আমার প্রিয় পোস্ট
- পোকামানবের ঘর বসতি - মাহবুব সুমন
- খোদেজা পাঠানুভুতি - রাসেল ( ........)
- দুজন লেখক একজন ব্লগার - ফরিদ
- প্রকাশিত হল মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক ই-সংকলন ফিরে দেখা একাত্তর - ব্রিগেড সিক্সটিন
- ভুল মানুষের ডেরায় ০২ - রাসেল ( ........)
- রাসেলের সাম্প্রতিক ভ্রমণের পিকটোরিয়াল বর্ণনা - কৌশিক
- স্লো ইনিংসে অবশেষে ডাবল সেঞ্চুরী (দুইশ নাম্বার পোস্টে স্মৃতিচারণ) - জ্বিনের বাদশা
- শুভ্রতার প্রতীক শুভ(আলী মাহমেদ)। - হ্যারি সেলডন
- সত্যম শুভম সুন্দরমের সাথে একান্ত আলাপন - কৌশিক
- মুক্তিযুদ্ধের কিছু প্রামান্য বইয়ের তালিকা - ফারহান দাউদ
- সমালোচনা পর্ব 1 - রাসেল ( ........)
- শুভ'র সাথে সাক্ষাত - মোঃ সাকিব আল মাহমুদ
- অভিযানের নাম 'মেজবান সঙ্গে লইয়া ভ্রমন'। গন্তব্য শুভর বাড়ি এবং চতুর্থ মৃতু্যর উপাখ্যান - সাদিক মোহাম্মদ আলম
- শুভ আর মমতাময়ীরে ক্ষমা করি নাই - মাশা
- আমরা যখন কয়েদী - আনোয়ার সাদাত শিমুল
- আমাদের- শুভ'র ব্ল্লগিং... - আপন তারিক
- পড়ছি, আলী মাহমেদ শুভ'র ব্ল্লগিং - শেখ জলিল
- ব্লগারদের বই নিয়ে ব্লগব্লগর- ১ - শেখ জলিল
রাহেলা: একটা বিস্ময়, একটা চাবুকের নাম!
২৭ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ রাত ১১:৫৯
কিছু অদেখা ক্ষত আছে যা দৃশ্যমান না বলে বাঁচোয়া! কিন্তু এড়াবার উপায় কী? রাহেলার চট করে মরে যাওয়ার কথা ছিল কিন্তু এই মানুষটা দিনের পর দিন বেঁচে ছিলেন সম্ভবত আমাদেরকে চাবকাবার জন্য। চাবুকের ক্ষতটা শুকিয়ে যাচ্ছিল কিন্তু মানবী, ফয়সল নোইরা আবার দগদগে হওয়ার সুযোগ করে দিলেন।
আমাদের দেশে অসম্ভব শক্তিশালী মানুষের মেয়ে শাজনীন হত্যা মামলা ঝুলে থাকে বছরের পর বছর। হতদরিদ্র রাহেলার মামলার গতি কী হবে তা সহজেই অনুমেয়! রাহেলার স্বামীর ৬ মাসের মাথায় আবার বিয়ের মত বাস্তবতা।
আইনের হাত খুব লম্বা শুনতে ভালই লাগে কিন্তু আইনের পা পেছনে এও সত্য। সম্প্রতী নিজস্ব কাজে কোর্টের কিছু কাজ-কারবার দেখার সুযোগ হয়েছে আমার। বিস্তারিত না বলে অল্পই বলি, আইনের লোকদের আইনের প্রতি কতটা শ্রদ্ধা এটা বলা মুশকিল। সুপ্রীম কোর্টের বারে দেখেছি, আইন ভেংগ আইনজীবীরা ধুমসে সিগারেট টানেন, এতে তাদের কোন বিকার আছে বলে তো আমার মনে হয়নি।
অতি গুরুত্বপূর্ণ একটা মামলায় জাজ সাহেব রায় দিয়েছেন কিন্তু সপ্তাহের পর সপ্তাহ সই করেননি। সই ব্যতীত এই রায়ের আদৌ মূল্য কী?
