আমার প্রিয় পোস্ট
- মিসেস মেহবুবা জুবায়ের, যাস্ট শাট আপ... - মুনশিয়ানা
- শোকের রাজনীতি পার্ট টু - কৌশিক
- সচলায়তনে কমিউনিটি ফ্যাসিজম : ব্লগারের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত হওয়ার কারণ আছে - ফিউশন ফাইভ
- ভার্চুয়াল ও ননভার্চুয়াল ক্ষেত্র থেকে সামহোয়ারইনব্লগ কর্তৃপক্ষের ব্লগ রূপরেখা এবং এর ব্লগ, ব্লগার ও ক্রমঃবিবর্তিত পরিচালন পদ্ধতি - কৌশিক
- খিস্তি ঠাটে ত্রিতাল ভৈরবের জঙ্গনামা: সামহোয়ার নিয়ে আরো কিছু ভণিতা - রিফাত হাসান
- সামহোয়ারনামাঃ একটি ব্লগীয় ক্যাচাল সৃষ্টি এবং আধিপাত্য বিস্তারের হীন প্রকল্প - শিরোনাম
- সুমন রহমান এর 'সামহোয়্যারনামা ৪' এর প্রেক্ষিতে কিছু কথা (ত্রিভুজ) - ত্রিভুজ
- কাস্পারস্কাই ইন্টারনেট সিকিউরিটি-২০০৯ এর ভ্যালিড কি- 7/11/09 পর্যন্ত!!! - স্বাধীন_০৮
- বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কি (পশ্চিমা) জ্ঞানের (বাংলা) বিতরণ কেন্দ্র ?সুমন রহমানের লেখার প্রতিক্রিয়া - আহসান হাবিব শিমুল
- শেষ লেখা: হাঃ হাঃ, ডিয়ার কর্তৃ, গরুর জন্য ঘাস। - ব্রাত্য রাইসু
- লোকালটক, আনাল হক ও মনসুর হাল্লাজ - অমি রহমান পিয়াল
- ছোটগল্পঃ আমাদের এক বন্ধু পাহাড় বিক্রি করতো - মোস্তাফিজ রিপন
- লিজাইলাম - কৌশিক
- লেখকের মৃত্যু, পুরান মালের আড়ত আর জলেস্থলেঅন্তরীক্ষে একই কুমীরশিশুর প্রদর্শনী - আসিফ রহমান
- গল্পঃ জলের রঙে জলছবি - মোস্তাফিজ রিপন
- আমি যেদিন নিজের হাতে খুন হয়েছিলাম - আকাশচুরি
- তারার ফুল (কল্পগল্প) - (অ)গাণিতিক
- গানের প্রতিযোগিতা তিন চাকা ও কিছু ফাও গল্প - শওকত হোসেন মাসুম
- ছেলেকে না-বলা রূপকথা - সুমন রহমান
- ভাস্কর্য বিতর্ক: আরো কিছু নোট - রিফাত হাসান
- গরিবি অমরতা - সুমন রহমান
- কমিউনিষ্ট চীনের পুঁজিতন্ত্র ও মেলামাইন - পি মুন্সী
- কার্ল মার্কস ও তথাকথিত প্রকৃতি বিজ্ঞান (Natural Science) - পি মুন্সী
- মৃত্যুর মন্থর রিহার্সেল - বৃশ্চিক
ভাস্কর্য ইস্যু: ব্রাত্য রাইসু এবং রিফাত হাসানের বক্তব্য নিয়ে কিছু প্রশ্ন
২২ শে অক্টোবর, ২০০৮ রাত ৮:৫৯
ভাস্কর্য ইস্যুতে এই দুজন বিদ্যমান ব্লগ-অ্যাক্টিভিজমকে ভালোভাবে মোকাবেলা করেছেন বলে আমার মনে হয়েছে। এখন ব্লগ-অ্যাক্টিভিজমের বাইরে গিয়ে আমি জিনিসটা বুঝতে চাই। সে কারণে আমি এই দুই ব্লগারকে বিনয়সহ দুটো প্রশ্ন করতে চাই। প্রশ্ন দুটো তাদের ব্লগেও করা যেত, কিন্তু সেখানে এত এত ধরনের বিচিত্র আলাপ হয়ে গেছে যে আর নতুন করে জায়গা গরম করতে ইচ্ছা করল না।
১. রিফাত হাসানের কাছে দুটি জিজ্ঞাসা
ভাস্কর্য ইস্যুতে আপনার বক্তব্য আমার কাছে মোটামুটিভাবে অধিকারমূলক মনে হয়েছে। বিমানবন্দরে ভাস্কর্য বানানোর আইডিয়া নিশ্চয়ই শিক্ষিত মধ্যবিত্তের মূল্যবোধ এবং এ বিষয়ে রাষ্ট্রের পক্ষপাতকে ইংগিত করে। একমত। ফলে, রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে মৌলভীরা তাদের বিশ্বাসের জায়গা থেকে এর প্রতিবাদও করতে পারে। একমত। শিক্ষিত মধ্যবিত্তের মূল্যবোধবাহী রাষ্ট্র যে ভাস্কর্যটি বানানোর উদ্যোগ নিল সেটি মৌলভীদের দাবির মুখে ভেঙে ফেলে রাষ্ট্র কি শিক্ষিত মধ্যবিত্তের ধ্যানধারণা ও সংস্কৃতিকে খাটো করল না? এই দুই অধিকারবোধ পরস্পর সাংঘর্ষিক হওয়ায় রাষ্ট্র যে পদক্ষেপটি নিল, তাকে ন্যায়পরায়ন ভাববেন কোন্ যুক্তিতে?
দুর্গার বিগ্রহ নিয়ে আপনার যুক্তি কৌতুহলোদ্দীপক। হ্যাঁ, প্রশ্ন বটে কেন দুর্গার মূর্তি ভাঙে না, কিন্তু বিমানবন্দরে লালনের মূর্তি ভাঙা হয়। আচ্ছা, কেন "অপরাজেয় বাংলা" ভাঙার আন্দোলন শুরু হয় না? তার মানে কি এইই নয় যে ভাস্কর্যেরও শক্ত নরম আছে? অপরাজেয় বাংলা "শক্ত" ভাস্কর্য, তাই টিকে আছে, নির্মীয়মান বাউলের ভাস্কর্য "নরম" হওয়ায় এর পতন হল! ব্যাপারটা যত না আদর্শিক, তার চেয়েও বেশি স্ট্র্যাটেজিক লাগে। কৌশলী বিপ্লবী রাজনীতি, মোল্লাদের। আমিনী এদিকে বলতেছেন স্বাধীনতা যুদ্ধের "ইয়ে"গুলো বাদ দিয়ে বাকি ভাস্কর্য ভাঙতে! এখন স্বাধীনতা যুদ্ধের "ইয়ে"গুলো মৌলভীদের বিপ্লবী রাজনীতিতে পার পেয়ে গেল কোন্ তরীকায়? যে নীতির ওপর ভিত্তি করে ভাস্কর্য ভাঙার আওয়াজ তার দিতেছে, সেই নীতিতে কি দুর্গার ছাড় পাওয়ার ব্যবস্থা আছে? কিন্তু দুর্গা ছাড়া পেয়ে যায় কেন? এজন্য নয় যে দুর্গা, এই উপমহাদেশীয় প্রেক্ষাপটে, মোটেও "নরম" মূর্তি নয়?
২. ব্রাত্য রাইসুর কাছে একটি
রাইসু মৃণালের ভাস্কর্য নিয়ে বলেছেন। আরো অনেকেই বলেছেন। মৃণালের ভাস্কর্য ভাঙা উচিত ইত্যাদি ইত্যাদি। এখন ধরেন মৃণাল হক নয়, আলবার্তো জিয়াকোমেত্তি কিংবা রামকিংকর বেইজের একটা ভাস্কর্য খুবই প্রাসঙ্গিকভাবে শহরে কোথাও টাঙানো হল সেখানে আর সেইটারে রশি লাগায়া মোল্লারা টানতে শুরু করল। সেক্ষেত্রে আপনার চিন্তামূলক অবস্থানটি কি হবে?
প্রকাশ করা হয়েছে: প্রতিদিনের রাজনীতি বিভাগে । সর্বশেষ এডিট : ২২ শে অক্টোবর, ২০০৮ রাত ৯:০৬ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
নাভদ বলেছেন:
অপরাজেয় বাংলা "শক্ত" ভাস্কর্য, তাই টিকে আছে, নির্মীয়মান বাউলের ভাস্কর্য "নরম" হওয়ায় এর পতন হল!
==================================
অপরাজেয় বাংলাকে ভেঙে ফেলার চেস্টা জামাত শিবির করেছে আগেও... এরা পোক্ত হয় বসতে পারলে সেটা ও থাকবে না....
