somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মোল্লার দৌড় মসজিদ পর্যন্তই, এর বেশী আমরা হইতে দেবো না।

১২ ই এপ্রিল, ২০১১ রাত ১২:০৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বাঙালি মুসলমান সমাজ স্বাধীন চিন্তাকেই সবচেয়ে ভয় করে। তার মনের আদিম সংস্কারগুলো কাটেনি। সে কিছুই গ্রহণ করে না মনের গভীরে। ভাসাভাসাভাবে অনেককিছু জানার ভান করে আসলে তার জানাশোনার পরিধি খুবই সঙ্কুচিত। বাঙালি মুসলমানের মন এখনো একেবারে অপরিণত, সবচেয়ে মজার কথা এ কথাটা ভুলে থাকার জন্যই সে প্রাণান্তকর চেষ্টা করতে কসুর করে না। যেহেতু আধুনিক জ্ঞানবিজ্ঞান এবং প্রসারমান যান্ত্রিক কৃৎকৌশল স্বাভাবিকভাবে বিকাশলাভ করছে এবং তার একাংশ সুফলগুলও ভোগ করছে, ফলে তার অবস্থা দাঁড়িয়ে যাচ্ছে ইঁচড়েপাকা শিশুর মতো। অনেক কিছুরই সে সংবাদ জানে, কিন্তু কোনো কিছুকে চিন্তা দিয়ে, যুক্তি দিয়ে, মনীষা দিয়ে আপনার করতে জানে না। যখনই কোন ব্যবস্থার মধ্যে কোনোরকম অসংগতি দেখা দেয়, গোঁজামিল দিয়েই সবচেয়ে বেশি আনন্দ পায় এবং গোঁজামিল দিতে পারাটাকে রীতিমত প্রতিভাবানের কর্ম বলে মনে করে। - আহমদ ছফা (বাঙালি মুসলমানের মন )

