somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শাশ্বত সত্যকে নিয়ে কিছু অসত্য প্রসঙ্গের ময়নাতদন্ত

১২ ই জুন, ২০১০ রাত ৮:৩৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শাশ্বত সত্য এই ব্লগে অনেক পরিচিত একটা মুখ। এনকাইলোজিং স্পন্ডিলাইটিস রোগাক্রান্ত শাশ্বত'র চিকিতসার জন্য যে ৩৫ লাখ টাকার সন্ধানে আমরা নেমেছিলাম, তার প্রাথমিক ভাগে এই ব্লগ ও এর কিছু ব্লগারের চেষ্টায় এসেছিলো ৪ লাখ ৮২ হাজার টাকা। প্রথম ভাগের কার্যক্রমে ১৫ লাখ টাকা তুলে প্রথম ধাপের চিকিতসা কাজও আমরা শেষ করেছি। কিছুদিন আগে দ্বিতীয় ধাপের সহায়তা কাজ শুরুর শুরুতেই এই ব্লগে একটি পোস্ট দিয়েছিলাম আমি। পোস্ট দেয়ার কিছুদিনের মাথায় আমি অর্থ সংগ্রহের কাজে বিভাগের পক্ষ থেকে রাজধানীতে যাই। ফিরে ব্লগে বসার সুযোগ হয় নি। বিলম্বে জানতে পারি ব্লগের কয়েকজন ব্লগার শাশ্বতর সহায়তা কার্যক্রম নিয়ে কিছু অসত্য প্রসঙ্গ বেশ রংচং মাখিয়ে তুলেছেন আমার সেই পোস্টে। তাদের অযাচিত সেই সব প্রসঙ্গে অসুস্থ শাশ্বতর মনটাকেও অসুস্থ করে তুলেছে। বিভাগের পক্ষ থেকে আমি এবং আনিসুজ্জামান উজ্জলের সহায়তায় সেইসব মিথ্যাচারের জবাব আমার সেই পোস্টেই দালিলিক প্রমাণ সহযোগে দিয়েছি। আজ আরেকটু বিস্তারিত বলার মানসিকতায় এই লেখা শুরু করছি।

আমার পোস্টটিতে লুকার নামের একজন ব্লগার প্রথম অসত্য প্রসঙ্গটি তোলেন। তিনি তার মন্তব্য তিনটি প্রসঙ্গ তোলেন। যথা-১. শাশ্বত সহায়তার জন্য যে অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করা হচ্ছে সেটি আমাদের শিক্ষক আ-আল মামুন স্যারের। ২. মামুন স্যার শাশ্বতর প্রথম ধাপে যোগার করা অর্থ সাহায্যের টাকা হাপিস (লোপাট) করেছেন এবং ৩. মামুন স্যার জামায়াতপন্থী শিক্ষক। বিষয়গুলো একটু পর্যবেক্ষণ করলেই বোঝা যায় লুকার সাহেবের রাগ শাশ্বতর টাকা `লোপাট' নয়, মামুন স্যারকে নিয়ে। তাকে যে মিথ্যাগুলো কেউ শিখিয়ে দিয়েছেন তা বোঝা যায় লুকার সাহেবের `শুনেছি' বলে এসব মিথ্যার তথ্যসূত্র দেয়া থেকেই। তো যাই হোক, লুকার সাহেবসহ সবার অবগতিতে জানাই, শাশ্বতর সহায়তার জন্য যে দুটো ব্যাংক অ্যাকাউন্ট আমরা শুরু থেকে ব্যবহার করছি, সে দুটে মামুন স্যারের ব্যক্তিগত নয়। বিভাগ থেকে দুই জন শিক্ষক ও একজন শিক্ষার্থী যৌথভাবে অ্যাকাউন্ট দুটি পরিচালনা করছেন শুরু থেকেই।

লুকারের বলা দ্বিতীয় মিথ্যাটির জবাব এই পোস্টের একটি ছবি থেকে পাওয়া যাবে। যাতে দেখা যাচ্ছে প্রথম ধাপের চিকিতসার ১৩ লাখ টাকা ভারতের ভেলোরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে দেয়া হয়েছে। প্রসঙ্গত, প্রধম ধাপে যে ১৫ লাখ টাকা সংগ্রহ করা হয়েছিল তার মধ্যে ১৩ লাখ টাকা প্রথম ধাপের চিকিতসার জন্য ও প্রায় ১ লাখ টাকা ভারতে থাকা-খাওয়াসহ আনুষাঙ্গিক খরচের জন্য দেয়া হয় শাশ্বতর বাবার হাতে। তো লুকার মহোদয়, মামুন স্যার যদি ৫ লাখ বাদ দিয়ে বাকি টাকা হাপিসই করেবন তাহলে ওই ১৩ লাখ টাকা কি আপনি ফেরেশতা মারফত হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে পাঠানোর ব্যবস্থা করেছিলেন? অবশ্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কিন্তু তা স্বীকার করবে ন, কারণ তারা বাংলাদেশের কোন ব্যাংক থেকে টাকাটা পেয়েছে তার প্রাপ্তিস্বীকারও করেছে। আমার পোস্টে শুধু লুকার সাহেব একাই নন, শাশ্বতর চিকিতসা সহায়তার প্রথম ধাপে কর্মব্যস্ত ব্লগারেদর একজন কালপুরুষ নিজেও এই টাকা লোপাটের কথা বলেছেন। দুঃখ হয় ভদ্রলোকের জন্য। কবি মানুষ, তাই তার মিথ্যার উল্টোপিঠে কঠিন কোন কথা শোনাতে পারলাম না। শুধু তাকে বলবো, এই পোস্টে ব্যবহৃত ছবিগুলো মনোযোগ দিয়ে দেখুন এবং নিজের চুল (মাথার) ছিঁড়ুন।

