somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শাশ্বত চিকিৎসার জন্য ভারত যাচ্ছে বৃহস্পতিবার

২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০১০ বিকাল ৪:৪২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমাদের স্বপ্ন আজ পূরণের পথে। ২০০৮ সালে যে স্বপ্ন বুকে লালন করে আমরা শাশ্বত সত্যকে বাঁচাতে নেমেছিলাম রাস্তায়। ৩৫ লাখ টাকা ছিলো আমাদের লক্ষ্য। গত ২৬ সেপ্টেম্বর আমরা সেই লক্ষ্যে পৌঁছেছি। প্রথম ধাপে ১৫ লাখ এবং ২৬ সেপ্টেম্বর ২০ লাখ-এই মোট ৩৫ লাখ টাকা আমরা শাশ্বতর জন্য সংগ্রহ করেছি। আর হয়তো সামান্য কিছু টাকাই লাগবে আমাদের। তবে তার আড়েই আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয় পর্যায়ের চিকিৎসার জন্য ভারতের ভেলোরে যাচ্ছে শাশ্বত সত্য। আমাদের স্বপ্ন শুরুতে সামহয়ার ইন ব্লগ ও এর ব্লগাররা আমাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছিলেন, শাশ্বতর জন্য নেমেছিলেন রাস্তায়। ব্লগ কর্তৃপক্ষ ও সেই বন্ধুপ্রাণ ব্লড়ারদের আন্তরিক ভালবাসা। গত ২৬ সেপ্টেম্বর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ টাকার চেক হস্তান্তর অনুষ্ঠানে শাশ্বত চিকিৎসা সহায়তা কমিটি যে লিখিত তথ্য উপস্থাপন করে সেটি হুবুহু তুলে ধরা হলো। এর মধ্য দিয়ে এই ব্লগে শাশ্বত সত্যর ইতিহাস নিয়ে সম্যক ধারণা পাওয়া যাবে।


শাশ্বত সত্য চিকিৎসা সহায়তা : দ্বিতীয় পর্যায়ের চিকিৎসার জন্য চেক প্রদান
গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের মেধাবী শিক্ষার্থী শাশ্বত সত্য বাঁচার তীব্র আকুতি জানিয়েছিল সবার কাছে। হাড় ক্ষয়ে যাওয়া সেই দুরারোগ্য অ্যানকাইলোজিং স্পন্ডিলাইটিস রোগে যখন তার জীবন ধীরে ধীরে ক্ষয়ে আসছিল তখন এ বিভাগ থেকে নেওয়া হয় নানা পদক্ষেপ। সেই ২০০৮ সাল থেকে শুরু করে এ পর্যন- দীর্ঘ দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে তার ব্যয়বহুল চিকিৎসার টাকা সংগ্রহের চেষ্টা চালানো হয়। এগিয়ে আসেন এ বিভাগের সকল শিক্ষক, শিক্ষার্থী। পাশে এসে দাঁড়ায় আরো বহু মানুষ। সারা দেশের সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে অনেক প্রথিতযশা মানুষের সহায়তায় ধীরে ধীরে সংগৃহীত হতে থাকে শাশ্বত সত্যের চিকিৎসার প্রয়োজনীয় টাকা। স্বনামধন্য নাট্যব্যক্তিত্ব ও চলচ্চিত্র পরিচালক নাসিরউদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু, শিমুল ইউসুফ, আসাদুজ্জামান নূর, মামুনূর রশিদ, ইমদাদুল হক মিলন এর মতো সাংস্কৃতিক-সাহিত্যিক ব্যক্তিদের পাশাপাশি রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটনের মতো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরাও এগিয়ে আসেন।