সোর্স
১৯৭৭ সালের দৈনিক ইত্তেফাকের এই পেপার কাটিং। সে সময় ধর্মান্ধরা অপরাজেয় বাংলা ফেঙ্গে ফেলার একটা চেষ্টা চালিয়ে ছিল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছেলে মেয়েরা সেই সব অকালকুষ্মন্ডদের মাথা মুড়িয়ে সেদিন ঘোল ঢেলে দিয়ে ছিল।
রাইসুরে উদ্দেশ্য কইরা কৃত প্রশ্নেরও জবাব জাননের অপেক্ষায় থাকলাম...
দিশাহারা ওমর সোলাইমান বলেছেন:
একমত।
যারা ভাস্কর্য ভাংগার পক্ষে আছে তারা সিধা গলায় কেন কইতে পারতাছে না?
রিফাত সাহেব বারো হাত লম্বা ত্যানা প্যাচায়া কথা ডেলিভারী দিতাছে। আর অনেকে ভাস্কর্যের মান খারাপ, মৃনালের সমস্যা আছে এই গুলা কইয়া যাইতেছে।
ব্যাপারটা হইছে এইরম যে মাইয়া ধর্ষনের শিকার হইছে আর বিচারে মাতবর কইতাছে ছেড়ির ফিগার ভালো।
সুমন রহমান বলেছেন:
ধন্যবাদ জ্বিনের বাদশা, নাভদ, ভাস্কর ও দিশাহারা ওমর সোলাইমান। ভাস্কর্য ইস্যুতে রিফাত হাসান ও ব্রাত্য রাইসুর বক্তব্য চিন্তাউদ্রেককারী। এর বিপরীতে ব্লগ অ্যাক্টিভিজম কেবল ক্ষোভ আর বিবমিষা দিয়েই দায়িত্ব সারতে চেয়েছে। গ্রসলি বললাম, কারণ আরো কিছু ব্যতিক্রমধর্মী পোস্ট এ বিষয়ে আমরা দেখেছি। কিন্তু মোটের ওপর, "পেটিবুর্জোয়া" মধ্যবিত্ত অবস্থান থেকে এই অল্টার্নেটিভ দৃষ্টিভঙ্গিটাকে খুব ইনডেপথ যাচাই করার ব্যাপার আছে। আমরা নিজেদের শ্রেণীচরিত্রের প্রশংসা যেমন আনক্রিটিক্যালি করব না, তেমনি নিন্দাও যেন আনক্রিটিক্যালি না করি। রাইসু ও রিফাতের অবস্থানটুকু গ্রহণ কিংবা প্রত্যাখ্যান করবার আগে তাদের দিকে এই প্রশ্নগুলো ছুঁড়ে দিতে চেয়েছি এজন্যই। এখানে আমার অবস্থান পারফর্মেটিভ। "রূচিশীল" মধ্যবিত্তের জায়গা থেকে বুঝেই দেখি না জিনিসটা!
এই জ্ঞানপাপীগুলা নিজেরা নিজেরা মিইল্লা ঘোঁট পাকায় । প্ল্যান কইরা একজন জনমতের বিরুদ্ধে কুযুক্তি দিবো । এইটা নিয়া ম্যাঙ্গো পিপল চিল্লাফিল্লা করবো এরপরে আরেকজন আইসা ঐ কুযুক্তিরে আবার আলোচনায় আনবো প্ল্যান মোতাবেক ।
এই যে যেমন, বিপ্লবী জামাল ভাস্কর ব্যর্থ রাইসুর আগের পোষ্টে সহমত জানাইছে চিল্লাইয়া, এখন আইসা এইখানে সুর মিলাইছে ।
ত্যানা পেঁচাইয়া খালি আলোচনায় থাকার ফিকিরবাজী
আর সেই পোস্টের কমেন্টেও আমার ভাষ্কর্য সরানের মৌলবাদী উদ্যোগ বিষয়েও বক্তব্য রাখা আছে, খুইলা-পইড়া-বুইঝা নিয়েন...
আলমগীর কুমকুম বলেছেন:
দিশাহারা ওমর সোলাইমান বলেছেন: ব্যাপারটা হইছে এইরম যে মাইয়া ধর্ষনের শিকার হইছে আর বিচারে মাতবর কইতাছে ছেড়ির ফিগার ভালো।হাসতে হাসতে পইড়া গেলাম
আলিফ দেওয়ান বলেছেন:
সুমন বাথিজার পুষ্ট পড়ি খুশি হইলাম। সে ফেসিবাদের পত ছাড়ি বুদ্দির পতে আসিছে। কিন্তু তার ছামছা জামাল বাস্খর পুরাতন বন্দু রাইসুর পুন্দ পেলি আসি সুমন বাথিজার পুন্দ ছাটা শুরু করিচে দেকি হাসি আসিল।
লেখক বলেছেন: একটা ইস্যুকে নানান জায়গা থিকা দেখা যদি ফেসিবাদ হয়, তাইলে সেই পথেই আছি এখনো। জামাল ভাস্কর বা ব্রাত্য রাইসুর লেখা পড়েও তাই মনে হৈছে আমার। সে কারণেই যোগাযোগ করার চেষ্টা। বিষয়টা পারফর্মেটিভ।
ব্রাত্য রাইসু বলেছেন:
"এখন ধরেন মৃণাল হক নয়, আলবার্তো জিয়াকোমেত্তি কিংবা রামকিংকর বেইজের একটা ভাস্কর্য খুবই প্রাসঙ্গিকভাবে শহরে কোথাও টাঙানো হল সেখানে আর সেইটারে রশি লাগায়া মোল্লারা টানতে শুরু করল। সেক্ষেত্রে আপনার চিন্তামূলক অবস্থানটি কি হবে?" - সুমন রহমানঅবশ্যই মোল্লাদের প্রতিহত করতে হবে। অসুন্দর ভাস্কর্য ভাঙতে হইলে নাগরিকরা (মোল্লাসহ) ঠিক কইরা ভাঙবে, কেবল মোল্লাদের আবদারে না। তবে এই প্রশ্ন আমারে করা অর্থহীন। আমার বক্তব্যের মধ্যে আমার অবস্থান অস্পষ্ট ছিল না। সুমন নিশ্চয়ই অল্পবুদ্ধি ব্লগারদের জন্য আমার তরফে একটা ট্যাবলেট চাইছেন ওনাদের গিলানোর জন্য।
ট্যাবলেট: আমি মূর্তি নির্মাণের পক্ষে (কিন্তু স্পর্শকাতর প্রতিষ্ঠানের কাছে নয়); আমি মদের দোকানের পক্ষে (কিন্তু মহল্লার মধ্যে নয়); মোল্লারা যদি সব মূর্তি ভাঙতে চায় তাদের টাইট দিতে হবে। তবে সরকারের তরফের সচেতন অ্যাকশন অনেক কিছুরেই সহজে সাইজ কইরা আনতে পারে। আর মাদ্রাসায় বিমূর্ত শিল্পকলার উপর ক্লাস শুরু করা যাইতে পারে। প্রত্যেকটা মসজিদে অবস্তুবাচক মূর্তি নির্মাণের (যেমন ক্যালিগ্রাফি) ব্যাপারে মোল্লারা বরং আগ্রহীই হবে।
অর্থাৎ ভাস্কর্যের বহুমুখীনতা থাকলে মোল্লারাই বরং কিছু ভাস্কর্য পাহারা দিয়া রাখবে।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ রাইসু। অল্পবুদ্ধি ব্লগাররা নিজেদের বিষ্ঠায় গড়াগড়ি দিক, এই অবসরে আমরা বরং আমাদের আলাপগুলো সারি। আপনার বক্তব্যে আপনার অবস্থান স্পষ্ট ছিল, সেগুলোই একটু ভেঙে ভেঙে বোঝার চেষ্টা করা। আমার জিজ্ঞাসার জবাবে আপনি লিখেছেন:
"অবশ্যই মোল্লাদের প্রতিহত করতে হবে। অসুন্দর ভাস্কর্য ভাঙতে হইলে নাগরিকরা (মোল্লাসহ) ঠিক কইরা ভাঙবে, কেবল মোল্লাদের আবদারে না।"
কিন্তু এ যাত্রা জিনিসটা মোল্লাদের আবদারেই কিন্তু ভাঙা হৈল। ফলে এ নিয়া "রূচিশীল" মধ্যবিত্তের যে মনোবেদনা তার তো যৌক্তিক ভিত্তি আছেই। নাগরিক মধ্যবিত্ত তো নিজেকে বঞ্চিত ভাবতেই পারে। নাকি এ যাবতকাল জনরূচির উপর এই শ্রেণীর যে ঐতিহাসিক খবরদারির রেকর্ড আছে, তাকে ব্যালান্স করতে গিয়ে রাষ্ট্র আবদারের কোটা সিস্টেম চালু করবে? নারী কোটা, উপজাতি কোটার মত মোল্লা কোটা?
