somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

তাথৈ তাথৈ থৈ দ্রিমী দ্রিমী দং দং

০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০১২ রাত ১২:০০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

এইখানে অনেকগুলা তালগাছ ছিল। প্রত্যেকটা তালগাছে বেশ কয়েকটা বাবুই পাখির বাসা ছিল। পুরুষ বাবুই পাখিরা বাসাগুলা বানাইতো। সেই বাসার কারুকাজে মুগ্ধ হইয়া স্ত্রী বাবুই পাখি আসতো। কারুকাজের বাসায় দুই বাবুইয়ে পিরিত করতো। ‘তারপরে তারা সারাজীবন সুখে শান্তিতে একলগে কাটায়া দিতো’ এইরকম ‘সুন্দর’ হইতে পারতো কাহিনিটা। কিন্তু কাহিনিটা সেইরকম সুন্দর না। স্ত্রী বাবুই ডিম ফুটানের সাথে সাথে উড়াল দিতো পুরুষ বাবুই, উড়াল দিতো যে দিতোই, আর ফিরা আসতোনা। নতুন কোন তালগাছে আবার সে নতুন কইরা কারুকাজের বাসা বানাইতো, সেই বাসার ‘সৌন্দর্যে’ মুগ্ধ হইয়া আসতো নতুন কোন স্ত্রী বাবুই। আর আগের স্ত্রী বাবুইটা ডিম ফুটায়া একলা একলা মানুষ করতো বাচ্চাকাচ্চা, তারপরে সারা জীবন ঐ কারুকাজের ঘড়ে কাটায়া দিতো একলা একলা। কাহিনিটা দিনশেষে তাই ‘নিষ্ঠুর’। অবশ্য যতই নিষ্ঠুর মনে হউকনা কেন, বাবুই পাখির তাতে কিছু যায় আসেনা। কারুকাজের ঘড়ের সৌন্দর্য সে বুঝে। এই বুঝ দরকারের বুঝ, নন্দনের বুঝনা, নৈতিকতার বুঝনা। সারাজীবন সুখে শান্তিতে একলগে কাটানির ‘সৌন্দর্য’ অথবা না কাটানির ‘নিষ্ঠুর’তায় তার বুঝ নাই। সেই বুঝ থাকলে, নিজে নিজে কোন কিছুরে সুন্দর, অসুন্দর, ন্যায়, অন্যায় ট্যাগ মারোনের ক্ষমতা থাকলে বাবুই পাখি আলাদা কোন কাহিনী বানাইতো। পুরুষ বাবুই পাখিটা কোনোদিন উইড়া চইলা যাইতোনা, অথবা উড়তে গিয়া দৈবাত দুর্ঘটনায় পথ হারাইতো, কিন্তু দিনশেষে ফিরা আসতো। অথবা অন্য কোন ‘দুশ্চরিত্রা’ বাবুই তার মন ভুলাইয়া রাখলেও প্রেমের টানে সেই মন ভুলানি জাদু কাটাইয়া সে ঠিকই ফিরা আসতো তার ঘড়ের বাবুইয়ের কাছে, আইসা হয়তোবা ইউলিসিসের মতোন ব্যাটাগিরি দেখাইয়া প্রাণপ্রিয়া স্ত্রী বাবুইয়ের প্রেমাকাঙ্খি সব পুরুষ বাবুইরে উড় প্রতিযোগিতায় অথবা ঠোকর যুদ্ধে পরাজিত কইরা স্ত্রি সন্তানসহ সারাজীবন সুখে শান্তিতে দিনাতিপাত করতো। কিন্তু এই জগতে মনিষ্যি ছাড়া নন্দন অথবা নৈতিকতার কোন নির্ধারক নাই।