তবে প্রথম দফায় শাশ্বতের চিকিৎসার জন্য প্রায় পনের লাখ টাকা সংগৃহীত হলেও চিকিৎসা সম্পন্ন করা যায়নি। প্রথম দফায় ২০০৮ সালের শেষের দিকে তাকে ভারতের ভেলরে ক্রিশ্চিয়ান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ড. দেবাশীষ দণ্ড-এর তত্ত্বাবধানে ভর্তি করা হয়। ডা. দণ্ড শাশ্বতের পুরো চিকিৎসার জন্য ৩৫ লাখ টাকা লাগবে বলে জানান। সংগৃহীত টাকা দিয়ে অস্ত্রোপচারপূর্ব চিকিৎসা চলে, কথা ছিল ছয় মাসের মধ্যে বাকি জোগাড় করে তার অস্ত্রোপচার করা হবে। মাঝে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনশৃঙ্খলা পরিসি'তির অবনতির কারণে ক্যাম্পাস বন্ধসহ নানা কারণে চিকিৎসার বাকি টাকা সংগ্রহে ছেদ পড়ে। ফলে অস্ত্রোপচার আর হয়নি।

এ অবস্থয় দ্বিতীয় দফায় ২০০৯ সালে আবার চেষ্টা করা হয় টাকা জোগাড়ের জন্য। এবার সাহায্যের জন্য উদারভাবে হাত বাড়িয়ে দেন রাজশাহীর মেয়র জনাব খায়রুজ্জামান লিটন। তিনি নানা জায়গা থেকে একাই সাড়ে সাত লাখ টাকা জোগাড় করে আমাদের হাতে তুলে দেন। তার এই বড় অঙ্কের সাহায্য আমাদের অনেক সাহসী করে তোলে। এর পর আমরা নানা সূত্র ধরে বিভিন্ন ব্যাংকে আবেদন করতে থাকি এবং বড় অঙ্কের টাকা জোগাড় করতে সক্ষম হই। জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক, এবি ব্যাংক, উত্তরা ব্যাংক, ইউসিবিএল ব্যাংক, সোনালী ব্যাংক থেকে এক লাখ করে মোট ৭ লাখ টাকা, ন্যাশনাল ব্যাংক থেকে দেড় লাখ এবং পূবালী, আইএফআইসি, ঢাকা ব্যাংক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, স্ট্যান্ডার্ড থেকে ৫০ হাজার টাকা করে দুই লাখ ৫০ হাজার এবং একটি এনজিও থেকে এক লাখ টাকা পাই। এ ছাড়া এনসিসি ব্যাংক থেকে ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে যা পাওয়ার প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

এ-ছাড়া পূর্বের চিকিৎসার পর ফাণ্ডে ১ লাখ ৩৭ হাজার টাকা জমা ছিল। এর কিছু অংশ কনসার্ট করার জন্য শিল্পীদের অগ্রিম সম্মানী হিসেবে দেওয়া হয়। কনসার্ট বাতিল হওয়ার পর তা থেকে ৫০ হাজার টাকা ফেরত পাওয়া গেছে। এ-সংক্রান- খরচ বাবদ টাকা বাদ দিয়ে আরও ৬০ হাজার টাকা ফাণ্ডে ফেরত আসার কথা রয়েছে। গত ডিসেম্বরে বিভাগের পক্ষ থেকে একটি বিশেষ চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হলে তা থেকে ২৫ হাজার টাকা সংগৃহীত হয়। এগুলো মিলিয়ে আজ মোট ১৯ লাখ ৫০ হাজার টাকার চেক শাশ্বত’র বাবার হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে। ইতোপূর্বে পাসপোর্টের ডলার এনডোর্স করার জন্য ৫০ হাজার টাকা তাঁকে নগদ দেওয়া হয়েছে। যাবতীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে অস্ত্রোপচারের লক্ষ্যে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর অর্থাৎ বৃহস্পতিবারের মধ্যে আমরা শাশ্বতকে ভারতে পাঠানোর চেষ্টা করব।

