আমার প্রিয় পোস্ট
- পোকামানবের ঘর বসতি - মাহবুব সুমন
- খোদেজা পাঠানুভুতি - রাসেল ( ........)
- দুজন লেখক একজন ব্লগার - ফরিদ
- প্রকাশিত হল মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক ই-সংকলন ফিরে দেখা একাত্তর - ব্রিগেড সিক্সটিন
- ভুল মানুষের ডেরায় ০২ - রাসেল ( ........)
- রাসেলের সাম্প্রতিক ভ্রমণের পিকটোরিয়াল বর্ণনা - কৌশিক
- স্লো ইনিংসে অবশেষে ডাবল সেঞ্চুরী (দুইশ নাম্বার পোস্টে স্মৃতিচারণ) - জ্বিনের বাদশা
- শুভ্রতার প্রতীক শুভ(আলী মাহমেদ)। - হ্যারি সেলডন
- সত্যম শুভম সুন্দরমের সাথে একান্ত আলাপন - কৌশিক
- মুক্তিযুদ্ধের কিছু প্রামান্য বইয়ের তালিকা - ফারহান দাউদ
- সমালোচনা পর্ব 1 - রাসেল ( ........)
- শুভ'র সাথে সাক্ষাত - মোঃ সাকিব আল মাহমুদ
- অভিযানের নাম 'মেজবান সঙ্গে লইয়া ভ্রমন'। গন্তব্য শুভর বাড়ি এবং চতুর্থ মৃতু্যর উপাখ্যান - সাদিক মোহাম্মদ আলম
- শুভ আর মমতাময়ীরে ক্ষমা করি নাই - মাশা
- আমরা যখন কয়েদী - আনোয়ার সাদাত শিমুল
- আমাদের- শুভ'র ব্ল্লগিং... - আপন তারিক
- পড়ছি, আলী মাহমেদ শুভ'র ব্ল্লগিং - শেখ জলিল
- ব্লগারদের বই নিয়ে ব্লগব্লগর- ১ - শেখ জলিল
রক্তের দাগ মুছে ফেলা যায় না!
১১ ই নভেম্বর, ২০০৭ সকাল ১১:২১
২য় বিশ্বযুদ্ধ।
৭৮ বছর বয়স্ক পল ত্যুভিয়ে। পল ত্যুভিয়ে সাবেক ভিচি সরকারের গোয়েন্দা প্রধান ছিলেন। একজন নাৎসি দালাল।
তিনি হত্যার উদ্দেশ্যে ৭ জন ইহুদীকে গেষ্টাপো বাহিনীর হাতে তুলে দেন। ওই ৭ জন ইহুদী আর কোন দিন ফিরে আসেননি!
পল ত্যুভিয়েরের মতো যারা স্থানীয় দালাল ও সহযোগী ছিলেন তাদের সাধারণভাবে যুদ্ধের পর ছাটাই করে রেহাই দেয়া হয়! সহজ কথায় ক্ষমা করে দেয়া হয়!
কিন্তু, ১৯৭১ সালে মারশেখ ওপউলস-এর 'লা শাগ্রিন এ লা পিতি' মুভিটি দেখে ফরাসীরা উপলব্ধি করে যে, ফরাসীদের অনেক লজ্জাকর ইতিহাস রয়েছে!
জনগণ ওই সব তথ্য ঢেকে রাখার বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়, অথচ ১৯৭২ সালে জানা যায় যে, দালাল ত্যুবিয়েরকে ওই দেশের খোদ প্রেসিডেন্ট ক্ষমা করে দিয়েছিলেন!
১ বছর পর, মার্কিন ঐতিহাসিক রবার্ট ও প্যাক্সটনের বই 'ভিচি ফ্রান্স ওল্ড পার্ড এন্ড নিউ অর্ডার' পড়ে ছাত্ররা জানতে পারে, গোটা এক প্রজন্মের ইতিহাস!