২০০৪-এ রাহেলার বিষয়টা যখন জেনেছিলাম, তখন আমি হতবাক হয়ে ভাবছিলাম, ওই মানুষটার বাঁচার কী তীব্র আকুতি: 'আমি মরি নাই, আমারে বাঁচান'!
কেমন করে সম্ভব একজন মানুষের পক্ষে এই অল্প কটা শব্দ উচ্চারণ করা? যে মানুষটার শরীরে পচন ধরেছে। স্পাইনাল কর্ড এবং দু-পায়ের রগ কাটা, শুধু কন্ঠনালীর মাধ্যমে শরীরের সঙ্গে মাথা ঝুলে আছে।
শরীরের ক্ষতঅংশে অজস্র পিপড়া বাসা বেধেছে এবং কাটা অংশ থেকে রক্ত পড়তে পড়তে পুরো শরীর ফ্যাকাসে হয়ে গেছে।
রাহেলাকে এ গ্রহের চরম শারীরীক নির্যাতন করে নর নামের যে নরপশুরা তাকে জঙ্গলাকীর্ণ নির্জন স্থানে এই অবস্থায় ফেলে গিয়েছিল, দু-দিন পর তার আবার ফিরে আসে এবং জীবিত দেখে ক্ষতস্থানে এসিড ঢেলে দিয়েছিল।
রাহেলা, হতভাগা এই মানুষটা রোদ-বৃষ্টির মধ্যে ৩দিন এই অবস্থায় টিকে ছিলেন। হায় রে জীবন, এই নষ্ট গ্রহে বেঁচে থাকার জন্য কী আপ্রাণ চেষ্টা!
পরে তাঁকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তখন তিনি স্পষ্ট করে বলেছিলেন, দুর্বৃত্ত লিটন, দেলোয়ারের নাম। টানা ২৩দিন মৃত্যুকে তুড়ি মেরে একসময় হাল ছেড়ে দেন- আরেকটা কুৎসিত ভোরের অপেক্ষা না করে মারার যান।
এসবই পুরনো তথ্য, অনেকেরই জানা।
রাহেলার মা তাঁর কষ্ট শেয়ার করেছিলেন এভাবে: 'তারা চিকিৎসার খরচ চালাতে পারছেন না। সরকারী হাসপাতাল হলেও ওষুধ কিনতে হয় বাইরে থেকে'। রাহেলার স্বামী হাসান মিয়া (সূত্র: প্রথম আলো), চাঁন মিয়া (সূত্র: ফয়সল নোই। আমার ধারণা এই তথ্যটাই সঠিক)। তো রাহেলার স্বামী জানিয়েছিলেন: 'অর্থাভাবে চিকিৎসার খরচ যোগাতে পারছি না'।
আহ-হা, আমাদের দেশের মানব দরদীরা তখন কোথায় ছিলেন! বিভিন্ন নারী সংগঠন ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ডে বিক্ষোভ মিছিল করেছিলেন। বেশ যা হোক।
আজ ভাবি, আমিই বা কোথায় ছিলাম? আরে, আমার তখন সময় কোথায়! বইমেলা সামনে, চেষ্টা করিয়া একখানা কিতাব বাহির করা যায় যদি- ছাতাফাতা লেখা নিয়ে তখন ভারী ব্যস্ত।
বিষয়টা এখানেই শেষ হলে বেশ হতো। কিন্তু...।
একজন খুব ঝামেলা করছিল, আমাকে গরু খোঁজা খুঁজছিল- প্রচলিত ভাবনায় মানুষটা ওই তেলিবেলি টাইপের। যে মানুষটা আমাকে কালঘাম ঝরিয়ে খুঁজছিল সচরাচর এইসব মানুষদের কাছ থেকে আমার মত মানুষরা যথেষ্ট গা বাঁচিয়ে চলি, দু-চার পাতা বেশি শিখে ফেলেছি যে! মানুষটাকে দেখতাম, ফুটপাতে বসে ছাতা, তালা সারাই করতে।
কিন্তু একটা বিষয় আমাকে অবাক করত, তিনি পাশের দোকান থেকে পত্রিকা নিয়ে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে পড়তেন অথচ আমি পত্রিকায় কখনও কখনও চোখ বুলিয়েই সারা।
তিনি আমার কাছে এসেছেন ওই দিনের পত্রিকা পড়ে, রাহেলার চিকিৎসার অর্থ সংকট, তাই কিছু টাকা দিতে চান। পালা কেটে (গ্রাম্য ব্যাংক, বাঁশের মধ্যে টাকা জমানো হয়) টাকা নিয়ে এসেছেন। কিভাবে টাকা পাঠানো যেতে পারে এই পরামর্শ করতে। টাকার অংকটাও কম না, প্রায় ৪০০০ টাকার মত।
পাগল, আমার সময় কই,কাজ-অকাজে বেলা বয়ে যায় যে! বললেই ঢাকা যাওয়া যায় না কি?
