somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ক্ষমতার রাজনীতি, আওয়ামী লীগের নির্ঘুম রজনী ও খালেদার বিদেশ সফর!!!!

০৪ ঠা মার্চ, ২০১৩ সন্ধ্যা ৬:১৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আহা....রে ক্ষমতা!!!
ক্ষমতা এতই মধুর যে ক্ষমতায় থাকলে ক্ষমতা যাওয়ার ভয়ে আর ঘুম আসে না।
ওই যে একটা প্রচলিত গল্প আছে না? একজন সুখী মানুষকে এক বস্তা টাকা দেয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই টাকা পাওয়ার পরে থেকে মানুষটির আর ঘুম হয় নি। সামনের দরজা, পেছনের দরজা সব দিয়েও কাজ হয়নি। শেষমেষ টাকা বুকে রেখে বিনীদ্র রাত্রিযাপন!!!
উদাহরনটা দেয়ার যথেষ্ট কারন আছে। একথা কেউ মানুক আর না ই মানুক , এখন পর্যন্ত সত্য হল বর্তমান সরকারকে সরিয়ে ক্ষমতায় আসতে পারেন একমাত্র খালেদা জিয়া। আর কোনো বিকল্প শক্তি তো এদেশে নেই ই বা সম্ভাবনাও নেই। আমরা তো রাজনৈতিক দলগুলোর নানা রকম প্রপাগান্ডা দেখতে অভ্যস্ত। তারপরেও একটু খেয়াল করেন,
১। খালেদা যখন চীন সফরে গেল, তখন সরকারী দলের প্রতিক্রিয়া হল দেখার মত। তখনকার যে সকল ইস্যু বিশেষ করে পদ্মা সেতু আর শেয়ার বাজারের ঘটনায় নাকানি চুবানি খাওয়া আওয়ামী লীগ একেবারে গোদের উপর বিষফোড়ার মত রামুর মন্দিরে হামলার ঘটনায় বিব্রত হয়ে গেল। খালেদার চীন সফর নিয়ে চক্ষু চড়কগাছ করে বলতে থাকলো, রামুর বিষয়ে নালিশ করতে গেছে। সরকারী কোনো কোনো নেতার মুখ একেবারে শুকিয়ে একশেষ অবস্থা। এই বুঝি চীন থেকে বাংলাদেশের ক্ষমতায় যাওয়ার সকল মন্ত্র শিখে আসবে খালেদা। আর তাহলেই সব শেষ!! ক্ষমতা , ক্ষমতা , ক্ষমতা..........
তবে.........খালেদার সফরের পরে চীন এই রামুর ঘটনা নিযে একটা বিবৃতিও দেয়নি। অন্তত আমার মনে নেই। হুদাই ঘুম নষ্ট হইলো সরকারী নেতাদের।
২। ইন্ডিয়া সফরে গেছিল খালেদা , তাও বেশ ঢাক ঢোল পিটিয়ে। কোথায় কোথায় গেছে , তাও মিডিয়ায় এসেছে। কার কার সাথে দেখা হয়েছে , তাও মিডিয়ায় এসেছে। কিন্তু তাতে কি হবে , সরকারী দল ভয় পেয়ে গেল, এই বুঝি তাদের দাদারা বিশ্বাসভঙ্গ করে খালেদা জিয়াকে দেশের ক্ষমতা দিয়ে দিল। ঘুম আবারো হারাম। ক্ষমতা যায় যায়। এবার আশরাফ সাহেব বললেন, বহু বহু চুক্তি খালেদা করে এসেছেন, দেশ একেবারে বিক্রি করে দিয়ে তার বিনিময়ে নগদ টাকাপয়সাও নিযে এসেছেন। তবে সেই সকল বিষয় জনগন বা মিডিয়া কেউ না জনলেও সবজান্তা একটি আওয়ামী প্যানেল তার সবই জানে। কিছুদিন পরেই খালেদার সাথে প্রনব বাবুদের গোপনে যত আঁতাত হয়েছে তা সবিস্তারে বর্ননা করা হবে।
তবে........এই সবজান্তারা আর কথাগুলো কখোনোই জানান নি। এখন প্রমানিত হয়, চুক্তি করা তো দুরের কথা , প্রনব বাবুর সাথে নাকি সাধারন সৌজন্যও খালেদা দেখাচ্ছে না। এটা নিয়েও বিস্তর কষ্ট পেয়েছে মহাজোটের নেতারা! দুঃখে কষ্টে সংবাদ সম্মেলনও করে ফেলেছে একেবারে। তাহলে কোনটি সত্য হল? গোপন আঁতাত কোথায় গেল?