জানতে পারে যে, নাৎসীদের অপরাধের সঙ্গে কিছুসংখ্যক ফরাসীও অন্যায়ের সঙ্গে কতটা তীব্র ভাবে জড়িত ছিল। বিশেষ করে নিহত ইহুদীদের সন্তান-সন্ততিদের কাছে সত্যটা লুকিয়ে রাখা হয়েছে এতাদিন!
সের্গেই কার্সফেল্ড সিদ্ধান্ত নিলেন যুদ্ধাপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার। হোক তা ৫০ বছর পর!
(লা মদ, ফরাসী পত্রিকা)
একটি ফরাসী আদালত এই মর্মে রুল জারী করেন, পল ত্যুভিয়ের-এর বিরুদ্ধে নাৎসী দালালের বিচার করা যাবে। ওই আদালত আরও বলেন: "এই রুলিং, যুদ্ধাপরাধের সময়সীমা পার হয়ে গেছে বলে ত্যুভিয়েরের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা যাবে না বলে নিম্ন আদালতের যে রায় দিয়েছে তা নাকচ করা হলো। আদালত আরও নির্দেশ দেন, মানবতা বিরোধী অপরাধের জন্য ত্যুভিয়েরের বিচার হবে, এই অপরাধের বিচারের কোন সময়সীমা নেই!"
(দ্য গার্ডিয়ান উইকলি)
.............................
১ম বিশ্বযুদ্ধ।
১ম বিশ্বযুদ্ধের সময় যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পালিয়ে গিয়েছিলেন কিছু সেনা, পালিয়ে যাওয়ার পেছনে তাঁদের সুনির্দিষ্ট বক্তব্য, যুক্তি ছিল।
পরে 'ভীরু কাপুরুষ' নামে অভিহিত করে এসব সেনাদের ধরে এনে গুলি করে হত্যা করা হয়। কারণ দেখানো হয়, এটা ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ! সেন্ট্রাল ইংল্যান্ডের স্ট্যানফোর্ডসায়ারের ন্যাশনাল মেমোরিয়াল আরবোরেটামে এঁদের সমাধিস্থল আছে।
দীর্ঘদিন ধরে এসব সেনাদের আত্মীয়স্বজনরা, নাতিপুতিরা জোর তদ্বির করে আসছিলেন এটা প্রতিষ্ঠিত করতে, ওইসব সেনারা কোন ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ করেননি। সম্প্রতী, বুধবার (অগাস্ট, '০৬) বৃটিশ সরকার ঘোষণা করেছে, তাদের অপরাধ ক্ষমার যোগ্য! মেরে ফেলাটা অন্যায় হয়েছে।
.............................
তাইলে দেখা যাচ্ছে, কিছু এমন ভয়াবহ অপরাধ আছে যার বিচারের কোন সময়-সীমা নেই! কোন না কোন দিন, কাঠগড়ায় দাড়াতে হয়, ভুল স্বীকার করতে হয়।
আমি মনে করি, ঘুষখোরকে ঘোষখোর বলা হবে। সে ঘুষের পয়সায় ৩ কোটি টাকা দামের পোরসে হাঁকায়, না ঠেলাভ্যান; তাতে কি!
ঘুষখোরকে কেন এ দেশের বিভিন্ন সরকার লালন করেছেন, প্রশ্রয় দিয়েছেন, এটা আমাদের আলোচ্য বিষয় না! ঘুষখোরদের নিয়ে তেমন কোন উচ্চবাচ্য ছিল না। সামান্য চাকুরে একজনের ঢাকায় কয়েকটা বাড়ি; কেউ জানতে চাচ্ছে না, কোন আলাদিনের চেরাগ তার হাতে? অবলীলায় আমরা তাদের সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন করছি, দিনে চৌদ্দবার সেলাম ঠুকছি!
সত্যটা হচ্ছে, আজ থেকে ১০০ বছর পরও সে যে ঘুষখোর এটা বদলে যাচ্ছে না, ১৪ বার হজ করে এলেও!