নাছোড়বান্দা মানুষটা আর নিরুপায় আমি, টাকাটা না নিয়ে আমার উপায় কী! আমার এক বন্ধুকে ফোন করে বললাম, সমপরিমাণ টাকা রাহেলার মার হাতে পৌঁছে দিতে। সাপ্তাহিক ছুটিতে বাড়িতে আসলে দিয়ে দেয়া হবে। তার মুখেই শোনা, রাহেলার মা টাকাটা পেয়ে না কি খুব কেঁদেছিলেন। বারবার জানতে চাইছিলেন প্রেরকের নাম।
কিন্তু মানুষটার নাম প্রকাশে যে বড় অনীহা, তা বেশ! কিন্তু ওই মানুষটা আমাকে যে জুতা মেরেছিলেন, জুতায় আবর্জনা লাগিয়ে, এই কষ্টটা কাকে বলি...।
ফয়সল নোই বলেছেন:
শুভ ভাই,থ্যাংকস।
লেখক বলেছেন: অশেষ ধন্যবাদ জানাই আপনাকে। রাহেলার গ্রাম থেকে ঘুরে আসা এবং সব কিছু মিলিয়ে।
অন্ধকার দিক কিন্তু বাস্তবতার সঙ্গে আমাদেরকে পরিচয় করিয়ে দেয়ার জন্য।
ধন্যবাদ দিয়ে আসলে ছোট করা হয় আপনাকে...।
প্রার্থনা করি, থাকুন না এমনিই, বদলাবার প্রয়োজন আছে কী!
লেখক বলেছেন: 'আমি শালা একটা ভন্ড'
কেন সুমন?
আমার ধারণা, আপনার মনটা বড় তলতলে- এটা আমার নিজস্ব মত।
মিরাজ বলেছেন:
আমাদের চারপাশ আসলেই বড় মেকী । এর মাঝেও কিছু লোক আছেন যারা আলো জ্বেলে রাখার চেষ্টা করেন । এই লেখাটি এত কম পঠিত কেন?
লেখক বলেছেন: 'যারা আলো জ্বেলে রাখার চেষ্টা করেন ।'
সহমত। ওই আলোকিত মানুষটা আচ্ছা করে ঝাঁকিয়েছেন আমাকে অথচ ওই মানুষটার মাঝে কোন বিকার দেখি নাই, আজব!
মানবী বলেছেন:
"পালা কেটে (গ্রাম্য ব্যাংক, বাঁশের মধ্যে টাকা জমানো হয়) টাকা নিয়ে এসেছেন। কিভাবে টাকা পাঠানো যেতে পারে এই পরামর্শ করতে। টাকার অংকটাও কম না, প্রায় ৪০০০ টাকার মত।পাগল, আমার সময় কই,কাজ-অকাজে বেলা বয়ে যায় যে! বললেই ঢাকা যাওয়া যায় না কি?
