যা যা করতে চেয়েছিলেন - হৃদয়ে বাংলাদেশ
- এবার প্রেসের কাজে বাংলা লিখুন ইউনিকোডেই একদম সরাসরি ফটোশপ (মেহেদী ভাইয়ের নতুন পোস্ট) - টেকি মামুন
- ত্রিশ লক্ষ শহীদ : মিথ নাকি বাস্তবতা ? - লাইটহাউজ
- ইসলামের জন্ম এবং ইতিহাস বিষয়ক একটি বই - মেজভাবী
- আল্লাহ কি গণিত বুঝেননা? - চনদন
- হা হা পে গে ! - হায় ঈশ্বর!
- ভিক্ষুক ও ডেসটিনি রোগীর মধ্যে পার্থক্য - সুমন অহেমদ
- ইসলামে কাম ও কামকেলি (3-2) - মানব
- দৃষ্টি আকর্ষণ: ব্লগারবৃন্দ, আমাদের জিনিস আমাদেরই বুঝে নিতে হবে - আশরাফ মাহমুদ
- শেষ পর্যন্ত অন্য গ্রহে গিয়ে সাম্রাজ্যবাদের শিল্পিত সমাধান আসলো?: প্রসঙ্গ আভাটার - অন্যমনস্ক শরৎ
- অনলাইনে পাওয়া জীবনানন্দ দাশের সব কবিতা - র হাসান
- অবিস্মরনীয় সেইসব মেটাল এলবাম গুলো...( একটি \m/ জাতের MEGA পোস্ট) - প্রিয়তমেষু
- ভিওআইপি ব্যবসা নয়, রাষ্ট্রের প্রাপ্য ট্যাক্সের টাকা ভাগ বাটোয়ারার কাহিনী - পি মুন্সী
- কার্ল গুস্তাফ য়ুং: লোকোত্তর এক বিশ্বঅবচেতনার সাধক - ইমন জুবায়ের
- লেখাটার লগে ছবিও দিয়া দিলাম কিন্তু!! - এস.আর.এফ খাঁন
- আধুনিক ইতিহাসের পাঠশালায় বাঙ্গাল, 'আ' তে আওয়ামী, 'ব' তে বাকশাল (দ্বিতীয় খন্ড) - বাঙ্গাল
- আলোচনা পোস্টঃ ছাগু বিরোধি ফাইটারদের দৃষ্টি আকর্ষন করছি - শয়তান
- বিদায় পৃথিবী- k-79er34b নক্ষত্রপুন্জের C-37 গ্রহে নিমন্ত্রণ রইলো - k-79er34b
- বিশেষতঃ ব্লগ কবিগনের দয়াবনত দৃষ্টি আকর্ষন, একটি কবিতা এবং সামু কর্তৃপক্ষের নিকট একটি প্রস্তাবনা - মতিউর রহমান সাগর
- সুশীল বলে কাউকে চিহ্নিত করলে কী মানে দাঁড়ায় - পি মুন্সী
- আধুনিক গবেষনায় দেশের সায়েন্স ও টেকনিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় গুলির দীর্ঘ ব্যর্থতা।মূল কারনটা কোথায়?যোগ্যতা-প্রতিভার অভাব না অন্যকিছু? কিস্তি-৩ - প্লাটো
- ব্লগার জানার মুখোমুখি - ফিউশন ফাইভ
- দালালরা কখনোই বদলায় না নিজেকে, প্রগতিশীলরা অসম্ভব গতিশীল... বদলে যেতে সময় লাগে না। - রাগ ইমন
- হিটলারের আঁকা কিছু ছবি ( ফটো ব্লগ )
- আসফাকুল আমিন
- সহি আসল ইবলিশনামা অথবা শয়তানের ডারুইনী ইতিহাস - খারেজি
- মিথ, রূপকথা ও ব্রান্ডিং: রূপকথা নিয়ে ব্রান্ডিংও হতে পারে। - জাতিষ্মর
- নাস্তিকদের প্রতি ছুঁড়ে দেয়া চ্যালেন্জ গ্রহণ করলাম - দুরের পাখি
- দেখেন কুত্তার বাচ্চাটা কি বলে !!! - পাপী
- মামোর গল্পু ৮ : মামো ২০২০ - চিন্তা ভাবনা করে ইদুর
- :: আপনি কি একজন হ্যাকার? তো হয়ে যাক এক দান। ::
- ফিবোনাকি
- জ্ঞান-বিজ্ঞানের রাজ্যে মুসলমানঃ উত্থান ও পতন পর্ব-২ - তায়েফ আহমাদ
- আমরা মহল্লায় আছি , লাগলে মিসকল দিয়েন ( এ-টিমের জন্মদিন, হোসেইনের শুভেচ্ছা ) - হোসেইন
- হোসেইন : মিস ইউ কমরেড - প্রতিবিপ্লবী
- শয়তানের ইতিহাস........(ভাল শয়তানের জন্য লিখিত) - রেজোওয়ানা
- জরথুশত্র: প্রাক-খ্রিস্টীয় যুগের পারসিক ধর্মপ্রচারক - ইমন জুবায়ের
- আজ বিকেলে যাঁরা ‘দুনিয়া কাঁপানো ত্রিশ মিনিটের মিছিলে’ যাবেন, তাঁদের জন্য কটকটিওয়ালার গল্প........ - তায়েফ আহমাদ
- দুনিয়া কাঁপানো ৩০ মিনিট ও লন্ড-ভন্ড শহীদ মিনার - টিংকু ট্রাভেলার
- বিদ্রোহী (কাজী নজরুল ইসলাম) - সমুদ্রের উত্তাল তরঙ্গ
- তিরিশ মিনিটে ‘দুনিয়া কেঁপেছে’, আমরা কেঁপে উঠবো কবে? - প্রশ্নোত্তর
- বাঙ্গালী বা বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ - মু আ হাকিম নিউটন
- শ্লোগান ২০১০: চেতনা দেখান, গ্রামীন ফোনে কথা বলুন নয় মাস - বিবর্তনবাদী
