
আমাদের মধ্যে অনেকই আছেন যারা দীর্ঘদিন যাবৎ বিবিস বাংলা র শ্রোতা, যাদের কাছে বিবিসি বাংলার অনুষ্ঠান শোনা যেন অনেকটা নেশার মত হয়ে গেছে। বলাই বাহুল্য যে সেই অনেকর মধ্যে আমিও একজন। বিবিসি প্রথম শুনি যখন ইরাক কুয়েত দখল করে, সেই সময় থেকে।মনে আছে আব্বা নিয়মিতবারান্দায় বসে সকালের সংবাদ শুনতেন আর পড়ার টেবিলে বসে বসে সেই সংবাদ আমি ঠিকই শুনতে পেতাম। মনে পড়ে যুদ্ধের দিনগুলোতে খুব উত্তজনাকর পরিবেশনা ছিল সেই সময়। বলা যায় সেই সময় থেকে আমি বিবিসি বাংলার একজন শ্রোতা । আগে রেডিও তে শুনতাম আর এখন শুনি অনলাইনে। তবে শোনা বন্ধ হয়নি।
আমি নিশ্চিত আমার মত আরো অনেকেই আছেন যাদের ল্যাপটপে হালকা কাজের সময় ব্যাকগ্রাউন্ডে ঠিকই প্রভাতী/প্রত্যুষা/প্রবাহ/ পরিক্রমা ক্রমাগতভাবে একের পর এক বাজতে থাকে।কারন, মাত্র তিরিশ মিনিটের এক ঝটকায় দেশ ও বিশ্ব সম্পর্কে সব গুরুত্বপূর্ন খবরগুলো দ্রুত প্রমিত বাংলায় শুনিয়ে যাবার ক্ষেত্রে বিবিসি অপ্রতিদ্বন্ধী।
আমার কাছে বিবিসি বাংলার খবর এজন্যই ভালো লাগে যে পত্রিকার পাতা ধরে ধরে আমাকে খবর খুঁজতে হয় না, বরং বিবিসি বাংলার একদল অভিজ্ঞ, সাহসী,ও বিচক্ষণ সাংবাদিক সেসব খবরগুলো খুঁজে, বের করে, সাজিয়ে গুছিয়ে, তাঁদের অনন্য অনবদ্য বাচন শৈলী ও নান্দনিক উপস্থাপনার মাধ্যমে সোজা আমাদের কানে পৌঁছে দেন।
আর রিপোর্টিং এর কথা কি বলবো? স্মরণকালের মধ্যে মনে পড়ে কামাল হোসেনের করা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ব্যবসায়ী মনোবৃত্তি দু:সাহসী রিপো্র্টিং কিংবা শুভজিৎ বাগচীর করা গা ছমছমে দুর্ধষ সেই রিপোর্টের কথা যেখানে তিনি সশস্ত্র মাওবাদীদের সাথে গহীণ অরণ্যে তাদের ডেরায় ডেরায় ঘুরে বেরি্যেছেন শুধুমাত্র মাওবাদীদের সম্পর্কে জানার জন্য!! এ মানের রিপোর্টিং নিজের মাতৃভাষা্য বিবিসি ছাড়া আর কোথায় পাব আমি জানি না।
কাব্য/সাহিত্য/নাট্যক/রাজনীতি/অর্থনীতি/সংগীত/নাটক/সিনেমা/সংবাদ মাধ্যম ইত্যাদি ইত্যাদি ক্ষেত্রে আলোচিত/সমালোচিত/বরেণ্য/মাননীয়/সম্মানিত কে নেই যিনি বিবিসি বাংলায় সাক্ষাতকার দেননি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা থেকে শুরু করে, আনিসুজ্জামান বা হালের মেহরীন বা মোস্তফা সারোয়ার ফারুকী কেউ ই যেন বাদ যায় না বিবিসি বাংলার সাক্ষাৎকারের লিস্ট থেকে। মনে পড়ে সাক্ষাৎকারের ফাঁকে ফাঁকে পার্থপ্রতিম বন্দোপাধ্যা্য এর খালি গলায় গান শুনে যেমন মোহিত হয়েছিলাম, তেমনি এ টি এন বাংলার মাহফুজ সাহেবের কথা শুনে হেসেছিও বিস্তর!
ব্লগের বাইরে শ্রোতদের সাথে মিথস্ক্রিয়া বিবিসি বাংলার স্বকীয় একটি দিক। চিঠি/ইমেইল/টেক্সটিং/ফেইসবুক /টুইটার /বিবিসি সংলাপ/ পাঠক সম্মেললাইভ ফোনকল ইত্যাদির মাধ্যমে শ্রোতারা এখন সরাসরি নিজের বক্তব্য উপস্থাপন করতে পারেন। শুধু তাই নয়, সাথে সাথে সংবাদ সম্পর্কে গঠনমূলক আলোচনা/সমালোচনা ও করতে পারেন নির্দ্বিধায়। যা এককথায় অভূতপূর্ব।
সেই বিবিসি বাংলা আজ ৭০ বছরে পদার্পণ করেছে। বিবিসি বাংলাকে তাদের এই দীর্ঘ পথ চলার সাফল্যে জানাই স্বাগতম। এই উপলক্ষে তারা প্রাকশ করেছে একটি বর্ষপূর্তি ম্যাগাজিন। ডাউনলোড (পি ডি এফ) ।
আসুন এই সুযোগে আমরা শেয়ার করি বিবিসি বাংলা নিয়ে আমাদের নিজ নিজ স্মৃতি, অনুভূতি, ভালো লাগা,মন্দলাগা।
সবাইকে ধন্যবাদ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

