somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জাফর ইকবালকে নিয়ে লেটেস্ট যে ইস্যুটি ছাগুরা জমাতে পারল না।

১৯ শে ডিসেম্বর, ২০১১ দুপুর ১২:২৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

লেখকের নাম সোহান মুরাদ।
উনি ওনার এই পোস্টের শুরু করেছেন এভাবে : "পীর জাফর ইকবাল...........।"
তো জনাব মুরাদের পোস্টের মূল উপজীব্য কি?
আপনি ভাবছেন
- দুই ছাত্র কেন মারা গেল, প্রশাসন কেন ব্যর্থ এটা ওনার ইস্যু? না তা নয়
- উনি হত্যাকারীদের বিচার দাবী করেছেন? না তা ও নয়
- তাহলে ওনার ইস্যু কি এই যে এমন একটি ঘটনার পর ও আইন শৃংখলা পরিস্থিতির অবনতির কথা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্বীকার করেন নি কেন? না তা ও না।
- ছাত্ররা যেই ডিপার্টমেন্টে পড়ত সেই ডিপার্টমেন্টের টিচার/ বা হল প্রক্টরের কোন খবর সংবাদপত্রে নাই কেন?না, এটাও ওনার ইস্যু না।
- এক টিচার মৃতদেহের পাশে দাড়িঁয়ে সিগারেট খেলেন, সেই শিক্ষকের কর্মকান্ডও ওনার কাছে ইস্যু না। ঐ শিক্ষকের কর্মকন্ডে তিনি এমন কোন দায়িত্বশীলতার অভাব বা মৃতদেহেকে অবমাননার এমন কোন নজির ও দেখতে পাননি যা নিয়ে পোস্ট দেয়া যায়! অবাক করা ব্যপার তাই না।

তবে এক জায়গায় তিনি সবকিছুর বড় অভাব দেখলেন এবং সব কিছুকে ছাপিয়ে বড় হয়ে উঠলো সেই ঘটনা। সেটাই ওনার ইস্যু। সেটা কোনটা? ওনার ভাষ্যমতে
কম্পিউটার বিঞ্জান বিভাগের শিক্ষক ড: জাফর ইকবালের মত একজন দ্বায়িত্বশীল লোক কেন ঘটনাস্থলে না গিয়ে একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে যোগদান করলেন ?
(বাই দা ওয়ে, লাইনগুলো কিন্তু পুরাই ওনার মস্তিস্ক প্রসূত। উনি পোস্ট লেখার সুবিধার জন্য ইচ্ছেমত সাজিয়ে নিয়েছেন, তাই ওনার লেখনী কে সত্য বলে ধরে নেবার বিন্দুমাত্র কারন নেই।)
আসুন দেখে নিই ওনার অভিযোগ গুলো:

১ম অভিযোগ:
জাফরের বিরুদ্ধে ছাত্ররা মিছিল করেছে !

উত্তর: ওনার দেওয়া দুটি পত্রিকার লিংক ( এবং ) ঘেটে আমি এর উত্তরে দুটি কারন খুঁজে পেয়েছি।
প্রথম কারনটি হাস্যকর। হা হা লু খু যাবে। প্যান্ট পরে নিন আগে ভাগে।
আমার দেশের সংবাদ দেখুন , পড়লেই ক্লিয়ার হবে:
"এদিকে সকালে অনিক ও খায়রুলের লাশ ক্যাম্পাসে পৌঁছলে শোকের ছায়া নেমে আসে। বিক্ষুব্ধ কেমিক্যাল বিভাগের শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগার ভবন, একাডেমিক ভবন ও প্রশাসনিক ভবনে ভাংচুর করে। এ সময় সহকারী প্রক্টর ফারুক উদ্দিন খায়রুলের লাশের কাছে সিগারেট ধরালে শিক্ষার্থীরা তাকে ধাওয়া করে। পরে তিনি বিভাগের শিক্ষকের সহায়তায় ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।ওই ঘটনায় বিক্ষুব্ধ ছাত্ররা প্রক্টর, ভিসি ও জাফর ইকবালের বিরুদ্ধে মিছিল করে।"
মানে এরকম সিগারেট/ মদ /গাজা/হেরোইন/ চরস/ ভাং যেই খাক না কেন শ্লোগান যদি দিতে হয়, দিতে হবে জাফরের নামে। সত্যি সেলুকাস। কি বিচিত্র এই দেশ:
২য় কারনটি যৌক্তিক মনে হয়েছে আমার কাছে:
কালের কন্ঠ থেকে দিচ্ছি-
"ঘটনা তদন্তের জন্য কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধান ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। "-
আমার দেশ এর সাথে যেটা আরো যেটা যুক্ত করেছে এবং যা আমি কালের কন্ঠে পাইনি তা হলো;
"তবে ওই কমিটি থেকে জাফর ইকবালকে প্রত্যাহার করার দাবি জানিয়েছে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা।"
ধরে নিই ঘটনা সত্য। যদিও ঐ লেখক নিজেই তার পোস্টের একজায়গায় লেখেছেন:
"লেখক বলেছেন: হু ছাত্রদের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ এসেছে ।এটা অবশ্যই নিন্দনীয়।তবে এটাও ঠিক যে সাংবাদিকরা ধোয়া তুলসী পাতা না।"
তারপর ও আমি ওনার বক্তব্য ওনার বিরুদ্ধে ব্যবহার করলাম না।
বরং এই প্রসংগে অন্য আরেক ব্লগার কি বলছেন আসুন সেটা দেখি:
"শ।মসীর বলেছেন: অর্থহীন তবুও বলি- যারা ভার্সিটিতে পড়ে/ পড়েছে তাদের সবারই জানা থাকার কথা বিশ্ব বিদ্যালয়ের যেকোন ইস্যুতে বিশেষ করে মারামারি কাটাকাটি/ পুলিশ ইনভলবমেন্ট দরকার সেসব বিষয়ে ভার্সিটির পক্ষে প্রথম নাক গলানো ব্যক্তিটি হচ্ছেন প্রক্টর।এই ঘটনায় জাফর ইকবালকে আগে জানানোর আমি কোন কারন খুজে পেলামনা। পুলিশও কিন্তু প্রক্টরের কথা ছাড়া ভার্সিটির কোন বিষয়ে নাক গলাবেনা জাফর ইকবাল যতই তাদেরকে বলুননা কেন, ভার্সিটির আইন ও তাই বলে।কেমিক্যাল বিভাগের ছাত্র- বিষয়টা কি আগে ঐ বিভাগের প্রধানকে জানানো দরকার ছিলনা ??? জাফর ইকবালকে কেন ???আরেকটা বিষয় হচ্ছে তদন্ত কমিটিতে জা ই কে আমার ও পছন্দ না, এটা শাবির পুরোনো রোগ- যেকোন ঝামেলার তাল সামলাইতে না পারলে জা ই কে সামনে ঠেলে দেয়া কারন মিডিয়া তার নামে তেমন নেগেটিভ কিছু লিখবেনা আর একসময় সবাই সব ভুলে যাবে !!!"
আমিও ওনাকে সাপোর্ট করি। জাফর ইকবাল যখনই ভালো কিছু করতে গেছে আর ছাগুরা এসে মুখ দিয়েছে। তাই উনি দূরে থাকলে ছাগুদের কু-নজর এড়িয়ে বিচার কাজ ভালোভাবে হতে পারবে।