আহমদ ছফার বিখ্যাত প্রবন্ধ বাঙালি মুসলমানের মনএর উপরোক্ত বক্তব্যের মূল ভাবের সাথে মোটামুটিভাবে একমত পোষন করলেও একাংশের সাথে চরম সহমত ও অপর একাংশের সাথে চরম দ্বিমত পোষন করি। স্বাধীন চিন্তাকে কেন বাঙালি মুসলমান ভয় পাই, ছফা’র মতে এই সমস্যার মূলে তার আদিম সংস্কার। এই কথার সাথে সজ্ঞানে এবং সফার প্রতি শ্রদ্ধা সহকারে দ্বিমত পোষন করি। কেন করি, তা পরে বয়ান করছি। এর আগে চরম সহমতের জায়গাটায় আসি। নানান ফাক ফোকর আর অসঙ্গতির মধ্যে গোঁজামিল দেয়া বাঙালি মুসলমানের স্বভাব। এই গোঁজামিল দিয়া সে সুখে থাকতে চায়, কিন্তু পারে না। তার এই গোজামিল দিয়া তৈরি করা ছেড়া কাথার জোড়াতালি মননের ওপর জোরজবরদস্তি এবং প্রতারণায় স্বার্থ হাসিল করে নানান রাজনৈতিক ও ধর্মীয় স্বার্থান্বেশী গোষ্ঠী। কোরআন-হাদিস, সুফি-পয়গম্বর, শরীয়ত-মারফত, ধর্ম-বিজ্ঞান, বিবর্তন-সৃষ্ঠিতত্ত্ব, ইসলাম-আধুনিকতা ইত্যাদি নানা বিষয়ে কোনরকমে গোজামিল দিয়া অসঙ্গতি ঢাকতে পারলেই তার শান্তি। আর এই গোজামিলের ঘুমটা মাথায় দিতে গিয়া প্রায়ই যে বাঙালি মুসলমানের পাছা উদাম হয়ে যায়, সেই খবর সে রাখেনা, এমনকি সেই পাছা প্রায়ই কেউ না কেউ আইসা মাইরা দিয়া গেলেও সেই ব্যাথা টের পাইতে তার দীর্ঘমেয়াদী সময়ের দরকার হয়। সম্প্রতি মানব লিখিত সংবিধান বনাম শরীয়ত বিষয়ক অসংগতির গোজামিলে বসবাসরত বাঙালি মুসলমানের উদাম পাছা ধুমাইয়া মাইরা চলছে ফজলুল হক আমিনী নামক এক মধ্যযুগীয় হারামজাদা। সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত তারা এখনো ব্যাথা টের পায় নাই। বরং সামুব্লগের পাতায় পাতায় তাদের গগনবিদারী শিৎকারধ্বনী ব্লগটারে খানিকটা এক্স রেটেড কইরা ফেলছে ইদানিং।
বাঙলাদেশের সংবিধান ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষিতে জন্ম নেয়া গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র পরিচালনার নিমিত্ত্ব জনগণের প্রতিনিধীদের হাতে লিখিত, রক্ষিত, পরিবর্তিত এবং পরিবর্তন পরিবর্ধন যোগ্য। যুগের সাথে তাল মিলিয়ে, নয়া নয়া সমস্যার মোকাবেলায় জনপ্রতিনিধীদের হাত দিয়া নয়া নয়া আইন প্রনোয়নের সুবিধা আছে আমাদের সংবিধানে। আমাদের শিক্ষা, আইন ব্যবস্থা, সামরিক বাহিনী কোনকিছুই ইসলাম বা অন্য কোন ধর্মের শরীয়ত মোতাবেক হয় না, জনতার সমর্থনে জনপ্রতিনিধী এবং বিশেষজ্ঞতদের হাতে তৈরি এবং যুগের সাথে তাল মিলিয়ে পরিবর্তনযোগ্য। এই সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতা যখন গৃহিত হইছে তখন বাঙালি মুসলমানের অন্যতম প্রতিনিধী আওয়ামীলীগ এই ধর্মনিরপেক্ষতার গোঁজামিল সংজ্ঞার মাধ্যমে আদতে এই ধর্মনিরপেক্ষতার আদর্শ ধারণ করতে পারে নাই। সামরিক শাসক জিয়া এবং এরশাদ ক্রমানুসারে এই সংবিধানে বিসমিল্লাহ, আল্লাহর প্রতি আনুগত্ব এবং রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম উল্লেখ কইরা আদতে আইন এবং সাংবিধানিক ক্ষমতায় কোন বিশেষ পরিবর্তন না আনলেও বাঙালি মুসলমানের ধর্ম ও রাষ্ট্র বিষয়ক সাংঘর্ষিক অস্থিরতায় গোঁজামিল দিয়া কিঞ্চিত শান্তির আনয়ন করেছেন তাতে কোন সন্দেহ নাই। বিনিময়ে সূদীর্ঘ ১৫ বছর বাঙালি মুসলমানের উদাম পাছা তারা মারিয়াছেন এবং স্বীয় স্বার্থ ও সম্পদের উচিৎ ব্যাবস্থাপনা করিয়াছেন।