- আজকে আমি আজিজ!!! - "ডিজিটাল বয়াতী" উলঙ্গ বাবা পিণিক চাঁন ব্যাভিচারী
- আজিজীয় রিমিক্সের চিপায় রবীন্দ্রনাথ
- "ডিজিটাল বয়াতী" উলঙ্গ বাবা পিণিক চাঁন ব্যাভিচারী
- আমাদের লুঙ্গীহীন ফরহাদ্দা (দাদা অর্থে) - রাজীব আহমেদ
- নুহ এর প্লাবন ঘটিত সমস্যা-----(বড্ড বাচা বাইচা গেলাম)----
--পর্ব ১ - ফারজান ওয়াদুদ
- ডেসটিনির গাছে সোনার কাঁঠাল এবং আবুল ভাইয়ের তৈলাক্ত গোঁফ্ - স্তব্ধতা'
- নতুন নতুন ব্লগে ঢুকিয়া আমার ইছলামি চেতনা যেভাবে পিছলা খাইলো - চিন্তিত তাপস পাল
- প্রেতাত্মারোধে হব সন্ত্রাসী আজ (আবুবকর সিদ্দিকের তরে) - পাপতাড়ুয়া
- ধর্মগ্রন্থের মতো রবীন্দ্রনাথের জঠর থেকে বিজ্ঞান বের না করলে চলে না? - অনিশ্চিত
- চাঁদ-তারা কি ইসলামের প্রতীক? - ভিন্ন চিন্তা
- ইনু-বিদিছার পালা - ঠুকেমারি
- '' আমি রাজাকার'' এর সাপোর্টার রা সাবধান
- পাগলা ঘাতক
- ওয়েবে ছড়িয়ে থাকা সকল বাংলা ব্লগের লিস্ট এর সংকলন(আপডেটেড ৩০/১২) - রাহা
- প্রাচীন পৃথিবীর বিস্ময়, সিন্ধু লিপি, আর্য প্রোপাগাণ্ডা এবং নতুন আলো - ম্যাভেরিক
- সিকিম ও কাস্মিরের ভুখন্ড বড়দের বাট্টা হতে পারে কিন্তু রক্তের দামে কেনা বাংলাদেশ নয়- পর্ব ১ - এ. এস. এম. রাহাত খান
- শাকিরার গান ... গোয়া আমার সত্যবাদী - ঠুকেমারি
- বিবর্তনবাদ - বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব হিসাবে প্রতিষ্ঠিত, কিন্তু তবুও বিতর্কের শেষ নেই! - হোরাস্
- সাহিত্যের ভবিষ্যৎ / বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর - ফকির ইলিয়াস
- জামাতে ইছলাম গ্রুপে যৌন হয়রানির ফাঁদ!!! - লোকালটক
- দ্য আদার কনসার্ট ফর বাংলাদেশ : যেটার কথা কেউ বলে না! - অমি রহমান পিয়াল
- ছুটি (মানুষের ছোট গল্প) - মানুষ
- ধরো বন্ধু আমার কেহ নাই !! - দুরের পাখি
- লাক্স এর চামড়া ব্যবসা , দর্শকের দেহ কামনা আর ব্লগে ধর্ষকামী ভূতের আছর - ২য় পর্ব - রাগ ইমন
- বাজে দৃষ্টান্ত! - জলপাই দেশি
- ৭টি, পুরাতন বোতলে নতুন ফেন্সিডিল - ইশতিয়াক অাহমেদ
- পৃথিবীর দেশে দেশে ছাত্র আন্দোলন - জানুয়ারী ২০০৯। - ভিন্ন চিন্তা
- বিশ্বায়নকালে মিডিয়া: বড়ো দানবদের ছোট্ট দুনিয়া - ফাহমিদুল হক
- ঘষ্টানি - রোদেলা খাতুন
- Dofollow এনাবেল ৫০টি ওয়েব ফোরামের লিংক (সাথে একটা বোনাস নিউজ) - আরিফ বল্গ
- প্রসংগঃ আস্তিকের ধর্মকথা-১ - }নবজাতক{
- টিপাইমুখ বাধ প্রসংগে: চাই সংগ্রামের আন্ত:সংযোগ - দিনমজুর
- কোরান অবিকৃত অবস্থায় সংরক্ষিত হয় নি - সাহোশি৬
- কোপেনহেগেন জলবায়ু ক্ষতিপূরণ কিংবা ঘুষ: ক্ষতি চালিয়ে যাওয়ার লাইসেন্স? - দিনমজুর
- সোমালিয়ার ক্ষুধার্ত মুসলমান এবং যাকাতখোর ডাঃ জাকির নায়েকেরা - জাহিদুর রহমান মাসুদ
- ধেয়ে আসছে প্রকৃতির প্রতিশোধের ভয়ংকর ড্রাগন! জলে-স্থলে-অন্তরীক্ষে কোথাও বাঁচার পথ নেই!! - মনজুরুল হক
- তিনি আরজ আলী, একজন আলো-আঁধারির পরিব্রাজক - নির্ঝর নৈঃশব্দ্য-২
মুসলমানের দর্শন ও বিজ্ঞান তথা মুক্তবুদ্ধি চর্চা (পর্ব-৬)
০৮ ই এপ্রিল, ২০১০ রাত ১২:২৮
![]()
ইবনে সিনা
পরিচয় ও কর্মযজ্ঞঃ মুসলিম দার্শনিক/বিজ্ঞানীদের মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত এবং সুপরিচিত যিনি তিনি হলেন ইবনে সিনা। এ খ্যাতি তার প্রাপ্য খ্যাতি। বিরল প্রতিভার অধিকারি এই মহামতির পুরো নাম আবু আল হুসাইন ইবনে সিনা (৯৮০-১০৩৭), ইউরোপে তিনি পরিচিত ছিলেন আভিসিনা নামে। তাকে গণ্য করা হয় বিশ্বের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের একজন হিসাবে। তার লিখিত ১৪ খন্ডের পুস্তক আল কানুন ফি আল তিব্ব (The