যেহেতু শাশ্বতের চিকিৎসার জন্য কমপক্ষে ২৫ লাখ টাকা লাগবে, তাই এ টাকাসহ আরও কয়েক লাখ টাকা আমাদের পরে সংগ্রহ করতে হবে। মেয়রের প্রতিশ্রুত আরও দুই থেকে আড়াই লাখ টাকা পাওয়ার সম্ভাবনা আছে। মেয়র আগামীকাল সোমবার শাশ্বতের বাবাকে তার দপ্তরে ডেকেছেন। আশা করি, তিনি তার প্রতিশ্রুতির বাকি টাকা সংগ্রহ করে দেবেন। এতে আমাদের বাকি কাজ অনেক সহজ হয়ে যাবে। চিকিৎসা চলাকালীন এ টাকা সংগ্রহ করে শাশ্বত’র বাবার হাতে তুলে দেওয়া হবে।
যেসব ব্যাংকের নাম উল্লেখ করেছি সেগুলো থেকে আর্থিক সহায়তা পেতে যাদের আন-রিক সহযোগিতা ছিল তাঁরা হলেন জনতা ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক ড. আবুল বারকাত, অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির বর্তমান সভাপতি অধ্যাপক ড. খন্দকার বজলুল হক, জনপ্রিয় কথাশিল্পী ইমদাদুল হক মিলন, বিখ্যাত নাট্যব্যক্তিত্ব মামুনুর রশিদ, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর অধ্যাপক ড. আতিউর রহমান, শাশ্বত সত্যের বাবা অরুণ সত্যের গ্রামের মানুষ ও বাংলাদেশ ব্যাংকের অন্যতম নির্বাহী পরিচালক সীতাংশু কুমার রায় প্রমুখ। এখানে বলে রাখা ভালো, শাশ্বত সত্যের চিকিৎসার টাকা সংগ্রহের প্রতিটা পদক্ষেপে আমরা গুণী মানুষ নাসিরউদ্দীন ইউসুফ বাচ্চুর যে আন্তরিক সহায়তা পেয়েছি তা কখনো ভুলবার নয়।

এই প্রচেষ্টায় আমরা নানা সময় আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. এম আব্দুস সোবহান স্যারকে অনেক বিরক্ত করেছি। দফায় দফায় প্রায় ৪০টি আবেদনে উপাচার্য মহোদয় সুপারিশ করে দেওয়ার ক্লানি-কর কাজটি করে দিয়েছেন সানন্দচিত্তে। উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. এম নুরুল্লাহ স্যারসহ এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক মুহম্মদ মিজানউদ্দিন, অধ্যাপক চৌধুরী সারওয়ার জাহান সজল, অধ্যাপক মলয় কুমার ভৌমিক, অধ্যাপক চিত্তরঞ্জন মিশ্র, অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহা স্যার আমাদের এতোভাবে সহায়তা করেছেন যা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণীয়। বিভাগের সকল শিক্ষক ও শিক্ষার্থী শাশ্বতের চিকিৎসার টাকা সংগ্রহে দিন-রাত অক্লান- পরিশ্রম করেছেন। তাদের সবার প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। এ-উদ্যোগে আরো অনেকের অবদান রয়েছে যা এখানে হয়তো উল্লেখ করা গেল না।

পরিশেষে আমরা, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা শাশ্বত সত্য ও তার পরিবারের পক্ষ থেকে সবার কাছে দোয়া, আশীর্বাদ কামনা করছি যাতে শাশ্বতের চিকিৎসা সফল হয় এবং সে সুস' দেহে দেশে ফিরে আবার পড়ালেখায় মনোনিবেশ করতে পারে; দেশ ও জাতির কল্যাণে আত্মনিবেদন করতে পারে এবং চূড়ান- সফলতা পায় আমাদের সকল উদ্যোগ।

বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী-কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০১০ বিকাল ৪:৪৫
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিলিয়নিয়ার রবিন খুদা ও আমাদের জাতীয় অগ্রাধিকার

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ০৯ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৩০

বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয় কী?

কর্মসংস্থান? না।

বিনিয়োগ? না।

ডলার সংকট? না।

গার্মেন্টস খাতে ছাঁটাই? না।

ব্যাংকিং খাতের আস্থা সংকট? না।

সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো— কোনো অনুষ্ঠানে জুলাই চেতনা কত মিলিলিটার ঢুকেছে, কে কতবার উচ্চারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×