‘ইসলাম গেলো’, এই ধ্বনিটা বাঙালি মুসলমানের মনে নিঃসন্দেহে কামাতুরা মোরগের কুক্কুরুক ধ্বণির চেয়েও বেশী কামময় মনে হয়। এই ধ্বণি শোনার সাথে সাথেই বাঙালি মুসলমান পাছা মারা দেয়ার জন্য বেকুল হয়ে ওঠে। আধুনিক দুনিয়ায় পুরাদস্তুর আধুনিক জীবনযাপন, পূজিবাদী জীবনাদর্শ ও স্বার্থপরতা, সুবিধাবাদের পরকাষ্ঠা বাঙালি মুসলমান তার জীবনে সুন্নি ইসলামের লেশ মাত্র ধারণ না করেও ইসলাম গেলো ধ্বনি শুনলেই পাছার কাপর তুলে মাথায় ঘুমটা দেয়। ‘ইসলাম গেলো’ ধ্বণি তুলে বাঙালি মুসলমানের পাছা মারার এই ইতিহাস অবশ্য খুব বেশীদিন আগে শুরু হয় নাই, হইছে ব্রিটিশ ঔপনিবেশীক আমলে। আর এইখানেই আহমদ সফার সাথে আমার দ্বিমত। স্বাধীন চিন্তার বিরুদ্ধে বাঙালি মুসলমানের অবস্থানকে আহমদ সফা যেইখানে চিহ্নিত করেছেন তার মনের আদিম সংস্কার হিসাবে সেইখানে সেই সংস্কার যে মূলত এবং প্রধাণত ব্রিটিশ ঔপনিবেশীক আমলে তৈরি হওয়া তিনি হয়তো তা উপলোদ্ধি করতে সক্ষম হন নাই। ব্রিটিশ ঔপনিবেশীক আমলে বাঙালির মনে বাঙালি জাতিসত্ত্বার ধারণা জনপ্রিয় হয় নাই, হইছে সাম্প্রদায়িক হিন্দুস্তান আর পাকিস্তানের ধারণা। ‘ইসলাম গেলো’, ‘ইসলামে ফিরে যাও’, এবং ‘ইসলামী রাষ্ট্র’ এহেন নানাবিধ ধ্বনির পক্ষে বাঙালি মুসলমানের কামভাবের ফশল পাকিস্তানে অন্তর্ভুক্তি এবং টানা ২৩ বছর পাকিদের হাতে পাছা মারা খাওয়া। একাত্তরে এই জন্মে বাঙালি হইলেও মননে পাকিস্তানী যেই জামাত ইসলামী পাকিস্তানীদের পক্ষে প্রকাশ্যে দালালী করেছে, সেই জামাতও তখন পাকিস্তান রক্ষার্থে ‘ইসলাম গেলো’ ধ্বনি তুইলা বাঙালির স্বাধীনতার আকাঙ্খা চূর্ণ করতে চাইছিল, কাজ হয় নাই। একাত্তরে বাঙালি গোঁজামিল চায় নাই, অসঙ্গতির সমাপ্তি চাইছে। একাত্তরে তাই বাঙালি স্বাধীনতা পাইছে।

সমস্যা হইলো যে স্বাধীন বাংলাদেশে বাঙালি মুসলমানের গোঁজামিল প্রীয় মনে নতুন কইরা গোঁজামিলের রাস্তা আওয়ামীলীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টির হাতে গইড়া উঠলো এত প্রবল ভাবেই, যে একাত্তরের হায়েনা রাজাকার-আলবদরদের প্রতিনীধী জামাত-শিবির আবারো সেই ‘ইসলাম গেলো’ ধ্বনিতেই গইড়া নিল নিজেদের ভোটব্যাংক। ‘ইসলাম গেলো’ ধ্বনি নতুন কইরা পাছা মারা খাওয়ার কামভাব বাঙালি মুসলমানের মনে এমনি জাগাইলো যে এই ধ্বনিতে সুর মিলাইয়া ইসলামের প্যাটেন্ট নিতে বিএনপির মতন ব্যাবসায়ী+সামরিক গোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্বকারী দলও মোরিয়া। পিছাইয়া নাই আওয়ামীলীগও। খোদ শেখ হাসিনা নির্বাচনের আগে মাথায় পট্টি দেন, মরহুম মেয়র হানিফ তো একবার ঘোষনাই দিছিলেন যে ধর্মনিরপেক্ষতা জিনিসটা আওয়ামীলীগের বিষয় না। সম্প্রতি জামাত-শিবির যেহেতু প্রবাল গদামের উপরে আছে, ‘ইসলাম গেলো’ ধ্বনির মালিকানার তাই কিছু নতুন দাবিদার উইঠা আসতাছে। ফজলুল হক আমিনী ভালমতোই জানেন, ‘ইসলাম গেলো’ ধ্বনির মালিকানা মানে বাংলাদেশে ইসলামি রাজনীতির মালিকানা, ইসলামের মালিকানা, শরীয়তের মালিকানা, মধ্যপ্রাচ্যের পেট্রো ডলারের মালিকানা, সাম্রাজ্যবাদের কালা চাদরের নিচে মৌলবাদের নির্মাণের মালিকানা। আমিনি তাই ‘ইসলাম গেল’ ধ্বনি হাকাইতাছেন, কামে পাগল হওয়া মোড়গের মতন কুক্কুরুক ডাক পারতাছেন। তার ডাকে অবাঙালি কতগুলা মোল্লা মৌলবি রাস্তায় কোরআন লইয়া স্টান্টবাজি করতাছে, আর কতগুলা মাদ্রাসা পরুয়া অবুঝ শিশু ফ্রন্টলাইনে শহীদ হইয়া আন্দোলন জোরদারের ঘুটি হইতাছে। ব্লগে ব্লগে আমিনির গেলমানেরা নিজেদের পাছা মারা খাওয়ার সুখ বর্ণনার সাথে সাথে সবাইরে আমিনিমারা খাইবার জন্য নানাভাবে আহবান জানাইতাছে। ব্লগে প্রতিদিন এরা কয়েক ডর্জন পোস্ট প্রসব করে যেইগুলার টাইটেলের অর্থ করলে ‘ইসলাম গেলো, আসেন পাছা মারা খাই’ এই বয়ান খানাই পাওয়া যায়।