২য় অভিযোগ:
জাফর ইকবাল ঘটনাস্থলে দ্রুত না গিয়ে ক্যাম্পাসে একটি সাংস্কৃতিক সংগঠনের অনুষ্ঠানে অবস্থান করে দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়েছেন।
এর উত্তর ও আমি দেব না। অন্য ব্লগার দিচ্ছেন মোক্ষম জবাবটি
রুহু্ননবী বলেছেন: জনাব লেখক ওই সান্সকৃতিক অনুষ্ঠানে আমি নিজে ছিলাম উনি যখন খবর টা পান তখন সাংস্কৃতিক অনুষ্টান শেষ হতে ১০ মিনিট ছিল উনি তখন উঠে যান
আর ওই টা বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল সংগঠনের অনুষ্ঠান ছিল নির্দিষ্ট কারো না যদি প্রক্ট্রিয়াল বডি এসে জানাত এমনিতেই তা বন্ধ হয়ে যেত
যাই লিখেন না কেন দয়া করে ঠিক মত খোজ নিয়ে সত্যতা যাচাই করে লিখেন, কেবল মাত্র কারো মুখের কথার উপর নির্ভর করে লিখবেনা অনুরোধ রইল
এর পর আমার আর কিছু বলার নেই।

৩য় অভিযোগ
- উনি কেন ঘটনাস্থলে গেলেন না তাইলে উনি দায়িত্বশীল না-
-আমি বলি ভাই, ঘটনাস্থল হইল মাঝ দরিয়া যেটা ঐ কয়েকটা ছেলে মেয়ে আর মাঝি ছাড়া আর কেউ চেনে না। মাঝি ও জেলে। আপনি কি বলেন জাফরইকবাল ঐ ছেলেমেয়ের কয়েকজনকে নিয়ে নৌকা করে মাঝদরিয়া তথা ঘটনাস্থলে সারাদিন বসে থাকলে দায়িত্ব পালন হইত? মন্ত্রী প্রতিমন্ত্রীদের কে তো সারাজীবনই দেখালম রোড এক্সিডেন্ট/নৌকাডুবি/ হত্যা/ ধর্ষণের পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। এতে করে তারা কি বিশাল দায়িত্ব পালন করে ফেলল? এই সব অনকেটা কালচারে পরিনত হওয়া, লোকদেখানো, আইওয়াশ মার্কা পরিদর্শনে কার, কবে, কোনদিন, কি লাভ হইছে কেউ কি বলতে পারে? শুধুমাত্র মন্ত্রী প্রতিমন্ত্রীদের টিভি ফুটেজ খাওয়া ছাড়া?

আমি আরো বুঝাই- একজনকে দায়িত্ব দিলে সে দায়িত্ব যদি সে ঠিকভাবে পালন না করে তা হলেই শুধুমাত্র আপনি বলতে পারেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেননি । এখন আপনিই আমাকে বলেন যে ডঃ জাফর ইকবাল কোন দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল যেটা পালন না করার জন্য আপনি বলছেন উনি দায়িত্বশীল নন?
- কোন জবাব নাই।
শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ওনার সেই একই গৎ বাধাঁ বুলি, লাশের থেকে কি অনুষ্ঠান বড়?
আমি বলছি , না কখনই বড় না। আর ডঃ জাফর ইকবাল ও সেটা মনে করেন না বলেই খবর শোনার সাথে সাথে অনুষ্ঠান ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন। ।


কেউই ফেরেশতা না।খুঁজলে সবারই ভুল ত্রুটি পাবেন। সেগুলো নিয়ে লিখুন। কেউ তো মানা করছে না। তা না করে শুধু শুধু চরিত্র হননের জন্য বা সাম্প্রদায়িকতার জন্য বা নিজ পোস্টে হিট বাড়ানোর জন্য মিথ্যাকে সত্য আর সত্য কে মিথ্যা বানিয়ে পোস্টিং আর কত?
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে ডিসেম্বর, ২০১১ রাত ১২:৫২
২১টি মন্তব্য ২১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×