তালগাছগুলা একটা মাঠে ছিল। বিরাট মাঠ। মাঠের এক পাশে হইতো মৌসুমী ধানের আবাদ। আরেক পাশে একটা ময়লার পরত পরা দিঘী। বিরাট দিঘী। দিঘীর পাশেই একটা জঙলা ছাড়াবাড়ি। ছাড়াবাড়িটা এককালে শ্বসান ছিল। সেইকালে এই তল্লাটে অনেক হিন্দু বসতি ছিল। তারও আগে প্রায় ২০০ বছরের ফিরিঙ্গী শাসনের সময় তারা ‘হিন্দু’ হইয়া উঠছিলো, বাকিরা ‘মুসলমান’। তারও আগে তারা ভাবের মনিষ্যি ছিল, মাটির মনিষ্যি। ঠিক যেমন তালগাছগুলা, এই মাটির তালগাছ। ঠিক যেমন বাবুই পাখিগুলা, এই মাটির বাবুই। ঠিক যেমন ময়লার পরত পরা দিঘী আর জঙলা ছাড়াবাড়িটা, অথবা তারো আগে মনিষ্যির পোড়া মাংস হাড্ডি, বাতাসে আর বাতাসের ভাবে মিশতো। মাটির মনিষ্যি মাটিতে থাকতো, মাটিতে ঘুমাইতো।

এইসব অবশ্য বহু আগেরকার কথা। আমাদের কাহিনী এতো আগেরকার না। আমাদের কাহিনী একটা বাচ্চা পোলারে লইয়া। বছর আস্টেকের একটা বাচ্চা পোলা, বছর বিশেক আগের কথা। হিন্দু হওয়া মনিষ্যিগুলা তখন আর এই তল্লাটে নাই। বাচ্চা পোলাটা তখন মাঠের পাশেই একখান টিনশেড বাসায় থাকতো, বাসার বারান্দায় বইসা ভোর সকালে উইঠা মাঠের আরেক পাড়ের জঙলা ছাড়াবাড়িটা সে কৌতুহল নিয়া দেখতো, আর সন্ধ্যায় দেখতো মনভরা ডর লইয়া। হিন্দুর জমি দখল হওয়া গোরস্তানে ছিল ঐ বচ্চা পোলার দাদির কবর, আর ভুইয়াগো যেই ঈদগাহে বাচ্চা পোলাডা ঈদের জামাত পড়তো সেই ঈদগাহটা ছিল গোবিন্দ নামের কোন এক হিন্দুর জমি, কোন এক কালে। বিকালবেলা মাঠের ফাটা জমিতে সে দৌড়াইতো, দৌড়াইতো সে তালগাছগুলার চাইরপাশে। আকাশে উড়তো বাবুই পাখি, বাচ্চা পোলাডা দৌড়াইতো মাঠে। দৌড়াইতো সে দিঘীর পার পর্যন্ত, দৌড়াইতো সে ছাড়াবাড়ির সিমানা পর্যন্ত। দৌড়াইতে দৌড়াইতে কোন কোনোদিন সামনে পরতো ঢোড়া সাপ, তখন সে আবার উলটা দিকে দৌড়াইতো।এই মাঠে আর দিঘীর পাড়ে, আর ছাড়াবাড়ির ভিতরে তখন ছিল বহুত ঢোড়া সাপের নিবাস। একলা একলা কোনোদিন ছাড়াবাড়ির ভিতরে ঢুকতোনা পোলাডা। ছাড়াবাড়িতে সেইসময় পেত্নি থাকতো, থাকতো গলাকাটা কন্ঠনাইয়া। মুরুব্বিরাই যেইখানে একলা ঢুকতোনা ডরে, বছর আস্টেকের বাচ্চা পোলাডা অবশ্য সেইখানে মাঝে মাঝে দলবল লইয়া অভিযানে যাইতো। ছাড়াবাড়ির গাছ থেইকা কে কতো ডিমফল পাইড়া আনতে পারতো তার প্রতিযোগিতা চলতো। মাঝে মাঝে মাটির নিচ থেইকা উকি দেয়া মনিষ্যির হাড্ডির সাথে কারো প্যান্ট বা লুঙ্গির খুটি আটকায়া গেলে মহা ধুন্ধুমার কান্ড হইতো। এমন কান্ডগুলার দিনে পোলাডা রাইতে ঘুমের মইধ্যে তলোয়ার হাতে কন্ঠনাইয়ার কল্লা কাটতে যাইতো, তারপরে কল্লা খুইজা না পাইয়া আতঙ্কে ঘুম থেইকা জাইগা উইঠা শুনতো শিয়ালের ডাক, গোরস্তানে রাইতের বেলা ঘুইড়া বেরানো শিয়ালের ডাক। এমনকি মাঝে মাঝে ছাড়াবাড়ির পেত্নির কান্দনের শব্দও শোনা যাইতো। ঐ রাইতগুলা খুব ডরের রাইত ছিল। তবে কোন কোন রাইতে পোলাডা তলোয়ার দিয়া ডজন ডজন দেও দৈত্যের কল্লা ফালাইতো। সেই রাইতগুলা ছিল সুখের রাইত। বছর আস্টেকের পোলাডা ছিল ঢোড়া সাপ, শিয়াল আর বাবুইএর মতো এই মাঠের নিবাসী, মাটির মনিষ্যি।
বছর আস্টেকের পোলাডা যখন আরেকটু বড় হইলো, এই ধরন যাউক যে বছরে দশেকের হইলো তখন একদিন তল্লাটের সবচেয়ে গরিব কাঠমিস্ত্রীর ষোড়ষী মাইয়াটা নিখোজ হইলো। ঐ মাইয়াটা এককালে ঐ বাচ্চা পোলাডা আর তার দলবলের লগে দৌড়াদৌড়ি আর ধুন্ধুমার কান্ডকারখানা করতো। কিন্তু একটু বড় হওয়ার পরে ঐ মাইয়াটা একদিন নিখোঁজ হইলো। মাইয়াটারে যখন খুইজা পাওয়া গেলো তখন সে ছাড়াবাড়ির একটা গাছ থেইকা ঝুইলা আছে নিস্প্রান। মুসলমানের লাশ থাকে গোড়স্তানে, হিন্দুর থাকে শ্বসানে। কিন্তু ছাড়াবাড়ির গাছে গলায় ফাস দিয়া থাকে যেই লাশ সেইটা কার লাশ? পোলাডা চিন্তিত হইছিল। তারপরে যখন সবাই মাইয়াটারে নষ্টা কইলো, যখন কইলো তল্লাটের খান সাহেবের বড় পোলা তার পেট বান্ধাইছিল, তার অর্থ না বুঝলেও নষ্টা মেয়েলোকের যে জানাজা হয়না মুসলমানের ঘড়ে জন্মাইলেও সেইটা পোলাডা বুঝতে পারছিল। কাঠমিস্ত্রীর নষ্টা মাইয়ার আকামের লাইগা কাঠমিস্ত্রীরে দয়া কইরা খানসাহেব কয়েক হাজার টাকা দিছিলেন, কেউ কোন অভিযোগ করেনাই। পোলাডা তখন চিন্তিত হইছিল।