Canon of Medicine) চিকিৎসা বিজ্ঞানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পুস্তক হিসেবে গণ্য হয়েছে ১৮ শতক পর্যন্ত। আধুনিক চিকিৎসাবিদ্যার বহু তত্ত্ব এবং প্রয়োগের আদি পিতা মানা হয় তাকে। চিকিৎসা বিজ্ঞান ছাড়াও তিনি বিখ্যাত ছিলেন দার্শনিক হিসাবে। মূলতঃ আল-ফারাবির ভাবশিষ্য হিসাবে দর্শন চর্চা শুরু করলেও আল-ফারাবিকে তিনি ছাড়িয়ে যান কর্ম এবং খ্যাতি দুই দিক থেকেই। আল-ফারাবির দুর্বোধ্য বক্তব্য সহজবোধ্য করে উপস্থাপন করেন ইবনে সিনা, এবং সেই সাথে প্রতিষ্ঠা করেন মুসলিম দর্শনের সবচেয়ে শক্তিশালী ধারা যেই ধারায় অনুপ্রাণিত ছিলেন আরবের আল-শাহরাস্তানি, আল-রাজি(দ্বিতীয়), আল-তুসি প্রমুখ এবং ইউরোপের থমাস একুইনাস, দান্তে ছাড়াও ফ্রান্সের প্রাক আধুনিক দার্শনিক চিন্তাজগতের বেশ কয়েকজন গুরু। বহু বিষয়ে পন্ডিত ইবনে সিনা চিকিৎসা বিজ্ঞান এবং দর্শন ছাড়াও যুক্তিবিদ্যা, গণিত, পদার্থবিদ্যা এবং ভূতত্ত্বে রেখেছেন গুরুত্বপূর্ন অবদান। অনেকেই তাকে অভিহিত করেন ভূতত্ত্বের জনক বলে। তিনি ৪৫০টির মতো পুস্তক রচনা করেন যার মধ্যে ২৪০টি এখনো টিকে আছে। টিকে থাকা পুস্তকগুলির মধ্যে ১৫০টি দর্শনের এবং ৪০টি চিকিৎসাবিজ্ঞানের ওপর রচিত। দর্শন বিষয়ক তার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পুস্তকের নাম কিতাব আল-সিফা। কিতাব আল সিফাকে গণ্য করা হয় এগারো শতকের মুসলিম-গ্রীক বিদ্যার বিশ্বকোষ স্বরূপ, যুক্তিবিদ্যা থেকে শুরু অরে গনিত পর্যন্ত বহু বিষয় স্থান পেয়েছিল এই পুস্তকে। আকার এবং তথ্যের দিক থেকে অনেক বিশাল আর গভীরতা সম্পন্ন হওয়ায় পাঠকদের সুবিদার্থে তিনি পরে এই গ্রন্থের একটি সংক্ষেপিত রূপ তৈরি করেন যা কিতাব আল নাজাত নামে পরিচিত। মূল পুস্তকের চেয়ে দ্বিতীয় পুস্তকটিই অপেক্ষাকৃত বেশি জনপ্রিয় হয়ে আছে। দর্শন সম্পর্কে তার অপর গুরুত্বপূর্ণ পুস্তকের নাম আল ইশারাত ওয়াল তানাবিহাত। মরমিতত্ত্বের ওপর তার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থের নাম হাই ইবনে ইয়াকজান, পাখি এবং প্রেম প্রসঙ্গে। এছড়াও ভাষা এবং জ্যোতির্বিদ্যা বিষয়ে তিনি কিছু পুস্তক রচনা করেন। স্বভাবসুলভ চঞ্চলতা, অপছন্দের চাকরি এবং ইসমাইলি মতের সমর্থক হওয়ায় রাজরোষ এবং শত্রু পক্ষকে এড়াতে তিনি এক যায়গায় বেশিদিন অবস্থান করা নিরাপদ মনে করতেন না। বিভিন্ন সময় তিনি বিভিন্ন রজদরবারে চিকিৎসক অথবা পরামর্শক হিসাবে কাজ করেন। নানারকম অনিয়মের কারণে অপেক্ষাকৃত কম বয়সেই তিনি অসুস্থ্য হয়ে পরেন। ১০৩৭ খ্রীস্টাব্দে ৫৮ বছর বয়সে তার জীবনাবসান ঘটে।
ধর্ম ও দর্শনঃ ইবনে সিনা একজন ধার্মিক মুসলমান ছিলেন। কথিত আছে, তার জীবনের শেষ তিন দিন তিনি চরম অসুস্থ্য অবস্থায় কোরআন পাঠ করে গেছেন মৃত্যুর পূর্বক্ষন পর্যন্ত। তবে ধার্মিক মুসলমান বলতে এখন আমরা যা বুঝি ইবনে সিনা তেমন ছিলেন না মোটেও। ধর্মতাত্ত্বিক এবং দার্শনিক অবস্থানের দিক থেকে অনেক দিক দিয়েই তার মত ছিল মৌল এবং সুন্নি ইসলামের পরিপন্থী। ধর্মমতের দিক থেকে তিনি শিয়া ইসমাইলি মতের সমর্থক ছিলেন। শিয়া ইসমাইলি মাজহাব মূলত সাতপন্থী শিয়া মাজহাব নামে প্রথম প্রতিষ্ঠিত হয়। মুসলমানদের মধ্যে একমাত্র ইসমাইলিদের সৃষ্টিতত্ত্বের সাথেই দার্শনিকদের বিকিরণবাদী দৃষ্টিভঙ্গির সাথে মিল পাওয়া যায়। দর্শনের সৃষ্টিতত্ত্বে আল-ফারাবি পরম সত্তা থেকে বিকির্ণ আদি বুদ্ধি এবং আদি বুদ্ধি থেকে দ্বিতীয় বুদ্ধি, দ্বিতীয় বুদ্ধি থেকে তৃতীয় বুদ্ধি এইরকম ক্রমানুসারে জগৎ সৃষ্টির প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করেন, ইসমাইলিরা তার কাছাকাছি মতই প্রকাশ করেন ধর্মতত্ত্বে। ইসমাইলিরা ধর্মের জাহেরি (প্রকাশ্য) তত্ত্বের চেয়ে বাতেনি (গূঢ়) তত্ত্বের প্রতিই গুরুত্ব দিত বেশি।