শরিয়তী ইসলামের কাছে একসময় দর্শন, বিজ্ঞান, শিল্পকলায় সমৃদ্ধ আরব দুনিয়ার পতন ঘটছে। ইবনে সিনা, আল ফারাবি, ওমর খৈয়ামের দর্শন ও মতবাদের লাশের উপর দিয়া রচিত হইছিল, হাম্বলি, আশারী, গাজালি, তাইমিয়াগো শরিয়তী ইসলামের ইতিহাস। আর তাইমিয়াবাদীগো আধুনিক সংস্করণ ওয়াহাবিবাদীরা। এই ওয়াহাবিবাদীরা কট্টোর শরিয়তী ইসলামের প্রচার করে, মানব সভ্যতার অগ্রযাত্রা, নৈতিকতা আর আইনের পরিবর্তন ও আধুনিকায়নে এদের ভরষা নাই। মধ্যযুগীয় মনমানসিকতার এই ওয়াহাবিরাই আবার ভাগ্যক্রমে তেলের খনির মালিক, পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদের দোস বন্ধু। সাম্রাজ্যবাদ এই মধ্যযুগীয় মৌলবাদরে খাতির করে, আদর সোহাগ দিয়া বড় করে, বেশী বাইরা গেলে থাবরা দিয়া শাসন করার নামে এদের দেশ দখল করে। আওয়ামীলীগ আর বিএনপির ছত্রছায়ায় নিজামী, মুজাহিদ, আমিনীদের বেড়ে ওঠা, এদের সাথে ভাগবাটয়ারা কইরা এরা বাঙালি মুসলমানের পাছা মারে। কিন্তু এই দুইটা দল সাম্রাজ্যবাদ আর মৌলবাদের প্রেম পিরিতীর খবর রাখে না। দুধ কলা দিয়া বড় করা আমিনী যে একদিন তাগো পাছাই মাইরা দিবে সেইটা এখনো তারা বুঝতে পারে নাই।

যাহাই হোউক, বাঙালি মুসলমানের জীবনে সবচেয়ে বড় গোঁজামিলটা খুব সম্ভবত বাঙালি+মুসলমান = বাঙালি মুসলমান কথাটাই। বাঙালি যদি হিন্দু বা মুসলমান না হইয়া শুধু বাঙালি হইতো তাইলে কোন সমস্যা ছিল না। স্বাধীন চিন্তায় বাঙালির তখন সমস্যা হইতো না, পরনির্ভরশীল না হইয়া সে স্বনির্ভর হইতে শিখতো। এই প্রশঙ্গে বন্ধু দুরের পাখির কিছু বাণী অমূল্য মনে হয়,

"বাঙালি মানে হিন্দু পোলা চেইত্যা গিয়া কওয়া, আল্লার কসম তোরে আমি খাইয়ালামু । বাঙালি মানে তারাবির নামাযের পরে আল্লার দরবারে দীর্ঘ প্রার্থণা যাতে বাবা ভোলানাথের পানি পড়ায় কাজ হয় । বাঙালি মানে সারাজীবনে একবারও কেবলার দিকে উষ্ঠা না খাইয়া, গানে কীর্তনে আল্লা রাসুলের গুনগান গাওয়া ।
বাঙালি যখনি মুসলমান হইতে গেছে তখনি ফরায়েজী হইছে, খেলাফতি স্বপ্নদোষী হইছে । আর রাস্তায় শান্ডার তেল বিক্রিকারী যেমন সুর কইরা গায়, স্বপ্নদোষে যারে পায়, বুকের হাড্ডি জাইগায় যায় , তেমনি বাঙাল বুকের হাড্ডি জাইগা গেছে । বাঙালি যখনি মুসলমান হইতে গেছে , রাজাকার হইছে, হিজবুতি হইছে, তালেবানি হইছে । বাঙালি আর থাকতে পারে নাই ।"
- দুরের পাখি (বাঙালি মুসলমান : একটি করুণ হাস্যরসের নাম)