নাছোড়বান্দা মানুষটা আর নিরুপায় আমি, টাকাটা না নিয়ে আমার উপায় কী! "
যা মানুষ সততার সাথে কাছে কিছু করতে চান তাঁরা এমনই হন! বড় বড় কথা, প্রতিশ্রুতি আর নিজের প্রচার না করে এভাবে নীরবে আত্মত্যাগ করে যান। তাঁরাই মানুষ! সংখ্যায় কম হলেও তাঁদের মতো কয়েকজন আছেন বলেই হয়তো এই নষ্ট সমাজে এখনও "মানবতা" পুরোপুরি হারিয়ে যায়নি।
অসাধারন পোস্টটির জন্য ধন্যবাদ শুভ।
**রাহেলা হত্যা মামলার" দূরাবস্থা শীঘ্রই মিডিয়াতে গুরত্ব পাবে বলে আশা করছি। যিনি আশ্বাস দিয়েছেন তাঁর প্রতি আস্থা রাখা যায় বলেই এমন 'আশা' করার দুঃসাহস দেখালাম**
লেখক বলেছেন: 'এমন 'আশা' করার দুঃসাহস দেখালাম'
আশায় বুক বাঁধি আমরাও...।
অসাধারণ কাজটা করেছেন, আপনি।
আমাদের মত মানুষরা ভাবাভাবির মধ্যেই থাকি- ভেবে ফেলেন আপনারা...।
ভক্কডা বলেছেন:
কিছুই বলার নাই। আমি অমানুষ
লেখক বলেছেন: 'আমি অমানুষ'
এটা আপনার ভাবনা।
কে জানে, হয়তো আপনার আলোকিত কোন দিক অন্যের চোখে ধরা পড়বে। অনায়াসে ছাড়িয়ে যাবেন ওই মানুষটাকেও...।
আর লোক দখানোর একনা ব্যাপ্যার আছে না!!!!!
লেখক বলেছেন: সহমত। আসলেই আমরা লম্বা লম্বা বাতচিত করি। ফলাও করে বলতে না পারলে জীবনটাই বৃথা- কে আগে নিজের ঢোলটা ফাটিয়ে ফেলব।
লেখক বলেছেন: আপনি থাকেন কই? খুঁজে খুঁজে হয়রান...।
মানবী বলেছেন:
""লেখক বলেছেন: অসাধারণ কাজটা করেছেন, আপনি।
আমাদের মত মানুষরা ভাবাভাবির মধ্যেই থাকি- ভেবে ফেলেন আপনারা...।""
আমি কিছুই করিনি, আপনার লেখায় উল্লেখিত ব্যক্তির মতো তো নয়ই!! সামন্য কিছু চেষ্টা করে যাচ্ছি মাত্র, ফলাফল শূণ্য হবার আশংকা যদিও অনেক বেশি। দোয়া করবেন, এমন ঘৃণ্য একটি অপরাধ আর তার লজ্জাকর পরিনতি সম্পর্কে কর্তৃপক্ষ কিছুটা হলেও যেন সজাগ হয়।
চমৎকার এই লেখার মাধ্যমে অসাধারন একজন মানুষের কথা তুলে ধরার জন্য আপনাকে আবারো অনেক ধন্যবাদ।
লেখক বলেছেন: অপনাকেই আমি হাত লম্বা করে ধন্যবাদ দেই। ভুলে যাওয়া স্মৃতি মনে করিয়ে দেয়ার জন্য।
রাসেল ( ........) বলেছেন:
অনেক খুঁজে বাহির করতে পারলাম ঠিকানা।যদি কখনও পরিস্থিতি অনুকুলে আসে তাহলে নতুন লেখা পড়বো এখানে।
খাদিজা নিয়ে একটা সমালোচনা লিখে ফেলবো অনুমতি পেলে।
জানা বলেছেন:
অশেষ ধন্যবাদ শুভ, এই মূল্যবান লেখাটির জন্য। অসাধারণ। তার সাথে বারবার কৃতজ্ঞতা জানাই মানবী, ফয়সাল নোই এবং অন্যান্যদের যঁাদের অক্লান্ত শ্রম ও আন্তরিকতায় রাহেলাদের মুক্তি হয়।