ইবনে সিনা অধিবিদ্যা বিষয়ক আলোচনায় আল-ফারাবির মতোই জগৎকে অনন্তকাল ধরে বিরাজমান বলে দাবি করেন। আল্লাহ এ বিশ্বকে কোন এক বিশেষ সময়ে সৃষ্টি করেছেন এ মতের বিরোধী ছিলেন ইবনে সিনা। তিনি দাবি করেন এ বিশ্ব পরম স্রষ্টা থেকে আদি বুদ্ধি এবং অন্যান্য বুদ্ধির মধ্য দিয়ে বিকির্ণ হয়ে অনন্তকাল ধরে বিরাজমান রয়েছে। ইবনে সিনা যে আল্লাহর কথা বলেন সে আল্লাহ এক পরম, বিশুদ্ধ একক স্রষ্টা, আমাদের পার্থিক জগতের তুলনায় সেই স্রষ্টা বিকারহীন এক সত্তা। সমগ্র বিশ্ব সেই স্রষ্টার জ্ঞান প্রক্রিয়ার ফলাফল। তবে স্রষ্টার এই জ্ঞান বিশেষ জ্ঞান নয় বরং সার্বিক জ্ঞান। যেহেতু স্রষ্টার জ্ঞান প্রক্রিয়ার ফলাফল এই বিশ্ব, সুতরাং সার্বিক বস্তু যেমন গ্রহ, সূর্য, তারা, গাছ, মাছ, মানুষ এইরকম সার্বিক বস্তু সম্পর্কে স্রষ্টা সচেতন, এই সার্বিক তার জ্ঞানের অংশ। কিন্তু স্রষ্টা সার্বিক ‘মানুষ’ সম্বন্ধে জ্ঞান রাখলেও তিনি বিশেষ কোন মানুষ যেমন ‘ইবনে সিনা’, ‘শেখ হাসিনা’, ‘তসলিমা নাসরিন’, ‘তায়েফ আহমেদ’, ‘পারভেজ আলম’ এদের সম্বন্ধে কোন জ্ঞান রাখেন না। ‘মানুষ’ তার জ্ঞান চিন্তার ফসল, এই কারণে মানুষ কি তা তিনি জানেন কিন্তু পারভেজ আলমকে তিনি চেনেন না। সার্বিক এবং বিশেষ বস্তুর পার্থক্য এবং সার্বিকের স্বর্গীয় রূপের ধারণা ইবনে সিনা লাভ করেছিলেন প্লেটোবাদী এবং এরিস্টটলিয় দর্শন থেকে।
ইবনে সিনা আল্লাহর বিশুদ্ধ একক সত্তায় বিশ্বাস করতেন। এই কারণে মুতাজিলাদের মতোই তিনি আল্লাহর সত্তায় তাঁর আলাদা আলাদা গুনের অস্তিত্বকে অস্বীকার করেন। এছাড়াও মৃত্যুর পর মানুষের দৈহিক পুনরুত্থানের বিরোধিতা করেন তিনি। তিনি আত্মার একত্বে বিশ্বাস করতেন। তার মতে, মৃত্যুর পরে পুণ্যাত্মা ফিরে যাবে বুদ্ধির জগতে, এ পর্য্যায়ে আত্মা আপন বিচ্ছিন্ন অস্তিত্ব হারিয়ে শাসত বুদ্ধিজগতের সাথে একাত্মতা লাভ করবে। পরম পূর্ণতায় উপনীত হওয়ার পর আত্মা পরিণত হবে বোধগম্য জগতের এক অনুলিপিতে। অন্যদিকে পাপাত্মা এই পূর্ণতা পাবেনা, বরং দেহ হারানোর বেদনায় এক ধরণের আত্মিক অসুস্থ্যতাই হবে পাপাত্মার ভাগ্য। ‘পাখি’ এবং ‘আত্মার গীতি’ নামক মরমী পুস্তকে খাচার পাখির মুক্ত হওয়র রূপক কাহিনী বর্ণনা করে তিনি দেহের খাচা থেকে আত্মার মুক্তির কাহিনী বর্ণনা করেন।
পক্ষ বিপক্ষঃ আগেই বর্ণনা করেছি, ইবনে সিনা ছিলেন একজন খ্যাতিমান এবং জনপ্রিয় ব্যাক্তি। জীবিত অবস্থায়ই তিনি অনেক শিষ্য এবং অনুসারি লাভ করেন। মৃত্যুর পরও দীর্ঘদিন তিনি আরব বিশ্বে এবং ইউরোপে অত্যন্ত প্রভাবশালী দার্শনিক/বিজ্ঞানী হিসাবে টিকে ছিলেন। তবে দার্শনিক এবং ধর্মতাত্মিক মতাদর্শের কারনে তাঁর শত্রু দের সংখ্যাও কম ছিলনা। এছাড়াও ইবনে সিনা রাজনীতিমুক্ত ব্যাক্তি ছিলেন না। ইসমাইলী ধর্মতাত্মিক এবং রাজনৈতিক মতাদর্শ ধারণ করা এবং প্রচার করায় তিনি বারবার বিপদাপন্ন হন, পাড়ি জমান এক দেশ থেকে আরেক দেশে। রক্ষনশীল মুসলমানরা বরাবরই ছিলো ইবনে সিনার কঠোর সমালোচক। হাম্বলি এবং নব্য আশারি পন্থিরা ইবনে সিনার ঘোর বিরোধীতা করেন। তবে ইবনে সিনা সবচেয়ে বড় বিরোধীতার মুখে পরেন তার মৃত্যুর পর। আল ফারাবি আর ইবনে সিনার বিরুদ্ধে আল-গাজালি যে শক্তিশালী আক্রমন গড়ে তোলেন তার ফলাফল ছিল সূদুরপ্রসারী। গাজালি ইবনে সিনা’কে কাফির এবং ধর্মবিরোধী আখ্যা দেন। গাজালির আগে অনেকেই