আরেকটা বিষয়: মোল্লাদের প্রতিহত করবে কে? রাষ্ট্র তো আগেই হেরে বসে আছে দেখা যাচ্ছে। শিক্ষিত মধ্যবিত্ত ব্লগে রাজা-উজির মারে, ঘরোয়া অনুষ্ঠানে গণসঙ্গীত গায়, আর যৌথ নিবন্ধ লেখে খবরের কাগজে। প্রতিহত করার ঐতিহাসিক দায় নাগরিক মধ্যবিত্তের, কিন্তু তারা কি প্রস্তুত? নাকি তাদের নৈতিক মনোবল ভেঙে পড়ার পথে?
আলিফ দেওয়ান বলেছেন:
রাইছু বাথিজার সাতে সুমন বাথিজার অনেক দিনের দুস্তি। এইকানে যে গুতাগুতি দেকা যাইতেছে তা চলার পতে খনিক দেকা সে কি শুদু অভিনয়। আসলে তাহাদের মদ্যে শুদু গান গেয়ে পরিছয়।
ব্রাত্য রাইসু বলেছেন:
"কিন্তু এ যাত্রা জিনিসটা মোল্লাদের আবদারেই কিন্তু ভাঙা হৈল।" - সুমন রহমানআমি মনে করি না এইটা আবদার। মোল্লারা আপত্তির কারণ ব্যাখ্যা করছেন। এই কারণের মধ্যেই তারা দেশের অন্য ভাস্কর্যগুলার থিকা এইটারে কেন আলাদা কইরা দেখেন তা বলতেছেন। আমি রুচিশীল মধ্যবিত্তের মোহর মারা কানে সেইটা বলবার চেষ্টা কইরা যাইতেছি। যে মোল্লাদের, রাজাকারদের আপত্তিগুলাও মনোযোগ দিয়া শুনতে হবে।
মোল্লাদের প্রতিহত করার সবচেয়ে সহজ উপায় মোল্লাদের দুইভাগ কইরা দেওয়া। ভাসানী থাকলে এইটা করতে পারতেন। এরশাদও পারতেন। তবে মাঝে মাঝে মনে হয় এরশাদরেও মোল্লারা দুইভাগ কইরা দিছেন। বেশরিয়তি মোল্লাদের শক্তি বাড়ানোর চেষ্টা করতে হবে। রুচিশীল মধ্যবিত্ত কিছু করবে না। এদের গোনায় ধরার কিছু নাই। আহাজারি ছাড়া এরা কিছু করে না।
লেখক বলেছেন: মজার বিষয়। আপনি তাইলে লুম্পেন মোল্লার সংখ্যাবৃদ্ধিকেই কৌশল মনে করছেন? কিন্তু গণতান্ত্রিক সরকার সেটা কেন করবে, যদি রূচিশীল মধ্যবিত্তের ভয়েসের কোনো ভ্যালু তার কাছে নাইই থাকে? ভোটের রাজনীতিতে যদি রূচিশীল মধ্যবিত্ত কোনো কার্যকর ভূমিকা নাইই রাখতে পারে, তবে ভোটপ্রত্যাশী সরকার তো ক্রমে ক্রমে তার ভাবধারায় মোল্লাদের এজেন্ডাকে বেশি মনোযোগ দিতে শুরু করবে। নাকি?
তানভীর রাতুল বলেছেন:
শেষকথা/চরম হইল 'ব্যক্তিগত মতামত' আর বাকি বাতুলতা, তাই মাঝেমধ্যে অন্ধ থাকা মেলা ভালো তাই বলে যারা অন্ধ করে (ভাবে করলাম) তারা যে ইতরপ্রাণী এইটা অস্বীকার কবর না।
লেখক বলেছেন: ঠিক বুঝলাম না।
তবে সেখানে যে প্রশ্নটা আবার চলে আসলো ব্রাত্য রাইসুর প্রতি,
এবারের যে মূর্তি ভাঙার ঘটনাটা ঘটলো, সে ব্যাপরে, এই মূর্তি কি স্পর্শকাতর প্রতিষ্ঠানের সামনে করা হচ্ছিলো? তাহলে সেই স্পর্শকাতর প্রতিষ্ঠানটা কি? বিমানবন্দর, নাকি হাজী ক্যাম্প?
প্রসঙ্গতঃ, পত্রিকাগুলো দাবী করছে, হাজী ক্যাম্প আরো দূরে অবস্থিত, এটা মূলত বিমানবন্দর এলাকার নান্দনিকতা বাড়ানোর জন্যই করা হয়েছে, রাইসু কি এই কথার সাথে দ্বিমত করেন?
"কিন্তু মোটের ওপর, "পেটিবুর্জোয়া" মধ্যবিত্ত অবস্থান থেকে এই অল্টার্নেটিভ দৃষ্টিভঙ্গিটাকে খুব ইনডেপথ যাচাই করার ব্যাপার আছে।"
একমত, এটার প্রয়োজন আছে।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ জ্বিনের বাদশা। দরকার তো আছেই। "শিক্ষিত" মধ্যবিত্ত যেভাবে দিন দিন আত্মাভিমানী এবং মৌলবাদী হয়ে উঠতেছে, আর মৌলবাদীরা যেভাবে লিবারাল হওয়ার চেষ্টায় আছে, তাতে আমার সন্দেহ অদূর ভবিষ্যতে আমরা এসব শব্দ দিয়ে আর সুস্পষ্টভাবে কোনো গোষ্ঠীকে চিনব কিনা। ব্লগ একটা দর্পণ, জাতির না হলেও তথাকথিত শিক্ষিত মধ্যবিত্তের। তথাকথিত লিবারাল প্রগতিশীল মধ্যবিত্ত ব্লগার শ্রেণী তো দেখি নানান নিকে গালি দেয়া ছাড়া আর কিছুই জানে না! ফলে রিফাত যখন মধ্যবিত্তকে "প্রতিক্রিয়াশীল" বলেন এর একটা অর্থ দাঁড়ায়।
মৌলভীদের সাথে এ যাবতকাল রূচিশীল মধ্যবিত্তের যোগাযোগের মাধ্যম ছিল ঘৃণা কিংবা অবজ্ঞা। তাদের দিক থেকেও রূচিশীল মধ্যবিত্তের ব্যাপারে ঘৃণা ছিল বৈকি, তবে সেই ঘৃণাকে ইতিবাচকভাবে কাজে লাগিয়েছে তারা। সংগঠিত হবার ক্ষেত্রে।
ব্রাত্য রাইসু বলেছেন:
জ্বিনের বাদশা,বিমান বন্দর আর হজ্ব ক্যাম্প প্রায় সমান দূরত্বেই। তাতে কিছু যায় আসে না। হজ্ব ক্যাম্প যদি আরো ভিতরেও হইত ব্যাপার একই থাকে। আল্লাহর নামে নিয়ত কইরা বেরুনোর পরেই হজ্বযাত্রীদের মানুষের মূর্তি না দেখতে হইলে তো সমস্যা নাই। এখন বিমান বন্দরের ভিতরেও যদি মানুষের মূর্তি বসানো হয় তখন কি হ্জযাত্রীরা চোখ বুইনজা থাকবে। আমি এই প্রশ্নের উত্তর জানি না। এবং সেই নিয়া আমার কোনো কিছু বলার নাই।
এইটাও মনে হয় তথাকথিত সেক্যুলার দেশগুলাও তাদের বিমান বন্দরে লাদেনের মূর্তি বসাইতে দিবে না। খালি ধর্মপ্রাণরাই যে কট্টর তা মনে হয় না।
"আল্লাহর নামে নিয়ত কইরা বেরুনোর পরেই হজ্বযাত্রীদের মানুষের মূর্তি না দেখতে হইলে তো সমস্যা নাই।" -- এইটা আলোচনার দাবী রাখে, তবে নিজের সাধারণ বুদ্ধিতে যতটুকু ধরে সেটা হইলো, এতে সমস্যা হওয়ার কোন কারণ নাই, আল্লাহর নামে হজ্বের নিয়ত কইরা আগে মানুষ পায়ে হেঁটে হজ্বে যেতো ... পথে কতকিছু পড়ত কে জানে ... পথে যাই পড়ুক, মূর্তি দেইখা উপাসনা না করলেই যথেষ্ট বইলা মনে করি
রিফাত হাসান বলেছেন:
প্রথমেই বলে রাখি, অধিকারমূলক শব্দটা বুঝি নাই। তবে, ভাস্কর্য বিতর্ক এবং তৎসম্পর্কিত শিক্ষিত মধ্যবিত্তিয় অবস্থানটারে প্রশ্ন, আর কোন অবস্থান থেকে এই প্রশ্নটি করা যায় তার একটা হদিস খোঁজার চেষ্টা আমার পোস্টগুলিতে করেছি।আমার কথাটির গোঁড়ার বিন্দু হলো: মূলত রাষ্ট্র কোন চরম বা চুড়ান্ত কনসেপ্ট না। নাগরিকের কনসেন্ট, নাগরিকের সাথে একটি অলিখিত চুক্তি, যেইটারে আমরা সোশাল কন্ট্রাক্ট বলতে পারি, সেইটাই রাষ্ট্র গঠনে আপাতত বৈধতা তৈরী করে। রাষ্ট্রের এই আপাত বৈধতাকে স্বীকার করে আমি কয়েকটি প্রশ্ন উত্থাপন করেছি যার সারকথা হলো, একটি পাবলিক স্পেসে এই ভাস্কর্য নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় রাস্ট্র নাগরিকদের সাথে যেহেতু এ সংক্রান্ত রাজনৈতিক বোঝাপড়া শেষ করে নাই, তাহলে এটি সোশাল কনট্রাক্ট এর ভায়োলেশন কিনা।
যদি, এটি ভায়োলেশন হয়ে থাকে, তাহলে এটির উচ্ছেদ সেই ভায়োলেশনের প্রেক্ষিতে। অর্থাৎ, এটি হলো রিমোভাল অব ভায়োলেশন।
তো, আপনার প্রশ্নের জায়গাটি কি এটাই যে, এই রিমোভাল অব ভায়োলেশন নতুন কোন ভায়োলেশন তৈরী করল কিনা। আমার কথা হলো, সেই প্রশ্নটি করতে যাওয়ার আগে রিমোভাল অব ভায়োলেশন জরুরী।
কারণ, রাষ্ট্রের আচরণ ভায়োলেশন দিয়ে শুরু হয়েছে। সেখানে রাষ্ট্রের ন্যায়পরতা ভাবতে যাওয়াটা ভুল। এবং আরো অনেকগুলো ভায়োলেশন দিয়ে এটা শেষ হবে, সেটাই স্বাভাবিক। এইটার কারণ হলো, রাষ্ট্রের সাথে নাগরিকের কন্ট্রাক্টের ভিত্তিগুলি অস্পষ্ট থেকে যাওয়া। অর্থাৎ, কোন কোন বিষয়গুলিরে ভিত্তি করে নাগরিকের সাথে রাষ্ট্রের কন্ট্রাক্ট প্রিজিউম করতে হবে, এটি।
সুমন রহমান বলেছেন:
"তো, আপনার প্রশ্নের জায়গাটি কি এটাই যে, এই রিমোভাল অব ভায়োলেশন নতুন কোন ভায়োলেশন তৈরী করল কিনা। আমার কথা হলো, সেই প্রশ্নটি করতে যাওয়ার আগে রিমোভাল অব ভায়োলেশন জরুরী।"- রিমোভাল তো হৈয়াই গেল। এই "রিমোভাল অব ভায়োলেশন" নতুন কোনো ভায়োলেশন তৈরি করল কিনা সেটাই আপনাকে আমার জিজ্ঞাসা। আমার ধারণা প্রশ্নটি আমি যথাসময়েই (মানে ভায়োলেশন রিমুভ হওনের পরেই) করেছি। এবার আপনি আপনার সময় অনুযায়ী এর উত্তর দিন।
মৌলভীগো ভাঙাভাঙিতে যেহেতু আপনের সায় ছিলো তাই ধইরা নিতেছি তাগো হজ্জ্ব মিনারের দাবীরে আপনে ভায়োলেশন হিসাবে দেখেন নাই, কারন সেইটা কইতে দেখিনাই আপনেরে কোনখানেই...
আমিনি যদি রাজনৈতিক বোঝাপড়ার একটা ফোকাল পয়েন্ট হয় তাইলে আমার কথা আছে...সে তো কওমী মাদ্রাসার ছদ্মাবরণ নিয়া এমনিতেই বহুত ভয়োলেশনের মধ্যে আছে বা ছিলো...তার কি আর সেই অধিকার থাকে? সে কি সেই অথরিটি পায়?
@রিফাত হাসান, রাস্ট্র নাগরিকদের সাথে বোঝাপড়া কিভাবে করবে? রাষ্ট্রের গৃহিত প্রতিটি পদক্ষেপে নাগরিকদের ভোট নিয়ে দেখবে যে নাগরিকরা এর পক্ষে আছে কিনা? সেইটা কি সম্ভব?
এখন মৌলভীদের সংখ্যা যদি "রুচিশীল মধ্যবিত্তের" সংখ্যার চেয়ে কম হয়, তাহলে কি মূর্তিস্থাপনটা আর ভায়োলেশন থাকে?
নাকি বলতে চান নাগরিকের একাংশের অমত থাকলেই সেই পদক্ষেপ সরকারের নেয়া ঠিক হবেনা?
তাহলে তো দেশ থাইমা যাবে! একটা বাজেটও কোনদিন পাশ হবেনা।
নাকি বলতে চান, যাদের জোর বেশী জোশ বেশী তাদের মতামত গুরুত্ব না দেওয়াটাই ভায়োলেশন?
আপনার কথিত "ভায়োলেশন" যাচাইয়ের রূপরেখাটা একটু ব্যাখ্যা করেন, শুনি।
সুমন রহমান বলেছেন:
আমি কিন্তু রিফাত হাসানের এই পয়েন্টে কোনো সমস্যা দেখি না। রাষ্ট্র ভায়োলেশন করবে এবং তার নাগরিকেরা তাদের পছন্দমত ইস্যুতে ভায়োলেশনের প্রতিবাদ করবে এটাই স্বাভাবিক। মৌলভীরা মূর্তি ছাড়া অন্য ভায়োলেশনের ইস্যুতে কথা না বলতেই পারে@ভাস্কর।ভায়োলেশন যাচাই-এর জন্য গণতান্ন্ত্রিক সরকারব্যবস্থায় সংসদ একটা জায়গা@জ্বিনের বাদশা।
কিন্তু কথা হচ্ছে, আমরা যখন এসব তৎপরতার আঁচে নিজেদের পজিশনকে না পুড়িয়ে কথা বলতে চাইবো, তখন আমরা সব ধরনের ভায়োলেশনকে বিবেচনায় আনবো কিনা। সেটাই রিফাতের কাছে আমার জিজ্ঞাসা, প্রিসাইজলি।
যেহেতু, যাচাই-বাছাইয়ের সুনির্দিষ্ট কোন পথ খোলা নেই, তাই এখনকার পরিস্থিতিতে যে কোন প্রতিবাদকেই নাগরিকের পক্ষ থেকে বলে ধরার একটা সুবিধাবাদ যে কেউ নিতে পারে -- এই একটা সমস্যা থেকে যায়।
তারপরের কথা হলো, "রাষ্ট্রের ভায়োলেশনের প্রতিবাদ করা" আর "রাষ্ট্রের ভায়োলেশন আসলেই হয়েছে কিনা সেটা প্রমাণের আগেই সেটাকে (ভায়োলেশনকে) অপসারণ করা" -- এ দুটো বিষয়ের মৌলিক পার্থক্যও খতিয়ে দেখতে হবে। এব্যাপারে রিফাত হাসানের মতামত জানতে আগ্রহী আমি।
আরেকটা মৌলিক ইস্যু হলো, রাষ্ট্রের সংখ্যাগরিষ্ঠ নাগরিকের মতামত/কর্মকান্ড (যেটা সংসদে প্রতিফলিত হয়ে ভায়োলেশন যাচাইয়ে কাজে লাগবে) যদি রাষ্ট্রের অন্য অল্পসংখ্যক নাগরিকের কাছে অগ্রহনযোগ্য মনে হয়, তখন তারা সেটাকে নিন্দা করার/প্রতিবাদ করার/প্রতিরোধ করার এখতিয়ার রাখে কিনা?
অর্থাৎ, রাষ্ট্রের গৃহীত পদক্ষেপে শুধু সংখ্যগরিষ্ঠ জনগনের মতামতই দেখা হবে নাকি ন্যায়-অন্যায়/যৌক্তিকতা -- এসবকেও বিবেচনায় আনতে হবে?
