কিছু মানুষ স্বার্থকে অর্থ দিয়ে প্রকাশ করে , কিছু মানুষ মমত্ব, কিছু মানুষ দাসত্ব, কিছু মানুষ পশুত্ব , আর কিছু মানুষ কথার তুবড়ি দিয়ে প্রকাশ করে। কিন্তু তীর বিভিন্ন ধনুক থেকে ছুটলেও তার গন্তব্য একই জায়গায়, স্বার্থ। আমিও তার আওতার বাইরে নই। কারন আমিও একজন মানুষ। তাহলে স্বার্থকে পূরনের জন্যেই কবির কবিতা লেখা, আর বামপন্থী বক্তার কারখানার ড্রামের উপর.দাড়িয়ে আঙুল নাচিয়ে বক্তৃতা। হুমম, তাও মন্দ কি ? মন্দ কিছুই নয়। সমাজের শ্রেনীবিভেদের ধুয়া তুলে কমিউনিস্ট পর্টির বড় চেয়ারটা কে না চায়। সবাই নেতা বলে মানবে। গায়ে গরদের চাদর উঠবে । চোখ রাঙিয়ে নিজের মেয়েটাকেও নিরাপদে রাখা যাবে। অন্তত কাকপক্ষীতে এসে তাকে ধর্ষন বা গুলি করে মেরে ফেলে যাবে না। শুধু শ্রেনীহীন সমাজটাই আসলে কোনদিন হবে না। তার বদলে সেই অজ্ঞাত পথটাকে সামনে রেখে শত শত হাজার হাজার সেমিনার , লেলিন আর চের বইয়ের আলোচনা, পোস্টারে রক্তাক্ত স্লোগান, পারলে রক্ত মেখে দেয় এমন ভাব। কিন্তু আসল জায়গায় বাবু নিদারুন কাত । চা, নাস্তাটা কিন্তু পার্টি অফিসেই সারবেন । পারলে হাজির বিরিয়ানিও হয়ে যেতে পারে । শুধু আমাদের সমাজ বদলটা হয় না।
এ তো গেল সমাজবাদী বিপ্লবী সব কমরেডদের কথা । এবার না হয় বস্তাপচা সব রাজনৈতিক কথা একটু বলি। .কারন আমার মাঝে মাঝে যখন হাসতে ইচ্ছা করে তখন ই আমি আমাদের রাজনীতিবীদদের কথা স্মরন করি। এই বিদেশে বসেও। গম, আর সার চুরি দিয়ে শুরু, সংসদের গদি দিয়ে শেষ । অবশেষে সাংবাদিক পেটানো , পাজামা টানতে টানতে মিথ্যা বলা, স্বাধীনতার ইতিহাস বিকৃতি ও স্বাধীনতাকে বাপের বাড়ির সম্পদ বানানো , মামার হাতের মোয়া বানিয়ে খেলা করা । এই সব মানেই আমাদের রাজনীতি। আমরা অন্যদের কাছ থেকে কিছু শিখবও না, কিছু সৃষ্টি ও করব না। বরং বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র হয়ে সেই পুরানা লেজুড়বৃত্তিই আমাদের সম্পদ । আমাদের জীবিকা। অথচ কখনও চিন্তা করে দেখি না, যে, আমরা যদি এগুলোকে গুড়িয়ে দেই , তাহলে আরও ভাল কিছু আনা সম্ভব। আজ রাজনীতির ধুয়া তুলে যাত্রীবোঝাই বাসে আগুন লাগানোর চেষ্টা করি সে বাসে আমার সরকারী কেরানী বাবাও হার্টফেল কেরে মারা যেতে পারেন । আমার বোন ও আমার দলীয় ক্যাডার দ্বারা অপহৃত হয়ে , ধর্ষিতা হয়ে আত্মহননের পথ বেছে নিতে পারে । ডাক সে সব কথা । ওগুলো আমাদের বুদ্ধিজীবীরা অনেক আগেই বলে সাবাড় করেছেন।
