৩০শে মে আমার পোষ্ট করা "উপদেষ্টা হোসেন জিল্লুর রহমান কোন গুহার লোক?"-এ ব্লগার ওমেগা থ্রি মন্তব্য করেছিলেন, হোসেন জিল্লুরকে তিনি ব্যক্তিগত ভাবে চিনেন এবং জানেন। তার ভাষায় হোসেন জিল্লুর রহমান অসাধারণ লোক। অসাধারণ শব্দটি বিশ্লেষন করলে দ্বারায় অ+সাধারণ => নঞ্+সাধারণ অর্থাৎ যাহা সাধারণ না। আবার যাহা সাধারণ নয় তা দুই ভাবে ভাব প্রকাশ করে। যেমন, ১) অতিসাধারণ অর্থাৎ সাধারণের চেয়ে নিম্নতর এবং ২) সাধারণের চেয়ে উর্ধ্বে অর্থাৎ সাধারণের চেয়ে উন্নততর। এখন প্রশ্ন হল হোসেন জিল্লুর রহমান কোন অসাধারণের পর্যায়ে পড়ে।
গত ২৯শে মে তিনি সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তরে বলেছিলেন, "বড় দলগুলোর সংলাপে আসা না-আসা জাতির সামেন মুখ্য বিষয় নয়"৷ তখন এক সাংবাদিক পাল্টা প্রশ্ন করে, "বড় দু'টি দলই তো অধিকাংশ জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে থকে"। তখন জিল্লুর বলেন, "তাই নাকি"? অর্থাৎ "তাই নাকি" শব্দদ্বয় দ্বারা সেদিনের বক্তব্যে তিনি সম্পূর্ণরূপে অস্বীকার করেছেন আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি আমাদের দেশের অধিকাংশ জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে না। যা অত্যন্ত এটি ডাহা মিথ্যা কথা বলেছেন এবং বাস্তবতাকে অস্বীকার করার একটি কৌশল অবলম্বন করেছিলেন। যদি তিনি তার এই কথাটিকে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করে দিতে পারেন তাহলে আওয়ামী লীগ এবং বিএনপিকে সমাজে খাটো বা হেয় করা যেতে পারে তায় এমন একটি কৌশল অবলম্বন করেছিলেন শব্দের কুট চাল প্রয়োগের দ্বারা। কিন্তু তিনি যখন দেখলেন, তার এই বক্তব্যের কারণে পরিস্থিতি ঘোলাটে হতে যাচ্ছে ঠিক তখন আবার ৩১শে মে তে এসে তিনি বক্তব্য দিয়েছেন, "প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো দেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব করে। তাই সংলাপে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর অংশ গ্রহন জরুরি। এ বিষয়ে কারও কোন বিতর্কের অবকাশ নেই"।
পূর্বের বক্তব্যের সাথে সম্পূর্ণ স্ববিরোধী বক্তব্য প্রদান করেছেন। সাংবাদিক যখন তার এই স্ববিরোধী বক্তব্যের জন্য প্রশ্ন করলে তিনি এ বিষয়ে ক্ষমা বা ভূল স্বীকার না করে বরং তিনি মিথ্যা বা তার কুটকৌশলকে ঢাকার জন্যে আরও বলেন, "অনেক সময় বাচন ভঙ্গির এবং শব্দচয়নে অসম্পূর্ণতা থাকতে পারে, সটা ধর্তব্য হওয়া উচিৎ নয়"। কি ধরনের সাঙ্ঘাতিক মানুষ হলে পুনরায় এমন মন্তব্য করেন যে, তিনি ভূল করলে বা বক্তব্য দিলে তা ধর্তব্যের মধ্যে পড়েনা সাধারণ মানুষের কাছে। এটাতো দেখি বিশাল শব্দ সন্ত্রাসী। আর শব্দ সন্ত্রাসীরা সমাজে মানুষের বিশ্বাস, চেতনা এবং অস্তিত্বকে ধ্বংস করে।
অতএব আমার দৃষ্টিতে ওমেগা থ্রির অতিচেনা ও অতিজান অসাধারন হোসের জিল্লুর রহমান সত্যিই অসাধারণ, তবে সে অসাধারণ সাধারনের চেয়ে উন্নততর অসাধারন নয়, সে অসাধারণ সাধারনের চেয়ে নিম্নতর অসাধারণ।
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই আগস্ট, ২০০৮ রাত ২:৫৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


