কওমী মাদ্রাসা ছাত্রদের দাবির মুখে বিমানবন্দর এলাকায় নির্মীয়মান পাঁচ বাউলের ভাস্কর্যটি সরানো হচ্ছে অবশেষে। না সরিয়েই বা উপায় কি, মূর্তি দেখে তো আমাদের পূণ্যার্থী হাজিরা বিমান চড়তে পারেন না! ফলে মূর্তি সরিয়ে হজ্ব মিনার বসানো হোক সেই জায়গায়, এই হল মাদ্রাসা ছাত্রদের দাবি।
নতুন কোনো খবর নয় এটা। তবে এই ঘটনা অন্তত দুটো সাফল্য এনে দিয়েছে বাংলাদেশের মৌলবাদীদের। একনম্বরটি ধারাবাহিক: পাঁচ বাউলের মূর্তি সরানোর মাধ্যমে আবারো এ দেশের সিনক্রেটিক ট্র্যাডিশনকে কাচকলা দেখাতে পেরেছে মৌলবাদীরা। প্রমাণ করে ছেড়েছে, বাংলাদেশ আর পাঁচ-দশটা মুসলিম দেশ থেকে ভিন্ন কিছু নয়, বা ভিন্নতা থাকলেও তাকে আর গ্রাহ্য করা হচ্ছে না। ভেরি মাচ ইন দ্য ফর্ম্যাট।
দুই নম্বর সাফল্যটি নতুন এবং মারাত্মক: সিভিল এভিয়েশনের চেয়ারম্যান বলছেন কারো দাবির মুখে নয়, বরং হাজিদের মূর্তিদর্শন রহিত করার জন্যই নাকি মূর্তি সরানো হচ্ছে [সূত্র: প্রথম আলো ১৬ অক্টোবর ২০০৮]! তিনি আরো দাবি করলেন যে তিনি বা তারা কারো (এক্ষেত্রে মৌলবাদী আন্দোলনকারী) চেয়ে "কম মুসলমান" নন! অর্থাৎ মূর্তি সরানোর সিদ্ধান্ত কোনো আন্দোলনের মুখে গৃহিত হয় নি, বরং নিজেদের সাচ্চা মুসলমানিত্ব প্রমাণ করতেই নেয়া। তার মানে হল, কওমী মাদ্রাসা ছাত্ররা এখন যদি বলেন যে বাউলের মূর্তি নিয়ে তাদের কোনো সমস্যা নেই, তাতেও বাউলের মূর্তি আর আগের জায়গায় ফিরে আসবে না! বাউলকে বাংলার মাটি থেকে ঝেঁটিয়ে বিদায় করার জন্য এখন কর্তৃপক্ষের মুসলমানিত্বই যথেষ্ট।
ধর্ষণ যখন অনিবার্য, তখন তা উপভোগ করাই নাকি শ্রেয়। পশ্চিমা দেশে সোশ্যাল এক্টিভিস্টরা এই পরামর্শ মেয়েদের দিয়ে থাকেন। সেটা জীবন বাঁচানোর জন্য, কিন্তু এই পরামর্শে উজ্জীবিত হয়ে ধর্ষিতা হবার সেঞ্চুরি করার জন্য নয় নিশ্চয়ই।
অভিনন্দন মৌলবাদ! দেশ এখন ধর্ষণ উপভোগ করতে শিখেছে!!
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই অক্টোবর, ২০০৮ দুপুর ১২:৪৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


