আমার পত্রজীবন-২
(হারনো রাজিব ও প্রথম কোন মেয়ের চিঠি)
মাঝখানে পাক্কা দুটি বছর চলে গেছে। আমার পত্র জীবন নিয়ে দ্বিতীয় কিস্তি লেখা হয়ে ওঠেনি। অলসতা প্রথম পর্যায়ে আর চূড়ান্ত পর্যায়ে ভুলে যাওয়া রোগ আমার জীবনের স্বর্ণালী এই অংশ থেকে আমাকে বিরত রেখেছে। আজ ইচ্ছে করছি দ্বিতীয় কিস্তিটি লেখার। দেখা যাক স্মৃতিশক্তি কতটা শক্তি যোগায় আমাকে।
রাজিব ফেরদৌস মানিকের সঙ্গে আমার চিঠি বিনিময় খুব বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। ২০০২ সালের জুলাই মাস পর্যন্ত ধারাবাহিক ছিলো। ওই বছরের ৩০ জুন গিয়েছিলাম সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুরে রাজিবের বাড়িতে। তারপর ফিরে এসে দুয়েকটা চিঠি বিনিময় চললেও পরে রাজিব ঢাকায় চলে যাবার পর আর যোগাযোগ হয়নি। আমার মনে পড়ে ২০০৪ সালের শেষদিক পর্যন্ত মাঝে মাঝে ওর বাড়ির ঠিকানায় চিঠি দিতাম ওর নতুন ঠিকানা বা ওকে পাবার জন্য। জানতাম ও ২০০২ এর আগস্টে ঢাকায় চলে গেছে পড়তে। তাই প্রতি ঈদের আগে চিঠি ছাড়তাম যাতে ও বাড়ি এসে অন্তত চিঠি পায় আমার। কিন্তু আজো সেই বন্ধুটির কোন খোঁজ পাইনি। এখনো অবসরে পুরনো ফাইল ঘাটতে গিয়ে রাজিবের সুন্দর হাতের লেখা চিঠি চোখে পড়ে, সঙ্গে বাতেনেরও। বাতেন সিরাজ রাজিবের ঘনিষ্ট বন্ধু। তার সঙ্গেও আমার পত্রযোগাযোগ ছিলো। তাকেও হারিয়েছি সময়স্রোতে।
২০০২ সালের এপ্রিল মাসের দিকে জীবনে প্রথম কোন মেয়ের চিঠি পেলাম। পাবনায় বাড়ি তার। লিখেছে দৈনিক করতোয়া আমার প্রকাশিত লেখাগুলো খুব ভালো লাগে তার। আমাকে আর পায় কে! অনেক বড় বড় লেখকরা ভক্তদের চিঠি পাবার গল্প লেখে। কিশোর আমি তখন যেনো তখন সেই লেখকদের কাতারে বসে বসে বাদাম চিবুচ্ছি। উল্লাসে ফেটে পড়ে একদৌড়ে (ভায়া সাইকেল) বাড়ি গিয়েই উত্তর লিখতে বসলাম। ব্যস, পাল্টাপাল্টি চিঠি। আমি লিখি সে লিখে। সে কী ভাষা। মনে পড়তেই আজো পুলকিত হই। আমার চিঠি না পেলে তার পেটের ভাত নাকি হজম হতো না। কোন উপায়ে সেই ভাত পেট থেকে বের করা গেলে নাকি চাল হয়ে বেরুতো। বুঝতে পারছিলাম, কিশোরিটি দিল্লিকা লাড্ডু খাবার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে। বাধা দেইনি। হাজার হোক-আবগের স্বর্ণসময় ছিলো তো সেটি। যদিও শেষতক গোলপোস্টের ধারে আসা হয় নি তার। তার আগেই লালকার্ড।
ওই বছরের আগস্টের শেষদিকে শেষ হয়েছিলো তার সঙ্গে আমার পত্রালাপ। কপাল বলতে হয় বেচারির। তার মামার হাতে পড়ে গেলো চিঠিখানা। কিশোর বয়সের আবেগ জড়ানো ভাষা। (তবে এটুকু নিশ্চিত যে প্রেমপত্র ছিল না সেটি)। পরের চিঠিটি সেই কিশোরীর চোখের জলে লেখা। তার মামা নাকি তাকে বলেছে আমার সঙ্গে চিঠি চালাচালি করলে তাকেসহ আমাকে কাজী অফিসে চালান করে দেবে। আমি আর এগুই? কিশোরীকে লিখে দিলাম-ধরে নিও বন্ধু আমি মরে গেছি। সনে কী ধরে নিয়েছিলো, নাকি আদৌ সেই চিঠি তার হাতে পড়েছিলো-আর জানা হয়নি। কখনো জানতে পারবোও না হয়তো।
(চলবে)
প্রথম কিস্তি এখানে
আলোচিত ব্লগ
Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ
![]()
প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন
আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?
আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন
যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন
বাকি রইলো; কাঁচা কলা

স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন
স্মৃতির নৌকা
কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।
কোন কোন সন্ধ্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।