আমার প্রিয় পোস্ট
- পোকামানবের ঘর বসতি - মাহবুব সুমন
- খোদেজা পাঠানুভুতি - রাসেল ( ........)
- দুজন লেখক একজন ব্লগার - ফরিদ
- প্রকাশিত হল মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক ই-সংকলন ফিরে দেখা একাত্তর - ব্রিগেড সিক্সটিন
- ভুল মানুষের ডেরায় ০২ - রাসেল ( ........)
- রাসেলের সাম্প্রতিক ভ্রমণের পিকটোরিয়াল বর্ণনা - কৌশিক
- স্লো ইনিংসে অবশেষে ডাবল সেঞ্চুরী (দুইশ নাম্বার পোস্টে স্মৃতিচারণ) - জ্বিনের বাদশা
- শুভ্রতার প্রতীক শুভ(আলী মাহমেদ)। - হ্যারি সেলডন
- সত্যম শুভম সুন্দরমের সাথে একান্ত আলাপন - কৌশিক
- মুক্তিযুদ্ধের কিছু প্রামান্য বইয়ের তালিকা - ফারহান দাউদ
- সমালোচনা পর্ব 1 - রাসেল ( ........)
- শুভ'র সাথে সাক্ষাত - মোঃ সাকিব আল মাহমুদ
- অভিযানের নাম 'মেজবান সঙ্গে লইয়া ভ্রমন'। গন্তব্য শুভর বাড়ি এবং চতুর্থ মৃতু্যর উপাখ্যান - সাদিক মোহাম্মদ আলম
- শুভ আর মমতাময়ীরে ক্ষমা করি নাই - মাশা
- আমরা যখন কয়েদী - আনোয়ার সাদাত শিমুল
- আমাদের- শুভ'র ব্ল্লগিং... - আপন তারিক
- পড়ছি, আলী মাহমেদ শুভ'র ব্ল্লগিং - শেখ জলিল
- ব্লগারদের বই নিয়ে ব্লগব্লগর- ১ - শেখ জলিল
আপনি মরে গিয়ে, আমাদেরকে বাঁচিয়ে দিলেন
০৯ ই নভেম্বর, ২০০৭ বিকাল ৩:২৭
(এটার মূল অংশটুকুর খানিকটা সংক্ষিপ্ত আকারে প্রকাশিত হয়েছিল, অন্য কোথাও। প্রয়োজন মনে করায় বিস্তারিত এখানে দিচ্ছি।)
১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর আর ২০০৫ সালের ১৬ ডিসেম্বর, অনেকটা সময় কী! ক্রমশ মুক্তিযুদ্ধ নামের অকাট্য সত্যটা কি মুক্তিযুদ্ধ মুক্তিযুদ্ধ খেলা হয়ে যাচ্ছে? মুক্তিযোদ্ধারা কি হয়ে যাচ্ছেন খেলুড়ে।
এমনই একজন মুক্তিযোদ্ধা সুরুজ মিয়া। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বরের বিজয়লগ্নে তিনি কি ভাবছিলেন? অন্য ভুবনের আনন্দ- কে জানে!
আহা, সুরুজ মিয়ারা তো আর সেলিব্রেটি নন, যে আমরা এইসব মুখস্ত করে বসে থাকব! কখন তিনি আনন্দে লাফালেন, নাকি বেদনায় কাবু হলেন- এইসব তথ্যে ভারাক্রান্ত হওয়ার সময় কোথায় আমাদের।
কিন্তু আমার মত সাধারণ মানুষদের জানার সুতীব্র ইচ্ছা, ২০০৫ সালের ঠিক ১৬ ডিসেম্বর ভোরে এই মানুষটাই দুম করে গলায় ফাঁস লাগিয়ে যখন ঝুলে পড়লেন তখনই বা কি ভাবছিলেন? আফসোস, এটা কখনও জানা হবে না।
জীবনান্দ দাশের মানুষটার মরিবার সাধ আমি আজও বুঝিনি কিন্তু এই মানুষটা মরিবার কেন হলো সাধ- এটা খানিকটা বোধগম্য হয়?
সুরুজ মিয়া মৃত্যুর জন্য অপেক্ষা করছিলেন নিশ্চই। দারিদ্র, দীর্ঘ রোগভোগ, টাকার অভাবে সুচিকিৎসায় ব্যর্থতা, সরকারের দেয়া মুক্তিযুদ্ধ ভাতা বন্ধ হয়ে যাওয়া। মানুষটা রাতের পর রাত পেটের অসহনীয় ব্যথায় জবাই করা পশুর মত চিৎকার করেছেন। আমাদের দেয়া ট্যাক্সের পয়সায় করা হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসা হয়নি।
সব মিলিয়ে ৩৫তম বিজয় দিবস এই মানুষটা কাছে কোন অর্থই বহন করেনি।
সমস্ত জাতি যখন প্রস্থত হচ্ছিল বিজয় দিবস পালন করার জন্য- মানুষটা দুর্দান্ত অভিমানে চলে গেলেন। নিশ্চিত, ভোরের মোলায়েম সূর্যটা মোটেও আকর্ষণীয় মনে হয়নি তাঁর কাছে।
প্রশাসন থেকে জানানো হয়েছিল, তিনি যেহেতু আত্মহত্যা করেছেন, রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁর দাফন হবে না। সুরুজ মিয়া, আপনি মরে গিয়ে আমাদেরকে লজ্জার হাত থেকে বাঁচিয়ে দিতে পারলেন কি আদৌ? মরে গিয়েও আমাদেরকে লজ্জিত করার কি প্রয়োজন ছিল আপনার?