রিফাত হাসান বলেছেন:
@ সুমন রহমান, আপনার কথা হলো, "রিমোভাল অব ভায়োলেশন" নতুন কোনো ভায়োলেশন তৈরি করল কিনা। এই জায়গায় আমার অবস্থানটি আমি সম্ভবত পরিস্কার করেছি। উপরের কমেন্ট দ্রষ্টব্য: রাষ্ট্রের আচরণ ভায়োলেশন দিয়ে শুরু হয়েছে। সেখানে রাষ্ট্রের ন্যায়পরতা ভাবতে যাওয়াটা ভুল। এবং আরো অনেকগুলো ভায়োলেশন দিয়ে এটা শেষ হবে, সেটাই স্বাভাবিক। এইটার কারণ হলো, রাষ্ট্রের সাথে নাগরিকের কন্ট্রাক্টের ভিত্তিগুলি অস্পষ্ট থেকে যাওয়া। অর্থাৎ, কোন কোন বিষয়গুলিরে ভিত্তি করে নাগরিকের সাথে রাষ্ট্রের কন্ট্রাক্ট প্রিজিউম করতে হবে, এটি।
@ জিনের বাদশা, এখানে মনে রাখতে হবে: শিক্ষিত মধ্যবিত্ত এখানে কোন পক্ষ নয়। তারা রাষ্ট্রের এই ভায়োলেশনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে মাত্র। পক্ষদ্বয় হলো রাষ্ট্র আর নাগরিক। মৌলভি আর ''শিক্ষিত'' ''রূচিশীল'' মধ্যবিত্ত রাষ্ট্রের এই ভায়োলেশনের পক্ষ বিপক্ষ হিশেবে দুটি ক্যাটাগরি, যেটিকে বেসিক ক্যাটাগরি হিশেবে ধরতে গেলে আপনাদের অবস্থানটা শ্রেণী অবস্থানের জায়গা থেকে বর্ণবাদী বিতর্কে পড়বে। এ সংক্রান্ত আমার দ্বিতীয় পোষ্টের শুরুতেই এই কথাটি মনে করিয়ে দিতে চেয়েছিলাম আমি। মানে, ফুল পাখি গান এর একমেবাদ্বিতীয়ম সোল এজেন্সি সংক্রান্ত সমস্যা।
দেখা যাক বাইজানগোর আর কি কি অমৃত বচন বাইরুইয়াসে........
বিশেষ করে, যখন রাষ্ট্র বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের শুধু সন্দেহের বশে গ্রেফতার করে, আর বাইতুল মোকাররমে মোল্লারা জ্বালাও-পোড়াও করলেও, বিমানবন্দরের সামনে ভাংচুর করলেও চুপ থাকে, তখনও এরা রাষ্ট্রপক্ষের?
আপনার যুক্তি কোনভাবেই মানা গেলোনা।
"তারা রাষ্ট্রের এই ভায়োলেশনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে মাত্র। " -- মোটেও না! রাষ্ট্র যখন মূর্তি বানানোর উদ্যোগ নিয়েছে তখন আমরা কেউ সেখানে গিয়ে তা থৈ তা থৈ করে নাচিনি; যখন মোল্লারা অরাজকতা সৃষ্টি করে লালনের ভাস্কর্য ভাংলো, তখন সেই উগ্রতার প্রতিবাদ করেছি।
আশ্চর্য হলাম আপনার বিবেচনা দেখে!!
মারমারি কাটাকাটি ভাংচুর সব করলো মোল্লারা, অযৌক্তিকভাবে রাষ্ট্রের সম্পদের ভাংচুর করলো -- আর আপনি তারপরেও তাদের সমালোচনাকারীদেরকেই অত্যাচারী হিসেবে দেখানোর কূটচাল চালছেন!! বেশ! বেশ!
অরাজকতার সমালোচনা করা যাবেনা? ধর্মীয় সাম্প্রদায়িকতার বইষবাস্প দেখলে তার বিরুদ্ধে কথা বললে ভায়োলেশনের পক্স নেয়া হয়ে যাবে?
আমি যদি বলি, রাষ্ট্র আসলেই সচেতনছিলোযে বেশীর ভাগ নাগরিকই ভাস্কর্য স্থাপনের পক্ষে থাকবে, এবং এই স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়ে রাষ্ট্র কোন ভায়োলেশন করেনি, আপনি কিসের ভিত্তিতে সেটাকে নাকচ করে দেবেন?
"মৌলভি আর ''শিক্ষিত'' ''রূচিশীল'' মধ্যবিত্ত রাষ্ট্রের এই ভায়োলেশনের পক্ষ বিপক্ষ হিশেবে দুটি ক্যাটাগরি, যেটিকে বেসিক ক্যাটাগরি হিশেবে ধরতে গেলে আপনাদের অবস্থানটা শ্রেণী অবস্থানের জায়গা থেকে বর্ণবাদী বিতর্কে পড়বে।"
হ, ভালো কইছেন। আর যখন মোল্লারা মধ্যবিত্তের দিকে তাকাইয়া চেঁচায় এই বইলা যে "এগুলা নাস্তিক, মূর্তির জন্য লাফায়, কোরাণ হাদীস জানেনা, বেলেল্লাপনা করে" -- তখন বার্নবাদ হয়না, রিফাত সাহেব?
আপনার সবযুক্তিই মিরর রিফ্লেকশনে আপনার দিকেই বুমেরাং হয়ে ছুটে যাচ্ছে -- পারলে রিফিউট করুন।
আপাততঃ আমার দেয়া বোল্ড অংশের জবাব দিন!
ফাহমিদুল হক বলেছেন:
Jwiner Badsha has come out from the lamp in the last comment with high cry. Welcome and thanks.
My thoughts resemble yours.
[Bangla ase na, sorry for the English]
সুমন রহমান বলেছেন:
দুঃখিত, নানা কারণে দেরি হয়ে গেল। বলে রাখি আবার, আমার এই পোস্টের ফোকাল পয়েন্টটা হল শিক্ষিত মধ্যবিত্তের জায়গা থেকে ভাস্কর্য ভাঙার ইস্যুটাকে বোঝার চেষ্টা করা। এই প্রতিক্রিয়ার যে চেহারাটা ব্লগে দেখেছি, তাকে রিফাত হাসান "ফাজলামি" বলেছেন এবং আমি একমত। এমন কি এই শব্দপ্রয়োগের সাথেও। মোদ্দা কথা, ভাস্কর্য ভাঙার আন্দোলন একটা রাজনৈতিক ইস্যু এবং এটাকে কেন্দ্র করে যখন ধর্মতাত্ত্বিক কূটতর্ক কিংবা বিবমিষা ছড়িয়ে মধ্যবিত্ত জয়ী হতে চায় তখন সেটা ফাজলামি ছাড়া আর কি।এখানে ইস্যুটা আসলে রাষ্ট্র বনাম নাগরিকদের। রাষ্ট্র যেমন একটা ভাস্কর্য স্থাপনার সিদ্ধান্ত নিয়ে নাগরিকদের একটা অংশের বিশ্বাসকে ভায়োলেট করেছে, তেমনি সেটা ভাঙার সিদ্ধান্ত নিয়ে নাগরিকদের অন্য একটা অংশের মধ্যে বিরাগ এবং পরাজয়ের অনুভবকে উস্কে দিয়েছে। ফলে একপক্ষ যদি তার অধিকারের সপক্ষে মাঠে নামতে পারে, অন্যপক্ষেরও সেটা না পারার যুক্তি নেই। ইস্যুটা, রিফাত যেমন বলছেন, রাষ্ট্র বনাম মৌলভী না, বরং রাষ্ট্র বনাম তার নাগরিকদের। মৌলভী এখানে একটা স্টেকহোল্ডার বটে, কিন্তু শিক্ষিত মধ্যবিত্তও কম গুরুত্বপূর্ণ স্টেকহোল্ডার না। আদতে তো এই ঘটনায় রাজনৈতিক পরাজয় তাদেরই ঘটেছে। ফলে তারা এখানে সরব হতেই পারে, আন্দোলনও করতে পারে, ক্ষতিপূরণও চাইতে পারে সরকারের কাছে, যে ফর্মেই হোক সেটা।
এর পরের অংশটা একটু ভিন্ন আলোচনা, ফলে অন্য একটি বক্সে লিখছি।
সুমন রহমান বলেছেন:
"রাষ্ট্রের আচরণ ভায়োলেশন দিয়ে শুরু হয়েছে। সেখানে রাষ্ট্রের ন্যায়পরতা ভাবতে যাওয়াটা ভুল। এবং আরো অনেকগুলো ভায়োলেশন দিয়ে এটা শেষ হবে, সেটাই স্বাভাবিক।"এটা রিফাতের মন্তব্য। এর প্রথম লাইন নিয়ে কোনো অমত নাই কারো। পরের লাইনগুলো নিয়ে ভাবলাম। রাষ্ট্রের আচরণ ভায়োলেশন দিয়ে শুরু হলে সেটা ভায়োলেশন দিয়েই শেষ হতে হবে কেন? এ ধরনের নিপীড়নমূলক রাষ্ট্রের খোয়াব তো বিপ্লবীরা দেখে, যাতে রাষ্ট্রের ভায়োলেশন তাদের ভায়োলেশনকে উসকে দেয়। কিন্তু শিক্ষিত নাগরিক মধ্যবিত্ত? এই শ্রেণী, তার সুবিধাবাদিতার কারণেই হোক, রাষ্ট্রের সাথে সবসময় একটা নেগোসিয়েশনে বিশ্বাস করে। বিশ্বাস করে রাষ্ট্র সবসময় তাদের স্বার্থ সংরক্ষণ করে। ফলে তারা রাষ্ট্রের ন্যায়পরতার কাছে আর্জি জানায়। আর রাষ্ট্রও তার বিদ্যমান কাঠামোর বাইরে যা কিছু নাড়াচাড়া, তাকে হয় পিষে ফেলে, নয় মেইনস্ট্রিমিং করতে চায়। তার টিকে থাকার স্বার্থে। কিন্তু মৌলভীরা ঠিক পিষে ফেলার জায়গায় নাই বাংলাদেশে। ফলে তাদের রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে তাদের মেইনস্ট্রিমিং চলতেছে। খেয়াল করুন ব্রাত্য রাইসুও কিন্তু একই কথা বলতেছেন: মেইনস্ট্রিমিং করাই সমাধান, ঘৃণা জানানো কিংবা বিবমিষা প্রদর্শন করা নয়। তাতে ব্লগ অ্যাকটিভিজম হয়, কাজের কাজ কিছু হয় না আর। মুশকিল হল আমাদের সিভিল মধ্যবিত্ত সমাজ এই কাজটিই করতেছে, মোকাবেলার অস্ত্র বলতে তাদের অবজ্ঞা এবং এ জাতীয় এলিটিপনা।
আপাতদৃষ্টে, বা ঐতিহাসিক প্রণোদনা থেকে এমনটা অনেকেই ভাবেন যে এই মৌলভীরা বিপ্লবী শ্রেণী। বা বর্তমান সমাজে তারা বিপ্লবী শ্রেণীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন। আদতে কি তাই? আমি তো দেখি এই মোল্লা শ্রেণী যথেষ্টই ক্যালকুলেটিভ। তারা বিমানবন্দরের ভাস্কর্য নিয়ে ক্ষুব্ধ, কিন্তু অপরাজেয় বাংলা নিয়ে নয় (বা থাকলেও সেটা প্রকাশ করে না)। মুক্তিযুদ্ধের ভাস্কর্যকেও ছাড় দিচ্ছে তারা। তার মানে তাদের পজিশন একান্তভাবেই রাজনৈতিক। এটাও এক ধরনের নেগোসিয়েশনের খেলা, রাষ্ট্রের সাথে। খুব হিসাব নিকাশ আছে এই খেলায়, স্বাপ্নিক বিপ্লবীপনা তো দেখি না।
আবার কনস্পিরেসি থিওরির কথা যদি ধরি, তাইলে এইরকম একটা সেনাশাসিত দেশে জরুরি অবস্থার ভেতর এই ধরনের বিক্ষোভ প্রদর্শনের জায়গা কোথায়, যদি না ভেতরে ভেতরে কোথাও কোনো আশ্বাস থাকে? বাজারে এরকমই একটা কথা চালু আছে দেখি। সেটা হতে পারে একেবারেই মধ্যবিত্তের কল্পনাপ্রসূত, হতে পারে মৌলভীদের মিলিট্যান্সীকে দাবার ঘুটিঁ হিসেবে ব্যবহার করার কোনো চেষ্টা। শিক্ষিত নাগরিক মধ্যবিত্ত এই গোটা ম্যাপিং-এ সবচে বিপন্ন চরিত্র।
মরিয়ম বলেছেন:
বর্তমান পোষ্টটি শুরু হয়েছিল তিনটি প্রশ্ন দিয়ে; পরবর্তীতে মন্তব্য সমূহ পড়তে পড়তে শুরু থেকে শেষ অবদি যে সুতোটি জরুরী গ্রন্থন দিতে পারে বলে মনে হয়েছে সেটি হচ্ছে ব্লগারের এমনতর ''প্রিসাইজ'' প্রশ্নটি যে, আমরা যখন এসব তৎপরতার আঁচে নিজেদের পজিশনকে না পুড়িয়ে কথা বলতে চাইবো, তখন আমরা সব ধরনের ভায়োলেশনকে বিবেচনায় আনবো কিনা। এই জায়গাটি এখনো জরুরী উত্তরের অপেক্ষায় আছে।
এটিও মনে করা দরকার উনি শুরু করেছিলেন ''বিদ্যমান ব্লগ-অ্যাক্টিভিজমকে ভালোভাবে মোকাবেলা করেছেন''- এমন বলে।
সেক্ষেত্রে ''ব্লগ অ্যাক্টিভিজম''-এর বাইরে এসে বিষয়টি বুঝতে চাওয়া আর তৎপরতার আঁচে নিজেদের পজিশনকে না পুড়িয়ে কথা বলতে চাওয়া সমান্তরাল ব্যাপার নয়। লক্ষ্য করেছি, সকলে প্রশ্ন করা, ফুটনোট এবং বুঝতে চাওয়ার ভঙ্গিতে পোষ্ট সাজিয়েছে। মানে ব্লগের সংক্ষিপ্ত পরিসরে আহাজারির মধ্যদিয়ে এর সমাধান সম্ভব এমনটি কেউই মনে করে বসেনি। মনে হচ্ছে, এমন একটি রাজনৈতিক তৎপরতার প্রয়োজন যেটি বিবেচ্য ভায়োলেশন গুলো চিহ্নিত করতে সহায়তা করবে সকল ক্যাটাগোরিকে যথাযথ সম্মান ও বিবেচনা প্রদানের মধ্যদিয়ে। কেননা নেগোসিয়েশন একটি আপাত সমাধানকে প্রস্তাব করে, ''মেইনস্ট্রিমিং করাই সমাধান'' বা মেইনস্ট্রিমিং করতে চাওয়ার প্রবনতাও পূণঃরায় এলিটিপনার প্রবনতাকে প্রকাশিত করে। আমাদের ধারনাগত বিপ্লবী শ্রেণী হয়তো মোল্লারা নন, তবে তাদেরও একটি রাজনৈতিক-বৈপ্লবিক রকম/ সত্ত্বা আছে এটিকে এলিটিপনা ঝেড়ে গ্রহণ করতে হবে। কনস্পিরেসির ধারনায়- মোল্লারা যদি ক্যালকুলেটিভ হয়ে থাকে তাহলে সেনাশাসিত দেশে তাদের নেগোসিয়েশনের খেলা তারা খেলতে জানবে এমনটি বিবেচনা করাই প্রয়োজন; নতুবা সমস্তই মধ্যবিত্তের কল্পনাপ্রসূত ভাবনাই হয়ে পড়বে কেবল- রাজনৈতিকতা দাঁড়াবেনা।
লেখক বলেছেন: পর্যবেক্ষণ ও সুচিন্তিত মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ। আমারো মনে হচ্ছে আমরা এখনো ঠিক করি নি সব ধরনের ভায়োলেশনকে বিবেচনায় আনবো কি না। বরং সিরিজ অব ভায়োলেশনস ঘটতেই থাকবে, এই ধরনের ঐতিহাসিক বস্তুবাদী অনুমান পর্যন্ত আসা গেছে (রিফাত হাসানের মন্তব্য)। রাজনৈতিক তৎপরতার আগে আমাদের চিন্তামূলক তৎপরতা দিয়ে আমরা কেন ভায়োলেশনগুলো চিহ্নিত করি না? নেগোসিয়েশন অবশ্যই একটা আপাত সমাধান এবং এ কারণেই আধুনিক পুঁজিবাদী রাষ্ট্র একে প্রাধান্য দেয়।
"আমাদের ধারনাগত বিপ্লবী শ্রেণী হয়তো মোল্লারা নন, তবে তাদেরও একটি রাজনৈতিক-বৈপ্লবিক রকম/ সত্ত্বা আছে এটিকে এলিটিপনা ঝেড়ে গ্রহণ করতে হবে।"
গ্রহণ কিংবা বর্জন যাই হোক, সেই কাজ শিক্ষিত মধ্যবিত্তের এলিটিপনা দিয়ে হবে না। এটাই বলতে চেয়েছি।
লেখক বলেছেন: ইস্যুটা যে রাজনৈতিক সেইটা বোঝার জন্য মৌলভীদের জিজ্ঞাস করার প্রয়োজন পড়ল ক্যান? তারা ধর্মতত্ত্বকে বহুকাল ধরেই রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করতেছে, এই জায়গায় তাদের একটা অবস্থানগত সুবিধা আছে। তার প্রতিপক্ষ যখন একই অস্ত্র তার বিরূদ্ধে প্রয়োগ করতে যায়, তখন কিন্তু একই সুবিধাটুকু সে পায় না। মিডঅনে মিডঅফে আর লং অনে লং অফে ফিল্ডার থাকলে বোলারস ব্যাকড্রাইভ খুব বিবেচনাসম্মত ক্রিকেটিং শট না।
মধ্যবিত্তকে জেনারালাইজ করা তো মুশকিল। আসলে এই আলোচনায় "মধ্যবিত্ত" স্বতন্ত্র এবং মিউচুয়ালি এক্সক্লুসিভ ক্যাটাগরি হিসেবে দাঁড়ায়ও না। শিক্ষিত মধ্যবিত্ত ভাস্কর্য ভাঙার ইস্যুতে উভয়পক্ষেই ছড়ায়া ছিটায়া আছে। আমি আসলে এদের একটা উপদলের কথাই বলতে চাইতেছি, গোটা মধ্যবিত্তের কথা নয়।
"রাজনীতিতে হয় তখন তারে মোকাবেলার প্রধান কৌশল ধর্মতাত্ত্বিক তর্ক হইতে পারে না এইটা মাইনা নিয়অই কইতে চাই কেউ যদি সেইটা করতে চায় তারে আপনে কূটতর্ক বা ফাইজলামি কইতে পারেন কি?"
