ব্লগারস ও অ্যাক্টিভিস্ট ফোরামের নেতার একটি উক্তিকে কেন্দ্র করে কিছু কথা এসে যায়। সন্দেহ নেই আমাদের শাহবাগ কেন্দ্রীক আন্দোলনটি ইতিমধ্যেই বড় কিছু হয়ে দেখা দিয়েছে। এখন উপযুক্ত সময় , আন্দোলনটি কোন পথে যাবে ও সঠিক দাবিগুলো কি তা নির্ধারন করা। বাংলা নিউজে একটি খবরে দেখা যায় ব্লগারস ফোরামের নেতা দাবি করেছেন ধর্ম ভিত্তিক রাজনীতি বন্ধ করাই আসল লক্ষ্য। বিষয়টি যদি সত্যিই এমন হয় তবে তা আশঙ্কার কথা। কারন কিছু বাম দলও স্বাধীনতার বিরোধীতা করেছিল। আমরা যদি একাত্তরের গনহত্যার বিচার চাই তবে শুধু ধর্মভিত্তিক রাজনীতি কেন এর বলী হবে। সেই সব বাম দলও নিষিদ্ধ হতে হবে। এদেশের অধিকাংশ জনগনই ধর্মপরায়ন।
ধর্ম ভিত্তিক রাজনীতি নিয়ে কথা বলতে গেলে মুলত বর্তমান আন্দোলনকেই পিছিয়ে দেয়া হবে। কোনো রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করা নয়, বরং আমাদের উচিৎ কেবলমাত্র যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চাওয়া। সে যে দলেই হোক না কেন। নির্দলীয় তো শুধু মুখে বললেই হবে না, কাজেও দেখাতে হবে। ধর্মভিত্তিক রাজনীতি ভিন্ন একটি বিষয়। আর সকল ধর্মভিত্তিক দলই রাজাকার ছিল না। আপনাদের সুবিধার্থে বলছি , দেশে ৫০ টিরও বেশি ধর্মভিত্তিক দল আছে। এর মধ্যে অনেকগুলো দল বিভিন্ন পীর সাহেবদের কেন্দ্র করে করা হয়েছে। যেহেতু মুহম্মদ সঃ রাজনীতি করেছেন, সেহেতু তাদের দল করার ক্ষেত্রে যুক্তিও রয়েছে।
তাছাড়া গনতন্ত্র এসব নিষিদ্ধের পক্ষে যায় না। ৫০ টি দল নিষিদ্ধ করতে গেলে ও শুধু আওয়ামী ও বাম রাজনীতি সেইসাথে সুবিধাবাদি দক্ষিনপন্থী বিএনপির রাজনীতি যদি অক্ষুন্ন থাকে সেটা নতুন এক ধরনের বাকশালই হবে। ধর্মে অনেকে বিশ্বাস না ও করতে পারেন। এটা তাদের বিবেচনা। কিন্তু গনতন্ত্র নিয়ে যদি কথা বলেন, তবে একটি দলকে শুধু ধর্ম কেন যদি কলাগাছের নামে ভোট চায়, তবে তাও নিষিদ্ধ না করে সুযোগ দিতে হবে।
জামায়াতকে বরং বাধ্য করা উচিৎ যাতে তারা যুদ্ধাপরাধীদের সঙ্গ ছেড়ে দেয়। তবেই জাতির মঙ্গল। আর আন্দোলনের মুল অভিযোগ কিন্তু জামায়াতের বিরুদ্ধে নয়, বরং আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে। কারন , আমরা বলছি যে আওয়ামী লীগই এ বিচারকে প্রভাবিত করে সমঝোতার রায় করিয়েছে। সুতরাং তারা সমান অপরাধী। তাদের দলে , বিএনপিতে বা জামায়াতে সব দলেই রাজাকার রয়েছে। এজন্য কি সবাইকে নিষিদ্ধ হতে হবে?
আন্দোলন স্থলে গেলে বোঝা যায়, কিভাবে শরীরে ও মনে এক ধরনের জোশ এসে যায়। সেই জোশটাকে আমাদের আসল দাবি আদায়ের জন্য কাজে লাগাতে হবে। উল্টাপাল্টা যুক্তি আন্দোলনকে স্তিমিত করে দিতে পারে। আমি বিশ্বাস করি যে শুধু কাদের মোল্লা নয় সকল দলের ছদ্মাবরনে যত যুদ্ধাপরাধী আছে তাদের সবার বিচারই করতে হবে।
নিশ্চয়ই আটককৃত এই ৬ জন পুরো দুই লাখ মা বোনকে ধর্ষন করেনি। আরো অনেক অনেক আছে। যারা ক্ষমতাসীন দলে আছে, আবার বিএনপিতেও আছে। তাদের বিষয়েও স্পষ্ট মুখ খুলতে হবে। একই অপরাধ করে কেউ ক্ষমতা উপভোগ করবে আবার কেউ ফাঁসিতে ঝুলবে এটাও হতে দেয়া যায় না। যদি সে রকম কিছু হয় তবে এ জাতি কলঙ্কমুক্ত তো নয়ই বরং আরো কলঙ্কিত হবে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