আমাকে যেটা বিস্মিত করেছিল, হতভম্ব করেছিল, রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁর দাফন নিয়ে সংশয়ের বিষয়টি। এই সংশয় পোকাটির উৎস কোথায়- কোন নিতল থেকে উঠে আসে এমন ভাবনা। যারা এমনটা ভাবে, তাঁদের এই ভাবনার উৎস কী!
আমার কেবলি মনে হয়, খুব বড়ো একটা ফাঁক আছে কোথাও- এই ফাঁকটা বিস্তৃত হচ্ছে ক্রমশ।
আমাদের দেশে ব্রেভহার্টের মতো একটা মুভি কখনই হবে না। এ দেশে সুরুজ মিয়া, ১০ বছরের বালক লালু বা অপারেশন জ্যাকপট নিয়ে কোন ডকুমেন্টারী কখ-খনই বানানো হবে না। আমাদের বুদ্ধিজীবী নাট্যনির্মাতারা জাঁক করে বলবেন, এ দেশে ভাল স্ক্রিপ্ট কোথায়! তো, চলো ভারত থেকে আমদানী করি। খোদা না খাস্তা, কেউ বানালেও, চলবে না- ছ্যা, এইসব বস্তাপচা জিনিস আবার মানুষ দেখে!
তো, কেন যেন মনে হচ্ছে আমরা কি ভুল রাস্তায় হাঁটছি। আমরা কি অবলীলায় আমাদের মায়ের গায়ের গন্ধটা ভুলে যেতে চাইছি...। সহসাই কি আমরা মাকেও বিস্মৃত হব, কে জানে, হবে হয়তো বা! সময়ের দাবী- প্রবল দাবী!
প্রকাশ করা হয়েছে: মুক্তিযুদ্ধ বিভাগে ।
হাসিব বলেছেন:
অনেক দিন পর ।
মনিটর বলেছেন:
কি কইতাসেন ভাইজান। ৭১ সালে কিসু হয়ে ছিল নাকি?
ব্যবসার ধান্দা থাকলে হবেও না।
শুভ বলেছেন:
হাসিব,হ। লেখালেখির ভূতটার হাত থেকে নিস্তার নাই!
মনিটর,
আমরা এই প্রজন্ম তো একেকবার একেক কথা শুনি- কখনও গন্ডগোল, কখনও গৃহযুদ্ধ...।
রাজপথ থেকে বলছি,
ধন্যবাদ আপনার লিংকের জন্য।
মাহবুব সুমন,
বাস্তবতাটা বুঝে নেন।
ফারহান দাউদ,
হু, আমরা বড় ধান্দাবাজ হয়ে গেছি। ভাল দাম পেলে আমরা প্রিয়জনকেও বেচে দেই!
তীরন্দাজ,
কঠিন সত্যটা হচ্ছে, আসলেই আমাদের মত অভাগা কেউ নাই।
জ্বিনের বাদশা,
হায় সময়- গড়িয়ে যাওয়া পানি...।
তৃনভোজী বলেছেন:
'যেহেতু আত্মহত্যা করেছেন, রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁর দাফন হবে না' - এমন প্রশাসনের মাথায় মুতি! থুঃ!!
রাশেদ বলেছেন:
হুমম।আসলেই বলার কিছুই নাই।
জেনারেল বলেছেন:
'যেহেতু আত্মহত্যা করেছেন, রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁর দাফন হবে না' - এমন প্রশাসনের মাথায় মুতি! থুঃ!!