--- এইটা ফাইজলামি বলায় দোষের কিছু তো দেখি না। প্রমিত বাঙলায় অবশ্য "বালখিল্যপনা" বলা যায়। একই কথা। এসব ধর্মতাত্ত্বিক বাখোয়াজি থেকে এটাই পরিষ্কার হয় যে, মৌলভীদের আমরা রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করতে ব্যর্থ।
ধন্যবাদ ভাস্কর।
মোকাবিলা'র কৌশল হিসাবে এইটারে আমি নিজেও কার্যকরী ভাবি না...কিন্তু একজন যদি এই কৌশলেও ধর্মব্যবসায়িগো বিভ্রান্তি তৈরীর খেলাতে অংশ নিতে চায় তারে আমি দূর্বল কইতে পারি...ফাইজলামি কইতে পারি না।
বোলার্স ব্যকড্রাইভে যদি কব্জির জোরটা জুইতমতো লাগে তাইলে কিন্তু ছক্কাও হয় সুমন ভাই...
লেখক বলেছেন: রাজনৈতিক ভাবে "মোকাবেলা" করা বলতে আমি প্রথমত রাজনৈতিক ভাবে বোঝার ব্যাপারটাই বলতে চেয়েছি।
মোকাবেলার "কার্যকর" কৌশলের বদলে যদি মধ্যবিত্ত "দুর্বল" কৌশল প্রয়োগ করতে থাকে, সেটা প্রকারান্তরে মৌলভীদের ক্ষমতার জায়গাটাকে আরো পোক্ত করে। বৃহত্তর রাজনীতির খেলায় এসব নিস্ফল ক্রোধের জায়গা নাই। এসব পরাজিত মনোভাব। কিন্তু আদতে ঘটনা হল, নিজেকে পরাজিত ভাবার মত তেমন কোনো কারণ এখনো ঘটে নি শিক্ষিত মধ্যবিত্তের। কিন্তু এই শ্রেণীটি হল সেই চক্ষুষ্মান হাতি, যার আছে কুলার মত এলিটিপনার কান, এই কানের কারণেই সে তার বিশাল শরীরটা, সমাজে তার পোক্ত অবস্থানটা ঠাহর করতে পারে না।
তুমি যদি এইটারে "ফাইজলামি" না কৈতে চাও, সমস্যা কি? অনুভবের জায়গাটা তো মোটামুটি একই, প্রকাশের এই ভিন্নতাটুকু খুব মেজর কিছু তো না।
ব্রাত্য রাইসু বলেছেন:
রিফাত হাসান তাঁর কথার গোঁড়ার বিন্দু দেখাইছেন: "মূলত রাষ্ট্র কোন চরম বা চুড়ান্ত কনসেপ্ট না। নাগরিকের কনসেন্ট, নাগরিকের সাথে একটি অলিখিত চুক্তি, যেইটারে আমরা সোশাল কন্ট্রাক্ট বলতে পারি, সেইটাই রাষ্ট্র গঠনে আপাতত বৈধতা তৈরী করে।"
আমি রুশো পড়ি নাই। ফলে রিফাত নিজেই এই সোশাল কন্ট্রাক্ট-এর প্রস্তাবক -- ধইরা নিলাম। যদি রুশোও এই রকম কিছু বইলা থাকেন তার তরফে কেউ জানাইলে আমি মাইনা নিব।
আমার প্রশ্ন রিফাত, আপনার কাছে: রাষ্ট্র গঠনে এই যে "নাগরিকের সাথে একটি অলিখিত চুক্তি" এইটা কে করে চুক্তি? এই চুক্তি কি রাষ্ট্র করে? নাকি রাষ্ট্র গঠিত হওয়ার আগে কেউ করে? যদি আগেই না করে তাইলে আপনার কথিত "সেইটাই রাষ্ট্র গঠনে আপাতত বৈধতা তৈরী করে" বক্তব্যের বৈধতা তৈরি করে না। তাইলে চুক্তিটা রাষ্ট্র গঠনের আগেই সম্পন্ন হয়। অর্থাৎ রাষ্ট্র নিজ গঠনের পূর্বেই নাগরিকদের সঙ্গে একটি চুক্তি সম্পাদন করছে। নিজে গঠিত হওয়ার আগেই যে চুক্তি সেই চুক্তির বৈধতা কীভাবে তৈরি হবে। রুশোও যদি এই রকম বইলা থাকেন তাইলে ভুয়া মতবাদের উপরে দাঁড়াইয়া আছে এই তত্ত্ব। আর যদি এই উদ্ভাবনটি রিফাতের হইয়া থাকে তাইলে আপনি, রিফাত, রুশোর লগে আগে বোঝাপড়া কইরা নিতে পারেন। তারপরে আপনার "রাষ্ট্রের এই আপাত বৈধতাকে স্বীকার" করা।
এবং তারও বহু পরে "একটি পাবলিক স্পেসে এই ভাস্কর্য নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় রাস্ট্র নাগরিকদের সাথে যেহেতু এ সংক্রান্ত রাজনৈতিক বোঝাপড়া শেষ করে নাই, তাহলে এটি সোশাল কনট্রাক্ট এর ভায়োলেশন কিনা।"
আপনার কাছে উত্তোলিত প্রশ্নগুলার উত্তর পাইলে বাকিটুকু আমি বুঝতে পারতাম যে রাষ্ট্র কী কারণে পাবলিকরে গোনায় ধরবে?
২.
রাষ্ট্র সার্বভৌম প্রতিষ্ঠান না হইলে নাগরিকের সঙ্গে চুক্তির প্রশ্ন আসে না। সার্বভৌম প্রতিষ্ঠান হইলে কোনো ব্যাপারেই নাগরিকের অনুমতি নেওয়ার প্রশ্ন আসে না। এই প্রশ্ন তখনই আসে নাগরিকই যখন রাষ্ট্রের মালিক। তাই যদি হয় তখন "সোশাল কন্ট্রাক্ট"টি একটি না ভাজা ভেরেণ্ডায় পরিণত হয়। মালিক শর্ত দান করে। চুক্তি করে না। মালিকের সঙ্গে চাকরের চুক্তি ভুয়া চুক্তি। কারণ মালিকের কৃপার উপর এই চুক্তির খেলাপ-বরখেলাপ নির্ভর করে।
তবে বড় সিলসফি থিকা ছোট আইটেমরে শণাক্ত করতে পারলে সাধারণ ব্লগাররা দূরে থাকবে। সেইটা কম কী!
লেখক বলেছেন: ভালো পয়েন্ট। রিফাতের জন্য অপেক্ষা করি বরং।
কাক ভুষুন্ডি বলেছেন:
কয়েক দিন ধইরাই বাহাস গুলান পড়তাছি আর ভাবতাছি কিছু কমু নাকি? কইলে কি গুনায় ধরা হইবো নাকি? কারণ আমি তো আর সুশীল কিংবা বুদ্ধিজীবি কিছুই না, ঐসব সমাজতন্ত্র,রাজতন্ত্র,গনতন্ত্র,পুঁজিবাদি,সাম্রাজ্যবাদি হাবিজাবি কিছুই পড়িনা। কইল্কা কি পামু?শেষ পর্যন্ত লিখাই ফালাইলাম।
আমার যেডি মনেহয় সেডি হইলো এরাম যে রাষ্ট্রের উচিত গ.সা.গু র মতের দিকে নজর দেওন। হউক সেইডা সুশীলগো মতে "ফাইজলামী"।
রাইসু কইতাছে হেয় মদের দুকানের পক্ষে মগর মহল্লায় না,তইলে কি হেডি জায়েজ হয়া যাইবো? গ.সা.গু কি কয়?
