আমার প্রিয় পোস্ট

পোকামানবের ঘর বসতি

২৪ শে আগস্ট, ২০০৮ বিকাল ৪:৫৭

শেয়ার করুন:                   Facebook

কিছু কিছু মানুষ আছেন যাদের বড্ড আপন মনে হয়। হয়তো সামনা সামনি দেখা হয়নি তবুও মনে হয় এইতো সামনে দাঁড়িয়ে মুচকি হেসে বলছেন " ভালো আছেন তো ? " জৈষ্ঠের প্রচন্ড রোদে দাঁড়িয়ে এদিক ওদিক তাকিয়ে প্রিয় মানুষটিকে খুঁজছি। হটাৎ তাকিয়ে দেখি সেই মানুষটি মুচকি হেসে বলছেন " রোদ চশমা পড়ে আছেন যে ! আপনার চোখ দেখতে পাচ্ছি না ।" তড়িঘড়ি করে রোদ চশমা খুলে তাকিয়ে দেখলাম সেই মানুষটিকে। একটু পাগলে অনেকটুকুই আবেগীয় একজন সুন্দর মনের সাধাসিধে মানুষ। পরনে ফতুয়া, দৃস্টিতে পাগলামী। পথে যেতে যেতে অনেক কথা। মনে হচ্ছিলো কত্ত দিনের পরিচয়।

বসুন্ধরা সিটি ঘুরে আজিজ মার্কেটের অন্তরে দূপুরের খাবার খেতে খেতে কত যে আলাপ, সাথে আরেক অন্ধকার মানব। উনি মাছ খান না, কিন্তু আমাকে সেধে সেধে খাওয়াতে ভুল্লেন না।
নিত্য উপহার থেকে উনার কিনে দেয়া ৭১ এর স্টিকার দেয়া টি শার্ট যখনি পরি তখনি উনার কথা মনে পরে। বিশেষ কোনো দিনে পড়বার জন্য সযতনে রেখে দেয়া আছে সে টি শার্ট টি।

পোকামানব খ্যাত মানুষটির ডেরায় যাবার কথা বলছি এবার। ট্রেনে থাকতেই বার বার ফোন " সুমন, কোথায় আপনারা ? "
" এইতো আমার মাত্র টংগি পার হলাম ।"
"এখন আমরা ভৈরবে । " এভাবে বলতে বলতে কখন যে ষ্টেশনে পৌছুলাম মনে পড়ছে না। বাজারের পাশে বড় মসজিদের কাছ গিয়ে যে কাউকে আমার নাম বল্লেই বাসা দেখিয়ে দেবে, এই ছিলো ঠিকানা। রিকশা ঠিক করছি, এমন সময় চমকে উঠে তাকিয়ে দেখি সেই মানুষটি, শিশুর মতো হাসছেন। অথচ উনার ষ্টেশন আসার কথা ছিলো না। আমাদের চমকে দিতে চলে এসেছেন। গ্রামের রাস্তায় রিকশায় টুং টুং করে বেল বাজাতে বাজাতে যখন পোকামানবের ডেরায় পৌছুলাম তখন মধ্য দূপুর।

বাঁশের তৈরি সুন্দর একটা সদর দরজা পেড়িয়ে পোকামানবের আস্তানায় ঢুকতেই মমতাময়ীর আগমন, সাথে দুই দেব শিশু। উনবিংশ শতাব্দীর সেই বাড়ী যেটাকে নিয়ে পোকামানব লিখেছেন " এখানেই জন্মেছি। কে জানে, এখানে মরতে পারলে হয়তো মৃত্যুটা অনেকখানি সহজ হবে! " বাড়ীতে ঢুকতেই পোকামানবের সংগ্রহশালা। ডানেই পোকামানবের লেখালিখির আস্তানা, আরেকটি সংগ্রহশালা। এক এক করে দেখালেন হাসান হাফিজুর রহমান সম্পাদিত একাত্তরের ইতিহাস, উনার লেখার সব পান্ডুলিপি, পরম মমতায় বাঁধিয়ে রাখা ব্লগে লেখাগুলো। সংগ্রহের জিনিসগুলো দেখিয়ে দিচ্ছিলেন শিশুর মতো করে। অবাক হয়ে তাকিয়ে দেখছিলাম স্বপ্নগুলোকে।

মমতাময়ীর মমতায় বলি হয়েছেন অনেকেই, আমরাও হয়েছিলাম। খাবার খেতে খেতে এটা সেটা কত যে আলাপ, কত যে কথা। অসাধারন সব খাবার। ঘরে বানানো অসাধারন দই খেতে খেতে ভাবীকে প্রশ্ন করতেই জানতে পারলাম পোকামানবের মেজাজের খবর। বিনা মেঘে বজ্রপাতের মতোই মেজাজ উনার, এই ভালোতো এই খারাপ। আসলে মাটির মানুষ।