এবার আসি লুকার সাহেবের তৃতীয় প্রসঙ্গটির ব্যাপারে। তিনি মামুন স্যারকে জামায়াতপন্থী বলেছেন। এতে তাল মিলিয়েছেন কবি কালপুরুষও। কপাল ভালো তাদের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে এই কথাটি পাড়েন নি তারা। তাহলে কিছুক্ষণের মধ্যে তাদের জন্য আমাদের দ্রুত রাজশাহীর সাহেব বাজার কাপড় পট্টিতে দৌড়াতে হতো। আ-আল মামুন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম প্রগতিশীল শিক্ষক। বাম ধারার শিক্ষক হিসেবেই তিনি বেশি পরিচিত রাজশাহীসহ সারাদেশে। জরুরি অবস্থার সরকারের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলার মাঠে সেনা সদস্যর সঙ্গে ছাত্রদের যে সংঘাতের সূত্রপাত তার বিরুদ্ধের মাঠে নামার কারণে ওই সরকার আমাদের যে ৭ শিক্ষককে জেলে রেখেছিলো তাদের মধ্যে মামুন স্যার। আজ জামায়াত-শিবিরও যদি শোনে মামুন স্যার জামায়াতপন্থী তাহলে সেই মন্তব্যকারীকে তারাও পাবনায় পাঠানোর জোর সুপারিশ করবে বোধকরি। মামুন স্যার প্রসঙ্গে লুকার, ক্যামেরাম্যান ও কালপুরুষ যে সব কথা বলেছেন সেগুলোতে তারা `শুনেছি' `ধারণা করি' `বিশ্বস্ত সূত্র' ইত্যাদি শব্দ ব্যবহার করে প্রমাণ করেছেন তাদের পায়ের নিচে মাটি নাই (মানে তাদের কথা ভিত্তি নেই।) যদি থাকে তাহলে তারা প্রমাণ হাজির করে দেখাক, আমরা খুব উন্মুখ হয়ে আছি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেকজন জামায়াতি শিক্ষকের কীর্তন শোনার জন্য।

শাশ্বত সত্যর চিকিতসার জন্য যেদিন বিভাগ কাজ শুরু করে, তারপর থেকে সমস্ত খরচের হিসেব আমাদের বিভাগীয় কমিটি ও শাশ্বতর বাবার কাছে আছে। মিথ্যে তথ্য উপস্থাপন করে যারা বিষয়টিকে ঘোলাটে করার পাঁয়তারা করছেন, তাদের বলবো যদি পানি ঘোলা করে না খেতে হয় তাহলে রাজশাহীত আসেন বিশুদ্ধ পানি পান করাবো সব কাগজ আপনাদের চোখের সামনে রেখে।

আমরা লুকার, ক্যামেরাম্যান ও কালপুরুষের এসব মিথ্যাচারের যার পর নাই হতাশ। তাদের জন্য আফসোস করা ছাড়া আমাদের কোন উপায় নেই। একটি মহত উদ্যোগকে বানচাল করতে তারা এমন অসত্য বলছেন-এমন ভয়ঙ্কর ধারণা করতেও আমরা ভয় পাচ্ছি। শুধু বলবো, কাউকে বাঁচাতে না পারেন, তাকে একাই বাঁচতে দিন-দয়া করে মারতে আসবেন না। যদিও অপ্রিয় কিছু প্রমঙ্গ নিয়ে এই লেখা তবু আরেকবার আহ্বান জানাই শাশ্বত'র সাহায্যে এগিয়ে আসার জন্য।

সাহায্য পাঠানোর ঠিকানা:
১.
শাশ্বত চিকিৎসা সহায়তা
অ্যাকাউন্ট নম্বর: ৩৪২৬০৪৯৮, অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেড,
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা, রাজশাহী।

২.
Saswota Chikitsa_Sohayota' AC no: 135-101-33705, Swift Code: DBBL BD DH 100, Dutch-Bangla Bank Lomited.

আমার সেই পোস্ট, যাতে এসেছে মিথ্যাচারগুলো-
Click This Link
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই জুন, ২০১০ রাত ৮:৩৭
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×