somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মুক্তিযুদ্ধে ঠাকুরগাঁও, পর্ব ২.১২ (একটি কথ্য ইতিহাস-উইং কমান্ডার (অব.) এস. আর. মীর্জা )

১০ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:২৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

প্র: স্বাধীনতার পর কবে দেশে ফিরলেন ?
উ: ১৭ ডিসেম্বর তারিখে একজন ম্যাসেঞ্জার এসে আমাকে একটা চিঠি দিয়ে গেলো। সেটা ছিলো একটা অফিস অর্ডার। সেই অফিস অর্ডারে দেখি আমার এবং আরো কয়েকজনের নাম। আমাদের টিম লিডার সি.এস.পি অফিসার তখনকার চীফ সেক্রেটারি রুহুল কুদ্দুস সাহেব। আমাদেরকে অবিলম্বে ঢাকা গিয়ে দায়িত্ব নিতে বলা হয়েছে। আমাকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে সিভিল অ্যাভিয়েশনের। মহাপরিচালক,সিভিল অ্যাভিয়েশন। ১৮ তারিখ সকালে আমি দমদম এয়ারপোর্টে রিপোর্ট করি। অন্যরাও যথাসময়ে আসেন। ওখান থেকে আমরা বাগডোগরা আসি। সেখান থেকে হেলিকপ্টারে বিকেল বেলা ঢাকা এসে পৌঁছি। ঢাকা পৌঁছেই পরদিন থেকেই আমরা নিজ নিজ দায়িত্বে ব্যস্ত হয়ে পড়ি।

প্র: ঢাকা এসে আপনি কি দেখলেন ?
উ: তখন ঢাকার অবস্হা সেভাবে দেখার সুযোগ আমার হয়নি। আমি ঢাকা পৌঁছেই বিমান বন্দর সচল করার কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ি। ঢাকায় সে সময় সিভিল অ্যাভিয়েশনের কোনো সিনিয়র অফিসার ছিলেন না। সব জুনিয়র অফিসার এবং অল্প কিছুসংখ্যক কর্মী। ঢাকা বিমান বন্দর খুব ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলো। সেই বিমান বন্দর দ্রুত চলাচল উপযোগী করতে আমাদের বেশ বেগ পেতে হয়েছে। আমি তো বিমান বন্দরের সিভিল অ্যাভিয়েশনের বিশ্রামাগারে রাত কাটাতাম। আমাকে সেখানেই থাকতে হতো। ফলে,এ সময় আমার কোথাও যাওয়া বা কিছু দেখার সুযোগ হয়নি। তবে প্রথম যে দিন আমরা এলাম সে দিনের কথা কিছু মনে আছে। আমরা এয়ারপোর্ট থেকে পূর্বাণী হোটেলে যাওয়ার পথে দেখলাম শহরে তেমন লোকজন নাই। কেমন জানি নিস্তব্ধ সব। সন্ধ্যা হয় হয় সময় আমরা পূর্বাণী হোটেলে পৌঁছলাম।

প্র: সিভিল অ্যাভিয়েশনের দায়িত্ব পাওয়ার পর এই সংস্হাকে গড়ে তুলতে কি কি পদক্ষেপ নিলেন ?
উ: আমি আগেই বলেছি,১৮ ডিসেম্বর বিকালে আমরা ঢাকা পৌঁছুলাম হেলিকপ্টারযোগে। ঐ দিন রাতে আমাদের পূর্বাণী হোটেলে রাখা হলো। পরদিন সিভিল অ্যাভিয়েশন অফিসে গেলাম। সেখানে গিয়ে দেখলাম যারা বাঙালি সিনিয়র অফিসার তারা সব পাকিস্তানে। তারা ছিলো ৮ জনের মতো। যারা বাংলাদেশে আছেন তারা সব জুনিয়র অফিসার। এয়ার ফিল্ডগুলো বোম্ববার্ট করা হয়েছিলো বাই ইন্ডিয়ান এয়ারফোর্স টু প্রিভেন্ট আমেরিকান সেভেন-থ্‌ফ্লিট অ্যান্ড চায়না সোলজার- যাতে তারা এই এয়ারপোর্ট ব্যবহার করতে না পারে। সম্পূর্ন এয়ারফিল্ড অকেজো করে দেয়া হয়েছিলো। বিরাট বিরাট গর্তের সৃষ্টি হয়েছিলো। আমার মনে আছে ১৯টি বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছিলো। সেভেন-থ্‌ফ্লিট থেকে বিমান এসে যেন এখানে না নামতে পারে সেটার প্রতি লক্ষ্য রেখেই বেশি বোমা ফেলা হয়েছিলো। আবার যাতে কোনোভাবেই এই এয়ারপোর্ট আমেরিকানরা ব্যবহার করতে না পারে সেদিক লক্ষ্য রেখেও বোমা ফেলা হয়েছিলো। আমার দায়িত্ব হলো ঢাকা এয়ার ফিল্ডকে আগে সচল করা। আমি সে লক্ষ্যেই কাজ শুরু করলাম।