ভাল থাকুন।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ আপনাকেও।
রাসেল ( ........) বলেছেন:
জানা এই ব্লগের হাল কিছুটা বেহাল,
প্রোফাইলের ছবিটা অনাবশ্যক বড় হয়ে গেছে কোনো এক কারিগরী দুর্বলতায়।
এই কারিগরী দুর্বলতা কাটিয়ে দেওয়া গেলে ভালো হতো।
লেখক বলেছেন: বেহাল, বলেন কী! আমি তো হালই ছেড়ে দিয়েছি।
ছবিটা এমন অনাবশ্যক বড় হয়েছে, নিজের ছবির দিকে তাকাতে নিজেরই লজ্জা লাগে! একবার ছবিটা ডিলেট করারও চেষ্টা করেছিলাম, তাও হয় না...।
মুকুল বলেছেন:
এই লেখাটা মিস করেছিলাম। রাসেল ভাইয়ের কল্যাণে পড়া হলো। ধন্যবাদ লেখককে।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ আপনাকেও।
জানা বলেছেন:
জ্বী, দেখেছি। আর বিষয়টি আমাদের টেকনিক্যাল টিমকে জানিয়েছি। তাড়াতাড়ি সমাধান হয়ে যাবে। @রাসেল।
লেখক বলেছেন: এখন্ও কিছুই হয়নি। তারপর্ও শুকরিয়া, আপনার উপলব্ধির জন্য।
লেখক বলেছেন: তবুও ভাল।
আমারে তো পিটাইলো যে জুতা দিয়া ওইটায় ইয়ে লাগানো ছিল।
ফয়সল নোই বলেছেন:
পোস্টটা আবার দেখতে পেয়ে এতো ভাল লাগছে যে কি বলবো।নির্বাচিত পোস্টে শুভ ভাইয়ের এই সুন্দর লেখাটা খুঁজে দেয়ার জন্য কতৃপক্ষকে আন্তরিক ধন্যবাদ।
খুব ভাল লাগলো।
লেখক বলেছেন: ফয়সল নোই,
আপনার চেষ্টাটা আমার এখনও চোখে লেগে আছে! আপনি যেটা করেছিলেন, রাহেলার গ্রামের বাড়িতে অনেক ঝক্কি করে গিয়েছিলেন।
এমনিতে আমার মত দূর থেকে নিরাপদে বসে বসে কলমবাজি করা বড় সহজ, পাতার পর পাতা লিখে ফেলা যায়। কিন্তু ফয়সলদের মত দু-এক জনই হয়। টুপি খুললাম আপনার জন্য...।
অপ্রাসঙ্গিক, তবুও বলি:
রাহেলার চেয়েও ভয়ংকর অন্যায় করা হয়েছিল মুন্সিগন্জের 'খোদেজা'র প্রতি। ৭ বছরের এই শিশুটির প্রতি করা হয়েছিল এ গ্রহের চরম অন্যায়- যে অন্যায় সম্বন্ধে শিশুটির বিন্দুবিসর্গ ধারণাও ছিল না।
আমি যখন পত্রিকায় এ খবরটা পড়ি, তখন আমার নিজেকে আক্ষরিক অর্থেই পাগল পাগল লাগছিল।
ইচ্ছা ছিল, দু-কলম লিখি কিন্তু কোন তথ্য পাচ্ছিলাম না- ভাসা ভাসা জেনে তো আর লেখা যায় না।
এই শিশুটিকে প্রতি চরম অন্যায় করার সময় তার জান্তব চিৎকার থামাবার জন্য তার মুখে গুজেঁ দেয়া হয়েছিল মুঠো মুঠে বালি। কিন্তু আমাকে যেটা হতভম্ব করেছিল, এই শিশুটিকে মেরে ফেলার পর ধর্ষকরা তার জানাজায়ও অংশগ্রহন করেছিল।
তো, কাকে বলি? এই পত্রিকার হোমড়া-চোমড়াদের সঙ্গে তো আর আমার পরিচয় নাই- আর মফ:স্বলের লোকদের প্রতি ইনাদের আবার বেজায় তাচ্ছিল্য। গায়ে সর্ষে তেলের গন্ধ লেগে থাকে যে!