দুরের পাখি যাহা বলিয়াছে সত্য বলিয়াছে মনে করিলেও বাঙালি মুসলমানের পক্ষে মুসলমানিত্ব বিসর্জন দিয়া পুরাপুরি বাঙালি হওয়া বোধহয় খুব সহজ কর্ম না। আহমদ সফা এই বিষয়টা জানতেন বলেই হয়তো বাঙালি মুসলমান প্রপোঞ্চটারে বিসর্জন না দিয়া বরং বাঙালি মুসলমানের মনের অন্ধকার সন্ধান করছেন। আমি অবশ্য বাঙালি মুসলমানের মনে অন্ধকারের চেয়ে আলোর সন্ধানই করি বেশী। আর তাই জানি যে বাঙালি মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রীষ্টান এমন বহু জাতে বিভক্ত হইয়া জাতিসত্ত্বা ও মানবতা বিসর্জন দিছে খুব বেশীদিন আগে না। বাঙালির হাজার বছরের ধর্মীয় ও দার্শনিক চিন্তার স্বকিয় ইতিহাস আছে। জাত ধর্ম নির্বিশেষে মানব ভজনকেই সে প্রধান ইবাদত গণ্য করে। অলঙ্ঘনীয় এবং অপরিবর্তনীয় বেদ বাক্য অথবা শরীয়তেরে বাঙালি ভাল চোখে দেখে না। বাঙালি আধ্যাত্ব, শিল্প, ভক্তি, প্রেম আর মানুষের মাঝে ধর্ম খোঁজে। এই কারণে সুফি সন্যাসীরা বাঙলায় আমন্ত্রিত, বাঙালির শ্রদ্ধার পাত্র, মোল্লা মৌলবিরা না।
কার বা আমি কে বা আমার,
আসল বস্তু ঠিক নাহি তার,
বৈদিক মেঘে ঘোর অন্ধকার,
উদয় হয় না দিনমণি। - মহাত্মা ফকির লালন শাহ
লালনের এই বৈদিক মেঘ, ব্রাক্ষ্মণ্যবাদীদের শাস্ত্র আর সুন্নি মুসলমানের শরিয়তের মেঘ। এই অলঙ্ঘনিয় শাস্ত্র আর শরীয়তের অন্ধকারে দিনের আলো আসবেনা বলেই ঘোষনা করেন বাঙালির দার্শনিক লালন।

আমিনী গং এর ‘ইসলাম গেলো’ ধ্বনি এবং বাঙালি মুসলমানের মনে তার যেই আবেদন সেই আবেদনে আমি তাই হতাশ না। বাঙালি যদি শুধুমাত্র নিজের আত্মানুসন্ধানে রত হয় তাহলেই আমিনী গংরা বাঙলার মাটি থেকে বিতারিত হবে। একাত্তরে বাঙালি একবার নিজের আত্মানুসন্ধানে নামছিল। বাঙালি মুসলমানের কাছে সেইদিন মুসলমান পরিচয়ের চেয়েও অনেক ওপরে ছিল বাঙালি পরিচয়, আর তাই জামাত ইসলামী’র ‘ইসলাম গেলো’ ধ্বনি সেইদিন বাঙালির মনে কোন আবেদন সৃষ্ঠি করতে পারে নাই। মনে প্রাণে অন্তত একটা বাঙালিও যতদিন বাঁইচা থাকবে আমিনি গং ততদিন সফল হতে পারবে না। বাঙালির বিদ্রোহী কবি এবং বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের উদ্ধৃতি দিয়া এই লেখা শেষ করছি।
.......যে প্রশ্ন করছিলাম, এই যে ভেতরের ন্যাজ, এর উদ্ভব কোথায়? আমার মনে হয় টিকিতে ও দাড়িতে। টিকিপুর ও দাড়িস্তান ই বুঝি এর আদি জন্মভূমি। পশু সাজবার মানুষের একি 'আদিম' দুরন্ত ইচ্ছা!- ন্যাজ গজাল না বলে তারা টিকি দাড়ি জন্মিয়ে যেন সান্তনা পেল।
......হিন্দুত্ব মুসলমানত্ব দুই সওয়া যায়, কিন্তু তাদের টিকিত্ব দাড়িত্ব অসহ্য, কেননা ঐ দুটোই মারামারি বাধায়। টিকিত্ব হিন্দুত্ব নয়, ওটা হয়ত পন্ডিত্ব। তেমনি দাড়িও ইসলামত্ব নয়, ওটা মোল্লাত্ব। এই দুই "ত্ব" মার্কা চুলের গোছা নিয়েই আজ যত চুলাচুলি!............
- কাজী নজরুল ইসলাম (হিন্দু-মুসলমান)