এ দিকে ৮ জন সিনিয়র সিভিল অ্যাভিয়েশন অফিসার যারা পাকিস্তানে আটকা পড়েছিলেন তারা বাংলাদেশে ফিরে আসলেন। আমি মন্ত্রণালয়কে জানালাম যে,এই ৮ জনের মধ্যে যিনি সবার সিনিয়র অফিসার অর্থাৎ গুলজার হোসেন,তিনিই আমার কাছ থেকে দায়িত্ব বুঝে নেবেন। কারণ আপনি জানেন যে,অনেক আগেই আমি পাকিস্তান এয়ারফোর্স থেকে উইং কমান্ডার হিসাবে অবসর নিয়েছিলাম এবং স্বপ্রণোদিত হয়েই আমি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলাম। আমাকে কেউ বলেননি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে। আমার সুপারিশ সত্ত্বেও কর্নেল ওসমানী সিনিয়র অফিসার গুলজার হোসেনকে দায়িত্ব দিলেন না। অথচ তিনি সিভিল অ্যাভিয়েশনের নিজস্ব অফিসার ছিলেন। কর্নেল ওসমানী বিমান বাহিনী থেকে একজন অফিসারকে নিয়ে এসে এখানে বসালেন। এই ঘটনায় গুলজার হোসেন খুবই ব্যথিত হলেন। তিনি পদত্যাগ করে চলে গেলেন এবং ‘আকিএও’তে ভালো বেতনের চাকরি পেলেন। আসলে এগুলো পার্ট অব আওয়ার ম্যাল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন। এটা আমরা পাকিস্তানিদের কাছ থেকে শিখেছি। আর্মিতেও এখনো তাই চলছে। জেনারেল এরশাদের আমলে ব্রিগেডিয়ার এনামকে দিয়ে রির্পোট তৈরি করানো হয়--সেখানে সিদ্ধান্ত বদল করে বলা হয় যে,সিভিল অ্যাভিয়েশন এবং বাংলাদেশ বিমানের প্রধান উইল অলওয়েজ বি ফ্রম এয়ারফোর্স। আমি মনে করি,এটা একটা ভুল সিদ্ধান্ত। সিভিল অরগানাইজেশন চালাবে সিভিল অফিসার। হোয়াই আর্মি। এগুলো তো পাকিস্তানিদের করা। স্বাধীন বাংলাদেশে আমরা পাকিস্তানি কাঠামোই অনুসরণ করলাম।

চলবে..........

৫টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিলিয়নিয়ার রবিন খুদা ও আমাদের জাতীয় অগ্রাধিকার

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ০৯ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৩০

বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয় কী?

কর্মসংস্থান? না।

বিনিয়োগ? না।

ডলার সংকট? না।

গার্মেন্টস খাতে ছাঁটাই? না।

ব্যাংকিং খাতের আস্থা সংকট? না।

সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো— কোনো অনুষ্ঠানে জুলাই চেতনা কত মিলিলিটার ঢুকেছে, কে কতবার উচ্চারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×