ইবনে সিনাকে কাফির আখ্যা দিলেও তা খুব প্রভাবশালী ফলাফল তৈরি করতে সক্ষম হয় নাই। কিন্তু গাজালির মতো একজন প্রভাবশালী ব্যাক্তি যখন দার্শনিকদের বিরোধীতায় নামেন এবং তাদেরকে কাফির আখ্যা দেন তখন তার ফলাফল ছিলো ভয়ঙ্কর। গাজালি নিজে অনেক ক্ষেত্রেই একজন যুক্তিবাদী ব্যাক্তি হলেও তার সমালোচনার ওপর ভর করে গাজালি পরবর্তি যুগে যুক্তিহীন ধর্ম ব্যাবসায়িরা দার্শনিকদের সম্পূর্ণ অস্বিকার করার প্রয়াস পায়। পরবর্তি পর্বে আমরা ইমাম আল গাজালির দর্শন বিরোধী অবস্থান এবং সমালোচনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবো এবং আরব ভূখন্ডে জ্ঞান বিজ্ঞান চর্চায় পতনের আরো কিছু কারন তুলে ধরবো। গাজালি পরবর্তি সময়ে বেশকিছু রাজনৈতিক ঘটনা ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এ বিষয়েও বিশদ আলোচনা করা হবে। তার পরবর্তি পর্বগুলোতে আমাদের আলোচ্য বিষয় হবে মুসলিম পাশ্চাত্য, যেখানে জ্ঞান বিজ্ঞান চর্চা অব্যাহত ছিল আরব ভূখন্ডে জ্ঞান চর্চায় পতনের শুরু হওয়ার পরও আরো কয়েক শতাব্দি ব্যাপি।
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই এপ্রিল, ২০১০ রাত ১২:৫৩ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।
দুরন্ত স্বপ্নচারী বলেছেন:
এই পর্বটা বশে ভালো লাগলো। গ্রেইট ওয়ার্ক।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ। এই সিরিজটা তারাতারি শেষ করা দরকার। কিন্তু তারাতারি শেষ করার কোন উপায় দেখছিনা। এখনো অর্ধেক কাজ বাকি।
বংশী নদীর পাড়ে বলেছেন:
জ্ঞানী একটি পোস্ট। আপনাকে ধন্যবাদ।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ
মামুন বিদ্রোহী বলেছেন:
গাজালি নিজে অনেক ক্ষেত্রেই একজন যুক্তিবাদী ব্যাক্তি হলেও তার সমালোচনার ওপর ভর করে গাজালি পরবর্তি যুগে যুক্তিহীন ধর্ম ব্যাবসায়িরা দার্শনিকদের সম্পূর্ণ অস্বিকার করার প্রয়াস পায়।এই লাইনটাই খুজতেছিলাম পোষ্টে.....
ভালো প্রচেষ্টা। পরবর্তী পর্বের অপেক্ষায় রইলাম।
লেখক বলেছেন: এই লাইনটাই কেন খুজতাছিলেন?
রাজসোহান বলেছেন:
প্লাস যুক্ত পোস্ট
লেখক বলেছেন: ভাল, ভাল। ধন্যবাদ।
জাতি জানতে চায় বলেছেন:
তিনি স্রষ্টা ও সৃষ্টির ব্যাপারে ব্যাখ্যা আনতে গিয়েই মৌলিক কিছু বিশ্বাস ভঙ্গ করে থাকতে পারেন! তবে আল্লাহই ভাল জানেন, তিনি আসলে কেমন ছিলেন!
লেখক বলেছেন: ইবনে সিনার মতে, ইবনে সিনা কেমন ছিলেন আল্লাহ তা ভাল জানেন না। তাঁর মতে, আমরা আজ যারা তার ইতিহাস পড়ছি আমরা তাঁর সম্বন্ধে আল্লাহর চেয়ে ভাল জানি।
ঠগী বলেছেন:
আবু আল হুসাইন ইবনে সিনাইবনে সিনার পুরো নাম হল " হুসেইন ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে হাসান ইবনে আলী ইবনে সিনা ".
আরো অনেক কিছু বাদ গেছে। কিছু লেখার আগে পড়াশুনা করে লিখলে ভাল।
লেখক বলেছেন: আরে, ঠগী নাকি? পড়াশোনা করতে গিয়েই তো সমস্যা হলো। দুইটা বইয়ে এই নাম পেলাম। এই বড় নামটাও পেলাম, কিন্তু ছোটটাই দিলাম শেষে।
আরো কি কি বাদ গেছে? পাকনামি না করে পরিস্কার করে বলুন।
আবদুল্লাহ আল মনসুর বলেছেন:
দারুণ পোষ্ট।+++
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ
লেখক বলেছেন: অবশ্যই, অবশ্যই।
অনেক জীবনীকার এটা উল্লেখ করে থাকেন। তবে তার ধর্ম দর্শন সেরকমটি ছিল কিনা তা নিশ্চিত নয়। এটা সত্য নাও হতে পারে।
লেখক বলেছেন: নিশ্চিত নয় কেন? ইতিহাস তো তাই বলে। ইসমাইলি মতের সমর্থক ছিলেন তিনি। এ কারনে তাকে নানান বিপদে পরতে হয়েছে। এর বিপরীত কোন তথ্যতো ইতিহাসে নাই। এটা যদি সত্য না হয় তাহলে সত্য কি?
