আমার প্রিয় পোস্ট
- শেষ পর্যন্ত জামাতের মুখোশ খুলে দিলো যেই ভিডিওটি - মৌসুম দাশ
- কার্টুনিস্ট আরিফের জেল এবং আগের একটি পোস্ট - মেহেরুল হাসান সুজন
- ৭ম ওয়েজ বোর্ড অনুসারে দৈনিক সংবাদপত্রের সাংবাদিকদের বেতন কাঠামো ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক সুবিধা - রিজভী
- ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে আক্রান্ত সাংবাদিকতা - ঘৃণা
- জেনে নেই বাংলাদেশের সকল ব্যাংকের টুক-টাক সকল তথ্য ( ওয়েব এড্রেসসহ) - রাকা ও আমি
- উপমহাদেশের উলামায়ে কেরামের দৃষ্টিতে জামায়াতে ইসলামী ও মাওলানা মওদূদী। - দুর্ধর্ষ বেদুইন
- পদ্য নয়, যদিও পদ্যের মতো: এক আল্লাহ ধারণার ফ্যালাসি - আ-আল মামুন
- ব্লগে প্রকাশিত আমার ৫১ ছড়া (সেপ্টেম্বর ২০০৬-জানুয়ারি ২০০৯) - মেহেরুল হাসান সুজন
- ক্ষণিকের রাজশাহীতে বিস্তর মুহুর্তগুলি - মিলটন
- ১৮৯ জন ব্লগার এবং তাদের জন্মতারিখ - শাহবাজ
- শাশ্বত'র জন্য রাজশাহী যাওয়া অত:পর আমার দালাল উপাধি... - মেসবাহ য়াযাদ
- শাশ্বতকে দেখে এলাম আজ - মেহেরুল হাসান সুজন
- হে মহান দীপু কৃপা করো মোদের (বেশ কয়েকজন ব্লগারের অনুরোধে কমেন্টগুলো মুছে দেয়া হলো) - সালাহউদ্দীন মুহম্মদ সুমন
আগস্ট বিক্ষোভ : কেউ পুরস্কৃত, কেউ অবহেলিত
২৩ শে আগস্ট, ২০০৯ বিকাল ৪:১৬
আজ ২৩ আগস্ট। সেই ২৩ আগস্ট। ২০০৭ সালের ২৩ আগস্ট। আজ এই সময়ে ইন্টারনেট-এ বসে আছি। ২০০৭ এর এই দিনে তা পারিনি। তখন চারিদিকে আতঙ্ক। ২০০৭ এর এই দিন সকালে বুকে পরিচয়পত্র ঝুলিয়ে বেরিয়েছিলাম রাস্তায়। নিজের চোখে দেখেছি অনেক ছাত্র-সাধারণ পথচারীদের পুলিশের লাঠিপেটা খেতে। কালো পোশাকের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর তাড়া খেয়ে বিনোদপুরে সব ফেলে পালাচ্ছে সবজি বিক্রেতা। কারফিউ চলছে তা জানা ছিলো না বেচারার। সেই কালো পোশাকের বাহিনীর হাতে আমরাও আটকালাম। ৬ জন। ৬ গণমাধ্যমের ৬ প্রতিনিধি। ওরা লাঠি নিয়ে তেড়ে আসলেও ওদের বড় অফিসারের বরাত দিতেই থেমে গেলো। হুকুম দিলো ৬ জন একসাথে নয়; ২ জন করে হাটতে হবে। তাও আবার মাঝে বিস্তর ফাঁক রেখে। সেমিন এমন হুকুমে মনে পড়েছিলো, ছোট বেলায় মা-বাবা কিংবা দাদা-নানার কাছ থেকে শোনা মুক্তিযুদ্ধেকালীন ঘটনার কথা। তখন নাকি রাস্তায় প্রায়ই এভাবে চলতে হতো মানুষকে।
সে যাই হোক, ওদের হাত থেকে ছাড়া পেয়ে ৩ সঙ্গীকে রাস্তায় হারিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজলা গেটে আটকালো পুলিশ। আবার ছেড়েও দিল বটে, তবে সুযোগ পেয়ে এইট পাশ কন্সটেবল ...বাচ্চা বলে গালিও দিলো। এসব পেছনে ফেলে রাস্তায় সেনাবাহিনীর টহলে ভীত চাহনি দেখিয়ে, শিবলী ভাইয়ের বাসা থেকে শুকনো খাবার নিয়ে সেদিন আশ্রয় নিয়েছিলাম যায়যায়দিনের রাজশাহী অফিসে। নির্ঘুম আতঙ্কময় একটি রাতও সেখানে কাটিয়েছি সেদিন। এরপর কত কিছু। কত গ্রেফতার, সমর্পন, রিমান্ড, দন্ড, জামিন, খালাস আর আন্দোলন।