অবশ্য গলায় ফাস দেয়া ছাড়াও আরো কিছু লাশ পাওয়া যাইতো ঐ ছাড়াবাড়িতে। মাঝে মাঝে মাঝ রাইতে ছাড়াবাড়ির ভিতরে আলো জ্বলতো, শোনা যাইতো গাড়ির শব্দ, দেখা যাইতো কিছু দামি গাড়ি হুট কইরা আইসা আবার হুট কইরা নাই হইয়া যাইতো। পাওয়া যাইতো বস্তায় ভরা লাশ, পাওয়া যাইতো দশ টুকরা লাশ। পোলাডা যখন আরো বড় হইলো তখন সে জানলো এইরকম আরো বহু লাশ পাওয়া যায় আরো বহু ছাড়াবাড়িতে। এইরকম আরো হাজারো লাশ পাওয়া যাইতো একাত্তরে। চোখ বান্ধা, হাত কাটা, পাও কাটা, স্তন কাটা লাশ। এইসব লাশের শান্তির লাইগা, কান্দন থামানির লাইগা ‘ঘাতক’এর বিচার চাইয়া তখন আন্দোলন হইতো, আর জ্বলজ্যান্ত মুক্তির মাতৃদেবী ‘দেশদ্রোহী’ তকমা লইয়া একসময় বিদায় নিল। পোলাডা তখন আর পেত্নি অথবা কন্ঠনাইয়ারে ডরায়না। মনিষ্যির চেয়ে বেশি ডরের কোন জন্তু দুইন্যায় নাই, এই সত্য পোলাডা ততদিনে বুইঝা গেছে। ক্রমেই বড় হইতে থাকা পোলাডা তখন এইসব লইয়া চিন্তিত হইছিল।

