somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্রসংগঃ শাহবাগ আন্দোলন এবং নাস্তিকতা

২১ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ সন্ধ্যা ৭:৩৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবীতে শাহবাগে আন্দোলন চলছে। আন্দোলনের উদ্দেশ্য খুবই মহৎ। আন্দোলনের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানাচ্ছি। কিন্তু, কথা হল শুধু এই পাচ ছয় জনের নামে যুদ্ধাপরাধীর বিচার চাচ্ছি কেন আমরা? দেশে কি আর কোন যুদ্ধাপরাধী নেই? তাদের বিচারের আওতায় আনা হচ্ছে না কেন, যারা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলে প্রভাবশালী অবস্থানে আছেন ?? আশা করি এ বিষয়েও আমরা ভাবব।

শাহবাগ আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক ব্লগার রাজীব নিহত হয়েছেন আততায়ীর অস্ত্রের আঘাতে। আমরা জানি না কে বা কারা তাকে হত্যা করেছেন, যদিও স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী বলে দিয়েছেন, জামাত শিবিরই তাকে হত্যা করেছে। যাহোক, আশা করছি তদন্তেই প্রকৃত খুনী এবং খুনের কারণ বেরিয়ে আসবে, অপরাধীর সাজা হবে। প্রতিটি ঘটনাই অনেক নতুন ঘটনার জন্ম দেয়। এই হত্যাকান্ডের মাধ্যমে যে বিষয়টি সাধারণ মানুষের সামনে উঠে এসেছে তা হল "“নাস্তিকতা”"

ইংরেজি সাহিত্যে অধ্যয়ণ করা দু’জন ব্লগারের কাছ থেকে জানলাম, তারা তাদের পাঠ্যসূচীতে Sartre, Camus, Simon, Heidegger এমন অনেক নাস্তিক সাহিত্যিকদের লেখা পড়েছেন। তারা যে নাস্তিকদের সেখান থেকে চিনেছেন আর আমরা ব্লগে যে নাস্তিক দেখছি তা কিন্তু এক নয়। নাস্তিকরদেরতো মানুষের ধর্ম বিশ্বাস নিয়ে কুরুচীপূর্ণ রচনা লেখার কথা নয়! আমি নাস্তিক, আমি নাস্তিকতার সৌন্দর্য মন চাইলে প্রচার করব বা নিজের মত থাকব, অন্যের ধর্ম বিশ্বাসকে আক্রমণ কেন বাপু??

কিন্তু, আমাদের ব্লগের অধিকাংশ নাস্তিকদের মূল বৈশিষ্ট্যই হল স্বীকৃত ধর্ম বিশ্বাসের বিরুদ্ধে অশ্লীল রচনা, তারা তাদের পোস্ট এবং মন্তব্যে এমন সব ভাষা ব্যবহার করেন, আমার ধারণা তাদের বাবা -মায়েরা সেসব দেখলে জায়গায় দাঁড়িয়ে হৃদ যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যেতেন, মা তার সেদিনটিকে অভিসম্পাত করতেন, যেদিন তিনি গর্ভধারণ করেছিলেন ! X((এরা নামে নাস্তিক হলেও এদের সব রচনা কিন্তু আল্লাহ, তার রাসূল (সঃ), ইসলাম এবং ইসলামের মহান ব্যক্তিত্ত্বদের নিয়ে। এক উগ্র নাস্তিক এ ধরণের জারজ কিছু প্রসব করলেই বাকীরা এসে আরেক প্রস্থ কুরুচীপূর্ণ মন্তব্য দিয়ে যায়, ফেইসবুকে চলে লাইকের মহোৎসব! মাঝে মাঝে মনে হয়, এদের ব্যক্তিগত জীবনে মনে হয় কোন সুস্থ বিনোদন নেই, ধর্মকে গালাগালি দিয়েই মনে হয় এরা চরম আনন্দ লাভ করে ! অবশ্য ভার্চুয়াল জগতের বাইরে গিয়ে এদের খোজ খবর নিলে অধিকাংশের ক্ষেত্রেই প্রচলিত সমাজ ব্যবস্থার নিরিখে বেশ উচ্ছৃংখল এবং অগ্রহণযোগ্য জীবনাচরণের খবরই শোনা যায়। এদের বিরুদ্ধে কোন পোস্ট এলেই সংঘবদ্ধভাবে এরা কুরুচীপূর্ণ মন্তব্য প্রদানে ঝাপিয়ে পড়ে। ভার্চুয়াল জগতে এটা এদের একটা বড় সাফল্য। আর সাধারণ এবং সুশীল ব্লগার, ব্লগে যাদের সংখ্যাই বেশী, তারা অধিকাংশ সময়ই প্রতিবাদ করেন না, চুপ থাকেন। ভাবেন, কি দরকার ক্যাচালে জড়ানোর। কিছু বলে যদি আবার “ছাগু” ট্যাগ পেয়ে যাই !! ( এ প্রসংগে আরেকটা মজার ঘটনা না বলে পারছি না। আমার শ্বশুড় একজন ব্যবসায়ী। শাহবাগের আশে পাশেই এখন বর্তমানে তার ব্যবসা। বললেন, আন্দোলনকারীদের তরফ থেকে ব্যবসায়ীদের কাছে এখন ফোন যায়, “ ৫ লাখ টাকা পাঠিয়ে দিন, নয়ত রাজাকারের তালিকায় নাম উঠে যাবে !! )। এই হল অবস্থা, ব্লগে “ছাগু” ভয় আর বাইরে “রাজাকার” !! B-)B-)