কী করি, আমার এলাকার ওই পত্রিকার প্রতিনিধিকে অনুরোধ করেছিলাম যে প্রতিনিধি এই রিপোর্টটা করেছেন তার কাছ থেকে আরও বিস্তারিত তথ্য যোগাড় করে দিতে।
দিন যায়, মাস, বছর গড়ায়- এদের এত সময় কই!
তবে রাহেলার চেয়ে খোদেজা অসম্ভব ভাগ্যবান। আইন তার প্রতি সুবিচার করেছিল। ধর্ষকদের ফাসিঁর আদেশ হয়েছিল।
খোদেজা শান্তিতে ঘুমাক, ঘুমাক তার সঙ্গে আসল পশুটাও - যে পশুটা আমাদের খুঁজছে হন্যে হয়ে...।
ফয়সল নোই বলেছেন:
শুভ ভাই,এভাবে বলার মতো কিছুই করিনি ভাইজান।গিয়েছিলাম বটে ওদের বাড়ি।কিন্তু সেত পেশাগত কাজের বাহানায়।আর সে মুহুর্তে গিয়েছিলাম,মানবীর লেখাটি পড়ে আবেগ আপ্লুত হয়ে।সে সময় অনেকেই আবেগ তাড়িত হয়ে যে যা ভাবতে পেরেছেন করেছেন,করতে পেরেছেন করেছেন।আপনিও যেমনি টাকা পৌঁছে দিয়েছেন ওই বৃদ্ধের।আমিও লেখাটি দিয়েছি রাহেলার প্রতি অসংখ্য মানুষের মায়ার কথা চিন্তা করে।আপনার মতো কেউ কেউ এখনো করছেন।কিন্তু বিষাদটি মনে করিয়ে দিয়েছেন মানবী।তার লেখায় লুকানো তাড়নার কারণেই সব করতে বাধ্য হয়েছিলাম সবাই।হতভাগ্য রাহেলার কথা মনে করিয়ে দেয়ার জন্য,খুনিদের শাস্তি নিশ্চিত করতে নিরলস ভূমিকার জন্য মানবীর প্রতি অপরিসীম শ্রদ্ধা অনুভব করি।আর শ্রদ্ধা অনুভব করি আপনার মতো ভাল মানুষদের প্রতি।যারা নিজেদের বিশ্বাস ও অনুভব- অনুভুতির কাছে বিশ্বস্ত।
আপনাকে অনেক ধন্যবাদ,শুভ ভাই।
খুবই আশ্চর্য হচ্ছি,আমি খোদেজার কথা জানতাম কিনা এটা মনে করতে পারছি না কিছুতেই।তারিখ,বা কোন ভাবে বিস্তারিত জানার উপায় জানাতে পারলে প্লিজ জানাবেন।খুব জানতে ইচ্ছে করছে জানতে।
আপনাকে অনেক ধন্যবাদ শুভ ভাই।আবারো কতৃপক্ষকে শুভেচ্ছা জানাই এই পোস্টটা নজরে আনার কারণে।
মানবী বলেছেন:
"অপনাকেই আমি হাত লম্বা করে ধন্যবাদ দেই। "- আমি ধন্যবাদ পাবার মতো সত্যিই কিছু করিনি, তবে সৌজন্যের জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
খাদিজার কথা পড়ে ঘৃণা জানাবর ভাষা খুঁজে পাচ্ছিনা! 'ফাঁসি" কি এসব নর পশুদের জন্য যথেষ্ট শাস্তি?? আমার মনে হয় "না".. তবু বিচার যে হয়েছে, আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে(যেখানে অগুনিত মানুষ প্রতিদিন নির্বিচারে নিগৃহীত, নির্যাতিত হচ্ছেন) এটাই হয়তো কিছুটা সান্তনা বয়ে আনে।
চমৎকার এই পোস্টটি নির্বাচিত হয়েছে দেখে ভালো লাগলো, কর্তৃপক্ষকে আন্তরিক ধন্যবাদ।
