somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শিক্ষিত মানসে ধর্মের বিবর্তন। উৎসর্গ আসিফ মহিউদ্দিন!

২৭ শে ডিসেম্বর, ২০১০ বিকাল ৫:৩৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

শিক্ষিত মানসে ধর্মের বিবর্তন।

দিনের পর দিন যায় আর বদলায় প্রযুক্তি ও বিজ্ঞান। মানুষের জীবন উটে পিঠে চড়ে এখন পাজেরোর সিটে এসে ঠেকেছে। শুনছি খুব অচিরেই গাড়িও উড়তে শিখবে।

আমার বক্তব্যটা সহজ ভাষায় বোঝানো সহজ নয়। তাই যতটুকুই বোঝানো যায়, সেটার চেষ্টাই করছি।

বর্তমানে ধর্ম আর বিজ্ঞান সেই সাথে সংস্কৃতির মিলনে মানুষ আসলে হিপোক্রেট হতে বাধ্য। কিছু করার নেই। ধর্মের অনেক বিধিনিষেধ থেকে মানুষ আপনাআপনি বেড়িয়ে আসছে। কারণ মানুষ স্বাধীনচেতা। আর এই স্বাধীনচেতা জিনিসটিই মানুষকে হিপোক্রেট করে তুলছে।

আমার সমস্যা সেই স্থানে। আমি হিপোক্রেসি দেখতে পারি না। উদাহরণ দেই কিছু তাহলে ব্যাপারটা বুঝতে পারবেন। ফেসবুকে আমার ২৩৩ জন বন্ধু আছে। যাদের সিংহভাগই হলেন মুসলমান। আমি নিজেও একজন। তো এই বন্ধুদের মধ্যে একটা আজব জিনিস লক্ষ্য করা যায়। আমার প্রাইভেট ম্যাসেজে প্রায়ই ম্যাসেজ আসে, মহানবীকে কটাক্ষ করে ফেসবুকের গ্রুপের বিরুদ্ধে রুখে দাড়াও, অথবা ইসলামকে কটাক্ষকারীদের বিরুদ্ধে সচ্চার হোন।

যারা ম্যাসেজগুলো পাঠান তারা কতখানি হিপোক্রেট দেখুন। তাদের প্রোফাইলে গেলে দেখা যায় আল্লাহ'কে তারা লাইক দিয়ে রেখেছে, তার পাশেই ক্যাটরিনাকেও লাইক দিয়ে রাখা আছে। লাইকের খাতায় হিন্দী ছবি, ফ্যাশন, মার্ডার, থেকে শুরু করে আংরেজি ছবিও বাদ নাই। তুই যদি আল্লাহর হেদায়তই করবি তাহলে আবার এইসব লাইক করবি কেন? এসব কি ইসলামে জায়েজ? মানে ক্যাটরিনা কাইফের ঠ্যাং দেখানো নাচ দেখেই তো তাকে লাইক করা যায়...তার অভিনয় বলে তো কিছু নাই।

আমার বন্ধু মানে মেয়ে বন্ধু একজনের বিবাহ হয়েছে। তিনি আবার এতখানি ধর্মে বিশ্বাসি যে রাতে তার ছাঁদে যেতে দেন না। ছাঁদ-এ নাকি জ্বিন নামে। জ্বিন নামার কারণ কি? উত্তর পেলাম, যে বাসায় বেশি নামাজ কালাম পড়া হয় সে বাসায় নাকি জ্বিন আসে আল্লাহর বরকত নিয়ে। তা সেই জ্বিনকে এত ভয় পাবার কি আছে?

আসল কথা এখনও বলি নাই, আমার বান্ধবীর বিবাহিত বরের সাথে তাহার প্রেম ছিল দীর্ঘ পাঁচটি বছর। এই পাঁচ বছরে তারা অসংখ্য ডেটিং করেছে এবং কিসিং করেছে। শুধু কিসিং এর কথাই আমি জানি। কিসিং এর সাথে আরও কিছু টাচিং এর ব্যাপারও হয়ে থাকে এসব লাভ স্টোরিতে। বান্ধবীটি প্রচন্ড রকমে আল্লাহ বিশ্বাসী এবং আল্লাহকে নিয়ে তার সামনে সন্দেহ প্রকাশ করতে গেলে সে মারতে আসে। অথচ...বিয়ের আগে সে আল্লাহকে ভুলেই প্রেম পিড়িত করে, কিসিং টাচিং করে এক্কেবারে সিদ্ধ হয়ে গেছে।

এবার আমার এক বন্ধুর কথা বলি। সেও আল্লাহ বিশ্বাসী এবং মারাত্মক এগ্রেসিভ এই ব্যাপারে। সে কোনদিনও ব্যাংকে জব করবে না, কারণ ব্যাংকে সুদি কারবার হয়। কি ভয়াবহ। কিন্তু সে প্রায়ই মদ খেতে গ্যালাক্সিতে যায়। তখন তার ইসলামের কথা মনে থাকে না।

তুই যদি বাবা গ্যালাক্সিতেই যাবি, তাইলে ব্যাংকে জব করবি না কেন? কারণটা বোঝা গেলো না।

জানি অনেকেই বলবেন, আরে মিয়া সবাই তো এরকম না। আমি বলব, সবাই এরকমই করছে। আমার ২৩৩ জন বন্ধুর মধ্যে ২ জন বাদে বাকি সব ঘোরতর আস্তিক। এবং তারা কনসার্টে গিয়ে মেয়েদের সাথে নাচানাচিও করে...আবার নামাজও পড়ে।

সেদিন একজন তো আমাকে কত লালসা দিলো, ফ্যাশন শো দেখতে যাবে। আমি বললাম, এতে তোর ধর্ম যাবে না? তার উত্তর অত্যন্ত নাদান। আরে এটা তো দেশি ফ্যাশন শো...শুনে মনে হলো আমি মহা বোকার জগতে বাস করছি।

বাংলাদেশের হুজুরেরা মানে জামাতিরা অথবা অন্য মোল্লারা যখন পুলিশের উপরে চড়াও হয় এবং ইট পাটকেল নিক্ষেপ করে, গাড়ি ভাঙ্গে তখন তাদের ধর্মীয় সংযম খুজে পাওয়া যায় না। পাওয়া যায় কথা, "বৃষ্টির মত মারো"...

আমি নাস্তিক, মানে এই আমি হিপোক্রেট নই। আমাকে কেউ যদি বলে তুমি আমার সাথে কনসার্ট দেখতে চলো, আমি চলে যাবো। কেউ আমাকে হিপোক্রেট বলতে পারবে না। কারণ আমি মানুষের মানস প্রকৃতিকে ধর্ম বলে বিবেচনা করি, আল্লাহর বা সৃষ্টিকর্তাকে নয়। প্রত্যেকটি মানুষের জন্য সমানভাবে সব কিছুর দরকার আছে। বিনোদন, সেক্স, চাওয়া পাওয়ার অবসেশন...এসব কিছুর কাছে ধর্ম তো হার মানছেই।
২৬টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×