আবারো বলি, অন্তত একটা বাঙালি যতদিন জীবিত থাকবে ততদিন ঐ দাড়ি টুপিওয়ালাদের দৌড়াত্ব মসজিদ পর্যন্তই হবে, রাজপথ অথবা সয়ম্ভু শাসন ক্ষমতার মসনদ পর্যন্ত হবে না।
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই এপ্রিল, ২০১১ রাত ১:২৬
৬১টি মন্তব্য ৪৭টি উত্তর পূর্বের ৫০টি মন্তব্য দেখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কালো পাথর

লিখেছেন রাজীব নুর, ১৪ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩৪



এক সুন্দর সকালে হিমু রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলো।
হঠাত সে ফুটপাতে এক টুকরো পাথরের সাথে উষ্ঠা খায়। উষ্ঠা খেয়ে হিমু মাটিতে পরে যায়। পাথরের পাশে এক ভিক্ষুক ভিক্ষা করছিলো। পাথর... ...বাকিটুকু পড়ুন

আওয়ামী লীগ আসার ক্ষেত্র প্রস্তুত করা হচ্ছে

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৫ ই মে, ২০২৬ রাত ১:২৫


সোশ্যাল মিডিয়ায় দুটো স্ট্যাটাস পড়লাম। দুজনই বিএনপি সমর্থক।
প্রথমজন লিখেছেন, গতকালকের গরম খবর ছিল আওয়ামী লীগরে ঝুলায় মারছে বিএনপি বা জামায়াত শিবির। তারপরে প্রথম আলো নিউজ করলো পদ্মার পাড়ে কৃষকের... ...বাকিটুকু পড়ুন

পদ্মা ব্যারেজঃ সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৫ ই মে, ২০২৬ সকাল ৮:৩০

পদ্মা ব্যারেজঃ সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত....

অনেকেই “ব্যারেজ” এবং “ব্রিজ”কে একই ধরনের স্থাপনা মনে করেন। বাস্তবে দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন উদ্দেশ্যে নির্মিত হয়। তাই প্রথমেই ব্রীজ এবং ব্যারেজের পার্থক্য-

ব্রিজ (Bridge) কী?
ব্রিজ বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সীমানার ওপারে মৃত্যু: একটি আরিয়ান ইনভেস্টিগেশন

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৫ ই মে, ২০২৬ সকাল ৯:১৫

শহরের এক কোণে কাঁচঘেরা ক্যাফে 'ব্ল্যাক মেমোরিজ'। বাইরে বৃষ্টির ঝিরঝিরে শব্দ, ভেতরে হালকা জ্যাজ মিউজিক। পিবিআই-এর তুখোড় ইনভেস্টিগেটর আরিয়ান টেবিলের এক কোণে বসে ধোঁয়া ওঠা ব্ল্যাক কফিতে চুমুক দিচ্ছিলেন। তাঁর... ...বাকিটুকু পড়ুন

শুকিয়ে যাওয়া গাছে মালি বদলালেই ফুল ফোটে না

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৫ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৩৮


২০২৩ সালের আগস্ট মাস। আওয়ামী লীগ সরকার সবে সার্বজনীন পেনশন স্কিম চালু করেছে। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মাইক্রোফোনের সামনে দাঁড়িয়ে বললেন, "আওয়ামী লীগ সরকার জনগণের পকেট থেকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×