সত্যান্বেষী বলেছেন:
এখনকার মুসলমানরা যারা দর্শনে, বিজ্ঞানে একসময় মুসলমানদের স্বর্ণযুগ ছিল বলে মুখে ফেনা তুলেন আর এখনকার মুসলমানদের জ্ঞানহীনতায় আক্ষেপ করতে থাকেন তারা কি সবকিছু জানার পর ইবনে সিনাকে মুসলমান বলবেন? আর তাকে যদি মুসলমান বলেন তাহলে আহমাদীয়াদের ব্যপারে তাদের স্ট্যান্ড কি হবে?শেষ কথা, দর্শন যেভাবে ধর্মের বিশেষ করে ধর্মের জাহেরী দিকের সাথে সাংঘর্ষিকভাবে এগুচ্ছিল এবং যেভাবে সক্রাতিস-এরিস্তোতল-প্লাতোর হাত ধরে হাটছিল, আজকের মোল্লারা হয়ত হেগেল-ফুয়েরবাখ ছাড়িয়ে মার্ক-এঙ্গেলস পড়তো।
লেখকের প্রতি: সিরিজ চালাতে থাকুন এবং শেষ পর্যন্ত একটি বই আকারে প্রকাশ করুন। আপনার সাফল্য কামনা করছি।
লেখক বলেছেন: অসংখ্য ধন্যবাদ।
ইবনে সিনা মুসলমান ছিলেন এই অর্থে যে তিনি নিজে নিজেকে মুসলমানই বলতেন। এর কারন হলো, এখন ইসলাম বলতে আমরা যে সুন্নি ইসলাম চিনি তাঁর সময়ে সেটাই একমাত্র ইসলাম ছিলনা। ইসলামের ভেতরেই এত বিচিত্র মত পথ ছিল, এবং তার মধ্যে কিছু এতোই প্রগতিশীল মত ছিল যার ফলে অনেক বৈপ্লবিক চিন্তা ভাবনা থাকা সত্ত্বেও কারো পক্ষে ইসলাম ত্যাগ না করলেও চলতো। ইবনে সিনা এই ধরণের মতাদর্শের পরও মুসলমান ছিলেন, কারন ইসমাইলি ধর্মমত ছিল, আবার যেহেতু তিনি দার্শনিক ছিলেন, তাই দার্শনিকের ধর্ম বলতে তখন যা প্রচলিত ছিল তাও তার জীবনের অংশ ছিল। এখনকার ইসলাম এতই সংকির্ণ যে ইবনে সিনার মতো আমরা যদি কেউ এসব চিন্তা করি তবে আমাদের ইসলাম ছেড়ে নাস্তিকতায় আশ্রয় নেয়া ছাড়া কোন উপায় থাকবেনা।
সত্যান্বেষী বলেছেন:
মার্ক-এঙ্গেলস > মার্কস-এঙ্গেলস
লেখক বলেছেন: আপনার কথা পুরা সত্য। তখনকার মুসলমানরা তাদের সময়ের সমসাময়িক জ্ঞান বলতে যা বোঝায় তা ধারন করতো। আর এখন যারা ইসলামকে রক্ষা করার জন্য এবং বিজ্ঞান আর ইসলামের সমন্বয় করার জন্য উঠে পরে লেগেছেন তাদের পড়ালেখার দৌঁড় বড়জোর জাকির নায়েক, মরিস বুকাইলি পর্যন্ত। মার্ক্স, এঙ্গেলস, ফুঁকো, দেরিদা, এডওয়ার্ড সাইদ পড়ার মতো মাথা অথবা অবকাশ তাদের নাই। আর মৌলিক বিজ্ঞানের বিষয় আশয় বাদই দিলাম।
লেখক বলেছেন: আপনার লেখাটা পড়েছি। ভাল লিখেছেন। ইবনে সিনাকে আপনি মুসলিম হিসেবে দেখতেই পারেন, ইবনে সিনা নিজেকে মুসলিমই ভাবতেন। ১২ নম্বর মন্তব্যের জবাব দেখুন। তাকে ইসলাম ত্যাগী বলে ঘোষনা করেছে রক্ষনশীল ইসলামপন্থিরা। ইসলামে প্রথম থেকেই জ্ঞানানুশিলনের প্রক্রিয়া অনুযায়ি তিনটা সুষ্পষ্ট ধারা ছিল, এ নিয়ে পরে লিখব। এই তিন ধারার মধ্যে অপেক্ষাকৃত প্রগতিশীল একটা ধারা ছিল যারা জ্ঞান বিজ্ঞান চর্চায় নেতৃত্ব দিয়েছে, কিন্তু রক্ষনশীলরা এদের ইসলাম বিরোধী বলেই আখা দিয়েছে। ইবনে সিনাকে যে তিনটি বিষয়ের জন্য ইসলাম ত্যাগী আখ্যা দেন গাজালি সেই তিনটি বিষয়ের জন্য তিনি শুধু সিনাকে নয় আরো বেশ কয়েকজন মুসলিম দার্শনিককে অভিযুক্ত করেন। গাজালি অবশ্য মূল রক্ষনশীলদের প্রতিনিধিত্ব করতেন না। তবে রক্ষনশীলদের হাতে তিনি ভাল অস্ত্র তুলে দিয়ে গিয়েছিলেন।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ। শুক্কুরবার পাঠচক্রে আসিস।