গোবিন্দপুরের গোবিন্দ কই গেলো? রায়েরবাগে কেন বাগান নাই? কাঠমিস্ত্রীর নষ্টা মাইয়ার লাশের কেন জানাযা হয়না? খান সাহেবের বড় পোলা কেন নষ্ঠা হয়না? ঘাতকের কেন বিচার হয়না? মাতৃভূমির মাতৃদেবী কেন দেশদ্রোহী হয়? এইসব প্রশ্ন লইয়া পোলাডা তখন চিন্তিত হইছিল। আর চিন্তা করতে করতে সে বড় হইতে লাগছিলো।

এইখানে এখন তিনটা পাঁচতলা দালান। তালগাছগুলা নাই, বাবুই পাখির বাসা নাই, বাবুই পাখিও নাই। পাঁচতলা দালানগুলায় মনিষ্যির নিবাস। মাঠটার জায়গায় এখন কংক্রিটের ঢিবী। সেই ঢিবীতে তথ্যযুগের মনিষ্যিরা নিবাস করে। ছাড়াবাড়িটাও আর নাই, দিঘীটাও নাই। ডেভেলপার নামক মনিষ্যিরা সেইখানে এপার্টমেন্ট বানাইতাছে, পরিকল্পিত কংক্রিটের ঢিবি হবে। কন্ঠনাইয়া আর পেত্নিরা আর সেইখানে নিবাস করেনা। ঢোড়া সাপগুলারে দেখা যায়না অনেকদিন। দেখা যায়না সেই বাচ্চা পোলাডারেও। চিন্তিত ঐ পোলাডারে সবশেষ দেখা যাইতো ছাড়াবাড়ির গাছে উপরে বইসা বই পড়তে, বিপ্লবের বই। পোলাডার তখন কিশোর বয়স। তারপরে একদিন সে নাই হইয়া গেলো। একে একে নাই হইলো ছাড়াবাড়ির সবগুলা গাছ, ভরাট হইলো দিঘী, কাটা পড়লো তালগাছ, বাড়ি ঘড় হাড়াইয়া বাবুইগুলা সব দেশান্তরি হইলো। ঢোড়া সাপগুলা কই গেলো কেউ জানেনা।
ঐ বাচ্চা পোলাডা এখন আর নাই। তার জায়গায় বছর আটাইশের এক যুবক এখন নানান জায়গায় বিপ্লব বিপ্লব কইরা দৌড়াইয়া বেরায়। সভা সেমিনার করে, করে রোডমার্চ লংমার্চ। বছর আটাইশের সেই যুবক এখন তথ্যযুগের মনিষ্যি। তথ্য দিয়া মশা মাছি রাজা উজির আরো বহুকিছু সে মাইরা বেরায়। কিন্তু কাঠমিস্ত্রীর মাইয়াটা এখনো জানাযা পায়নাই, গোবিন্দপুরের গোবিন্দও আর ফিরা আসেনাই। ঘাতকেরও বিচার হয়নাই। খান সাহেবের বড় পোলা এখন তল্লাটের মেম্বার, কংক্রিটের ঢিবির ডেভেলপার, আরো অনেক কিছুই। আটাইশ বছরের চিন্তিত যুবক তবু খিচ খাইয়া বিপ্লবের স্বপ্ন লইয়া ঘুইড়া বেরায়। বাবুই, শিয়াল আর ঢোড়া সাপের নাই হইয়া যাওয়া তারে ভাবিত করেনা। মাটিরে ধর্ষন কইরা মনিষ্যির সর্বোচ্চ উৎপাদন এখনো সম্ভব হয়নাই, সবগুলা ছাড়াবাড়ি এখনো এপার্টমেন্ট হয়নাই। এখনো এই মাটিতে তালগাছে আছে, কোনরকমে চিপায় চাপায় টিকা আছে ঢোড়া সাপ। এখনো সব খোলা মাঠেই কংক্রিটের ঢিবি হয়নাই। এইসব হইলে পরে বিপ্লব, এইসব হইলে পরে শ্রেণী সংগ্রাম। এইসব হইলে পরে গোবিন্দপুরে গোবিন্দ ফিরা আসবেন, রায়েরবাগে বাগান হবে, ঘাতকের বিচার হবে। আটাইশ বছরের যুবক তাই বিপ্লবের তবজি গুইনা খিচ খাইয়া দিনাতিপাত করে।

