somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এই লড়াইয়ে জিততে হবে

২৯ শে জুন, ২০১১ রাত ১০:০৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


“উপনিবেশিত জনতার জন্য সবচেয়ে প্রথম, সবচেয়ে জরুরি এবং সবচেয়ে মূল্যবান বস্তু হলো তার জমি। এই জমি তাকে খাদ্য দেয়, তার চেয়েও বেশি যা দেয় তা হলো ‘সম্মান’ ”। - ফ্রাঞ্জ ফানো

প্রাকৃতিক সম্পদে দরিদ্র ইংল্যান্ড নিজ দেশে শিল্প বিপ্লবের স্বার্থে আমাদের ভুখন্ডের সস্তা কাঁচামাল আর সস্তা শ্রমএর ওপর নির্ভর করতো। এককালে আমাদের ভুখণ্ডেই ভূমি দাসএর মতো নীলকরদের মন মর্জি অনুযায়ী আমাদের চাষবাস করতে হয়েছে। আমাদের শ্রমের ফসল ঘরে তুলে ফুলে ফেঁপে উঠে ঘটেছিল ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের বিস্তার। এই যে আধুনিক ইউরোপ, আলোকময় ইউরোপ, ঐশ্বর্যশালী ইউরোপ, শিল্প বিপ্লবের ফলে যেই ইউরোপের জন্ম, সেই ইউরোপের প্রাণশক্তি হলো উপনিবেশ। উপনিবেশ থেকে সস্তা কাঁচামাল, সস্তা শ্রম সংগ্রহ করে আবার উদ্ধৃত প্রক্রিয়াজাত পণ্যের বাজার হিসাবে উপনিবেশকেই ব্যবহার করা, এই করেই শিল্পবিপ্লবের চারা থেকে গাছ আর গাছ থেকে মহিরুহ হয়ে ওঠা। আধুনিক ইউরোপের ঐশ্বর্যময় কাহিনীতে আমরা বাঙালিরা ঘানিটানা দাস, সত্যিকারের প্রলেতারিয়েত, সাব অল্টার্ন, ফ্রাঞ্জ ফানো যারে বলছেন, “জগতের লাঞ্ছিত”। উপনিবেশে মানুষ নিজভূমেই হয় পরবাসী, নিজের জমির মালিকানাই যে শুধু তার থাকে না তা না, থাকে না নিজের শরীরের ওপর মালিকানা, সবশেষে নিজের মনের মালিকানা হারিয়ে সে হয় সত্যিকারের লাঞ্ছিত।
৪৭ এ সমাপ্তি হয়েছে ব্রিটিশ উপনিবেশের। ৭১এ সার্বভৌম স্বাধীনতা লাভ করেছে বাংলাদেশ। উপনিবেশ থেকে মুক্তি পেয়ে নিজ জমি আর নিজ প্রাকৃতিক সম্পদের উপর আমাদের মালিকানা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে কি? উপনিবেশের হাতে লাঞ্চিত আমরা কি আমাদের সম্মান ফেরত পেয়েছি? যদি পেয়েই থাকি তাইলে এশিয়া এনার্জির আগ্রাসনের বিরুদ্ধে জমির মালিকানার লড়াইএ কেনো শহীদ হতে হয়েছে আমাদের চাষাদের। নিজের প্রাকৃতিক সম্পদের অধিকার কনকো ফিলিপসের মতো নয়া ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির হাতে তুলে দিয়ে অসম চুক্তি বাস্তবায়নের বিরুদ্ধে কেনো আমাদের লড়তে হচ্ছে?

“সাম্রাজ্যবাদ যেইসব অবক্ষয়ের জীবানু জন্ম দেয় সেইসব জীবানুকে সুচারু ভাবে খুঁজে বের করে উৎখাত করতে হবে, শুধু আমাদের জমি থেকেই না বরং আমাদের মন থেকেও”। - ফ্রাঞ্জ ফানো

ফরাসী উপনিবেশের বিরুদ্ধে আলজেরিয়ার মুক্তি সংগ্রামে ফানো নিজেকে উৎসর্গ করেছিলেন। ফানোর সংগ্রামের এই সময়টা খুব গুরুত্বপূর্ণ। গত শতকের মাঝামাঝি সময়ে অর্থাৎ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরপর যুদ্ধ বিদ্ধস্ত ইউরোপ একের পর এক উপনিবেশকে স্বাধীনতা দিতে বাধ্য হচ্ছে, এশিয়া এবং আফ্রিকায় প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে নতুন সার্বভৌম রাষ্ট্র। কিন্তু এইসব উত্তর ঔপনিবেশিক রাষ্ট্রে, রক্ত এবং ঘামের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতায় কি জনগণের মালিকানা প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে, এই প্রশ্ন নিয়া উদ্বিগ্ন ছিলেন ফানো। এইক্ষেত্রে, তার ধারণা ছিল, বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই জনগণের মালিকানা প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে না। এর কারন, দীর্ঘ ঔপনিবেশিক পর্বে এইসব রাষ্ট্রে ঔপনিবেশিক শিক্ষায় শিক্ষিত যে নেতৃস্থানীয় শ্রেণীর সৃষ্টি হয়েছে তারা চেহারা এবং বর্ণে স্বজাতির মতো হলেও চিন্তা চেতনায় ধারণ করে ঔপনিবেশিক প্রভুকে, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার কথা বলে রাজনীতিতে নামলেও তাদের আনুগত্য পুরোদস্তুর পশ্চিমা প্রভুদের প্রতি নিবেদিত। এই শ্রেণী ক্ষমতায় থাকলে উপনিবেশী প্রভুদের সৈন্য সামন্ত সহকারে উপনিবেশ টিকিয়ে রাখার দরকার নাই, নতুন গড়ে ওঠা এই শাসক শ্রেণীর সাথে ব্যাবসায়িক এবং সার্থকত সম্পর্ক বজায়ে রাখলেই উপনিবেশ টিকিয়ে রাখা সম্ভব।