আমার বক্তব্য , এই সবই হয় স্বার্থর জন্য । কিন্তু স্বার্থটা কোথায় গিয়ে শেষ হবে ? একটা অনিশ্চিত জীবন সবার । ৩ কোটি টাকা দিয়ে শেয়ার কিনেছি , কালকে তো আমি সরকারি দলের ক্যাডারদের হাতে মারাও যেতে পারি। আমার সন্তান তো ফেলঅনীর মতন কাটাতারের বেড়ায় ঝুলে থাকতে পারে। অসম্ভব কিছুই নয় বরয় সম্ভাবনা সর্বাধিক। স্বার্থ আসলে কোথায় গিয়ে শেষ হবে , সেই প্রশ্নের উত্তর আমার জানা নেই , তবে
ফেলানীর মৃত্যু নিয়ে তোলপাড় হয়ে গেছে মিডিয়ায়। ব্লগে, ব্যানারে ছেয়ে গেছে কতিপয় জায়গা। কিন্তু সেই আগুন নিভে গেছে। হেনা মরে গেছে। আবার দপ করে জ্বলে সেই আগুন নিভে গেছে। প্রশাসন যদি ঘুমিয়ে যায় তো অবশিষ্ট ফুয়েল ও ফুরিয়ে যাবে। সনি মরেছিল আজ থেকে কয়েক বছর আগে। সে আগুন ও নিভে গেছে। রাজশাহীর পুঠিয়ায় মাহিমা মরে গেছে তাও কত বছর হয়ে গেছে। মহিমা হত্যার বিচার চাই বলে লেখা ব্যানারগুলো দিয়ে আজ চটপটি হাউজের দেয়াল গড়ে উঠেছে। সেদিন যদি ওদের হত্যার বিচারের আাগুন নিভে না যেত, আজ হেনা মরত না । কাল হয়ত ঝর্ণা মরবে , পরশু শর্ণা। এটা একটা সিস্টেম। যেখানে আগুনটা নিভলেই শুরু হয় আদিম পশুত্ব। আর আমরা যারা সাময়িক আগুন জালাই, তারা থাকি না আর লাইমলাইটে। ,,,
আমাদের রাজনীতি, আমাদের সমাজবাদী চেতনা , আমাদের ছাত্রশক্তি , আমাদের বিবেক, আমাদের ভাল কিছুর প্রত্যাশা , এতটাই স্বার্থকেন্দ্রিক কেন ? যে আমরা বুঝতে পারি না , শেষ পডৎর্যন্ত আমার পায়েই কুড়ালের কোপটা এসে লাগবে। যে আগুন দিয়ে শুরু হয়েছিল স্বাধীনতার বীজ বপন, সেই আগুন দিয়েই আমাদের সব পাপ পুড়িয়ে ফেলি না কেন আমরা ???
বার বার এই প্রশ্ন করি আর নিজেই নিজেকে ধিক্কার দেই , আমি নিজেই তো নিজেকে আড়াল করে রাখি স্বর্থবাদীদের ভিড়ে, আমি কোনমুখে এত কথা বলি। তবে দেশকে নিয়ে , সমাজকে নিয়ে, জীবিত ফেলানী, হেনা কে নিয়ে স্বপ্ন আমিও দেখি।
আর স্বপ্ন না, এবার সংগ্রাম হোক। অন্তত একটা আগুনকে জ্বলতে দেয়া যাক শেষ পর্যন্ত। সে যেই হোক, শাস্তি হোক নরপিশাচের, সেই পথটা তৈরি করি অন্তত । প্রতিটি ব্যানারে লেখা দাবিগুলো এক এক করে হাতে তুলে নিয়ে এগিয়ে যাই ঐসব লাশগুলোর কাছে। অন্তত ছুঢে বলি, বোন , আর কোন বোন মরবে না, তোর দুর্ভাগ্য । আমরা বড় বড় কথার মারপ্যাচ বাদ দিয়ে একটু ছোট কথা দিয়ে বড় কাজ করি ??????????ৃ আমাদের পথচলাটা হোক চের মত, হোক ফিদেলের মত, অথবা হোচিমিনের পতাকার নিচে হাটা অস্ত্রহীন অথচ বারুদের মত জ্বলে ওঠা মানুষের মত। আমাদের স্বার্থ হোক সকলের স্বার্থকে না মাড়িয়ে সুন্দর বেঁচে থাকার স্বার্থ । বাংলাটা আমাদের সবার , মৃত্যুর ভয় নিয়ে ভাত খেতে চাই না আর । আর এই কথাগুলো শুধু কথাই নয় কাজে দেখতে চাই ।
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১১ রাত ১:২৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