রাগ ইমন বলেছেন:
শুভদা , আপনার লেখা পেয়ে প্রচন্ড ভালো লাগলো ।বিষয়বস্তু ধাক্কা দিলো মূলে । " ব্রেভ হার্টের " মত ছবি আমরাই বানাবো । ওয়ার এন্ড পিস বানাতে কত বছর লেগেছিলো ? এই ব-দ্বীপের কাহিনী লেখার জন্য কারো জন্ম যদি না হয়ে থাকে ,ভবিষ্যতে হবেই । এত হতাশ হবেন না ।
শুভদা , অনুরোধ ,আবার লিখুন।
রোদ্দূর মিছিল বলেছেন:
একটি ভাল স্ক্রিপ্ট........ একজন (বা একাধিক) প্রযোজক..... একজন দক্ষ (এবং দেশপ্রেমিক) পরিচালক........ একটি মুক্তিযুদ্ধের (সত্য এবং নিরপেক্ষ) ছবি...... একজন সুরুজ মিয়ার স্বপ্নের বাস্তবায়ন.............হায়! এখনও অপেক্ষায় আছি।
শুভ বলেছেন:
তৃণভোজী, যেটা আমাকে ভাবিয়েছে খুব- প্রশাসনের এই লোকজনরা কারা? এরাই কিন্তু দুর্ধর্ষ রেজাল্ট করা একেকজন! এমনটা কিন্তু হয় নাই যে উপরের চাপে এরা এই ডিসিশনটা নিল। এরা নিজেরাই এই ডিশিসন নিয়েছিল। এদের শিক্ষায় খুব বড় ধরনের গলদ আছে।
আজ যে শিশুটি ভুল সত্য জেনে বড় হচ্ছে এই শিশুটিই তো এক সময় প্রশাসনিক কর্মকর্তা হবে। ঘুরিয়ে বললে যেটা বলা যায়, আমরা রোপণ করছি একেকটা বিষবৃক্ষ!
রাশেদ,
ধন্যবাদ আপনার মন্তব্যর জন্য।
জেনারেল,
আসলে সমস্যাটা অন্যখানে। তৃণভোজীকে যে মন্তব্যটা করেছি...।
রাগ ইমন,
সেই অপেক্ষায়ই তো আছি আমরা। কিন্তু অপেক্ষাটা হয়ে যাচ্ছে ওয়েটিং ফ' গডোর মত।
রোদ্দূর মিছিল,
আমাদের দেশে স্বপ্নবাজদের বড্ডো অভাব। আর আমরা তো আজকাল স্বপ্ন দেখাই ভুলে গেছি।
সারিয়া তাসনিম বলেছেন:
শুভ , আপনার এই পোস্টটা পড়ছিলাম এতক্ষণ । তারপরেই দেখি আমার পোস্টে আপনার মন্তব্য । একেই বলে টেলিপ্যাথি ।
আমি কালকেই ফিরছি । কবে আসবেন ঢাকায় ? এলে জানাবেন , অটোগ্রাফ দেয়ার লোভ সামলাই কেমনে ?
লেখক বলেছেন: সারিয়া,
বইমেলায় এখনও যাইনি- যাওয়ার সম্ভাবনা কম!
গেলে আপনার কাছ থেকে অটোগ্রাফ না নিয়ে উপায় কী- হা হা হা!
মানুষ বলেছেন:
মানসিক ভাবে অসুস্থ হয়ে গেছি আমরা।
লেখক বলেছেন: মানুষ,
সহমত...।
মিরাজ বলেছেন:
বিস্মৃতির অতলে তলিয়ে যাবার আগেই ...নতুন প্রজন্মের জন্য হলেও ইতিহাসকে সামনে আনা দরকার । মাকে ভুলে যায় এমন সন্তানকে সারা বিশ্ব শুধু করুণা আর উপহাসই করবে । কি জানি আমরা হয়ত সেই উপহাসকেই উপহার মনে করে বসে থাকবো ।
কবে সভ্য হবো আমরা??
লেখক বলেছেন: মিরাজ,
ধন্যবাদ আপনার চমৎকার মন্তব্যর জন্য।
সারিয়া তাসনিম বলেছেন:
শরীরের ব্লাড ক্যান্সার তো রক্ত বদল করলে সেরে যায় । আমার মনের রক্তে মিশে গেছে যে ক্যান্সার তা সারাই কেমনে ?
লেখক বলেছেন: ভাল কথা, প্রাপ্তি আছে কেমন?
ওর বিয়েতে আমাকে দাওয়াত দিতে ভুলবেন না যেন।
ঘুরিয়ে ওর এবং আমার দু-জনের আয়ু চেয়ে নিলাম আর কী!
কালপুরুষ বলেছেন:
কেমন আছেন? বহুদিন আপনার সাথে দেখা নেই। আপনার গ্রামের সেই টুনটুনীর বাসা দেখার ভীষণ ইচ্ছা ছিল। ঢাকা এলে জানাবেন।
লেখক বলেছেন: কালপুরুষ ভাই,
'টুনটুনীর বাসা ...'
হা হা হা- ভাল বলেছেন।
কাহিনীটা শোনেননি? টুনটুনির বাসা ভেঙ্গে দিতে কাকেরা বড় উদগ্রীব। এটা এখানে বলতে চাচ্ছি না।
ফোন করব আপনাকে।
ভাল থাকিয়েন।
রাতমজুর বলেছেন:
"@সারিয়া তাসনিম বলেছেন: শরীরের ব্লাড ক্যান্সার তো রক্ত বদল করলে সেরে যায় । আমার মনের রক্তে মিশে গেছে যে ক্যান্সার তা সারাই কেমনে ?"হতাশ কেন হন? এগিয়ে চলুন। পথ দেখাবার কেউ না থাকে, নিজেই পথ খুজে নিন।


















