আমার প্রিয় পোস্ট
- ১০ বিষয়ে সেরা ১০ ছবির তালিকা: মুভি প্রেমিকদের জন্য অবশ্য পাঠ্য - শওকত হোসেন মাসুম
- সশস্ত্র বাহিনীতে গণহত্যা (১৯৭৫-১৯৮১) একটি প্রামাণ্য দলিল - শওকত হোসেন মাসুম
- বাউলের মূর্তি সরানোয় মুসলমানি সাফল্য: আত্মপরিচয় অনুসন্ধানের পুনর্পাঠ, পর্ব ৪ - ফাহমিদুল হক
- আমার মন যখন জাগলো নারে মনের মানুষ এলো দ্বারে- উতসর্গ বাতাসি - লালমোহন ওরফে জটায়ু
- ভুল মানুষের ডেরায় ০২ - রাসেল ( ........)
- বিশ্বাস, কিভাবে? - শাহানা
- জীবন যখন থমকে দাঁড়ায় - নাদান
- ধর্মভিত্তিক রাজনীতি আর রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহার নিষিদ্ধের মধ্য দিয়া মানবিকতার মুক্তি ঘটে... - জামাল ভাস্কর
- স্লো ইনিংসে অবশেষে ডাবল সেঞ্চুরী (দুইশ নাম্বার পোস্টে স্মৃতিচারণ) - জ্বিনের বাদশা
- আমার মায়ের সাতটি মিথ্যা কথা - প্রত্যুৎপন্নমতিত্ব
- জীবন জয়ী হবে: সরদার ফজলুল করিমের সাথে কথোপকথন - ফাহমিদুল হক
- একজন রবীন্দ্রনাথ আর বিদ্যমান বাস্তবতার বিবরন - জামাল ভাস্কর
- এক দিন লেইখা ছিলাম রে: ইরানী ছবি ও আমার কিছু চলচ্চিত্র ভাবনা - লাল দরজা
- নেপালে মাওবাদীদের নির্বাচনী বিজয়, বুর্জোয়া গণতান্ত্রিক বিপ্লবের মিথ এবং কিছু জরুরী ভাবনা - দিনমজুর
- ফ্যাশন ভিকটিম/ ট্রু কস্ট অব চিপ ক্লথস (দুই খণ্ড যুক্ত করে রিপোস্ট) - দিনমজুর
- আমার নিরন্তর মুসলমান হয়ে ওঠা - সামী মিয়াদাদ
- বাক বাকুম বাক স্বাধীনতা - দিনমজুর
- নারীর সমানাধিকার নীতি, ষড়যন্ত্রতত্ত্ব ও বাঙালি মুসলমানের গৃহবিবাদ - মাহবুব মোর্শেদ
- নাইল্যাকাডার সূচিপত্র ও প্রাপ্তিস্থান (নাইল্যাকাডা এখন ফরিদপুরে) - দিনমজুর
- বুটের তলায় দেখি ছাপ্পান্নো হাজার বর্গমাইল - সামী মিয়াদাদ
- আমাদের পাঠশালা'র নববর্ষ র্যালী - কৌশিক
- সাম্প্রতিক খাদ্য সংকট ও আমাদের কৃষি - দিনমজুর
- পাকিস্তানের জামাতে ইসলামীর খায়েস ও তার বাস্তবায়নে বাংলাদেশে জামাতের সম্ভাব্য ভূমিকা - তীরন্দাজ
- কার কার বই বের হচ্ছে? - মাহবুব মোর্শেদ
- আমি তো সুখে থাকবই - মানব মানিক
পোকামানবের ঘর বসতি
২৪ শে আগস্ট, ২০০৮ বিকাল ৪:৫৭
কিছু কিছু মানুষ আছেন যাদের বড্ড আপন মনে হয়। হয়তো সামনা সামনি দেখা হয়নি তবুও মনে হয় এইতো সামনে দাঁড়িয়ে মুচকি হেসে বলছেন " ভালো আছেন তো ? " জৈষ্ঠের প্রচন্ড রোদে দাঁড়িয়ে এদিক ওদিক তাকিয়ে প্রিয় মানুষটিকে খুঁজছি। হটাৎ তাকিয়ে দেখি সেই মানুষটি মুচকি হেসে বলছেন " রোদ চশমা পড়ে আছেন যে ! আপনার চোখ দেখতে পাচ্ছি না ।" তড়িঘড়ি করে রোদ চশমা খুলে তাকিয়ে দেখলাম সেই মানুষটিকে। একটু পাগলে অনেকটুকুই আবেগীয় একজন সুন্দর মনের সাধাসিধে মানুষ। পরনে ফতুয়া, দৃস্টিতে পাগলামী। পথে যেতে যেতে অনেক কথা। মনে হচ্ছিলো কত্ত দিনের পরিচয়।
