আওয়ামী লীগ ছাড়া দেশে মুলত অবশিষ্ট প্রধান দল তিনটি। বিএনপি , জাতীয় পার্টি ও জামাত। এদের মধ্যে আমাদের অনেক সুশীল শ্রেনীর কাছে জামাত এখন আর কোনো দলই না। তাদের কোনো জনসমর্থন ই নাই । তারা কোনো কথা বললে তা আর মানতে চান না অনেকেই ।
কিন্তু সরকারের অংশ, বর্তমান সরকারের মূল যে শরীক দল জাতীয় পার্টি, প্রথম আলোর জরিপে দেখিয়েছিল জাপার জনসমর্থন ১২ শতাংশ। আমি একথা বিশ্বাস করি। কোনো বাকশালী যদি দেশের সব জনগন আওয়ামী লীগের পক্ষে আছেন ধরে নেন তা ধরতে পারেন। এ রকম অনেক পাবলিক এই সামুতেও আছেন। একথা আমি স্বীকার করছি। কুসুমেও কীট থাকে।
যাই হোক আজ জাতি সত্যিই বিভক্ত কি না , অথবা যুদ্ধাপরাধী প্রশ্নে এমনকি তত্বাবধায়ক সরকার প্রশ্নে আজ যেমন বিএনপির নেত্রী কথা বলেছেন তেমনি জাতীয় পার্টিও প্রায় একই সময়ে একটি বিবৃতি দিয়েছে। বিএনপি নেত্রীর ভাষন শেষ হওয়ার পর পরই তার নিন্দা জানাতে এই সামুতে বরাবরের মত কিছু পেইড ব্লগার হুমড়ী খেযে পড়ে।
শাহবাগে যেহেতু ব্লগারদের সম্মেলন চলছিল, এই ব্লগারবৃন্দ প্রকৃতপক্ষে সেখানে যোগ না দিয়ে এখানে খালেদার বক্তব্যের সমালোচনার আশায় কেন বসে ছিল কে জানে। যাই হোক এ ইতিহাস সামুতে নতুন নয়। কোনো সন্দেহ নেই যে দেশের সবথেকে বড় জনসমর্থিত দল এখন বিএনটি। এমনকি প্রথম আলোর জরীপেও সেটা দেখাচ্ছে ৪৪ শতাংশ। আর সেই জরীপে আওয়ামী লীগকে দেখিয়েছিল ৩৩ শতাংশ। আর বাম দলগুলো কিন্তু কোনো শতাংশের মধ্যে পড়েনি। তারা অন্যান্য ১/২ শতাংশ থাকে না , তাদের মধ্যে পড়েছে। এটা এমনিতেও সবাই জানে যে বাম দগুলোর এদেশে কোনো সমর্থন নাই।
যাই হোক আজ সেই এরশাদ আর বিএনপি নেত্রী একই সুরে কথা বলেছেন। একই সুরে বললে ভুল হবে, ভাষাও একেবারে এক।
দেখেন খালেদা জিয়া,
সরকার দেশকে ঐক্যবদ্ধ করার বদলে বিভক্তির দিকে ঠেলে দিচ্ছে, এই অভিযোগ এনে খালেদা জিয়া বলেন, শাহবাগের বিক্ষোভকারীদের দাবি বিবেচনায় রেখে প্রধানমন্ত্রী ট্রাইব্যুনালের বিচারকদের রায় দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। এবং সে অনুযায়ী রায় রয়েছে। রায়ে স্বচ্ছতা ছিলো না। আর সে কারণেই ট্রাইব্যুনাল ও আইন নিয়ে দেশে ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে সমালোচনা হচ্ছে। তিনি বলেন, মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের বিচার হতে হবে স্বচ্ছ।
Click This Link
আবার এরশাদের বিবৃতিও দেখেন,
জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেছেন, “যুদ্ধাপরাধী বিচারকে কেন্দ্র করে গোটা জাতি আজ বিভক্ত হয়ে পড়েছে এবং এমন এক সংঘাতময় পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, যা দেশকে গৃহ যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে এসেছে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সম্পর্কে আমার এবং আমার দলের বক্তব্য সুস্পষ্ট। আমরা অবশ্যই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চাই। কিন্তু তা হতে হবে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ এবং সকল প্রভাব ও চাপমুক্ত।”
যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে জামায়াত নেতা আল্লামা দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর ফাঁসির রায়কে কেন্দ্র করে শুক্রবার সারা দেশে সহিংস ঘটনার পর শনিবার এরশাদ গণমাধ্যমে এই বিবৃতি দেন।
গভীর উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার সঙ্গে জাতীয় জীবনের সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ লক্ষ্য করছেন উল্লেখ করে সন্ধ্যা সাড়ে ছ’টায় দেয়া বিবৃতিতে এরশাদ বলেন, “সম্প্রতি শাহবাগ স্কয়ার এবং বিচার বিভাগের সমান্তরাল অবস্থান পরিস্থিতিকে আরো সংঘাতময় করে তুলেছে। আমরা শাহবাগের তারুণ্যের উচ্ছাসের বিরুদ্ধে নই। কিন্তু তাদের কিছু কিছু দাবি ও কর্মসূচি দেয়ার মাধ্যমে পরিস্থিতি যে আরো জটিল হচ্ছে, আমি তার প্রতি দৃষ্টি আর্কশন করছি।” - See more at: Click This Link
ভাই , ধরে নিলাম আপনারা সবাই আওয়ামী লীগ। তা যতই বাকশালী ষ্টাইলে চিন্তা করেন না কেন, দেশের সবথেকে বেশি জনগন ও তাদের প্রতিনিধিরা বার বার এই বিচারটি স্বচ্ছ হচ্ছে না বলছেন এবং এর স্বচ্ছতা দাবি করছেন। ভাই চিরকাল তো আর আওয়ামী লীগ সরকার থাকবে না। কেন বুঝতে পারছেন না যে এই বিচারটি সুষ্ঠু হওয়ার খাতিরেই এর মান ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। সেটা করা না গেলে এই বিচারই বাধাগ্রস্ত হবে। আমরা কি সব অন্ধ হয়ে গেছি? আমরা কি দলান্ধতার কারনে দেশের মানুষের প্রকৃত যে দাবিগুলি তা একেবারেই মূল্যহীন মনে করছি? যখন সরকারে মধ্যে থেকে সরকারের প্রধান শরীক জাপা এ প্রসঙ্গে খালেদা জিয়ার সুরেই কথা বলছেন তখন কি আপনাদের মনে হয় না যে সেই কথাগুলো অবজ্ঞা করা যায় না।
যাই হোক যারা যারা আমাকে ছাগু বলেতে রেডি হয়েছেন বলে ফেলেন। আমার কারনে কেউ পয়সা পাতি কম পাক তা চাই না।
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা মার্চ, ২০১৩ রাত ৮:২০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