লেখক বলেছেন: তার জীবনিকাররা তাঁর সম্বন্ধে যা বলেন তা কি ইতিহাস না? আর শুধু ইসমাইলিয়া পরিবারে জন্ম কিন্তু ইসমাইলি মত সমর্থন করতেন না, এমন কিন্তু আমি কোথাও পাইনি। ইসমাইলি মতাদর্শের কারনে তিনি বিপদে পরেছেন এমন সূত্র আমি আপনাকে দিতে পারবো। ইবনে সিনার বিকিরনবাদী দর্শনের সাথে ইসমাইলি সৃষ্টিতত্বের মিল আছে, তবে ইবনে সিনা ইসমাইলি মত থেকে তা নেন নাই।
অবশ্যই ইতিহাস তাই যার স্বপক্ষে প্রতিষ্ঠিত ডকুমেন্টস আছে। ইবনে সিনা ইসমাইলি ছিলেন এটাই এখন প্রতিষ্ঠিত, ডকুমেন্টস আছে বলেই। সোর্স অবশ্যই দিতে পারবো, আপনি তো বাংলাদেশে নাই, একাধিক বাংলা বইয়ের সোর্সই দিতে পারবো। তবে বিশ্বাসযোগ্য সোর্স বলতে আপনি কি বুঝিয়েছেন তা তো আমি জানি না।
যাক, সোর্সের বিশ্বাস যোগ্যতা যেহেতু যাচাই করা যাচ্ছে না, তাই এ নিয়ে বিতর্ক অর্থহীন। এখানেই বিতর্কের ইতি টানা প্রয়োজন। আর ইবনে সিনা ইসমাইলিয়া হিসেবে ইতিহাসে "প্রতিষ্ঠিত" হয়েছেন যদি সত্য হত, তাহলে সমস্ত সোর্সেই তা উল্লেখ করা হত। যেমন করে তার "কানুন" বইয়ের কথা উল্লেখ থাকে। ইসমাইলি বিষয়টি প্রতিষ্ঠিত নয় বলেই রেফারেন্সে কোন জোরালো বর্ননা নেই। বরং পরষ্পর বিরোধী তথ্য পাওয়া যায়। আমি নিজেও এটা বিশ্বাস করিনি। ইবনে সিনা নিজের যুক্তি বিশ্বাস মত সবকিছুর ব্যাখা করতেন। শিয়া প্রভাব তার দর্শনে থাকলে কোথাও না কোথাও তার উল্লেখ থাকত। ইসমাইলিয়ারা তো শিয়া থেকেই এসেছে।
His father and brother, who responded to the advocates of Ismailia, but Ibn Sina did not accept this doctrine, but rejected as saying: "I hear them and know what they're saying do not accept myself."
Click This Link
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ। আপাতত যেতে হবে। পরে পড়বো।
Click This Link
এর ৩৮ নং পাতায় দেখুন। ইবনে সিনার বাবা ইসমাইলিয়া দর্শন গ্রহন করলেও তিনি তা করেন নি। যদিও তখন তিনি খুব তরুন ছিলেন।
লেখক বলেছেন: আবারো ধন্যবাদ। আমি কিন্তু বাংলাদেশের বেশ কয়েকজন দর্শন বিষয়ক স্কলারের বইয়ে এই তথ্য পেয়েছি। যেহেতু ভিন্ন বক্তব্য আছে সুতরাং আরো একটু ঘেটে দেখবো ইন্টারনেটে।
পারভেজ আলম বলেছেন:
উম্মু আবদুল্লাহ, ইন্টারনেটে একটু ঘাটাঘাটি করলাম। দুই ধরনের মতামতই পেলাম। তবে তার বেশ কয়েকজন জীবনিকার বলেছেন তিনি ইসমাইলি ছিলেন। আমি যাদের বই পড়েছি তারা হয়তো ঐ রেফারেন্স থেকেই লিখেছেন। বিষয়টা বিতর্কিত, মেনে নিলাম। তবে তিনি নিজে ইসমাইলি মতামতের সমর্থক যদি নাও হন, তার পরিবারের ইসমাইলি সমর্থন অথবা অন্যকোন রাজনৈতিক কারনে ইসমাইলি বিরোধী রোষের শিকার তাকে হতে হয়েছে।
সত্যান্বেষী বলেছেন:
ইবনে সিনার ইসমাইলী হওয়া না হওয়া নিয়ে উম্মু আবদুল্লাহর গতিপথ দেখে মনে হচ্ছে তিনি কেবলই বিশ্বাস করতে চাইছেন যে আজকে একজন বাইতুল মোকাররমের খতিব যাদেরকে মুসলমান বলবেন সিনা তাদের মধ্যে যেন পড়েন। ইয়া মাবুদ, ইবনে সিনার মতো এমন হীরকখন্ড যেন মুসলমানদের হাত থেকে খসে না পড়ে। পরিবারের ইসমাইলী প্রভাব হয়তো তার উপর পড়লোই না। কিন্তু তার দর্শন? তার এরিস্টোটোলীয় চিন্তাভাবনা কি সুন্নী চিন্তাধারার সাথে সাংঘর্ষিক নয়? সে ব্যপারে উম্মু আবদুল্লাহ কি বলবেন? আর ইমাম গাজ্জালীই বা তার পেছনে কেন লাগলেন? ইমাম গাজ্জালীর এই লাগাটা ইবনে সিনা সম্পর্কে কি কিছুই প্রকাশ করে না?
