somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বৈশ্বিক উষ্ণতার অবদান-মুছে গেছে দক্ষিণ তালপট্রি দ্বীপ (নিউমুর আইল্যান্ডস)

২৫ শে মার্চ, ২০১০ রাত ১২:০৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অবশেষে দক্ষিণ তালপট্রি দ্বীপটি'র অস্তিত্ব-ই মুছে গেছে বঙ্গোপসাগরের তলদেশ থেকে, আর এর জন্য বিজ্ঞানী'রা বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধ্বি এবং বিশ্বজুড়ে জলবায়ুর অস্বাভাবিক পরিবর্তনকেই দায়ী করেছেন মূলত-

আজ এইমাত্র দুই ঘন্টা আগে আসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)'র নয়াদিল্লীস্থ সংবাদদাতা নির্মলা জর্জ-এর বরাতে পরিবেশিত সংবাদে জানানো হয়েছে যে, বিজ্ঞানীদের ওসোনোগ্রাফিক পর্যবেক্ষণে স্যাটেলাইট ইমেজারী এবং সী পেট্রোল এর মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়েছে যে বঙ্গোপসাগরের তলদেশে দক্ষিণ তালপট্রি দ্বীপ'টির (যা ভারতে নিউমুর আইল্যান্ডস নামে পরিচিত) কোন অস্তিত্ব বর্তমানে নেই। বর্তমানে ভারতের সুন্দরবন এলাকায় নিউমুর আইল্যান্ডস (যা বাংলাদেশে দক্ষিণ তালপট্রি দ্বীপ নামে পরিচিত) এর অস্তিত্ব সম্পূর্ণ মুছে গেছে।

এ প্রসংগে কোলকাতা'র যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অফ ওসোনোগ্রাফিক ডিপার্টমেন্ট এর প্রফেসর সুগাতা হাজরা বার্তা সংস্থা এপি'কে জানান যে, তাঁর ডিপার্টমেন্ট অনেকদিন যাবৎ বঙ্গোপসাগর এলাকায় সমুদ্রপৃষ্ঠে পানির উচ্চতাবৃদ্ধির বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে এবং বিগত কয়েক দশক যাবৎ যে হারে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পাচ্ছে তা এ অঞ্চলের দেশগুলির জন্য বিশেষ করে বাংলাদেশের জন্য খুবই বিপদজনক। প্রফেসর সুগাতা আরো বলেন যে, "২০০০ সাল পর্যন্ত এ অঞ্চলে সমুদ্রপ্বষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির হার ছিল প্রতিবছরে ৩ মিলিমিটার, কিন্তু এর পরের দশকে এই হার বেড়ে বর্তমানে প্রতিবছর ৫ মিলিমিটার করে উচ্চতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে ১৯৯৬ সালে সুন্দরবনের সন্নিকটবর্তী 'লোহাছড়া' নামের একটি দ্বীপ সমুদ্রগর্ভে সম্পূর্ণ তলিয়ে যায় এবং বর্তমানে 'ঘোড়ামারা' নামের আরেকটি দ্বীপ অর্ধেক তলিয়ে আছে। বিজ্ঞানীরা ধারনা করছেন যে এভাবে সুন্দরবনের আশেপাশের এলাকার আরো অন্তত ১০টি দ্বীপ আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই সমুদ্রগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে,যার ফলে দিন দিন পরিবেশ উদ্বাস্তুদের সংখ্যা আশংকাজনক হারে বৃদ্ধি পাবে।

এপি'র রিপোর্টে আরো বলা হয়েছে, যে ১৫০ মিলিয়ন মানুষের দেশ ঘনবসতিপূর্ণ, নীচু-বদ্বীপ-বাংলাদেশ হচ্ছে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পৃথিবীতে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ দেশ এবং বিশ্বজুড়ে পরিবেশ বিজ্ঞানীদের পূর্বাভাষ মোতাবেক আগামী ২০৫০ সালের মধ্যে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা এক মিটার (৩.৩ ফুট) বৃদ্ধি পেলেই বাংলাদেশের ১৮ শতাংশ উপকূলীয় এলাকা পানিতে ডুবে যাবে এবং প্রায় ২০ মিলিয়ন মানুষ বাস্তুচ্যুত হবে।

উল্লেখ করা যেতে পারে যে, সাড়ে তিন কিলোমিটার লম্বা এবং তিন কিলোমিটার প্রস্থের দক্ষিণ তালপট্রি দ্বীপটি নিয়ে বিগত তিরিশ বছর যাবৎ ভারত-বাংলাদেশ বিরোধ চলছে এবং বিগত তিরিশ বছর বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক হিসেবে কাজ করেছে। অন্যদিকে দ্বীপটির বাস্তবে কোন স্থায়ী কাঠামো না থাকলেও ১৯৮১ সালে ভারত সেখানে ভারতীয় পতাকা উত্তোলন করতে আধা সামরিক বাহিনী পাঠায় এবং যদিও বাংলাদেশের প্রবল আপত্তির মুখে পরে তা প্রত্যাহার করে নেয়, কিন্তু বেশ কিছু দিনের জন্য বিষয়টি এ অঞ্চলের আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে। এসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)'র রিপোর্টে এ বিষটিকে ইঙ্গিত করতেই অত্যন্ত
করুণ সত্যের মতো বলা হয়েছে যে, "What these two countries could not achieve from years of talking, has been resolved by global warming".

হ্যা, বিষয়টা হয়তো সত্য, কিন্তু এর চেয়েও ভয়ংকর সত্য ভবিষ্যতে আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে, আমরা এখনো যা হয়তো কল্পনা করছি কিন্তু উপলব্ধি করতে পারছি না-আমরা কি সে সত্য মোকাবেলার জন্য প্রস্তুত আছি ? আমাদের পরিকল্পনা গ্রহনে এবং বাস্তবায়নে?
৮টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×