সাধারণ ব্লগারদের এই দুর্বলতাটাই এই নাস্তিক নামধারী ইসলাম বিদ্বষী ব্লগারগুলো সুচারুভাবে কাজে লাগাচ্ছে। ব্লগ কর্তৃপক্ষগুলোও আবার এদের প্রতি বড়ই সহানুভূতিশীল। কারণ, এ যে “মুক্তমন” এর প্রকাশ !! পাছে মুক্তমনের বিকাশ বাধাগ্রস্থ হয়! যদিও আজকাল বুদ্ধিমান ব্লগাররা এদের “মূত্রমনা” বলে ডাকতেই পছন্দ করেন ! ;) কিছু নাস্তিক নামধারী ব্লগারকে দেখা যায় প্রায় ২৪ ঘন্টাই ব্লগে পড়ে আছেন। রাত দু'’টায়ও যদি কোন পোস্ট আসে, যেখানে নাস্তিকদের বিরোধিতা করা হয়েছে, সেখানেও তারা পূর্ণ শক্তিতে ঝাপিয়ে পড়েন। তখনই মনে সন্দেহ ঘনীভূত হয়, এদের ভরন পোষনের খরচ কোথা থেকে আসে ?? :|

ব্লগের ইতিহাসে দেখা যায়, নাস্তিকদের বিরুদ্ধে কেউ সোচ্চার হলে ব্লগ কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে খড়গহস্ত হয়। জেনারেল, কমেন্ট ব্যান, পোস্ট ব্যান এধরণের শাস্তির ধারা বিদ্যমান। কিন্তু, চিহ্নিত নাস্তিক নামধারী ইসলাম বিদ্বেষী ব্লগাররা আল্লাহ, রাসূল (সঃ) কে যতই গালাগাল করুক না কেন, তারা টিকে থাকে বহাল তবিয়তে। এ নিয়ে অনেক কথা হয়েছে, কিন্তু ফলাফল শূণ্য !

কিন্তু, শাহবাগ আন্দোলন এবং বলির পাঠা থাবা বাবা’র কল্যাণে যেটা হয়েছে, নাস্তিকদের স্বরুপ ভার্চুয়াল জগতের ক্ষুদ্র গন্ডি থেকে বেরিয়ে সাধারণ মানুষের সামনে উন্মোচিত হয়েছে ! যারা ব্লগের ‘'ব'’ ও জানতেন না, তারাও থাবা বাবা’র ফেইসবুক নোটগুলো পড়ে এতটাই ক্রুদ্ধ হয়েছেন যে হাতের সামনে পেলে দু’'ঘা দিতে দেরি করতেন না ! শাহবাগ আন্দোলনের সাথে জড়িত তরুণেরা সব ধর্ম বিশ্বাস থেকেই এসেছে এবং এরা এই তথাকথিত নাস্তিকগুলোর মত উগ্র বিদ্বষী মনোভাবাপন্ন নয়। দেশ প্রেমের বহিঃপ্রকাশ থেকেই তারা এই আন্দোলনে আজ বজ্রকন্ঠ। কিন্তু, আল্লাহ এবং রাসূল(সঃ) নিয়ে তথাকথিত নাস্তিকদের যে কুরুচীপূর্ণ অপচর্চা, যার একমাত্র উদ্দেশ্য সমাজে অস্থিরতা সৃষ্টি, সেটা আন্দলনরত তরুণ থেকে শুরু করে দেশের আপামর সাধারণ জনগণ মেনে নিতে পারেন নি। ধর্ম প্রাণ মুসলমানদের দলগুলোও এদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে উঠেছে। নাস্তিকদের কাছে এই বার্তা পৌছে গেছে যে, সংখ্যা গরিষ্ঠ মুসলমানের এই দেশে যদি নাস্তিকরা ইসলাম ধর্ম বিশ্বাসকে অবমাননা করে তাহলে তাদের কেউ ফুলের মালা দিয়ে বরণ করে নেবে না !! সবচেয়ে দুঃখজনক কথা হল, ব্লগে নাস্তিকদের অযাচারের কারণে সাধারণ মানুষের কাছে ব্লগের মত একটা মননশীল প্লাটফর্ম সম্পর্কে ভুল বার্তা পৌছে যাচ্ছে !!