হাজার পদের দোয়া-দরুদ না শিখিয়ে আর মোহাম্মদ(সা)কে আল্লাহ বেহেস্তের শ্রেষ্ঠতম প্রশংসিত স্থানে নিল কি নিল না এ নিয়ে অস্থির না থেকে আজকের মাদ্রাসাগুলো ইবনে সিনার মতো সত্যিকারের জ্ঞান সাধনায় ব্রতী হতো তাহলে আজ বিশ্বের শ্রেষ্ঠ বৈজ্ঞানিকটি বেড়িয়ে আসতো মাদ্রাসা তথা ইসলামী শিক্ষায়তন হতে। শ্রেষ্ঠ ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার খুজতে যেতে হতো সৌদি আরবে, ইরানে।
ইসলামের যে ধারাটি মুক্তবুদ্ধির চর্চ্চা শুরু করেছিল, ইবনে সিনা যার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত, তাকে যদি গাজ্জালীদের মতো তাকওয়া আর এবাদতপন্থীরা মিলে নির্মমভাবে হত্যা না করতো তাহলে বিশ্বের সকল সমাধানের জন্য ধর্ম-বর্ণ-নির্বিশেষে মানুষ ইসলামের দিকেই তাকিয়ে থাকতো।
লেখক বলেছেন: হুম। তিনি ইসমাইলি না হইলেও সুন্নি অবশ্যই ছিলেন না, তার মতামত তো অবশ্যই সুন্নি ছিলনা।
মাদ্রাসা বলতে একসময় বিদ্যালয় বা বিশ্ববিদ্যালয় বুঝাইতো। তখন সেইখানে শুধু ধর্মশিক্ষা দেয়া হইত না। ভারতীয় উপমহাদেশে আমরা মাদ্রাসা বলতে যা চিনি তা ব্রিটিশরা তৈরি করেছে।
আপনি ভুল করছেন। আমি বক্তব্য এতটুকু যে, ইবনে সিনা ইসমাইলিয়া নন। বাকীটুকু আপনি ম্যানিপুলেট করছেন। ইবনে সিনাকে নিয়ে আমার যা বলার তা আমি আমার নিজের ইবনে সিনা সংক্রান্ত পোস্টে বলেছি। একজন মানুষের জীবনী যখন লিখিত হবে তখন তা জীবনীকারের নিজস্ব পছন্দ/অপছন্দের ভিত্তিতে হবে না, বরং হবে ঐতিহাসিক তথ্যের উপর ভিত্তি করে। ইসমাইলিয়া দাবী করে যেসব বর্ননা এসেছে - সেগুলো বেশ দুর্বল। সম্ভবত পরিবারের কারনে তা এসেছে। ইসমাইলিয়া একটি দর্শন, ইবনে সিনার দর্শনে যা অনুপস্থিত।
লেখক বলেছেন: ইসমাইলিয়া দর্শন হবে কেন? এটাতো ইসলামের একটা মাজহাব, এক সময়ের বেশ বড় একটা মাজহাব। এটা ধর্ম। ধর্মে যেমন দর্শন থাকে, এখানেও তা ছিল। কিন্তু ইসমাইলিয়া কোন দর্শন ছিল না, বরং দ্বিতীয় বৃহত্তম সিয়া মাজহাব ছিল।
রাজা রায় বাহাদুর যদুনাথ বলেছেন:
ইবনে সিনা আর ইমাম গাজ্জালির বাহাসটা ভালাই হৈছিল, শুনেছিলাম একজনের কাছে। পোস্ট ভালো লাগলো।
দু-পেয়ে গাধ বলেছেন:
এছাড়াও মৃত্যুর পর মানুষের দৈহিক পুনরুত্থানের বিরোধিতা করেন তিনি। তিনি আত্মার একত্বে বিশ্বাস করতেন। তার মতে, মৃত্যুর পরে পুণ্যাত্মা ফিরে যাবে বুদ্ধির জগতে, এ পর্য্যায়ে আত্মা আপন বিচ্ছিন্ন অস্তিত্ব হারিয়ে শাসত বুদ্ধিজগতের সাথে একাত্মতা লাভ করবে। পরম পূর্ণতায় উপনীত হওয়ার পর আত্মা পরিণত হবে বোধগম্য জগতের এক অনুলিপিতে। অন্যদিকে পাপাত্মা এই পূর্ণতা পাবেনা, বরং দেহ হারানোর বেদনায় এক ধরণের আত্মিক অসুস্থ্যতাই হবে পাপাত্মার ভাগ্য। ‘পাখি’ এবং ‘আত্মার গীতি’ নামক মরমী পুস্তকে খাচার পাখির মুক্ত হওয়র রূপক কাহিনী বর্ণনা করে তিনি দেহের খাচা থেকে আত্মার মুক্তির কাহিনী বর্ণনা করেন।===============
বৌদ্ধ ধর্মের নির্বাণ এর সাথে বেজায় মিল তো!
উপনিষদ এর মধ্যেও এই ধরনের থিওরি আছে।
যেসব ধর্মে মৃত্যুর পর পুনরুত্থান নেই তারা মৃতদেহ নষ্ট করে ফেলে। যেমন হিন্দুরা পুড়িয়ে দেয়, পার্সীরা অন্য প্রাণীদের খাওয়ার জন্য দিয়ে দেয়। অন্যদিকে যারা পুনরুত্থান বিশ্বাস করে তারা বাক্সে পুরে সংরক্ষিত এলাকায় পুঁতে রাখে।
লেখক বলেছেন: একটু ভুল বললেন বোধহয়। বৌদ্ধ ধর্মের নির্বাণ না, বরং উপনিষদএর মোক্ষ লাভ এর সাথে এর সম্পর্ক। বৌদ্ধ ধর্মের নির্বাণ আসলে কোন সত্ত্বার সাথে মিলনের বিষয় না, বরং এক ধরণের চরম নিহিলিস্টিক বিষয়। বৌদ্ধ ধর্মে গড জাতীয় কোন সুপ্রিম বিং এর অস্তিত্ব নাই, বা এমন কোন মহা সত্ত্বা নাই যার সাথে মিলনের আকাঙ্খার দরকার আছে। জড় জগতের ধারাবাহিকতায় হইল প্রাণ এবং মানুষ। মানব জীবনের সব মোহ ত্যাগ করে স্থবিরতা লাভ করা বা জড়তা প্রাপ্ত হওয়াই হলো বৌদ্ধ ধর্মের নির্বাণ।
মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...















লেখককে ধন্যবাদ।