কিন্তু এই কাহিনীটা সুন্দর না। এই দুইন্যায় যদিও মনিষ্যির চাইতে ভয়ঙ্কর আর কোন জানোয়ার নাই, কিন্তু মনিষ্যি খুব সুন্দর সুন্দর কাহিনী বানাইতে পারে। নন্দন আর নৈতিকতার মাওলা মনিষ্যি ছাড়া আর কেডা? এই কাহিনীটা তাই আরো সুন্দর হইতে পারতো। এমন হইতে পারতো যে, আইজ এতদিন পরে হঠাৎ কইরা সেই মাটির মনিষ্যি বাচ্চা পোলাডা এই কংক্রিটেরর ঢিবিতে আইসা হাজির হইতে পারতো। তারপরে যদি সে দলবল লইয়া দৌড়াদৌড়ি আর হুলুস্তুল কান্ড শুরু করতো এই পাঁচতলা তিনডা দালান তাইলে ধ্বইসা যাইতো। অথবা বাবুই পাখির দুঃখে পোলাডা কানতে পারতো, আর তার কান্দনে দালানগুলা ভাইসা যাইতে পারতো, সেই কান্দনে এই মাঠ আবার উর্বর হইতো, আবার গজাইতো তালগাছ, আর বাবুই পাখিরা তাতে বাসা বানাইতো। তালগাছের চাইরদিকে দৌড়াইতো বাচ্চা পোলাডা, আর তার মাথার উপরে উড়তো বাবুই পাখি। কাহিনী আরো দুর্দান্ত হইতে পারতো যদি বাচ্চা পোলাডা এরপরে দলবল লইয়া ডেভেলপার মনিষ্যিগো এপার্টমেন্ট দালানে হামলা চালাইতো। জঙলি বাচ্চা পোলাডার পেছনে যদি হাজির হইতো অনেক আগে হারায়া যাওয়া একদল শিয়াল, মারমুখি। অজানা সব গর্ত ছাইড়া যদি ঢোড়া সাপগুলা আবার বাইর হইয়া আসতো। এইসব হুজ্জত হাঙ্গামা আরো ভয়ঙ্কর হইতো যদি পেত্নি আর কন্ঠনাইয়া রাইত নামলে আছর করতো ঐসব এপার্টমেন্ট দালানে। ঐ বাচ্চা পোলা, তার দলবল, শিয়াল, ঢোড়া সাপ, পেত্নি আর কন্ঠনাইয়ারা যদি সুর কইরা সারা রাইত গান গাইতো, ‘তাথৈ তাথৈ থৈ দ্রিমী দ্রিমী দং দং, তাইলে কেমন হইতো?

এই গান গাইতে গাইতে কাঠমিস্ত্রির মাইয়ার তারা জানাযা দিতো। এপার্টমেন্ট দালানের ইটার ফাকে ফাকে শিকর বিস্তার কইরা প্রাচিন সব গাছেরা আবার হাজির হইতো আর তার ডাইল গুলাতে ফাসিতে ঝুলতো খান সাহেবের বড় পোলা, একাত্ত্বরের ঘাতক, আর বহু দামি গাড়ির মালিক। আর সেই গাছের নিচে বাচ্চা পোলাডা সারা রাইত মনিষ্যি, জন্তু আর ভুত সাঙ্গপাঙ্গ লইয়া তান্ডব নাচ নাচতে নাচতে গান গাইতো ‘তাথৈ তাথৈ থৈ দ্রিমী দ্রিমী দং দং’।

কাহিনিটা যদি এমন হইতো, পরের দিন সকালের সূর্যটা তাইলে কেমন হইতো?

৯টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×