টয়লেটের দরজায় আমেরিকা-ব্রিটেনের যুগল পতাকা। কেউ জিগেস করলেই বলে দেয়া হয় যে দরজায় পতাকা দুটো পাবেন সেটাই টয়লেট। টয়লেটেও ক্লাসিক্যাল মিউজিক বাজে পোকামানবের। বাড়ীর সামনে ছোট্ট একটি বাগান। প্রথম রয়ালটির টাকা দিয়ে কেনা শিশুবৃক্ষটি এখন টগবগে যুবক। চোখের সামনে পোকামানবের আরেকটি স্বপ্ন তড়তড়িয়ে বড় হচ্ছে । মুক্তিযুদ্ধের সময় মর্টারের আঘাতে ধসে যাওয়া ছাদের অংশ টুকু দেখিয়ে বল্লেন যখনি এটা দেখি তখনি একাত্তর জেগে উঠে মনের মাঝে।

পোকামানব বল করছেন আমি ব্যাটিং করছি, ফিল্ডিং এ দুই দেব শিশু। এক ফাঁকে আমার শৈশবে ফীরে যাওয়া, দুস্ট বালকের মতো খেলায় মেতে উঠা। মাঝ খানে দূপুরের খাবারের জন্য ছোট্ট বিরতি। আবার গল্প। আবার আড্ডা।

গল্প গল্পে ইট পাথরের জংগলে ফেরত আসার সময় হয়ে এলো টেরই পাইনি। খুব ইচ্ছে হচ্ছিলো থেকেই যাই, কি হবে ইট পাথরের জংগলে ফেরত গিয়ে? হাঁটতে হাঁটতে ষ্টেশনে গিয়ে টিকেট কাটতে গিয়েও আরেক চমক। পোকামানবের শাসনে টিকিটও কাটা হলো না, উনি টিকিট কেটে দিলেন আমাদের জন্য। ট্রেন ছেড়ে দিলো , পোকা মানব হাতা নাড়াচ্ছেন, আমরা তাকিয়ে দেখছি, আস্তে আস্তে সব কিছু দৃস্টিসীমার বাহিরে চলে এলো, কিন্তু মনে হয় এইতো পোকামানব হাত নাড়িয়ে বলছেন " রাস্তায় কোনো সমস্যা হলে ফোন করতে ভুলবেন না কিন্তু। ঢাকায় পৌছেই ফোন দিবেন"।
রাস্তায় খাবার জন্য কিছু খাবারও দিয়ে দিয়েছিলেন মমতাময়ী, রাষ্তায়ই সেটা সাবরে দিয়েছিলাম, এতো সুস্বাদু খাবার সামনে দেখে সামলে রাখতে পারিনি।

" আমি না একটা সাপ দেখছিলাম, সাপটার মা নাই, সাপটার ভাই নাই, জানো সাপটার কেউ নাই ।" ঝাপলা ঝাপলি করা দেবশিশুটিও যেনো মিশে গিয়েছিলো আমাদের সাথে। লাজুক আরেক দেবশিশু লজ্জা কাটাতে অবশ্য একটু সময় লেগেছিলো। আর মমতাময়ীর কথা ! সেটা না হয় আরেকটদিন।

অনেক কিছুই বলার ছিলো, অনেক কিছুই বলা হলো না। পোকামানবের নিষেধ সত্বেও পোকামানবের ঘর বসতি নিয়ে লিখে ফেল্লাম আজ।

 

 

  • ২০ টি মন্তব্য
  • ৩৩০ বার পঠিত,
Send to your friend Print
রেটিং দিতে লগ ইন করুন
পোস্টটি ১৫ জনের ভাল লেগেছে, ৫ জনের ভাল লাগেনি
১. ২৪ শে আগস্ট, ২০০৮ বিকাল ৫:১৭
comment by: ফারহান দাউদ বলেছেন: অদ্ভুত মানুষগুলি আজকাল খুব কম।
এই পোস্ট আবার কার গায়ে লাগলো?
২৪ শে আগস্ট, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:২১

লেখক বলেছেন: একাত্তর শুনলেই যাদের গায়ে লাগে সেই সব বরাহ নন্দন

২. ২৪ শে আগস্ট, ২০০৮ বিকাল ৫:২০
comment by: শওকত হোসেন মাসুম বলেছেন: সুন্দর বর্ণনা। ভাল লাগলো।
আসলেই এই পোস্ট আবার কার গায়ে লাগলো। আজবতো।
২৪ শে আগস্ট, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:২০

