আমার দেখা ক্যাম্পাস রাজনীতি পর্ব-৩
ক্যাম্পাস জুড়ে আতন্ক ছাত্রলীগের যেরেই পাওয়া যায় দেদারছে পিটানো হচ্ছে ডিপার্মেন্টের ভিতরে ক্লাসরত অবস্হায়ও মারা হচ্ছে, প্রশাসনিক চেইন ভেঙে চৌচির ।রাস্তা ঘাট দোকানপাট সর্বত্রই হকিস্টিক রডের ঝন ঝনানি ।অরাজকতায় ছেয়ে গেছে ক্যাম্পাস,নির্বাচিত উপাচার্যকে বাসা থেকে ডেকে এনে পদত্যাগ পত্রে সই করানো হলো ।রাতের অন্ধকারে মোমের আলোয় উপাচার্যের চেয়ার দখলে নিলো বিএনপি পন্হী এক শিক্ষক । বিএনপি কেন্দ্রিক কর্মসূচীতে পূর্বে কখনো উনাকে দেখা যায়নি ।উনার বড়ো পরিচয় ছিলো ঊনি তৎকালীন বিএনপি মহাসচিবের বাল্য বন্ধু এবং একই এলাকায় বাড়ি।নতুন উপাচার্য চেয়ারে বসেই এক যোগে সকল হলের প্রভোষ্টদের সরিয়ে দিলেন,তাদের স্হলে জামাত ঘরনার শিক্ষক ও ঊনার কাছের কিছু ব্যক্তিকে প্রভোষ্টের দায়িত্ব দিলেন,ব্যক্তিগত রোষানলের কারনে অনেক তুখোড় বিএনপি পন্হী শিক্ষক বাদ পড়লেন ।প্রক্টরের দায়িত্ব দিলেন এমন একজনকে যার কোন গ্রহন যোগ্যতা বিএনপি আওয়ামীলীগ কারো কাছেই নেই ।যিনি একসময় আর্মস ক্যাডার ছিলেন ছাত্রদলের ।ঐ ভদ্রলোক প্রক্টর হওয়ার পর ছাত্রদলের সভাপতির পিছনে বসে মটর বাইকে ঘুরে প্রক্টরিয়াল দায়িত্ব পালন করতেন।বিএনপি পন্হী শিক্ষকরা দুভাগে বিভক্ত হয়ে পড়লেন উদারপন্হী কট্ররপন্হী গ্রুপে বিভক্ত হয়ে ক্যাম্পাসে নিজেদের অবস্হান জানান দিল। উদারপন্হী শিক্ষকরা আওয়ামী ও বামপন্হী শিক্ষকদের সাথে মিলে ক্যাম্পাসে উপাচার্য কে অসহযোগিতা দেয়ার কর্মসূচী দিলেন ।প্রতিবাদস্বরুপ মুখে কালো কাপড় বেঁধে মৌন মিছিলের কর্সূচী পালন করলো শিক্ষকরা,একদিকে শিক্ষকরা উপাচার্য হটানোর কৌশল আটছে অন্যদিকে ছাত্রদল বেপরোয়া থেকে আরো বেপরোয়া হয়ে উঠলো ।সব মিলিয়ে ক্যাম্পাস টাল মেটাল ।ছাত্রলীগের নেতা কর্মীরা ক্যাম্পাসে অবান্জিত ।যাদের ইয়ার ফাইনাল সামনে সিন্ডিকেটে সিদ্বান্ত হলো বিশেষ ব্যবস্হায় তারা স্ব স্ব বিভাগে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে কিন্তু দুঃখের বিষয় ঐ সিন্ডিকেটে মিটিং শেষে বের হয়ে যাওয়ার পথে ছাত্রদলের হাতে একজন সিন্ডিকেটে মেম্বার প্রহৃত হলেন ।তার বিরুদ্ধে অভিযোগ হলো উনি আওয়ামী পন্হী বুদ্ধিজীবি এ ঘটনায় পরদিন জাতীয় দৈনিকগুলো গুরুত্ব সহকারে সংবাদ ছাপায়,এক যোগে দুই শতাধীক বুদ্ধিজীবি পত্রিকাগুলোতে নিন্দা ঙ্ঞাপন করে।সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তানুযায়ী ছাত্রলীগের সাংগাঠনিক সম্পাদক তার মাস্টার্স পরীক্ষায় অংশ নিতে পুলিশী প্রহরায় ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে,প্রক্টর মহোদয় খবরে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা চৌরঙ্গি মোড়ে ব্যারিকেড নিয়ে পুলিশের হাত থেকে ছাত্রলীগের ঐ নেতাকে ছিনিয়ে নিয়ে বেদম প্রহার করে,পুলিশের ও সি প্রক্টশনে এগিয়ে আসতে চাইলে প্রক্টর মহোদয় বাঁধা দিয়ে বলেন "না না স্যার যাবেননা ঐ হালায় বহুত অকাম করেছে"বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মহোদয় সেদিন থানার ওসিকে স্যার বলতে দ্বিধা বোধ করেননি।
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা ডিসেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৫:২১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


