আমার দেখা ক্যাম্পাস রাজনীতি পর্ব-২
২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপি তথা চারদলীয় জোট সংখ্যা গরিষ্ঠতা পাওয়ার সাথে সাথে ক্যাম্পাস ছাত্রলীগ শুন্য হয়ে গেলো,হলগুলো অটোমোশন পদ্ধতিতে ছাত্রদলের দখলে চলে আসলো,তবুও নিজেদের অস্তিত্ব জানান দেওয়ার লক্ষ্যে বিভিন্ন হলের কক্ষ ভাংচুর করলো নব্য ছাত্রদলের কর্মী বাহিনী,অতচ দুইদিন আগেও ছাত্রলীগের অত্যন্ত শক্তিশালী কর্মী বাহিনী ছিল ।তাদের নেতৃত্বে প্রথম টিভি রুম থেকে মিছিল বের করা হলো,জ্বালাময়ী বক্তৃতায় হলের কম্পাউন্ড কেঁপে উঠলো ।জিয়ার নামে শ্লোগান দিতে দিতে মুখে ফেনা তুলে,কেউ কেউ অতি উৎসাহী হয়ে বাজার থেকে জিয়া পরিবারের বিশালাকৃতির ছবি এনে রুমে টাঙালো ।অনেক সাধারন ছাত্রদেরও এ কাজ করতে দেখেছি ।কেউ কেউ হলের সিট টা ধরে রাখার জন্য ও ছাত্রদলের ছত্রছায়ায় আশ্রয় নিয়েছে নিজস্ব সত্তা বিকিয়ে দিয়ে ।দুদিন আগেও যেসব ছেলে হলে নিরহ গোছের ছিল তারাও দেখি হকিস্টিক নিয়ে দৌড়া দৌড়ি করে ।পুরো ক্যাম্পাস জুড়েই অস্হিরতা এরে মারে ওরে মারে মার পিটের বাপ মা নেই ।আওয়ামীপন্হী শিক্ষকরাও গা ঢাকা দিয়েছে ।আমাদের হলের সবচেয়ে নিডি ছেলে যথেষ্ট ভদ্রও তাকে মেরে হল থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে কারন তার বাড়ী গোপালগন্জে এ অপরাধে শুনে আমার ভিতরে একটা অপরাধ বোধ কাজ করলো মনে মনে ভাবলাম শালা এ কি দেশ,গোপালগন্জ, বগুড়া বাড়ী হওয়া অপরাধের কারন সবারই জানা ।হলের টিভি রুমে ডিক্লিয়ার দেওয়া হলো সামনের তিনটা সারি ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বসবে,যদি ফাঁকাও থাকে তবুও সাধারন ছাত্ররা বসতে পারবেনা ।অতচ আগে সিনিয়ররাই সামনের আসনে বসতো সেটা ছাত্রলীগের আমলেও বহাল ছিল ।কিন্তু ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তা মানতে নারাজ ।এ ক্ষোভে সিনিয়ররা টিভি রুমে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছিলো ।আমার পাশের রুমগুলোর তালা ভেঙে বেশ কিছু ছেলে উঠলো কাউকেই চিনিনা কখনো দেখেছি বলে মনে হয়না ।একজনকে জিঙ্গাসা করলাম ভাই আপনারা কি এ ইউনিভার্সিটির স্টুডেন্ট,ঊনি বললেন হ্যাঁ,কোন সাবজেক্ট,বললো ফার্সি,শুনে প্রচন্ড হাসি পেলে আমাদের ইউনিভার্সিটিতে ফার্সি বলে কোনো সাবজেক্ট নেই।পরে অবশ্য বুঝলাম ওরা ছাত্রদলের বহিরাগত ক্যাডার কেরানীগন্জ থেকে ওদেরকে আনা হয়েছে ছাত্রদলের সভাপতির নিরাপত্তার জন্য ।শন্কার মধ্যে দিন কাটে,ওরা দিনের বেলায় রুমে গাঁজার আসর বসায়,প্রতিদিন নানান রংয়ের লোক আসে দেখে মনে হয় ক্ষেত থেকে উঠে এসেছে।এরা কিসের ক্যাডার! ক্যাডারদের ও তো একটা সাইজ থাকা দরকার।কয়দিন পর টের পেলাম সুপারিতলায় সভাপতি সেক্রেটারীর গ্রুপের দ্বন্দ্বে ঐ সব ক্যাডারদের কাউকেই পাওয়া যায় নাই ।সেক্রেটারীর গ্রুপের লোকজন হল দখলে নিলো, সভাপতি গ্রুপের কেউ প্রটেষ্ট করতে এগিয়ে না এসে পালিয়ে গেলো।সভাপতিকে রুমে একা পেয়ে চড় থাপ্পর দিয়ে ডেইরি ফার্মে বাসে উঠিয়ে দিলো ।কাউকে তার পাশে পাওয়া গেলনা ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