লেখক বলেছেন: বস, একাত্তর শুনলেই যাদের গায়ে লাগে তাদের মাঝেই কোনো বরাহ নন্দনের গায়ে লেগেছে, ফলাফল মাইনাস।
এই সব কেয়ার করি না।

৩. ২৪ শে আগস্ট, ২০০৮ বিকাল ৫:২৮
comment by: দূরন্ত বলেছেন: ভালো লাগলো।
৪. ২৪ শে আগস্ট, ২০০৮ বিকাল ৫:৩১
comment by: চিকনমিয়া বলেছেন: আফনের লেকাডি ভালা লাগে
৫. ২৪ শে আগস্ট, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:০১
comment by: অনিন্দিতা ০১ বলেছেন: ভালো লাগলো
৬. ২৪ শে আগস্ট, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:২৭
comment by: েজবীন বলেছেন: লেখাটা ভালো লাগল.............:)
৭. ২৪ শে আগস্ট, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:৩৫
comment by: রাশেদ বলেছেন: ভাল্লাগছে।
৮. ২৫ শে আগস্ট, ২০০৮ দুপুর ২:২৩
comment by: হুদাই বলেছেন: ভাল্লাগছে।
৯. ২৫ শে আগস্ট, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:৫৬
comment by: অরুনাভ বলেছেন: ভালো লাগলো.....কিন্তু মাথায় ঢুকলো না এই পোষ্টে মাইনাস দেবার কি আছে.......
১০. ২৫ শে আগস্ট, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:১৪
comment by: চাঙ্কু বলেছেন: এই পোষ্টে মাইনাস দেয় কিডা ??

ভাল লেখা ।
১১. ০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০০৮ দুপুর ১২:০৪
comment by: মোস্তাফিজ রিপন বলেছেন: ভালো লাগলো।

(পোকামানব নামে কোন ব্লগার আছেন সা.ইনে?)
০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:২২

লেখক বলেছেন: পোকামানব খ্যাত একজন ব্লগার আছেন তবে উনি অন্য নিক ব্যবহার করেন " শুভ "। নিজেকে উনি পোকামানব বলে পরিচয় দিতে ভালোবাসেন।

১২. ০৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৫:২০
comment by: শেখ জলিল বলেছেন: দারুণ মানুষ শুভ নামের আড়ালে লেখক আলী মাহমেদ। তাঁর লেখা বেশ ক'টি বই আমি পড়েছি।
০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ সকাল ১১:১১

লেখক বলেছেন: আমার অন্যতম প্রিয় মানুষ

১৩. ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ দুপুর ১:৩৪
comment by: অন্যমনস্ক শরৎ বলেছেন: অদ্ভুত সুন্দর সুমন। লেখা, যাকে নিয়ে লেখা দুটোই অথবা দুজনাই ।
০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ সকাল ১১:১১

লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ শরৎ

১৪. ০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ১১:৫৭
comment by: ঝড়ো হাওয়া বলেছেন: আমারো খুব প্রিয় একজন মানুষ উনি। ওনার আজিব আজিব মায়াভরা কাজ-কর্ম দেখার সৌভাগ্য হয়েছিল আমারো, এখনো কোন আপন ব্লগারের সাথে সুযোগ পেলেই সেই গল্প করি, ওনার গল্প করতে খুব ভালো লাগে। খুব মিস করি 'শুভ' ভাই আপনা কে।

আরেক জনের নাম বললেন "অন্ধকার" খুব বেশী জানি না তাকে তবে ওনার পোষ্ট খুব আকর্ষনীয়, খারাপ দিক হলো উনি পুরানো পোষ্ট মুছে ফেলেন।

আর এই পোষ্টটা যেই বান্দা ডেলিভারি দিছে ওনাকেও পছন্দ করি, শ্রোদ্ধা করি।
১৫. ০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৩:০৫
comment by: মাছরাঙ্গা বলেছেন: এ সমস্ত লেখা পড়লে মানুষের প্রতি ভালবাসা আর বিশ্বাস ফিরে আসে।

 



 


এবার লোকের ঘরে ঘরে যাবে
সোনালী নয়কো, রক্তে রঙিন ধান,
দেখবে সকলে সেখানে জ্বলছে
দাউ দাউ করে বাংলা দেশের প্রাণ॥

আমার তড়িৎ ঠিকানাঃ
sumon.5554@gmail.com
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

সর্বমোট হিট

 ৫৪০২৮