বসুন্ধরা সিটি ঘুরে আজিজ মার্কেটের অন্তরে দূপুরের খাবার খেতে খেতে কত যে আলাপ, সাথে আরেক অন্ধকার মানব। উনি মাছ খান না, কিন্তু আমাকে সেধে সেধে খাওয়াতে ভুল্লেন না।
নিত্য উপহার থেকে উনার কিনে দেয়া ৭১ এর স্টিকার দেয়া টি শার্ট যখনি পরি তখনি উনার কথা মনে পরে। বিশেষ কোনো দিনে পড়বার জন্য সযতনে রেখে দেয়া আছে সে টি শার্ট টি।
পোকামানব খ্যাত মানুষটির ডেরায় যাবার কথা বলছি এবার। ট্রেনে থাকতেই বার বার ফোন " সুমন, কোথায় আপনারা ? "
" এইতো আমার মাত্র টংগি পার হলাম ।"
"এখন আমরা ভৈরবে । " এভাবে বলতে বলতে কখন যে ষ্টেশনে পৌছুলাম মনে পড়ছে না। বাজারের পাশে বড় মসজিদের কাছ গিয়ে যে কাউকে আমার নাম বল্লেই বাসা দেখিয়ে দেবে, এই ছিলো ঠিকানা। রিকশা ঠিক করছি, এমন সময় চমকে উঠে তাকিয়ে দেখি সেই মানুষটি, শিশুর মতো হাসছেন। অথচ উনার ষ্টেশন আসার কথা ছিলো না। আমাদের চমকে দিতে চলে এসেছেন। গ্রামের রাস্তায় রিকশায় টুং টুং করে বেল বাজাতে বাজাতে যখন পোকামানবের ডেরায় পৌছুলাম তখন মধ্য দূপুর।
বাঁশের তৈরি সুন্দর একটা সদর দরজা পেড়িয়ে পোকামানবের আস্তানায় ঢুকতেই মমতাময়ীর আগমন, সাথে দুই দেব শিশু। উনবিংশ শতাব্দীর সেই বাড়ী যেটাকে নিয়ে পোকামানব লিখেছেন " এখানেই জন্মেছি। কে জানে, এখানে মরতে পারলে হয়তো মৃত্যুটা অনেকখানি সহজ হবে! " বাড়ীতে ঢুকতেই পোকামানবের সংগ্রহশালা। ডানেই পোকামানবের লেখালিখির আস্তানা, আরেকটি সংগ্রহশালা। এক এক করে দেখালেন হাসান হাফিজুর রহমান সম্পাদিত একাত্তরের ইতিহাস, উনার লেখার সব পান্ডুলিপি, পরম মমতায় বাঁধিয়ে রাখা ব্লগে লেখাগুলো। সংগ্রহের জিনিসগুলো দেখিয়ে দিচ্ছিলেন শিশুর মতো করে। অবাক হয়ে তাকিয়ে দেখছিলাম স্বপ্নগুলোকে।
মমতাময়ীর মমতায় বলি হয়েছেন অনেকেই, আমরাও হয়েছিলাম। খাবার খেতে খেতে এটা সেটা কত যে আলাপ, কত যে কথা। অসাধারন সব খাবার। ঘরে বানানো অসাধারন দই খেতে খেতে ভাবীকে প্রশ্ন করতেই জানতে পারলাম পোকামানবের মেজাজের খবর। বিনা মেঘে বজ্রপাতের মতোই মেজাজ উনার, এই ভালোতো এই খারাপ। আসলে মাটির মানুষ।
টয়লেটের দরজায় আমেরিকা-ব্রিটেনের যুগল পতাকা। কেউ জিগেস করলেই বলে দেয়া হয় যে দরজায় পতাকা দুটো পাবেন সেটাই টয়লেট। টয়লেটেও ক্লাসিক্যাল মিউজিক বাজে পোকামানবের। বাড়ীর সামনে ছোট্ট একটি বাগান। প্রথম রয়ালটির টাকা দিয়ে কেনা শিশুবৃক্ষটি এখন টগবগে যুবক। চোখের সামনে পোকামানবের আরেকটি স্বপ্ন তড়তড়িয়ে বড় হচ্ছে । মুক্তিযুদ্ধের সময় মর্টারের আঘাতে ধসে যাওয়া ছাদের অংশ টুকু দেখিয়ে বল্লেন যখনি এটা দেখি তখনি একাত্তর জেগে উঠে মনের মাঝে।
পোকামানব বল করছেন আমি ব্যাটিং করছি, ফিল্ডিং এ দুই দেব শিশু। এক ফাঁকে আমার শৈশবে ফীরে যাওয়া, দুস্ট বালকের মতো খেলায় মেতে উঠা। মাঝ খানে দূপুরের খাবারের জন্য ছোট্ট বিরতি। আবার গল্প। আবার আড্ডা।