প্রকৃত মহৎ ও গুনীজনেরা বিনয়ী হন, নিজেদের অবদান এবং আত্মত্যাগ বরাবর অস্বীকার করেন, সেই ধারায় ফয়সল নোইয়ের বিনয়ী মন্তব্যটি মনে হয় :-)
রাহেলার মায়ায় শুধু জামসিং'র টেউটিতে ছুটে গিয়েই তাঁর কর্তব্য শেষ করেননি। দীর্ঘদিন, মাসের পর মাস পরম ধৈর্যের সাথে নিয়মিতভাবে রাহেলা হত্যা মামলার আপডেটটি সময় মতো জানিয়ে দিচ্ছেন! যাঁরা সত্যিকার অর্থেই মানবতাবোধ নিয়ে স্বার্থহীন ভাবে কাজ করেন, "কৃতীত্ব" শব্দটি যে তাঁদের মানবিক কাজের অভিধানে নেই- জেনে ভালো লাগলো।
আখসানুল বলেছেন:
+
লেখক বলেছেন: পড়ার জন্য ধন্যবাদ।
সুপ্ত সবুজ বলেছেন:
এখন আমি যদি বলি দুবৃত্ত লিটন দেলোয়ারদের মাটির সঙ্গে গেড়ে ব্রাশ ফায়ার করে নয়, পাথর মেরে মেরে তিলে তিলে হত্যা করা উচিত তাহলেই একদল বলে উঠবেন- হিউম্যান রাইটসের বারোটা বাজলো। মানবিকতা ধুলোয় লুণ্ঠিত হলো। লিটন দেলোয়ারদের এত বড় শাস্তি দেয়া ঠিক হবে না। তাই আমি বলি ওদেরকে ধর্ষণের জন্য পুরস্কার দেয়া উচিত। পারলে একটা নোবেল। রাহেলাকে ধর্ষণ করে যে মানবতা প্রদর্শন করেছে তার জন্য।
লেখক বলেছেন: সহমত।
বকলম বলেছেন:
অনেক দিন পর ব্লগে এই পোষ্টে ঢুকেই কষে একটা চড় খেলাম। চারপাশে চেয়ে দেখি....কে রে? কোন্ শালা মাড়ল চড়টা?!! হঠাৎ মনে হলো "বিবেক" নাকি!! ফিক্ করে হেসে ফেলি...শালা দেখি এখনো বেচেঁ আছে। বলি ..মরে যা, লাভ কি এই অথর্ব হয়ে বেচেঁ থেকে, অনেক তো গলাবাজী করলি, ছিঃ..আর কতটা নিলজ্জ হবি!!
লেখক বলেছেন: "কোন্ শালা মাড়ল চড়টা?!! "
হা হা হা...
কাপালিক বলেছেন:
মেয়েদের উপর যখন এই ধরনের নির্যাতনগুলো হতে দেখি, তখন পুরুষ হিসেবে এবং মানুষ হিসেবে এই পৃথিবীতে বেঁচে থাকতে খুব লজ্জ্বা হয়।
লেখক বলেছেন: সহমত।
লেখক বলেছেন: আপনিও কিছু বলেননি, আমিও কিছূ বললাম না।
একলব্য১৯৭১ বলেছেন:
সাধারণ পোস্ট।শেষ লাইনটা পড়ে কষাঘাত অনুভব করলাম।
একলব্য১৯৭১ বলেছেন:
*অসাধারণ
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।
পারভীন রহমান বলেছেন:
লেখাটা পড়ে একদিকে হতবাক হয়েছি অন্য দিকে মরমে মরমিত হয়েছি !!!শুভবুদ্ধি র উদয় হোক সবার মধ্যে এই প্রাথ্রণা করি ।
লেখক বলেছেন: এই প্রার্থনা আমারো...।
নিশ্চুপ নিরবতা বলেছেন:
পুরুষ হিসেবে এবং মানুষ হিসেবে লজ্জা বোধ করছি।
লেখক বলেছেন: সহমত।
জিনাত বলেছেন:
হুম অনূভতিটা তখনি সুন্দর হয় যখন তা হৃদয়ের গভীর হতে আসে........খুব ভোল লাগল
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।
লেখক বলেছেন: হুঁ। আসলেই...।


