শাহবাগের আন্দোলন গণ-মানুষের ! নাস্তিকদের নয়। কিন্তু, দুঃখজনক হলেও সত্য, এই আন্দোলনের সংগঠকদের মধ্যে কিছু চিহ্নিত এবং উগ্র নাস্তিকদের উপস্থিতি সনাক্ত হয়েছে। এই দেশে আমরা যেমন যুদ্ধাপরাধীদের চাই না, তেমনি সমাজে অস্থিরতা সৃষ্টিকারী উগ্র নাস্তিকদেরও চাই না। আন্দোলনকে পরিচ্ছন্ন রাখতেই প্রয়োজন এই কুলাংগারগুলোকে ছুড়ে ফেলে দেয়ার, আমি বিশ্বাস করি, এদের ছাড়াও ওখানে অনেক তরুণ আছেন, যারা এই আন্দোলনকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবেন... অনেকে বলতে পারেন, “ভাই, "নাস্তিক কি দেশ প্রেমিক হতে পারে না? আস্তিক –নাস্তিক ইস্যু কেন আনছেন?”" আনছি একারণে যে, যে কোন ভাল কাজে ভাল লোকের নেতৃত্ব প্রয়োজন। আপনার এলাকার মসজিদের ইমাম যদি দুস্কৃতিকারী হয়, আপনি নিশ্চয় তার পেছনে নামাজ পড়বেন না ! মনে রাখবেন, “"দুর্জন বিদ্যান হইলেও পরিত্যাজ্য"” !!

মুসলমান ভাইদের বলছি, আপনারা নাস্তিক ভাই/বোনদের জন্য বেশী করে দু'’আ করতে থাকুন, যাতে এরা সরল পথে উঠে আসতে পারে।

আর উগ্র নাস্তিকদের বলছি, সময় থাকতে সুপথে আসুন, সত্য জয়ী হবেই, আর মিথ্যা অপসৃত হতে বাধ্য। এভাবে চললে কালের আবর্তে আপনারা আস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত হবেন, জাগ্রত জনতা আপনাদের রুখে দেবেই...

প্রসংগঃ নাস্তিক ব্যক্তির জানাযা...
----------------------------------------------------------------------------------
"প্রত্যেক সত্ত্বাকে মৃত্যু আস্বাদন করতে হবে। আর তোমরা কিয়ামতের দিন পরিপূর্ণ বদলা প্রাপ্ত হবে। তারপর যাকে দোযখ থেকে দূরে রাখা হবে এবং জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে, নিঃসন্দেহে সে হল সফল। আর পার্থিব জীবন ধোঁকা ছাড়া অন্য কোন সম্পদ নয়।"
সূরা আল ইমরান,আয়াত ১৮৫
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ রাত ৯:৪২
২২টি মন্তব্য ২০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ফিরছে অনলাইন ক্লাসঃ বাস্তবতা অফলাইনে কিন্তু সিদ্ধান্ত অনলাইনে

লিখেছেন মোগল সম্রাট, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১০:৪০




সরকার তিনদিন অনলাইন, তিনদিন অফলাইনে ক্লাস চালুর কথা বলছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, অনলাইন ক্লাসের জন্য প্রয়োজনীয় ডিভাইস, ইন্টারনেট, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ এসব কি সবার নাগালে আছে? নাকি সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময়... ...বাকিটুকু পড়ুন

পানি: জীবনের উৎস, আল্লাহর রহমতের অবিরাম ধারা এবং সৃষ্টিতত্ত্বের বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ

লিখেছেন নতুন নকিব, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৩:৩০

পানি: জীবনের উৎস, আল্লাহর রহমতের অবিরাম ধারা এবং সৃষ্টিতত্ত্বের বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ

ছবি, অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

পানি এই একটি শব্দে লুকিয়ে আছে সৃষ্টির রহস্য, জীবনের ধারা এবং মহান আল্লাহ তাআলার অফুরন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প

লিখেছেন রাজীব নুর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৪:২৪



একসময় আমাদের গ্রামটা খাটি গ্রাম ছিলো।
একদম আসল গ্রাম। খাল-বিল ছিলো, প্রায় সব বাড়িতেই পুকুর ছিলো, গোয়াল ঘর ছিলো, পুরো বাড়ির চারপাশ জুড়ে অনেক গাছপালা ছিলো। বারো মাস... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাসূলের (সা.) একমাত্র অনুসরনীয় আহলে বাইত তাঁর চাচা হযরত আব্বাস ইবনে আব্দুল মোত্তালিব (রা.)

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৩




সূরাঃ ৩৩ আহযাব, ৩২ নং ও ৩৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
৩২। হে নবী পত্নিগণ! তোমরা অন্য নারীদের মত নও। যদি তোমরা আল্লাহকে ভয় কর তবে পর পুরুষের সহিত কোমল... ...বাকিটুকু পড়ুন

মোরগের ডাক , বিজ্ঞানের পাঠ এবং গাধার প্রতি আমাদের অবিচার

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০২ রা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১:৫৫


গ্রামে বেড়ে ওঠা মানেই একটা অসাধারন শৈশব। আমাদের সেই শৈশবের একটা বড় অংশ জুড়ে ছিল মক্তবের মৌলভি সাহেবদের গল্প। তারা বলতেন, ভোররাতে মোরগ ডাকে কারণ সে ফেরেশতা দেখতে পায়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×