বেদ শাস্ত্রে লিখা আছে, যদি পরিবারে বা সংসারে কোন প্রকার অশান্তি বা দুর্যোগ বা অশুভো দৃষ্টি পড়ে তাহলে ব্রাহ্মণ ডেকে এনে ভোজন করানোর নির্দেশ দেয়া আছে। তাতে পরিবার বা সংসার থেকে সকল প্রকার অশান্তি বা দুর্যোগ বা অশুভো দৃষ্টি দূর হয়ে যাবে। তায় হিন্দু সমাজে পূর্বে যদি পরিবারে বা সংসারে এরূপ কোন ঘটনা ঘটতো তাহলে আশপাশের দশ গ্রামের যত ব্রাহ্মণ ঠাকুর থাকতো তাদের সকলকে ডেকে এনে ভূরিভোজন করানো হতো এবং তাদের হাতে কিছু অর্থ বা উপঢৌকণ দেয়া হত। আবার অন্য দিকে যুগ যুগ ধরে আমাদের মুসলিম সমাজেও ঠিক প্রায় একই রকম প্রথা পালন করে আসছিল, যেমন পরিবারে বা সংসারে কোন প্রকার অশান্তি বা দুর্যোগ বা অশুভো দৃষ্টি পড়ে তাহলে মোল্লা বা মৌলভী ডেকে এনে মিলাদ মাহফিল করে মোল্লা বা মৌলভী মহোদয়কে পেট পুরে খাওয়ায়ে আবার তার হাতে অর্থ বা উপঢৌকন ধরিয়ে দেয়া হত। তাতেই আমাদের মুসলিম সমাজের ধর্ম বিশ্বাসী মুসলমানেরা মানষিক ভাবে ভীষন আস্থা পেত যেন এখন থেকে আর পরিবারে বা সংসারে কোন প্রকার অশান্তি বা দুর্যোগ বা অশুভো দৃষ্টি থাকবে না, সব যেন দূর হয়ে যাবে। এ ছিল আমাদের ধর্মীয় সমাজ ব্যবস্থায় পারিবারিক বা সাংসারিক জীবন যাত্রার একটি চিত্র বা হাল। বর্তমানে এ প্রথা যে সমাজ থেকে একেবারই বন্ধ হয়ে গেছে তা না তবে মানুষের মাঝে ধর্মীয় চেতনাবোধ বৃদ্ধি পাওয়ায় অধিকাংশ মানুষই আর এ সব আচার আচরণ পালন করে না। তারা বুঝে ফেলেছে আতি মাত্রায় ধূর্ত এসব ব্রাহ্মণ ঠাকুর বা মোল্লা মৌলভীরা তাদের বিশ্বাসের সাথে প্রতারণা করে এসব আচার আচরণ পালনের মাধ্যমে তারা তাদের জীবিকা নির্বাহ করতো মাত্র।
এতো ছিল ধর্মীয় জ্ঞানে অজ্ঞ সাধারণ মানুষের সাথে ধর্ম নিয়ে ব্যবসাকারী বা প্রতারণাকারী ধর্ম জ্ঞানপাপীদের কাহিনী। কিন্তু বর্তমানে কি চলছে? প্রতারণার ঠিক আর একটি রূপান্তর মাত্র। যা আগে কিছু ধর্ম জ্ঞানপাপীরা ধর্মীয় জ্ঞানে অজ্ঞ সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারণা করেছিল আর এখন প্রতারণার প্রক্রিয়াগত বা কৌশলগত রূপটি কিছুটা রুপান্তর করে দেশকে গণতন্ত্রায়নের নামে গণতন্ত্রীয় জ্ঞানপাপীদের দৌরাত্ম হয়েছে শুরু। আগে প্রতারণার বিস্তৃতি ছিল পরিবার বা সংসার থেকে অশান্তি বা দুর্যোগ বা অশুভো দৃষ্টিকে দূর করা আর এখন এ প্রতারণার বিস্তৃতি বিস্তার লাভ করেছে সারাদেশ থেকে অশান্তি, দুর্যোগ, দূর্নীতি, লুটপাট ইত্যাদি দূর করে সাধারণ জনগণকে সুখ, শান্তি, অর্থনৈতিক মুক্তির নামে ধোকা বা প্রতারণা দেয়ার একটি নুতন প্রক্রিয়া বা কৌশল। আর এর ঠিকাদারিত্ব স্ব-ইচ্ছায় গ্রহণ করেছে আমাদের দেশের সুশীল সমাজ এবং সিভিল সোসাইটি নামক কিছু দালালী প্রতিষ্ঠান।