এসব কিছু নিয়ে আজ আর বলতে চাইছে না মন। খুব বিষন্ন লাগছে নিজেকে। তাদের কথা খুব মনে পড়ছে। যারা ২২ আগস্ট ছাত্র-পুলিশ সংঘর্ষের পর ওইদিন রাত আর পরদিন ভোরে বন্ধ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাড়ি ফেরার পথে মোড়ে মোড়ে সয়েছে নির্যাতন। অর্ধশিক্ষিত সামরিক সদস্যরা বিশ্ববিদ্যালয়ের এসব শিক্ষার্থীদের নানান নিকৃষ্ট প্রাণীর বাচ্চা বলে মজা পেয়েছে, পশ্চাদদেশে লাথি মেরে, লাঠি ছুড়ে মজা পেয়েছে সেদিন। আরো মনে পড়ছে সেই গরীব রিকশাচালকের কথা। ২২ আগস্ট সংঘর্ষ চলার সময় আহত এক ছাত্রকে নিয়ে তিনি গিয়েছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রে। ক্লান্ত শরীরের রিকশায় বসে সেখানে আরেক রিকশাচালককে বলছিলেন, ভার্সিটি বন্ধ হলে তো বিপদে পড়তে হবে। সংসার চালাবার টেনশন তখন তার চোখে-মুখে। না, খুব বেশিক্ষণ করতে হয় নি সে টেনশন। সারাজীবনের জন্য তার টেনশন নিভিয়ে দিলো পুলিশের একটি বুলেট। মারা গেলো একটি মানবসন্তান।
আগস্ট বিক্ষোভে রাজশাহী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যেসব ছাত্র-শিক্ষক কারাগারে ছিলেন তাদের অনেকে আজ নানানভাবে পুরস্কৃত, সম্মানিত। অনেকে নানান পদও পেয়েছেন। শুনতে খারাপ লাগলেও এটাই বাস্তবতা। কিন্তু অর্ধশিক্ষিত সামরিক সদস্যদের মজার বলি হওয়া ছাত্ররা আর সেই গরীব রিকশাচালকের প্রতিদান কই। সংসারের একমাত্র উপার্জনকারীকে হারিয়ে তার পরিবার আজ কেমন আছে সেই খবর কি কেউ নিয়েছেন? যার মৃত্যুর খবর সেদিন আন্দোলনকে বেগবান করেছিলো তার প্রতি কি আমাদের কোন দায় নেই?
হায় হতভাগ্য আগস্ট নির্যাতিত ছাত্ররা, হায় হতভাগা রিকশাচালক ক্ষমা করো আমাদের। আজ ওই বিক্ষোভ ইস্যুতে কতজন কত সুবিধা নেয়। আর তোমরা পড়ে থাক অন্তরালে। শ্রদ্ধা ছাড়া আর কিইবা দিতে পারি তোমাদের। তাই নিয়েই না হয় সন্তুষ্ট থাকো।
(ব্যক্তিগত মতামত)
বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
অলস ছেলে বলেছেন:
+
নিউজনেট :: উন্নয়ন-অর্থনীতি বিষয়ক অনলাইন বলেছেন:
+
ওরাকল বলেছেন:
আর ধানমন্ডি ১৫ তে পুরিয়ে দেয়া রেস্টুরেন্ট ২ টির মালিকদেরই বা কী খবর ?আপনার লেখায় শুধু সরকারী বাহিনির অত্যাচারের কাহিনী বর্নিত হয়েছে। কিন্তু ছাত্র/ ছাত্র নামধারিরা যে ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করে সধারন জনগনের সম্পদহানী করেছে তাদের কথা কোথায় ?
লেখক বলেছেন: হাসান ভাই,
যারা ধ্বংস চালিয়েছে প্রথমত তারা ছাত্র নয়। দ্বিতীয়ত, ধ্বংস যারা চালিয়েছে তাদের পক্ষেও আমরা নই। আর বিক্ষোভ মানে একটি যুদ্ধ। আর যুদ্ধে সুযোগসন্ধানীরা সুবিধা নেবার চেষ্টা চালাবেই।
অসীম পাল বলেছেন:
সুজন, তোমার লেখাটা ভালো লাগলো। কেমন আছো?