৩। খালেদা জিয়া সর্বশেষ গেলেন সিঙ্গাপুরে। এখন বলাবলি শুরু হয়েছে, সিঙ্গাপুরে নাকি কাদের সাথে আঁতাত করতে গিয়েছিলেন। আওয়ামী লীগের নেতারা একযোগে চিল্লাচিল্লি শুরু করলেন, ভয় পেলেন, এই বুঝি ক্ষমতা যায় যায়।
এতদিন ধরে আন্তর্জাতিক বিষয়াদি নিযে ঘাটাঘাটি করছি, কখোনো শুনিনি সিঙ্গাপুরের মত একটি নিরীহ দেশ আবার অন্য দেশ নিযে বা অন্য দেশের রাজনীতি নিয়ে কোনো ঝামেলায় যেতে পারে।
বিরোধী দলীয় নেত্রী সিঙ্গাপুরে গেলেই যদি এত ক্ষমতা হারানোর ভয়, তাহলে ভাই আমেরিকা গেলে কি হত কে জানে!!!!!
রজনীতে নিদ্রা তো দূরের কথা , দিনের বেলায়ও দরজা জানালা বন্ধ করে থাকতে হত !!!

এতকিছুর পরে প্রশ্ন একটাই, সরকারী দল কি মনে করে, আসলেই সবাই বিদেশী প্রভু বা তাদের মদদেই ক্ষমতায আসে? তাহলে স্পষ্ট বলুক , অথবা তাদের এত ভয় কেন তাও বলুক। যদি বিদেশীরাই আমাদের ক্ষমতার সকল চাবিকাঠি হয়, তাহলে আর এইসব গনতন্ত্র ফন্ত্র দিয়ে কি হবে? রাজনীতি , বাম , ডান , বিম্পি , আম্লিগ, সরকার বা সরকারের চেয়েও বেশি শক্তিশালী শাহবাগ কোনো কিছুরই তো দরকার হয় না। সবাই মিলে আসুন বিদেশ যাই। আর খালেদা বিদেশ গেলে সবাই নির্ঘুম রাত কাটাই !!!!
৪টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

নিঃশেষে প্রাণ যে করিবে দান- ক্ষয় নাই তার ক্ষয় নাই!

লিখেছেন রাজীব নুর, ১০ ই এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১২:০৪



অসুস্থ মানুষের সেবা করা, অবশ্যই মহৎ একটি কাজ।
বয়স হয়ে গেলে মানুষ অসহায় হয়ে পড়ে। আসলে মানুষ অসুস্থ হয়ে গেলেই অসহায় হয়ে যায়। অবচেতন মন বারবার বলে- এবার... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভয়ের সংস্কৃতি নয়, চাই জবাবদিহিমূলক রাজনীতির বাংলাদেশ

লিখেছেন ওয়াসিম ফারুক হ্যাভেন, ১০ ই এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৫

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান কেবল একটি সরকারের পতন ছিল না, এটি ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসের এক অন্ধকার অধ্যায়ের অবসান। পনের বছরের দীর্ঘ আওয়ামী দুঃশাসন যেভাবে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী বা দীর্ঘস্থায়ী... ...বাকিটুকু পড়ুন

কিছু অনুভূতি

লিখেছেন জিনাত নাজিয়া, ১০ ই এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৫:৩৪

" কিছু অনুভূতি "

অনেক দিন থেকেই অসুস্থ ছিলাম , তারপরও এখন সবার দোয়ায় আস্তে আস্তে ভালো হয়ে উঠছি আলহামদুলিল্লাহ। মাঝেমধ্যে ব্লগে এসে সবার সুন্দর সুন্দর লেখাগুলো পড়ে আমার মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

পারমাণবিক বিস্ফোরণের আগে সন্তানের সাথে আমি যে কথাগুলো বলবো

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১১ ই এপ্রিল, ২০২৬ ভোর ৫:১০


যদি শুনি আজ রাত আটটায় পারমাণবিক বোমা হামলা হবে আমাদের এই শহরে, যেমন ইরানে সভ্যতা মুছে ফেলা হবে বলে ঘোষণা দিলেন পৃথিবীর সর্বোচ্চ ক্ষমতার অধিকারী মহামান্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প, তাহলে আমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

ট্রান্সজেন্ডাদের উপর কারা হামলা করলো ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১:৫৩


স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ গত সপ্তাহে সংসদে দাঁড়িয়ে একটি কথা বললেন যা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এর আগে কেউ সরকারিভাবে বলেননি। মানবাধিকার কমিশন নিয়ে আলোচনার মাঝখানে তিনি বললেন, বাংলাদেশে LGBT ইস্যু... ...বাকিটুকু পড়ুন

×