“প্রত্যেক প্রজন্মকেই তার লড়াই খুঁজে নিতে হবে, এরপর হয় লড়তে হবে না হয় বিশ্বাসঘাতকতা করতে হবে”। - ফ্রাঞ্জ ফানো

নিজ ভূখণ্ড, প্রাকৃতিক সম্পদ, নিজ মনন, অস্তিত্বের ওপর মালিকানা প্রতিষ্ঠা করাই আমাদের প্রজন্মের লড়াই। উপনিবেশের ছাপচিত্র ঝেড়ে পুছে বাঙলার প্রতিটা ইঞ্চি থেকে দূর না করা পর্যন্ত এই লড়াই চালাতে হবে। বাঙলার বুক থেকে উপনিবেশের কড়ি বর্গাদের উৎখাত না করা পর্যন্ত এই লড়াই চালাতে হবে। সাম্র্যবাদের জীবানু আমাদের জমি আর মন থেকে সমূলে উৎপাটন করার জন্য এই লড়াই আমাদের লড়তে হবে। আর নাইলে ভবিষ্যতের ইতিহাসে বিশ্বাসঘাতকের খাতায় আমাদের নাম লেখা থাকবে।


আজকে যদি না হয় মর্দ, কোন কালেই না,
ইতিহাসের পাতায় কিংবা বীর শহীদের শহীদ মিনার,
ভবিষ্যতের রক্ত কিংবা বুকের ভেতর যতন করা,
চেতন কিংবা বীর গাথাতে, জায়গা হবে না।

মাথায় বান্ধো গামছা মর্দ, বুকের ভেতর ক্রোধ,
রক্ত ঘামের ফসল লুটের, শতবর্ষী অপমানের, এবার নেবো শোধ।


মহাশ্বশান,
এইখানে নাই গান, নাই কাব্য, পাখি নাই, নাই কোন প্রেমিক পরাণ।
এইখানে লাশ আছে, মৃত, জীবিত, অর্ধমৃত, পঁচা, গন্ধ ছোটা লাশ আছে,
পাশবিক সহবাসে উন্মত্ত্ব ডাইনিদের কামার্ত গোঙানীর শব্দ আর
সিফিলিস কামরসে ভেসে যাওয়া এইখানে কোন এক কালে আমার দেশ ছিল,
ছিল স্বপ্ন, ছিল গান, ছিল কাব্য, পাখি আর প্রেমিক পরাণ।
মহাশ্বশান।


চুপকথা নগরীতে চুপ থাকা আইন বলে, চিৎকার, শিৎকার
আর প্রার্থনায় থাকো বেঁচে, রক্ত বেচে, ইজ্জত, মায়ের গতর
বেচে থাকো সুখে।
চুপকথা নগরীতে কথা বলবে শুধু, বাচাল ডাইনি আর রক্তখোড়
দানবেরা, শিকারী যুবরাজরা নামবে মানব শিকারে, বাঘ আর বাছুরেরা
হয়ে গেলে শেষ।
চুপকথা নগরীতে, বিষাক্ত বৃষ্টি নামবে পিশাচীর কান্নায়, ভুত আর
দানবের তান্ডব নৃত্য হবে একমাত্র সুস্থ্য বিনোদন, শিকারী যুবরাজরা
নামবে মানব শিকারে।
চুপকথা নগরীতে, চুপ থাকা আইন বলে, লাঙল খুইয়ে তুমি
খুঁজবেনা, কাধের জোয়াল আর পায়ের শেকল আশির্বাদ মেনে
বেঁচে থাকো সুখে।


মর্দ তোমার কান্ধে জোয়াল, মর্দ কোথায় তোমার খেয়াল,
মর্দ তোমার পায়ে শেকল, মর্দ তোমার মগজ বিকল।

ভাইয়ের কান্ধে কাধ মিলাইয়া, এইবার মর্দ জাগো তুমি,
তোমার বোনের ইজ্জত আর তোমার মায়ের পূণ্যভূমি,
বাঁচাও মর্দ, তোমার প্রিয়ার চুম্বন আর শিশুর হাউস, আদর সোহাগ,
মর্দ তোমার নাইকি কোন ঘিন্না, পিত্তা, হিংসা, বিরাগ।


মাথায় বান্ধো গামছা মর্দ, বুকের ভেতর ক্রোধ,
রক্ত ঘামের ফসল লুটের, শতবর্ষী অপমানের, এবার নেবো শোধ।


আজকে যদি না হয় মর্দ, কোন কালেই না।
২৯টি মন্তব্য ২৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিলিয়নিয়ার রবিন খুদা ও আমাদের জাতীয় অগ্রাধিকার

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ০৯ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৩০

বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয় কী?

কর্মসংস্থান? না।

বিনিয়োগ? না।

ডলার সংকট? না।

গার্মেন্টস খাতে ছাঁটাই? না।

ব্যাংকিং খাতের আস্থা সংকট? না।

সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো— কোনো অনুষ্ঠানে জুলাই চেতনা কত মিলিলিটার ঢুকেছে, কে কতবার উচ্চারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×