গ.সা.গু মতামত কইলাম দ্যাশে মইধ্যবিত্ত অইন্য ভাবে কইতে গেলে হয় শিক্ষিত মইধ্যবিত্ত।
তরিকুল হুদা বলেছেন:
যদিও ব্রাত্য আধুনিক রাষ্ট্রের ভিতরেই খাবি খাইছেন তবুও উনার'বড় সিলসফি থিকা ছোট আইটেমরে শণাক্ত....' করার কায়দা আমার দারুন লাগছে। আধুনিক রাষ্ট্রতত্ত্বের কিছু পরিচিত ফ্যালাসি যা রিফাত সংক্রান্ত বিতর্কের সাথে প্রাসন্গিক তাকে ব্রাত্য উঠায়ে আনছেন জোস কায়দায়।আর প্রশ্নটাও করছেন এক্কেরে জায়গা মত।
কে জানে....... হয়তবা রিফাতের প্রস্তাব ভিন্ন জায়গায়!রিফাতের 'সোশাল কন্ট্রাক্ট' যদি আসলেই রুশোর না হয় আর রাষ্ট্রের বাইরে যদি কমিউনিটি.......সমাজ টমাজ বা সমপ্রদায় বলে কিছু থাকে তাইলে রিফাতের প্রস্তাবের ভিন্ন অর্থও হয়ত তৈরি হইতে পারে।
তবে অনেক আজাইরা কথার ভিরে ব্রাত্যর এই twist আমার ভালো লাগছে।আপাতত সুমন রহমানের মতন 'রিফাতের জন্য অপেক্ষা করি বরং'।
রিফাত হাসান বলেছেন:
সুমন রহমান, ব্রাত্য রাইসু, জ্বিনের বাদশা, জামাল ভাস্কর, তরিকুল হুদা এবং এই পোষ্টের অন্যান্য আলোচকদের প্রতি অসংখ্য ধন্যবাদ। এ সংক্রান্ত আর একটি বিস্তারিত পোষ্ট দেওয়ার কারণে এখানে আর আলোচনায় অংশ গ্রহণ করলাম না, এটি সকলে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন আশা করি। আমার নতুন পোষ্টটির লিঙ্ক নীচে দিলাম।ভাস্কর্য বিতর্ক: আরো কিছু নোট
ব্রাত্য রাইসু বলেছেন:
আলোচনা তর্কাতর্কিতে ক্ষমাসুন্দরের জায়গা আছে কিনা জানি না। কেউ তর্ক করবেন কেউ তর্কে অব্যাহতি নিবেন কেউ বলবেন অন্য কোথাও দেখা হবে। তর্কে যুক্ত থাকা না থাকা ক্ষমা-অক্ষমার ব্যাপার না। ক্ষমা আকাঙ্ক্ষা ভদ্রতার উপস্থাপন মনে হইল। ক্ষমা কইরা দিয়া আমিও ভদ্রতার কবলে পড়তে চাই না।আমার আপত্তিটা ততটা মূর্তিসংক্রান্ত না, তদুপরি সোশাল কন্ট্রাক্ট বিষয়ে রিফাত, আপনার উত্থাপনের ব্যাপারে গুরুতর আপত্তি আছে আমার মন্তব্যে, সুতরাং আপনার "আরো কিছু নোট"-এ ঠিক এই ব্যাপারটায় যতখানি নোট আছে তা থেকে এখানে কিছু উদ্ধৃতি দিয়েন।
রিফাত হাসান বলেছেন:
জনাব ব্রাত্য, পলাইতে চাহিয়াছিলাম, তাই এইসব ক্ষমাসুন্দর ভদ্রতার কারিকুরি। লালনমূর্তি বা ভাষ্কর্য শিক্ষিত বাঙ্গালী মধ্যবিত্তরে, আর তাগো প্রতিবেশী হিশেবে আমারে আপনেরে যে দৌড়ানিতে রাখছে, তা দেইখা, একটু বিরক্ত হইয়া এই ব্যবস্থা নিতে ইচ্ছা হইল। আর তারাও অইটার উপর সওয়ার হইয়া লালনের মূর্তিরে ঘোড়া মনে কইরা, বাঙ্গালীরে অইটা দিয়া যে দৌড়ানি দিতেছে, তার ব্যাপারে সতর্কতামূলক কথাটি বইলা নিয়া, তারপরে নিরাপদ দূরত্বে থাকন দরকার মনে করতেছিলাম। একে আলস্য, তার উপর আরো বিবিধ জ্বর আইসা হাজির হইছে, ভাবলাম, তর্ক না কইরা একটা পোষ্ট লিখে দিই। কিন্তু আপনেরে পোষ্টে হইল না। তথাস্তু।রুশোর লগে বুঝাপড়া করনের কিছুই নেই আমার। রাষ্ট্র বিষয়টা ভেরেণ্ডা নাকি ঘোড়ার ডিম নাকি হিরক খণ্ড, এইটা লইয়া আপনার সাথে আমার বিরোধ নেই বললেই চলে, অন্তত ভাষ্কর্য বিষয়ে আপনার পোষ্ট এবং লেখালেখি দেইখা আমার তাই ধারণা জন্মাইছে। আমি বরং কই, রাষ্ট্র কোন চুড়ান্ত কনসেপ্ট না। আর, জ্ঞানীরা কহেন, রুশোর সোশাল কন্ট্রাক্ট থিউরি আদতেই বিদ্যমান রাষ্ট্ররে ব্যাখ্যা করনের লাইগ্যা, মানে, বিদ্যমান রাষ্ট্ররে বৈধতা দেওনের থিওরি অইটা। আমিও এখানে রুশোর বরাত লই নাই। তাই হুদাহুদিই রুশো এবং সভারেনটি লইয়া টানাটানির দরকার আছে বইলা মনে হয় না। বেচারা বেকায়দায় পড়বে। রাষ্ট্রও। তো, এই সংক্রান্ত পি.মুন্সির একটা মন্তব্যের উত্তরে আমার জবাব ছিলো:
দুই ধরণের মৌলিক অবস্থান থেকে রাষ্ট্র এবং তার বিবিধ হেজিমনিগুলিরে আলোচনা করা সম্ভব। একটি হলো, বিদ্যমান রাষ্ট্র ধারণার বিরুদ্ধে বৈপ্লবিক অবস্থান গ্রহণ করে সেই জায়গা থেকে রাষ্ট্রের বিবিধ হেজিমনিগুলিরে প্রশ্ন করা, দেখা, এবং একটি অন্যতর বৈপ্লবিক সংগঠন সম্ভাবনার কথা বলা। কিন্তু আমরা যখন নাগরিক অধিকার প্রভূত বিষয়গুলিরে আলোচনায় আনতে যাই, তখন বিদ্যমান রাষ্ট্রের অস্তিত্বরে ধর্তব্যের মধ্যে নিয়েই আলোচনাটি শুরু করি। এবং এক্ষেত্রে যখন আমি রাষ্ট্রের কাছে অধিকারের দাবী নিয়ে কথা বলি, তখন আপাত ধরেই নিই যে, রাষ্ট্রের সেই অথরিটি আছে। অর্থাৎ তুমি আমার অমুক অমুক অধিকার প্রটেক্ট করার দায়িত্ব নিয়েছো, কিন্তু এখন সেইসব হরণ করছো তুমি নিজেই। যেমন র্যা ব যখন বিচারবহির্ভূতভাবে ক্রসফায়ার ঘটিয়ে মানুষ হত্যা করে, তখন আমরা বলি যে, তুমি আমার বিচার পাওয়ার অধিকার হরণ করছো, যেটি তুমি আমাকে দেবার কথা বলে সংবিধান লিখেছো। এই দ্বিতীয় অবস্থানের জায়গাটি এমনই যে, রাষ্ট্ররে ধর্তব্যের মধ্যে না আনলে নাগরিক অধিকার ইত্যাদি বিষয়গুলি নিতান্তই অর্থহীন। রুশোর সোশাল কনট্রাক্ট থিওরি বিদ্যমান রাষ্ট্ররে বৈধতা দিতে তৈরী সন্দেহ নেই, তাই আমি ফুটনোটে তার সাথে আমার ডিসক্লেইমার জারি রেখেছিলাম।
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...















ঠিক এই প্রশ্নটাই রাইসুদারে করতে চাইছিলাম বলে মনে হইলো ... আপনার প্রশ্নগুলোর কি জবাব দেয় দেখার অপেক্ষায়