লেখক বলেছেন: অসীম,
ভালো আছি। অন্তত ২০০৭ ও ২০০৮ এর রমাজান মাসের চেয়ে অনেক ভালো। ওই দুটো সময়ে উদ্বাস্তু হয়ে কাটাতে হয়েছে রমজান, সেই দিনগুলি।
সেলটিক সাগর বলেছেন:
হ্যা সেই সময়ের কথা মনে পড়ে গেল। তবে ডিটেইলস লিখে রাখা ভালো এজন্য যে আর পাঁচ বছর পরে পাঁচজন পাঁচরকম ইতিহাস বলা শুরু করতে পারে রাবিকে নিয়ে।অফটপিক, আপনার কি জানা আছে রাবির নেক্সট সিন্ডিকেট মিটিং গুলো কবে কবে? এই তারিখগুলো চাইলে আপনাদের আরইউনিউজ ওয়েবসাইটেও রেখে দিতে পারেন।
উত্তরের জন্য অগ্রিম ধন্যবাদ।
লেখক বলেছেন: সাগর,
ধন্যবাদ। সেসই সময়ের কথাগুলো তখনই লিখেছি সাহয়ার-এ। পড়তে হলে আমার ব্লগে ২০০৭ এর আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে ঢুকুন, পেয়ে যাবেন।
আর সিন্ডিকেট সভার তারিখ সংক্রান্ত পরামর্শের জন্য ধন্যবাদ আরো একবার। বিবেচনায় রাখলাম।
ওরাকল বলেছেন:
লেখক বলেছেন: যারা ধ্বংস চালিয়েছে প্রথমত তারা ছাত্র নয়।
--- একমত নই কারন ১৫ নম্বরের কান্ডটা ঘটিয়েছে ঢাকা কলেজ ও কিছু প্রাইভেট ইউনিভার্সিটির ছাত্ররা। আমি নিজেও একজন ছাত্র তবে স্বিকার করতে বাধা নেই আমাদের ও অপরাধীদের মধ্যে আচরন গত তেমন কোন তফাত নেই
দ্বিতীয়ত, ধ্বংস যারা চালিয়েছে তাদের পক্ষেও আমরা নই।
--- ধন্যবাদ
আর বিক্ষোভ মানে একটি যুদ্ধ। আর যুদ্ধে সুযোগসন্ধানীরা সুবিধা নেবার চেষ্টা চালাবেই।
---> যুদ্ধটা আমরা করছি কার বিরুদ্ধে ? সরকারী সম্পদ জনগনের টাকায় কেনা আর ব্যাক্তিমালিকাধীন দোকান-গাড়ি আমাদের মতই কারো সম্পত্তি। এটা কী নিজেদের পায়ে কুড়াল মারা নয়? যদি ধংসই করতে হয় তবে সরকারে অাসিন ব্যাক্তিদের সম্পদ ধংস করুক ...সাধারনেরটা কেন ?
ছাত্র-শিক্ষক নির্যাতন নিয়ে কিছু দিন ধরে যে আলাপ-লেখালেখি হচ্ছে তাতে সচেতন ভাবেই আমরা তাদের অপকর্মকে এড়িয়ে যাচ্ছি । আর এতেই ছাত্ররা ধংসযজ্ঞ চালিয়ে যাবার উত্সাহ পাচ্ছে
লেখক বলেছেন: আপনার মন্তব্যর জন্য ধন্যবাদ। তবে আমরা কখনই ধ্বংস চাই না; সেটি সরকারি সম্পদই হোক বা সরকারের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিবর্গের নিজস্ব সম্পদই হোক কিংবা সাধারণ জনগণের সম্পদই হোক।
আর সমালোচনা সবারই প্রয়োজন। তবে বিক্ষোভের আগুন ঠেকাবেন কোন জলে? সেটিও ভাববার প্রয়োজন।
ওরাকল বলেছেন:
ছাত্র-শিক্ষক নির্যাতন নিয়ে কিছু দিন ধরে যে আলাপ-লেখালেখি হচ্ছে তাতে সচেতন ভাবেই আমরা তাদের অপকর্মকে এড়িয়ে যাচ্ছি । আর এতেই ছাত্ররা ধংসযজ্ঞ চালিয়ে যাবার উত্সাহ পাচ্ছ। সমালোচনা যখন হচ্ছে দু-পক্ষেরটাই হোক
সেলটিক সাগর বলেছেন:
লেখক বলেছেন: সাগর,আর সিন্ডিকেট সভার তারিখ সংক্রান্ত পরামর্শের জন্য ধন্যবাদ আরো একবার। বিবেচনায় রাখলাম।
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
আগামী সিন্ডিকেট সভার তারিখগুলো কবে কবে এটা কি জানা আছে ভাই?
লেখক বলেছেন: স্যরি, এই মুহুর্তে জানা নেই। জানলে জানবেন আরইউনিউজ-এ।
মেহেরুল হাসান সুজন বলেছেন:
আগস্ট বিক্ষোভ নিয়ে ব্লগে প্রকাশিত আমার কয়কেটি লেখার লিংক-Click This Link
Click This Link
Click This Link
Click This Link
Click This Link
সেলটিক সাগর বলেছেন:
লেখক বলেছেন: স্যরি, এই মুহুর্তে জানা নেই। জানলে জানবেন আরইউনিউজ-এ~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
আচ্ছা আমি চেক করব নে আরইউনিউজ কয়েকদিন পরপর
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...