রাজাকার। এরা এ দেশ চায়নি, এ দেশের প্রতি যতো ধরনের অন্যায় করা সম্ভব, এরা করেছে।
আজ যদি এ দেশ স্বাধীন না হতো- কে জানে, শুভ নামের ব্লগার এদের বীরত্বের ইতিহাস লিখত, হয়তো বা! কিন্তু এদের দূভার্গ্য, দেশটা স্বাধীন হয়ে গেছে।Ñ
কেন হলো, এদের কাছে কোটি কোটি টাকা দামের প্রশ্ন!
তো, রাজাকারদের সঙ্গে কে উঠবস করেন, কে বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন করেন, তিনি কয়বার হজ করলেন, তাতে কি আসে যায়, সত্যটা তো আর পালটে যাচ্ছে না!
৩৬ বছর কেন, ৩৬০ বছর পরও সত্যটা এটাই থাকবে, যতো বিকৃত করা হউক না কেন, রক্তের দাগ মুছে ফেলা যায় না!
সো, ঘুষখোরকে ঘুষখোর বলব, গুখোরকে গুখোর, সাদাকে সাদা, কালোকে কালো!
রাজাকারকে রাজাকার বলবো- ছড়াকার না!
(*লেখাটা প্রকাশিত হয়েছিল অন্য কোথাও। প্রয়োজন মনে করায় পোস্ট করছি।)
প্রকাশ করা হয়েছে: মুক্তিযুদ্ধ বিভাগে ।
নাজিম উদদীন বলেছেন:
আমাদের দূর্ভাগ্য, মোহাম্মদ বেড়াল ইস্যুতে যত লোক একত্র হয়েছে, রাজাকার ইস্যুতে ততলোক একসাথ হচ্ছে না।
রাগ ইমন বলেছেন:
সম্পূর্ণ সহমত । বাংলার মাটিতে বাঙালী একজনও যতদিন থাকবে , ততদিন ধরে রাজাকারের বিচার দাবী চলতেই থাকবে । আমি না পারলে আমার সন্তান। সে না পারলে তার সন্তান।
যুদ্ধাপরাধীদের কোন ক্ষমা নেই । মুজিব ক্ষমা করেন নাই । করলেও কিছু যাইতো আসতো না । আমি করি নাই । আমার মত কোটি কোটি মানুষ করে নাই । দরকার হইলে দেশের সংবিধান , আইন বদলায় এই নরাধমদের বিচার করা হবে ।
কোন ক্ষমা নেই ।
অমি রহমান পিয়াল বলেছেন:
রাজকারকে রাজাকার বলবো, ছড়াকার না! জট্টিল ৫
অনুভূতি শূন্য কেউ একজন বলেছেন:
কিছু এমন ভয়াবহ অপরাধ আছে যার বিচারের কোন সময়-সীমা নেই! কোন না কোন দিন, কাঠগড়ায় দাড়াতে হয়, ভুল স্বীকার করতে হয়।---
শুভ ভাই, আবার লিখতেছেন। থ্যাংকু।
শুভ অনেক দিন পরে,আপনি পোস্ট করেছেন তাও দেখলাম অনেক দিন পরে।আসলেই সব কিছু কি মুছে ফেলা সম্ভব...
শুভ বলেছেন:
নাজিম উদিদন,সহমত।
রাগ ইমন,
১০০ ভাগ।
ফারহান দাউদ,
তাই- যাহা বলিব সত্য বলিব, সত্য বৈ...।
অমি রহমান পিয়াল,
থ্যাংকস।
অনুভূতি শূণ্য কেউ একজন,
আসলে অনুভূতিগুলো ভোঁতা হয়ে যাচ্ছে।
তৃনভোজী,
হুঁ।
রুবেল শাহ,
আসলেই।
সাব্বির,
সেই...!


















