somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমার দেখা ক্যাম্পাস রাজনীতি পর্ব-৩

০২ রা ডিসেম্বর, ২০০৮ দুপুর ২:০৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমার দেখা ক্যাম্পাস রাজনীতি পর্ব-২
২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপি তথা চারদলীয় জোট সংখ্যা গরিষ্ঠতা পাওয়ার সাথে সাথে ক্যাম্পাস ছাত্রলীগ শুন্য হয়ে গেলো,হলগুলো অটোমোশন পদ্ধতিতে ছাত্রদলের দখলে চলে আসলো,তবুও নিজেদের অস্তিত্ব জানান দেওয়ার লক্ষ্যে বিভিন্ন হলের কক্ষ ভাংচুর করলো নব্য ছাত্রদলের কর্মী বাহিনী,অতচ দুইদিন আগেও ছাত্রলীগের অত্যন্ত শক্তিশালী কর্মী বাহিনী ছিল ।তাদের নেতৃত্বে প্রথম টিভি রুম থেকে মিছিল বের করা হলো,জ্বালাময়ী বক্তৃতায় হলের কম্পাউন্ড কেঁপে উঠলো ।জিয়ার নামে শ্লোগান দিতে দিতে মুখে ফেনা তুলে,কেউ কেউ অতি উৎসাহী হয়ে বাজার থেকে জিয়া পরিবারের বিশালাকৃতির ছবি এনে রুমে টাঙালো ।অনেক সাধারন ছাত্রদেরও এ কাজ করতে দেখেছি ।কেউ কেউ হলের সিট টা ধরে রাখার জন্য ও ছাত্রদলের ছত্রছায়ায় আশ্রয় নিয়েছে নিজস্ব সত্তা বিকিয়ে দিয়ে ।দুদিন আগেও যেসব ছেলে হলে নিরহ গোছের ছিল তারাও দেখি হকিস্টিক নিয়ে দৌড়া দৌড়ি করে ।পুরো ক্যাম্পাস জুড়েই অস্হিরতা এরে মারে ওরে মারে মার পিটের বাপ মা নেই ।আওয়ামীপন্হী শিক্ষকরাও গা ঢাকা দিয়েছে ।আমাদের হলের সবচেয়ে নিডি ছেলে যথেষ্ট ভদ্রও তাকে মেরে হল থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে কারন তার বাড়ী গোপালগন্জে এ অপরাধে শুনে আমার ভিতরে একটা অপরাধ বোধ কাজ করলো মনে মনে ভাবলাম শালা এ কি দেশ,গোপালগন্জ, বগুড়া বাড়ী হওয়া অপরাধের কারন সবারই জানা ।হলের টিভি রুমে ডিক্লিয়ার দেওয়া হলো সামনের তিনটা সারি ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বসবে,যদি ফাঁকাও থাকে তবুও সাধারন ছাত্ররা বসতে পারবেনা ।অতচ আগে সিনিয়ররাই সামনের আসনে বসতো সেটা ছাত্রলীগের আমলেও বহাল ছিল ।কিন্তু ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তা মানতে নারাজ ।এ ক্ষোভে সিনিয়ররা টিভি রুমে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছিলো ।আমার পাশের রুমগুলোর তালা ভেঙে বেশ কিছু ছেলে উঠলো কাউকেই চিনিনা কখনো দেখেছি বলে মনে হয়না ।একজনকে জিঙ্গাসা করলাম ভাই আপনারা কি এ ইউনিভার্সিটির স্টুডেন্ট,ঊনি বললেন হ্যাঁ,কোন সাবজেক্ট,বললো ফার্সি,শুনে প্রচন্ড হাসি পেলে আমাদের ইউনিভার্সিটিতে ফার্সি বলে কোনো সাবজেক্ট নেই।পরে অবশ্য বুঝলাম ওরা ছাত্রদলের বহিরাগত ক্যাডার কেরানীগন্জ থেকে ওদেরকে আনা হয়েছে ছাত্রদলের সভাপতির নিরাপত্তার জন্য ।শন্কার মধ্যে দিন কাটে,ওরা দিনের বেলায় রুমে গাঁজার আসর বসায়,প্রতিদিন নানান রংয়ের লোক আসে দেখে মনে হয় ক্ষেত থেকে উঠে এসেছে।এরা কিসের ক্যাডার! ক্যাডারদের ও তো একটা সাইজ থাকা দরকার।কয়দিন পর টের পেলাম সুপারিতলায় সভাপতি সেক্রেটারীর গ্রুপের দ্বন্দ্বে ঐ সব ক্যাডারদের কাউকেই পাওয়া যায় নাই ।সেক্রেটারীর গ্রুপের লোকজন হল দখলে নিলো, সভাপতি গ্রুপের কেউ প্রটেষ্ট করতে এগিয়ে না এসে পালিয়ে গেলো।সভাপতিকে রুমে একা পেয়ে চড় থাপ্পর দিয়ে ডেইরি ফার্মে বাসে উঠিয়ে দিলো ।কাউকে তার পাশে পাওয়া গেলনা ।
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিলিয়নিয়ার রবিন খুদা ও আমাদের জাতীয় অগ্রাধিকার

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ০৯ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৩০

বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয় কী?

কর্মসংস্থান? না।

বিনিয়োগ? না।

ডলার সংকট? না।

গার্মেন্টস খাতে ছাঁটাই? না।

ব্যাংকিং খাতের আস্থা সংকট? না।

সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো— কোনো অনুষ্ঠানে জুলাই চেতনা কত মিলিলিটার ঢুকেছে, কে কতবার উচ্চারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×