গল্প গল্পে ইট পাথরের জংগলে ফেরত আসার সময় হয়ে এলো টেরই পাইনি। খুব ইচ্ছে হচ্ছিলো থেকেই যাই, কি হবে ইট পাথরের জংগলে ফেরত গিয়ে? হাঁটতে হাঁটতে ষ্টেশনে গিয়ে টিকেট কাটতে গিয়েও আরেক চমক। পোকামানবের শাসনে টিকিটও কাটা হলো না, উনি টিকিট কেটে দিলেন আমাদের জন্য। ট্রেন ছেড়ে দিলো , পোকা মানব হাতা নাড়াচ্ছেন, আমরা তাকিয়ে দেখছি, আস্তে আস্তে সব কিছু দৃস্টিসীমার বাহিরে চলে এলো, কিন্তু মনে হয় এইতো পোকামানব হাত নাড়িয়ে বলছেন " রাস্তায় কোনো সমস্যা হলে ফোন করতে ভুলবেন না কিন্তু। ঢাকায় পৌছেই ফোন দিবেন"।
রাস্তায় খাবার জন্য কিছু খাবারও দিয়ে দিয়েছিলেন মমতাময়ী, রাষ্তায়ই সেটা সাবরে দিয়েছিলাম, এতো সুস্বাদু খাবার সামনে দেখে সামলে রাখতে পারিনি।
" আমি না একটা সাপ দেখছিলাম, সাপটার মা নাই, সাপটার ভাই নাই, জানো সাপটার কেউ নাই ।" ঝাপলা ঝাপলি করা দেবশিশুটিও যেনো মিশে গিয়েছিলো আমাদের সাথে। লাজুক আরেক দেবশিশু লজ্জা কাটাতে অবশ্য একটু সময় লেগেছিলো। আর মমতাময়ীর কথা ! সেটা না হয় আরেকটদিন।
অনেক কিছুই বলার ছিলো, অনেক কিছুই বলা হলো না। পোকামানবের নিষেধ সত্বেও পোকামানবের ঘর বসতি নিয়ে লিখে ফেল্লাম আজ।
লেখক বলেছেন: একাত্তর শুনলেই যাদের গায়ে লাগে সেই সব বরাহ নন্দন
লেখক বলেছেন: বস, একাত্তর শুনলেই যাদের গায়ে লাগে তাদের মাঝেই কোনো বরাহ নন্দনের গায়ে লেগেছে, ফলাফল মাইনাস।
এই সব কেয়ার করি না।
দূরন্ত বলেছেন:
ভালো লাগলো।
চিকনমিয়া বলেছেন:
আফনের লেকাডি ভালা লাগে
অনিন্দিতা ০১ বলেছেন:
ভালো লাগলো
রাশেদ বলেছেন:
ভাল্লাগছে।
হুদাই বলেছেন:
ভাল্লাগছে।
অরুনাভ বলেছেন:
ভালো লাগলো.....কিন্তু মাথায় ঢুকলো না এই পোষ্টে মাইনাস দেবার কি আছে.......
লেখক বলেছেন: পোকামানব খ্যাত একজন ব্লগার আছেন তবে উনি অন্য নিক ব্যবহার করেন " শুভ "। নিজেকে উনি পোকামানব বলে পরিচয় দিতে ভালোবাসেন।
লেখক বলেছেন: আমার অন্যতম প্রিয় মানুষ
অন্যমনস্ক শরৎ বলেছেন:
অদ্ভুত সুন্দর সুমন। লেখা, যাকে নিয়ে লেখা দুটোই অথবা দুজনাই ।
লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ শরৎ
ঝড়ো হাওয়া বলেছেন:
আমারো খুব প্রিয় একজন মানুষ উনি। ওনার আজিব আজিব মায়াভরা কাজ-কর্ম দেখার সৌভাগ্য হয়েছিল আমারো, এখনো কোন আপন ব্লগারের সাথে সুযোগ পেলেই সেই গল্প করি, ওনার গল্প করতে খুব ভালো লাগে। খুব মিস করি 'শুভ' ভাই আপনা কে।আরেক জনের নাম বললেন "অন্ধকার" খুব বেশী জানি না তাকে তবে ওনার পোষ্ট খুব আকর্ষনীয়, খারাপ দিক হলো উনি পুরানো পোষ্ট মুছে ফেলেন।
আর এই পোষ্টটা যেই বান্দা ডেলিভারি দিছে ওনাকেও পছন্দ করি, শ্রোদ্ধা করি।
মাছরাঙ্গা বলেছেন:
এ সমস্ত লেখা পড়লে মানুষের প্রতি ভালবাসা আর বিশ্বাস ফিরে আসে।



















এই পোস্ট আবার কার গায়ে লাগলো?