এরা নিজেদেরকে আতি উচ্চ শিক্ষাপিটে শিক্ষা লাভকারী শিক্ষিত ব্যক্তি, আতি উন্নত নাগরিকমান ধারণকারী (প্রতারণা ও দালালির দ্বারা উপার্জিত অর্থে ধর্নাঢ্য হয়ে) সেরা নাগরিক, আতি উন্নতমানের সততার সংজ্ঞা দানকারী সৎ ব্যক্তি, আতি উন্নতমানের বুদ্ধি বিক্রয়কারী বুদ্ধিজীবি বলে নিজেদের পরিচয় দান করেন। যারা সর্বদায় নিজেদের স্বার্থকে সিদ্ধি করার জন্য নির্লজ্জ দালালিপনার সর্ব নিম্নস্তরের ভন্ডামি করা ছাড়া আর কিছুই বুঝে না। তবে এদের কার্য্যের প্রক্রিয়াগত দিক দিয়ে বাহ্যিক দৃষ্টিতে দুই শিবিরে বিভক্ত কিন্তু নিজ স্বার্থ সিদ্ধি লাভের ক্ষেত্রে তাদের কৌশলগত দিক এক, কারণ যখন যে সরকার ক্ষমতায় থাকে তখন এক পক্ষের কার্য্য প্রক্রিয়া হছে সরকারের গুণকীর্তনে সরকারকে বিমুগ্ধ করা এবং অন্য পক্ষের কার্য প্রক্রিয়া হচ্ছে সরকারের বিরোধিতা করে সকারের কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্থ করা।
তাহলে প্রশ্ন হতে পারে যদি কার্য্যের প্রক্রিয়াগত দিক যদি ভিন্ন হয় তাহলে তার ফল অর্থাৎ তাদের স্বার্থ সিদ্ধির ক্ষেত্র কেমন করে এক হল? এর উত্তরও অতি সহজ কারণ উভয় পক্ষই সরকারের কাছ থেকে সরকারি সুযোগ সুবিধার বিষয় গুলো গ্রহণের ক্ষেত্রে সমান মাত্রায় গ্রহণ করতে পারে। সরকার এক পক্ষকে সরকারী ভাবে অঢেল সুযোগ সুবিধা ও উপঢৌকণ দিয়ে তার পক্ষে বিশাল ঢাকঢোল পিটিয়ে সাধারণ জনগণের কাছে প্রকৃত সত্যেকে চাপিয়ে রেখে বেশি বেশি উন্নয়নের কথা প্রচার করায় এবং অপর পক্ষকেও ঠিক তেমনি ভাবে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করে যাতে তারা সরকারের বিরূদ্ধে প্রচারনা না করতে পারে। অর্থাৎ সরকারের কাছ থেকে স্বার্থ সিদ্ধির ক্ষেত্রে উভয় পক্ষই সমান সুবিধা ভোগ করে থাকে। বরং গণতন্ত্রীয় সমাজ ব্যবস্থায় এ সুশীল সমাজ ও সিভিল সোসাইটি দূর্নীতিবাজ সরকারের পক্ষ অবলম্বন করার চেয়ে বিরোধীতা করে বেশি বেশি স্বার্থ সিদ্ধি লাভের চেষ্টা করে, এতে করে তারা যেমন অর্থনৈতিক ভাবে বেশি লাভবান হয় আবার দূর্নীতিবাজ সরকারের বিরূদ্ধে বিরূদ্ধারণ করাও আতি সহজ বলে তারা তাদের পান্ডিত্য জাহির করে সাধারণ জনগণের কাছে তাদের অবস্থান সুদৃঢ় করতে পারে। ফলে তাদের ভাষ্য শুনে সাধারণ জনগণ মনে করে তারাই একমাত্র সমাজের সুচিন্তক এবং তাদের সুচিন্তার ফসল থেকে যেন সমাজ থেকে মুক্তি লাভ করবে অশান্তি, দুর্যোগ, দূর্নীতি, লুটপাট ইত্যাদি। তাতেই যেন সাধারণ জনগণ সুখ, শান্তি, অর্থনৈতিক মুক্তি লাভ করে সুখ সমৃদ্ধির বৈভবে অবগাহন করতে থাকবে। অথচ তারা সাধারণ জনগণের জন্য কখনই কোন কিছু করেন না, তারা যা করে তা হল একশ্রেণীর দূর্নীতিবাজ রাজনীতিক, ব্যবসায়ী, শিল্পপতি, ধনশালী, পূঁজিবাদদের দালালি করা এবং শুধু নিজের স্বার্থ রক্ষা করা। ঠিক যেমনটি করতো এক সময় ব্রাহ্মণ ঠাকুর আর মোল্লা মৌলভীরা। তাই যেন বলতে হচ্ছে এ সুশীল সমাজ ও সিভিল সোসাইটি হচ্ছে "কলির ব্রাহ্মণ"।
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই আগস্ট, ২০০৮ রাত ২:৫৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



